ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশে পাচার বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিস্টেম

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
ফাইল ছবি

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে ‘রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস)’ নামে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন এই সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও জাহাঙ্গীর হোসেন ও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে। স্বাগত বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান। আরডিএমএস-এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে মানবপাচার প্রতিরোধ ও উদ্ধারকৃতদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে রেফারাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস) অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণে আরডিএমএস প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া, শিশুদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে এটিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পাশাপাশি পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সমন্বিত করার কাজ চলমান রয়েছে। অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এ উদ্যোগ সারভাইভারদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ-এর কারিগরি সহায়তায় আরডিএমএস তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে সহায়তা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিসহ বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় একাধিক সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকে। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিতভাবে এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক সময় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।

অনুষ্ঠানে আরডিএমএস-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ। উপস্থাপনায় দেখানো হয়, কীভাবে এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা এবং তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও সহজে অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

একইসঙ্গে সিস্টেমটি প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং রিয়েল-টাইমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ দেবে।

আরডিএমএস-এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আরও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানও আরও সহজ হবে। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সিস্টেমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

আরডিএমএস চালুর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। নতুন এই সিস্টেম বিদেশ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও সমন্বিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরডিএমএস উন্নয়ন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নতুন সিস্টেমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খুলনার খান সাইফুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খান সাইফুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
খুলনার খান সাইফুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল হয়েছে পরমাণু বিক্রিয়া
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) সম্পন্ন হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল হয়েছে পরমাণু বিক্রিয়া
মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর
জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশন বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এ দেশে দ্বিতীয় একটি কাফকো স্থাপনের বিষয়েও আগ্রহী। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময়ে আলোচনাকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করে মারুবেনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। বৈঠকে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশে দ্বিতীয় একটি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করে। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মারুবেনি কর্পোরেশনকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মারুবেনি কর্পোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রকৌশল স্নাতকদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় আরও দক্ষ করে তোলার সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’ বৈঠকে আগামী একবছরের মধ্যে বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রকল্পে মারুবেনি কর্পোরেশনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে মারুবেনির বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা করে। এছাড়াও সার উৎপাদন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বৈঠকে কাফকোতে মারুবেনি কর্পোরেশনের বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ উঠে আসে। একই সঙ্গে দেশে দ্বিতীয় একটি কাফকো স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারা। আরটিভি/এসআর  
মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর
পানির ন্যায্য হিস্যা দিয়েই ভারতকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আগামী ১২ ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারতকে প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কা চুক্তি আগামী ১২ ডিসেম্বরে শেষ হবে। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এবং আমার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্নভাবে আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ইতোমধ্যে কলকাতায় টেকনিক্যাল কমিটির একটা সভা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আহ্বান করব আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশকে, বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে যে চুক্তিটি করেছিলেন, পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্যারান্টি ক্লজ- সেই গ্যারান্টি ক্লজকে সামনে রেখে আমরা চাই আগামীতে আমাদের এই ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন হবে, সেটাকে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে একপাক্ষিক সমর্থনের কারণে দুই দেশের জনগণের সম্পর্কে যে প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছিল, গ্যারান্টি ক্লজসহ ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিতের মাধ্যমেই ভারতের সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ দেওয়া সম্ভব। শুধু ফারাক্কা নয়, সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত আরও ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সেগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতেও ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবুসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
পানির ন্যায্য হিস্যা দিয়েই ভারতকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সমন্বিত বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
জাতির বৃহত্তর স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারকে সামনে রেখে ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি বা জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।  তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।  সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না। বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচালনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজন পূরণে সরকার এখন জাতীয় বন্দর কৌশল চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগে জাইকা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা জাপান সরকারের সহযোগী সংস্থা জাইকা এবার বন্দর কৌশল প্রণয়নেও পাশে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব কর্তৃত্ব, দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যেন সমন্বিত উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এর অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব বা কার্যক্রমের পরিধি উপেক্ষা করা নয়। বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সব পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। শেখ রবিউল আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের দায়িত্ব, প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের কাজ হবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যকর সুপারিশ তুলে ধরা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।  ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। মন্ত্রী বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে। শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, এটি কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য এ কৌশলের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক বা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাইকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্টদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এ কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বন্দরগুলোর রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে এসব বন্দরকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে পৃথিবী এগিয়েছে, বাংলাদেশও এগিয়েছে। দেশের বন্দর অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। এখন সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করার। তিনি বলেন, দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। সেমিনারে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সমন্বিত বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
আরও পড়ুন
সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, তীব্র প্রতিবাদ জানাল ঢাকা
মালদ্বীপে বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, লাপাত্তা ৩ রুমমেট
সৌদির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ড. খালিদ, বাংলাদেশে পঞ্চম