
মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের প্রায় ৯৯ শতাংশই এখন ই-পাসপোর্ট নিচ্ছেন।
ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হওয়া মিশনগুলোতে এমআরপি ইস্যু বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব মিশন থেকে এমআরপি সেবা গুটিয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব মিশনে ই-পাসপোর্ট পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেখানে অবিলম্বে এমআরপি বন্ধ হবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
সৌদি আরবে থাকা বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে দ্রুত পাসপোর্ট সেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে আরো আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে) পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের দিল্লি ও কলকাতা মিশনেও দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন করে আর এমআরপি করা যাবে না। তবে বৈধ এমআরপি যাঁদের রয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্য মিল থাকতে হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে এমআরপি ব্যবহার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন মিশনে কনস্যুলার সার্ভিস সেন্টার ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলেই এমআরপি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
গত ২৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে এমআরপি, ই-পাসপোর্ট ও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দেশের ৭১টি পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশের ৭১টি মিশনে ই-পাসপোর্ট চালুর অগ্রগতি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সভা শেষে এমআরপি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজার একটি ই-পাসপোর্টের বিপরীতে মাত্র একটি এমআরপি ইস্যু হয়েছে। সেটিও বিদেশের একটি কনস্যুলেট থেকে। ফলে এমআরপির চাহিদা এখন প্রায় নেই বললেই চলে।
দেশে ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও বিদেশে থাকা প্রবাসীদের একটি বড় অংশ এত দিন এমআরপির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বিশেষ করে অনেক প্রবাসীর এনআইডি না থাকা এবং জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্যে অমিলের কারণে হঠাৎ এমআরপি বন্ধ করলে ভিসা ও আকামার বৈধতা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে প্রবাসীদের সুবিধার্থে এত দিন এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়।
আরটিভি/এসআর




