
টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে দেশ গঠনে ও জনস্বার্থ রক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে দেশের ব্রডকাস্ট সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে দুঃসময়ে পাশে থাকার স্মৃতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, আপনাদের সাহচর্য, সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন হয়েছে, আপনাদের পাশে ছিলাম এবং সবসময় আছি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতন্ত্রচর্চা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা গেলে আমরাও উন্নত দেশগুলোর মতো উপরে উঠতে পারতাম। দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতি ক্ষুদ্র ও রাজনৈতিক স্বার্থ পরিহার করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু টেলিভিশনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, এর গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। তিনি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করে গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে তিনি নীতিনির্ধারকদের বড় ক্যানভাসে, দীর্ঘমেয়াদে ও দূরদৃষ্টি দিয়ে সমস্যাগুলোকে দেখার ও সমাধানের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ডিজিটালাইজেশন ও স্বনির্ভর হওয়ার মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে টেকসই হতে পারে, সে ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিজেসির সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন জানান, বিজেসি ট্রাস্টি সংগঠনের মতো সাংবাদিকদের মূলত কল্যাণ নিয়ে কাজ করে। এটি সম্প্রচার সাংবাদিকদের পেশাগত গুণগতমান বজায় রাখতে প্রশিক্ষণ প্রদান করে, স্বাস্থ্যসহায়তা, বিমাসহ ইত্যাদি সুবিধা প্রদান করে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি বিএনপির মহাসচিব থাকাকালে বিজেসির নানা কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে বিজেসির পাশে থাকার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান। বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতায় রাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বিজেসির কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি তাদের আয়বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিজেসির উত্তরাত্তর সাফল্যও কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে বিজেসি প্রতিনিধি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, ট্রাস্টি তালাত মামুন, নির্বাহী জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু, সাইফুল শাহীন, নায়লা পারভীন পিয়া, সদস্য মাহমুদ হাসান, আজিজুর রহমান কিরন, শরিফুল ইসলাম খান ও বেলায়েত হোসেন।
আরটিভি/এসআর



