বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে চায় সরকার

আরটিভি নিউজ  

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২০ এএম


বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে চায় সরকার
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

জবাবদিহিতা নিশ্চিত, সেবার মান উন্নয়ন এবং বিল আদায়ের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম বেসরকারি খাতে পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানো হলে জবাবদিহিতা, বিল আদায় এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত হবে।

আরও পড়ুন

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব গ্রহণে বেসরকারি খাতের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারের আর্থিক চাপ কমবে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অবকাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জাতীয় বিতরণ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সরকার ক্লাস্টারভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগে চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।

পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার বাড়ির মালিকদের জন্য কর ছাড় এবং হোল্ডিং ট্যাক্সে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও প্রয়োজনীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে অতীতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, কিন্তু এসব কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। এতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলো প্রভাবিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি স্থাপনায় সমস্যা হলে যাতে সারাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটে না পড়ে, সেজন্য আরও এলএনজি আমদানি অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করে খুলনায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল-খুলনা গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ না হওয়ায় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ বেড়েছে উল্লেখ করে জালানিমন্ত্রী বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান সংকটের কারণে এলএনজির দাম বেড়েছে।

ফলে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, সরকার নতুন নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে এবং বিতরণ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে ক্লাস্টারভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission