অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরিবর্তন করবেন যেভাবে

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৩০ পিএম


অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরিবর্তন করবেন যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডিতে নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা কিংবা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। পাসপোর্ট, ব্যাংকিং সেবা, চাকরির আবেদন, জমি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে এনআইডির তথ্য সঠিক থাকা জরুরি।

সুখবর হলো, এখন জাতীয় পরিচয়পত্রের বেশির ভাগ তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ঘরে বসেই আবেদন শুরু করা সম্ভব। তবে তথ্যের ধরন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

যেসব তথ্য সংশোধন করা যায়-
অনলাইনে আবেদন করে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো সংশোধনের আবেদন করা যায়।

নিজের নাম বা নামের বানান
বাংলা ও ইংরেজি নাম
জন্মতারিখ
পিতা ও মাতার নাম
স্বামী বা স্ত্রীর নাম
বৈবাহিক অবস্থা
ঠিকানা
পেশা
রক্তের গ্রুপসহ কিছু অন্যান্য তথ্যদ
তবে প্রতিটি তথ্য পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।

আবেদন করার আগে যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন
যে তথ্যটি সংশোধন করতে চান, সেটির পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি বা পরিষ্কার ছবি প্রস্তুত রাখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সনদ, এসএসসি বা সমমানের সনদ, পাসপোর্ট, বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, বিবাহ নিবন্ধন বা তালাকের কাগজ, নাগরিকত্ব সনদ ও/বা অন্যান্য সরকারি নথি লাগতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি বা সমমানের সনদ থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

১. প্রথম ধাপ

অনলাইনে ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর তথ্য পরিবর্তন করতে হলে আগে আপনাকে বাংলাদেশ এনআইডি পোর্টাল ওয়েবসাইটে (www.nidw.gov.bd) রেজিষ্ট্রেশন করতে। ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন হয়ে services.nidw.gov.bd/nid-pub এই লিংকে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আপনার একাউন্টে লগইন করুন। 

২. দ্বিতীয় ধাপ

লগইন করার পর একটি ওয়েবপেইজ দেখতে পাবেন। এই পেইজের টপ লেফট কর্নারে থাকা “প্রোফাইল” ট্যাব এ ক্লিক করুন। প্রোফাইল ট্যাব আসার পর আপনার সকল ব্যাক্তিগত তথ্য, যেমন : নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, মা-বাবার নাম ইত্যাদি দেখতে পাবেন। এরপর উপরে ডানদিকে “এডিট” নামে একটি বাটন দেখতে পাবেন। এডিট বাটনে ক্লিক করলে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরিবর্তন এর জন্য প্রযোজ্য ফি বা চার্জ এর তথ্য প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে “বহাল” বাটন এ ক্লিক করলে আপনাকে এডিট প্রোফাইল পেজে নিয়ে যাওয়া হবে। এই পেজে 

আপনার সকল ব্যাক্তিগত তথ্য পুনরায় দেখতে পাবেন। খেয়াল করুন, প্রতিটি তথ্যের পাশে একটি বক্স রয়েছে। উক্ত বক্স সমূহে ক্লিক করলে বক্সটি ঠিক মার্ক যুক্ত হবে এবং ঠিক মার্কযুক্ত বক্সের তথ্য এডিট করা যাবে। এই পেইজ থেকে আপনি আপনার এনআইডি তে থাকা নাম, জন্ম তারিখ, রক্তের গ্রুপ, জন্ম-নিবন্ধন নাম্বার, মা-বাবার নাম ইত্যাদি পরিবর্তন করতে পারবেন। যেসব তথ্য পরিবর্তন করতে চান, সেগুলোর পাশে থাকা বক্সে ঠিক মার্ক দিন এবং তথ্য সমূহ এডিট করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য পরিবর্তন করা হয়ে গেলে উপরে ডানদিকে থাকা “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।

৩. তৃতীয় ধাপ

যে তথ্যটি পরিবর্তন করতে চান, তার সঠিক তথ্য লিখুন।

তথ্য অবশ্যই সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে লিখতে হবে। বানান, জন্মতারিখ বা নামের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন

৪. চতুর্থ ধাপ

তথ্য সংশোধনের কারণ প্রমাণ করতে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।

ছবিগুলো যেন স্পষ্ট হয় এবং সব লেখা পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অস্পষ্ট বা ভুল নথি দিলে আবেদন বাতিল বা দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।

৫. ষষ্ঠ ধাপ

কোন ধরনের তথ্য সংশোধন করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত ফি দিতে হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে বা অনুমোদিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করা যায়। ফি জমার রসিদ সংরক্ষণ করে রাখুন।

৬. ষষ্ঠ ধাপ

সব তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন জমা দিন।

আবেদন সফলভাবে জমা হলে একটি আবেদন নম্বর পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে আবেদনটির অগ্রগতি জানতে এটি প্রয়োজন হবে।

আবেদন কত দিনে নিষ্পত্তি হয়?
আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময় সব ক্ষেত্রে এক নয়। এটি সংশোধনের ধরন, জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করে।

কিছু আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও জটিল সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে বা শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হতে পারে।

আবেদন করার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

১. শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
২. সঠিক ও সত্য তথ্য দিন।
৩. প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ছাড়া সংশোধনের আবেদন করবেন না।
৪. আবেদন নম্বর ও ফি প্রদানের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
৫. কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওটিপি বা অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না।
৬. একই তথ্যের জন্য বারবার আবেদন না করে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।
৭. আবেদন নিয়ে জটিলতা হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কল সেন্টার ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যায়।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission