জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে সাহিত্যের মুখপত্র ‘কালের অক্ষর’ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। এতে আবু সাঈদকে নিয়ে গল্প-কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ এবং অভ্যুত্থান বিষয়ক পরবর্তী ভাবনা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। সম্প্রতি সংখ্যাটি নিয়ে রাজধানীতে একটি পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি জাকির আবু জাফর, কবি মনসুর আজিজ, কথাশিল্পী সাজেদা সুলতানা কলি, কবি মামুন সারওয়ার, কবি মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন, কথাশিল্পী সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও সম্পাদক মেজবাহ মুকুল।
কবি জাকির আবু জাফর বলেন, কালের অক্ষর মিনিং পুল একটি নাম। শব্দটি বেশি উচ্চারণ করতেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি আল মাহমুদ। আজ সে নামে একটি লিটলম্যাগ প্রকাশিত হয়েছে দেখে বেশ ভালো লাগছে। আরও ভালো লাগছে সংখ্যাটি জুলাইয়ের অন্যতম প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত লিটলম্যাগ খুব ধীরে এবং লম্বা সময় নিয়ে প্রকাশ হয়। এর মূল কারণ হলো আমাদের সাহিত্যে পৃষ্ঠপোষকতার বড় অভাব। যারা পৃষ্ঠপোষক হওয়ার কথা বিম্মকরভাবে তারা এসব ব্যাপারে বড় উদাসীন। যার কারণে একটি সংখ্যা আলোর মুখ দেখতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অথবা দেখেই না। তবু সংখ্যাটি নিয়মিত যেন প্রকাশিত হয় সে কামনা রইল।
কালের অক্ষর প্রকাশ নিয়ে কবি মনসুর আজিজ বলেন, সম্পাদক এখানে খুব ভালো একটি বিষয় তুলে ধরেছে সেটি হলো ‘জুলাইয়ের আইকন আবু সাঈদ’। আবু সাঈদের শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই একটি নতুন জাগরণ, নতুন একটি বিস্ফোরণ, নতুন একটি আন্দোলন এবং নতুন একটি ভাষার জন্ম দিয়েছে। কোনো বই বা পত্রিকা যদি মানুষের জন্য হয়ে থাকে সেটি কখনো হারিয়ে যায় না।
তিনি আরও বলেন, অনেকদিন থেকেই মেজবাহ মুকুল চেষ্টা করছে একটি লিটলম্যাগ করার। অবশেষে সে সফল হয়েছে। তার এ পথচলা দীর্ঘ হোক। কালের অক্ষরকে ঘিরে নতুন একটি লেখক সমাজ গড়ে উঠুক সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
কবি মামুন সারওয়ার বলেন, লিটল ম্যাগাজিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য মাধ্যম। লিটলম্যাগ সংগ্রহ করেন বোদ্ধা সাহিত্যিকরা। কালের অক্ষর প্রথম সংখ্যাটি জুলাইয়ের আইকন আবু সাঈদকে নিয়ে করেছে এটা খুব ভালো লাগল। আমি আশা করবো কালের অক্ষর প্রকাশে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
কবি মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন বলেন, বিপ্লবের অন্যতম মহানায়ক আবু সাঈদকে নিয়ে কালের অক্ষর এই যে সংখ্যাটি করেছে এটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই ধরনের সংখ্যা থেকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানতে পারবে আবু সাঈদ কে ছিলেন। ২৪ কী ছিল। আমি চাইবো এ ধরনের সংখ্যা বাজারে আরও আসুক।
কথাশিল্পী সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি লিটলম্যাগ প্রকাশ করা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশে যে লিটলম্যা আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেটা স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে। সেখানে কালের অক্ষর জুলাইয়ের মতো একটি সময়ে প্রকাশিত হয়েছে এটাই বড় কথা। সবচেয়ে বড় কথা ম্যাগাজিনটা মানসম্মত হয়েছে। আশাকরি পাঠকরাও দারুণ সাড়া দেবেন।
দীর্ঘ দুই বছরের সাধনায় ‘কালের অক্ষর’ লিটলম্যাগ আলোর মুখ দেখল সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আনন্দের সংযোজন। এখানে আবু সাঈদ সংখ্যাটির যত্নশীল সম্পাদনা, সাহিত্যচর্চার প্রতি নিষ্ঠা, মানসম্মত কাগজ এবং ঝকঝকে ছাপা—সব মিলিয়ে প্রথম দর্শনেই পত্রিকাটি মনোমুগ্ধকর। পত্রিকাটি দীর্ঘ পথচলায় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করুক।
সম্পাদক মেজবাহ মুকুল বলেন, ১৬ জুলাই ২০২৪। ওইদিন আবু সাঈদ মারা গেল। এ দৃশ্য দেখে আমি বেশ ক’রাত ঘুমাতে পারিনি এবং কিছু করতেও পারছি না। সে সময় আবু সাঈদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেক লেখালেখি হচ্ছিল। আমার কাছে তখন মনে হয়েছে সবাই যদি যুদ্ধে যাই তবে ইতিহাস লিখবে কে? তখনকার অনেক লেখাই দেখলাম গ্রন্থভুক্ত হওয়ার মতো। তখন আমি লেখা সংগ্রহ শুরু করি এবং সে চিন্তা থেকেই আবু সাঈদ সংখ্যাটির জন্ম।
তিনি আরও বলেন, কালের অক্ষর প্রকাশের মাধ্যমে আবু সাঈদ সংখ্যাটি ইতিহাসে একটি দলিল হয়ে থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।
আরটিভি/এমএম



