ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালের বন্যায় বাংলাদেশের বিপদ কতটুকু, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১১ পিএম
ভৌগোলিক মানচিত্রে নেপাল ও বাংলাদেশ । ছবি: সংগৃহীত

নেপালে হিমবাহ ও পাহাড়ি ঢল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর বাংলাদেশেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নেপালের এই বন্যার পানি নদীপথে বাংলাদেশে এসে বড় ধরনের বন্যা সৃষ্টি করতে পারে কি না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের বন্যার পানি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বন্যা হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন পর্যটকসহ আরও এক হাজারের বেশি মানুষ। বন্যার পানির তোড়ে সেতু, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ের একটি পর্বত থেকে হিমবাহ ও পাথরের ধস নেমে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও পাথর একসঙ্গে প্রবল গতিতে নিচের দিকে নেমে আসে। এতে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছি এলাকায় নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন

এই পাহাড়ি ঢলের পানি ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী হয়ে নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে। এরপর গণ্ডক নদী ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশবে। গঙ্গার প্রবাহের সঙ্গে সেই পানি ফারাক্কা হয়ে বাংলাদেশেও আসতে পারে।

তবে নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসার পথে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে হবে পানিকে। এ সময় পানির একটি বড় অংশ ছড়িয়ে পড়বে এবং পলি জমার কারণে স্রোতের গতিও কমে আসবে। ফলে বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই বন্যার পানির তীব্রতা অনেকটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাৎক্ষণিক বড় বন্যার আশঙ্কা কম

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুশফিকুস সালেহীন বলেন, নেপালের এই বন্যার কারণে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তিনি দেখছেন না। তবে উজানের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, নেপালের বন্যার পানি ভারতে প্রবেশ করে গঙ্গায় পড়ার পর বিহার পর্যন্ত যেতে যেতে অনেকটা ছড়িয়ে পড়বে। ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের গবেষক মো. আজাহার হোসেনের মতে, আগামী কয়েক দিনে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে নেপালের বন্যার পানির সঙ্গে নতুন করে পানি যোগ হয়ে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, নেপালের বন্যার উৎপত্তিস্থল থেকে বাংলাদেশের নদীপথের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সময় পানি ছড়িয়ে পড়বে এবং স্রোতের গতিও কমবে। তাই সরাসরি ভয়াবহ বন্যা বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম।

তবে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে উজানে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

নজরে রাখতে হবে ভারতের নদী ও বৃষ্টি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের বন্যার প্রভাব বুঝতে হলে শুধু নেপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেই হবে না। ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও আসামের বৃষ্টিপাত এবং সেখানকার নদীগুলোর পানির উচ্চতার ওপরও নজর রাখতে হবে।

ড. মুশফিকুস সালেহীন গণমাধ্যমকে বলেন, ভারত থেকে পাওয়া বন্যা ও নদীর পানির উচ্চতার তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব।

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. আজাহার হোসেনের পরামর্শ, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফারাক্কা ও তিস্তা ব্যারাজসহ সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা উচিত। পাশাপাশি বিহার ও উত্তর প্রদেশের গঙ্গা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির তথ্যও নিয়মিত সংগ্রহ করতে হবে।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। ফলে নেপালের বর্তমান বন্যার পানি নিয়ে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম।

ভবিষ্যতে বাড়তে পারে হিমবাহজনিত বন্যা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলে হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্র ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এক যৌথ গবেষণায় হিমালয় অঞ্চলে তিব্বত, নেপাল ও ভারতের অববাহিকায় ৪৭টি হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাই নেপালের সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু একটি দেশের দুর্যোগ হিসেবে না দেখে পুরো হিমালয়-গঙ্গা অববাহিকার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় উজানের যেকোনো বড় পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ এবং নদীগুলোর পানি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন / তারেক রহমানকে চলতি বছরেই সফরে নিতে চায় ভারত!
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি একদিকে যেমন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে, তেমনি তারেক রহমানের সফর আয়োজনের ক্ষেত্রেও এটি একটি জটিলতা তৈরি করেছে।
তারেক রহমানকে চলতি বছরেই সফরে নিতে চায় ভারত!
শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে: ভূমিমন্ত্রী
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। 
শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে: ভূমিমন্ত্রী
একজন ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, একজন ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য শ্রম, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। শর্টকাট পথে অর্থবিত্ত অর্জন করা সম্ভব হলেও তাতে একজন ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না।
একজন ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী
লংমার্চকারীদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, লংমার্চকারীদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা দলীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে, তাদের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
লংমার্চকারীদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
ভয়াবহ বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশসহ ৮ দেশ, গবেষকদের সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় উঠে এসেছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের নাম। 
ভয়াবহ বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশসহ ৮ দেশ, গবেষকদের সতর্কবার্তা
আরও পড়ুন
ভয়াবহ বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশসহ ৮ দেশ, গবেষকদের সতর্কবার্তা
বিদেশ যাচ্ছেন বাকৃবির ৩৫ শিক্ষার্থী
হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল তথ্য, যা বললেন মাহবুবা হাকিম
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ২৮৭ জনের বড় নিয়োগ