ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাচার ও চোরাচালান রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
বক্তব্য রাখছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পুরনো ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে; অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে।

Salauddin_Ahmed

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক
সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ, সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থীদের
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ, সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থীদের
যেসব প্রতীকে হবে ইউপি নির্বাচন
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক। তাই নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য ও সাধারণ সদস্য আসনের জন্য প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে ইসি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। তবে আজ বুধবার প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানদের জন্য ২০টি, সংরক্ষিত আসনে ১০টি এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীর ১২টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কোন পদে থাকছে কী প্রতীক চেয়ারম্যান পদের জন্য বরাদ্দ ২০ প্রতীক : কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস। সাধারণ আসনের বরাদ্দ ১২ প্রতীক: উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব এবং মোরগ। সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বরাদ্দ ১০ প্রতীক: আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ এবং হেলিকপ্টার। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে প্রার্থীর নিজের ও নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিল হবে। এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদপ্রার্থীর ব্যয় দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
যেসব প্রতীকে হবে ইউপি নির্বাচন
সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক
দেশে সবজিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ ও ফলে ৪ শতাংশ বেশি কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। খেজুরে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ ও শুঁটকি মাছে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক অ্যাগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান কীটতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পরিচালক ড. নির্মল কুমার দত্ত। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)। ড. নির্মল কুমার দত্ত বলেন, বর্তমানে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। ফলে পোকামাকড় রাসায়নিক কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য রাসায়নিক কীটনাশক বেশি লাগছে। আবার অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উপকারী পোকামাকড় মারা যাওয়ায় ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। কীটতত্ত্ববিদ নির্মল কুমার দত্ত জানান, দেশে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নতুন করে ২৫টির বেশি ক্ষতিকর পোকার আগমন ঘটেছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ড. নির্মল কুমার দত্ত আরও জানান, দেশে প্রায় আট হাজার কীটনাশক অনুমোদিত। যাচাই করে এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ কীটনাশক শতভাগ বিশুদ্ধ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, পোকামাকড় মারতে বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নকল বালাইনাশকের কারণে পোকামাকড় না মরে উল্টো তাদের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা জাহান বলেন, জৈব বালাইনাশক মূলত প্রকৃতিতেই রয়েছে। এ জন্য উপকারী পোকামাকড়কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলম ও প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আল মোবাচ্ছের হোসেন। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. নিজামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাইফুল মাসুমসহ কৃষি বিটের সাংবাদিকেরা। আরটিভি/এসআর  
সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আরও পড়ুন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’, শঙ্কিত নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অপ্রতিম হত্যার বিচার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী