ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

মেয়াদ শেষ করতে পারেননি যে ১০ রাষ্ট্রপতি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
রাষ্ট্রপতির বাসভবন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১৮ জন পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাদের মধ্যে ১০ জনের কার্যকাল সমাপ্তি হয়েছে আকস্মিকভাবে। সবশেষ গতকাল শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন মো. শাহাবুদ্দিন।

স্বাধীনতার পর দেশে হত্যাকাণ্ড, সামরিক অভ্যুত্থান, সাংবিধানিক পরিবর্তন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বারবার সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রপতির পদ। এ পদে থাকাকালে দুজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কিংবা বঙ্গভবন ছাড়তে হয় আটজনকে। এবার মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার মধ্য দিয়ে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে না পারা রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় যুক্ত হলেন।

দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর একটি অংশ।

আরও পড়ুন

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

পরে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সায়েম পদত্যাগ করার পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত জিয়াউর রহমান দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন জিয়াউর রহমান।

এরপর আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। পরে ১৯৮১ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান হলে রাষ্ট্রপতি সাত্তার ক্ষমতাচ্যুত হন।

এরশাদ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান। আহসানউদ্দিন চৌধুরী ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এরশাদ।

এরশাদের পদত্যাগের জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন।

১৯৯১ সালে দেশ পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসে। বিএনপি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি শপথ নেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদ শেষ করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০০২ সালের ২১ জুন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সংসদীয় দল তাকে সরে দাঁড়াতে বলার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে শ্রদ্ধা না জানানোর কারণে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কড়া সমালোচনা করেছিল বিএনপি।

তার পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির সমর্থনে ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

২০০৬ সালের শেষ দিকে ইয়াজউদ্দিন সংবিধান লঙ্ঘন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করেন, যা দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়।

অবশেষে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর তিনি প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে ২২ জানুয়ারি নির্ধারিত সংসদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরদিন তিনি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে একটি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন।

২০০৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ইয়াজউদ্দীনের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হলেও, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদে বহাল ছিলেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের ২০ মার্চ জিল্লুর রহমান মারা যান। রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে একমাত্র তারই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের আরেক নেতা ও তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। তিনি ২০১৩ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে আওয়ামী লীগের সমর্থনে পরপর দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হামিদ।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি ১৯৭৫ সালে পাবনা জেলা বাকশালের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদ হুমকির মুখে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে তার পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে গুজব ও জল্পনা-কল্পনা চলে।

অবশেষে গতকাল শুক্রবার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে অবশেষে তিনি পদত্যাগ করলেন।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একযোগে বদলি পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা 
শনিবার (৩১ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।
একযোগে বদলি পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা 
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ সরকারের
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বৈচিত্র্য আনতে ব্যাপক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে তরুণ ও যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ সরকারের
‘মজুরি বোর্ড গঠন রোববার, শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই’
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই।
‘মজুরি বোর্ড গঠন রোববার, শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই’
চার দশক পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’, কাজ করবে যেভাবে
দেশে গ্রাম সরকার ব্যবস্থার সূচনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি  শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তার সময়ে এ সরকার চালু করা হয়। 
চার দশক পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’, কাজ করবে যেভাবে
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে: মাহদী আমিন
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে আজ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে: মাহদী আমিন
আরও পড়ুন
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকাল বাংলাদেশ
কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে ‘বিনা’র বিপ্লব
এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ
সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী