ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশের ২২ জেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরেই দেশের ২২ জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘শিশু স্বর্গ’ গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, দেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতে দেশের ২২ জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘শিশু স্বর্গ’ গড়ে তোলা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুজ্জমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ২২ জেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে কড়াইল বস্তিতে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে, যেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৩০০ শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এম এ মুহিত বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি বেসড আর্লি কেস ডিটেকশন’ (প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্তকরণ) ব্যবস্থা গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ গ্রহণ করেন।

প্রতিবছর ৬ অক্টোবর বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস পালিত হয়। দিনটি সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

সেরিব্রাল পালসি শুধু শিশুর চলাফেরার সমস্যা নয়, এর সঙ্গে কথা বলা, খাওয়া, দৃষ্টি, শ্রবণ, শেখা ও দৈনন্দিন কাজেও বিভিন্ন মাত্রার সমস্যা যুক্ত হতে পারে। তবে সবার অবস্থা এক নয়। অনেকেই সামান্য সহায়তায় স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, ডায়াগনস্টিক কিট, ওষুধ এবং স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করেছে সরকার। ফলে বিগত তিন বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজলভ্য করা, ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার ০.৩১ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে। এ বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যুর হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুতে এই হার ছিল ০.৫৩ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৪৮২ জনের মৃত্যুতে ০.৪৯ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩২৩ জনের মৃত্যুতে এই হার ছিল ০.৩৪ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে মৃত্যুর হার ছিল ০.৪২ শতাংশ। সরকারি নির্দেশনার আলোকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু, পর্যাপ্ত ডায়াগনস্টিক কিট ও স্যালাইনের মজুত এবং বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু এনএস১ পরীক্ষা নিশ্চিতকরণসহ দেশব্যাপী ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।  রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ২২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। সেখানে দুটি ফ্লোরকে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপান্তর করে হাসপাতালটি তাদের মোট শয্যা সংখ্যা ৬০টি (শিশুদের জন্য ২০টি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০টি) থেকে বাড়িয়ে ২০০টিতে উন্নীত করেছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যাতে তারা ওয়ার্ড থেকে বের না হয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। তিনি জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা সম্প্রতি একটি ইন-হাউস সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। তাছাড়াও মেডিসিন ও শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত সকালে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেশন পরিচালনা করছেন, যা মৃত্যুর হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে ৪০২, ৫০২ এবং ৭০২ নম্বর ডেডিকেটেড ওয়ার্ডের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডটি নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত। ঢামেক ডেঙ্গু ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক শাহনুর শারমিন মুন্নি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্ধারিত ক্ষমতা প্রায় ৫০টি শয্যা হলেও রোগীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম বেশি হয়। তিনি জানান, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় জরুরি পণ্যসামগ্রী, যেমন- আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন), আইভি সেট, প্যারাসিটামল, বমি ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এবং বিশেষ তরল হিসেবে ব্যবহৃত প্লাজমা সলিউশনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে হাসপাতালে। কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সক্ষমতা আরও ১০০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের অষ্টম তলায় আরও ১০০টি শয্যা চালু করেছি, যার মধ্যে ৫০টি পুরুষ এবং ৫০টি নারী রোগীদের জন্য।  ইতোমধ্যেই সেখানে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে ৬ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছে। সাইদুর রহমান জানান, ১ হাজার ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে জরুরি বিভাগে ৫০টি শয্যা ছাড়াও প্রায় ২০০টি শয্যা বিশেষভাবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। সব ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রোগী—যাদের রক্তপাত, তীব্র ডায়রিয়া বা অনিয়ন্ত্রিত বমির মতো গুরুতর লক্ষণ রয়েছে, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বাসসের খুলনা প্রতিনিধি জানান: ডেঙ্গু সংক্রমণের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হটস্পট হিসেবে খুলনা আবির্ভূত হওয়ায় সেখানকার বিভিন্ন সরকারি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংক্রমণের তীব্রতা বিবেচনায় খুলনা শহরের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সপ্তাহজুড়ে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা সেবা প্রদান করা হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি ওয়ার্ড ও সংলগ্ন বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে হাসপাতালে ৩০টি শয্যা সরবরাহ করেছে, যার ফলে হাসপাতালের মোট ডেঙ্গু শয্যা সক্ষমতা ১৫০টিতে পৌঁছেছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা সেবা ও অস্থায়ী হাসপাতাল চালু করেছে এবং খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি মাত্র ১০০ টাকা খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ সুবিধা চালু করেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, দেশজুড়ে বিশেষ করে রাজধানীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেওয়ায় ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে ঢামেক প্রাঙ্গণে ফিল্ড হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার কথা বিবেচনা করছে সরকার। একই সাথে, ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজতর করতে পর্যাপ্ত জায়গা সাপেক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের কথাও বিবেচনা করছেন কর্তৃপক্ষ। ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে স্যালাইনের মজুতের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে প্রত্যাশিত চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি) এবং এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-কে পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পরিচালক জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইডস কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট প্রদান করেছে। এর ফলে দেশের যেকোনো অংশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া, চিকিৎসকরা যাতে ডেঙ্গু রোগীদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং ব্যবস্থাপনার ভুলে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়—সে লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ডেঙ্গু চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. নুরুল ইসলাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালে যেন ডেঙ্গু থেকে নতুন করে সংক্রমণ না ছড়ায়, সেজন্য রোগীরা যাতে মশারি ব্যবহার করেন তা নিশ্চিত করছেন কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/এসআর
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের
একনেকে উঠছে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নির্গমন কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। 
একনেকে উঠছে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকট এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত: ঢাকা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক উদ্বেগের বিষয় নয়, এর সঙ্গে বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ও জড়িত। সেই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশবিষয়ক যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ার ও এমপি আফসানা বেগমের নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে এপিপিজির অব্যাহত আগ্রহের প্রশংসা করেন। প্রতিনিধিদলে হাউস অব লর্ডসের সদস্য শওকত আদম এমপি ও লর্ড কুরবান হুসেইনও ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংহতি ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে এপিপিজির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরিতে এপিপিজির সহযোগিতা চান। প্রতিনিধিদলটি বুধবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবে উল্লেখ করে এপিপিজির প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্দশা মোকাবিলায় তাদের সমর্থনের কথা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সোচ্চার থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিনিধিদলটি। আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময় জোরদার গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংহতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি কাজে লাগানো এবং মানবাধিকারের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করে এবং সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে। আরটিভি/এসআর
রোহিঙ্গা সংকট এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত: ঢাকা
দেশে শব্দদূষণ কমাতে ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ প্রশিক্ষিত
দেশে উচ্চশব্দের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সরকারি প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জন সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের (ঢাকা মহানগর) পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ বাসস-কে জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী, ৭২ হাজার ২০০ জন পরিবহনচালক ও শ্রমিক, ৮ হাজার ১৪০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১ হাজার ৯২০ জন কারখানা ও নির্মাণশ্রমিক, ১ হাজার ৮০০ জন সাংবাদিক এবং ৫ হাজার ৫৮০ জন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, ইমাম, শিক্ষক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। ফরিদ আহমেদ জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা এখন শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতন এবং তারা তাদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন এবং ইমামরা মুসল্লিদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করছেন। শহরাঞ্চলে শব্দের মাত্রা কমাতে পরিবেশ অধিদপ্তর ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের হর্ন ও পরিবেশগত শব্দ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক প্রচার, অংশীজনদের প্রশিক্ষণ, নীরব এলাকা ঘোষণা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। শব্দদূষণ প্রতিরোধ ও কমাতে তাদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি প্রকল্পের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফরিদ আহমেদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরো ৩৬ হাজার ১২০ জনকে শব্দদূষণের ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে অবহিতকরণ ও দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পাশাপাশি রেডিওতে নিয়মিত শব্দদূষণবিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।  ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শব্দদূষণবিষয়ক টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি), খুদে বার্তা ও বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। শারীরিক সচেতনতামূলক উপকরণের মাধ্যমেও প্রকল্পটির জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করেছে। শব্দদূষণ বিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের জন্য মোট ১২৮টি বিলবোর্ড ও ২১০টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।  এছাড়া ৭ লাখ লিফলেট, ৭ লাখ অন্যান্য উপকরণ ও ১ হাজার প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ছাপিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। সচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ৭ হাজার ২৯৭টি মামলার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় করেছে এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করেছে। প্রকল্পের আওতায় জনসচেতনতামূলক বেশকিছু উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকায় ‘এক মিনিট নীরবতা’ পালন করা হয়। নির্ধারিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে ডিওই ‘যুব উৎসব’ উদযাপনের অংশ হিসেবেও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রশিক্ষণ, গণমাধ্যমে প্রচারণা, জনসম্পৃক্ততা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি জনসচেতনতা আরো বাড়াতে এবং বাংলাদেশের সর্বত্র শব্দদূষণ কমাতে সহায়ক আচরণ গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করতে কাজ করছে। আরটিভি/এসআর
দেশে শব্দদূষণ কমাতে ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ প্রশিক্ষিত
সেবামূলক সরকারি প্রতিষ্ঠানে চালু হবে ‘মিট দ্য প্রেস’: জহির উদ্দিন স্বপন
সরকারের আওতাধীন সব জনসেবা বিভাগ ও দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘মিট দ্য প্রেস’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
সেবামূলক সরকারি প্রতিষ্ঠানে চালু হবে ‘মিট দ্য প্রেস’: জহির উদ্দিন স্বপন
আরও পড়ুন
‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে হুড়মুড় করে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা
‘ডেঙ্গুর পিক সময় সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে’
সতর্ক না হলে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী