ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের চলাচলে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বেশ কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে করণীয়গুলো হলো—

১) কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মেনে চলা।

২) পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা।

৩) চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা।

৪) অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং প্রতারণা (Scam) ও ফিশিং (Phishing) থেকে সাবধান থাকা।

৫) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা। পাশাপাশি তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে সত্যতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে বর্জনীয় বিষয়গুলো হলো—

১) সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য বা প্রচার না করা এবং গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করা।

২) ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার না করা।

৩) কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা।

৪) যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান (Donation) না দেওয়া।

৫) কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ না করা।

৬) নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি, ব্যাংক তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করা।

৭) ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেঃওয়া।

৮) ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন বা সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত না হওয়া।

৯) কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেওয়া।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানান, তারেক রহমান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ এ অধিবেশনে যোগ দেন।  সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের আসনগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকায় বি আদ্যাক্ষরের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রথম সারিতে আসন পায়। অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। মিলনায়তনে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি আসন গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থায় তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণটি তিনি বাংলায় দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন। আরটিভি/এসআর
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে (জিপিএফ) ১১-১৩ শতাংশ হারে মুনাফা দেবে সরকার। তহবিলে জমা অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী তিন স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি বা চলতি অর্থবছরে জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১১ শতাংশ। জিপিএফের আদলে পরিচালিত প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫-২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা দিতে পারেন।  জিপিএফ ও সিপিএফ উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীর জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত অংশ অর্থ দেয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ এ তহবিলে দেয়। জমা করা অর্থের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা পান অংশগ্রহণকারীরা। আরটিভি/এসআর  
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
বাসের পর এবার লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব
জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা (১০০ কিলোমিটারের মধ্যে) বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর এ প্রস্তাব দেন।  আর ১০০ কিলোমিটারের বাইরে ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। এতে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হলে বর্তমান ভাড়ার তুলনায় ৫১ শতাংশ বাড়বে। একই হারে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ভাড়া বাড়ালে তা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়বে বলে দাবি করেছে তারা। চিঠিতে আরও বলা হয়, এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্থিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা ও নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ফি এবং আয়কর ও ভ্যাটের ব্যয়ও বেড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ পরিচালন ব্যয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও দাবি করেছে লঞ্চমালিকদের সংগঠনটি। চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে যাত্রীর ভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন অথবা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা। আরটিভি/এসআর  
বাসের পর এবার লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব
১৮০ দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রকাশ করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ
চলতি বছরের ১৬ মার্চ ঘোষিত ১৮০ দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনার মেয়াদ শেষে অগ্রগতি নিয়ে জনসাধারণের জন্য সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এ পরিকল্পনার তিনটি স্তম্ভ-উন্নত অবকাঠামো, বিনিয়োগ সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়নের আওতায় গত মার্চে ঘোষিত ১৬টি কর্মধারার মধ্যে ১৪টির অধীনে নেওয়া ২০টি উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, সরকারের বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে উন্নত অবকাঠামো, দ্রুত ও কার্যকর সেবা এবং বিনিয়োগযোগ্য সুযোগের একটি শক্তিশালী পাইপলাইনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো সময় লাগবে। ১৮০ দিন পর অগ্রগতি জানানোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ হালনাগাদ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিকল্পনার প্রথম স্তম্ভের আওতায় বন্দর আধুনিকায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ এবং সরকারি সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে ৭০০টির বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্দরের সক্ষমতা ৪৪ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ১৫ বছরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ইজারার জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (সিআরবিসি) ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এ অঞ্চলের প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাইপলাইন ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সক্রিয় পাইপলাইন রয়েছে। প্রকল্পটি ১ লাখের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের (সিসিইসিসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রস্তাবিত ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও হালকা প্রকৌশল খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা বন্দর কার্যক্রম, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পিত কার্গো সুবিধার মাধ্যমে বার্ষিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা ২ লাখ টন থেকে ৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। চট্টগ্রামে ৬০০ একরের বেশি জমিতে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের নীতিগত কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে। ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৪১২ একর জমিতে প্রথম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তুতির কাজ চলছে। সরকারি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশিকা অনুমোদন করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে। মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) ২০২৮ সালে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। এর দৈনিক ভিত্তি সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সর্বোচ্চ সক্ষমতা ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার একরের বেশি শিল্পজমি ঘিরে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ৪৪টি সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদে বেসরকারি অংশগ্রহণ পরিচালনায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্বিতীয় স্তম্ভের আওতায় বিনিয়োগসেবা একীভূত করা, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংযোগ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিডা, বেজা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে বিনিয়োগ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পিপিপি কার্যক্রমকে একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগ সহায়তা, জমি ও পিপিপি সেবা আরো সমন্বিতভাবে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন, অবকাঠামো, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দফায় উত্থাপিত ২৮টি বিষয়ের মধ্যে ২১টিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চার মাসে দু’টি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাবিজে তিন দিনের বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ চালু হয়েছে। ১৪ দিনের বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অগ্রাধিকার সেবা একীভূত করার কাজ চলছে। দক্ষিণ চীনের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পরামর্শক সেবা ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে এবং চীনা পরামর্শকরা কাজে যুক্ত হয়েছেন। কার্যালয়টির কার্যক্রম ২০২৬ সালের অক্টোবরে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। তৃতীয় স্তম্ভের আওতায় বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি, বিনিয়োগযোগ্য সুযোগ প্রস্তুত এবং খাত ও অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি ইকুইটি আনতে ভূমিকা রাখা যোগ্য ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট ইকুইটির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশিকা অনুমোদিত হয়েছে। এজন্য পৃথক পোর্টাল প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের এ ধরনের প্রথম প্রণোদনা উদ্যোগটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, মোট বিনিয়োগ পাইপলাইনের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে চীন থেকে ৬০০ মিলিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০০ মিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। খাতভিত্তিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার করে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি পর্যটন স্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগের প্রথম পাইলট পিপিপি প্রকল্প হিসেবে হোটেল শৈবালকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৩২ একরের এ প্রকল্পের ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে ৫০টির বেশি পর্যটন স্থাপনা পিপিপি পাইপলাইনে যুক্ত হবে। এছাড়া গভীর সমুদ্রে তিন মাস পর্যন্ত মাছ ধরার অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা সাতটির বেশি গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি অ্যাকুয়াকালচার জোনের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইও শুরু হয়েছে। দেশের প্রথম সমন্বিত বিনিয়োগ মানচিত্রায়ন কার্যক্রমও পরিচালনা করছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও সানেমের (এসএএনইএম) অংশীদারিত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দেশের আটটি বিভাগ ও প্রধান খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ, প্রতিবন্ধকতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো চিহ্নিত করা হবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সামগ্রিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এমন উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে জনসাধারণকে অবহিত করা হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের অধীন পৃথক উইংগুলোর কার্যক্রম সরকারের লক্ষ্য ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসম্পাদন সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। আরটিভি/এসআর  
১৮০ দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রকাশ করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র, আবেদন শেষ ২৩ সেপ্টেম্বর
কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাসে এলো ইয়াবার পার্সেল
হঠাৎ রাতে সরকারি কোয়ার্টার থেকে ভেসে আসে তরুণীর চিৎকার, অতঃপর...
টানা চারবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যাসল কনলি টপ ডক্টর’  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ