ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশেপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যা সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।

কর্মকর্তাদেরও একইভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি— কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬০ বা ৭০-এর দশকে লন্ডনের অনেক জায়গাতেও ময়লা-আবর্জনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।

তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্প সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড যেন ম্লান না হয়, সেজন্য পদত্যাগ করছি: ইশরাক 
ইশরাক হোসেন বলেন, আমার কারণে যেন প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড যেন ম্লান না হয়, সেজন্য পদত্যাগ করছি: ইশরাক 
‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্য’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘ইএসজি প্লাটফর্ম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্য’
মাদকের বিরুদ্ধে আমার অভিযান কেবল শুরু, এটা চলবে: ইশরাক 
ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। এ লড়াই চালিয়ে যেতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাদকের বিরুদ্ধে আমার অভিযান কেবল শুরু, এটা চলবে: ইশরাক 
কেন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অভিযান করেছেন, ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে সেই অভিযানে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ধারণ করেছি বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। অস্ত্র হাতে অভিযানের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার কাছে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সেটি সব সময় আমার কাছেই থাকে। তিনি বলেন, সেদিন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে আমি হাতে ধারণ করি। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরে আমি আমার আগ্নেয়াস্ত্র সঠিক জায়গায় রেখেছিলাম। এর আগে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশেষ কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দল চায়নি বরং দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। পদত্যাগের পর মাদকের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসীভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানটা করতে গিয়েই আজকের এই পরিস্থিতি। যেখানে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। দল চায়নি, দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেটা আমি বক্তব্যে বলবো।’ মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক আরও বলেন, ‘এখনতো আমি আরও এগ্রেসিভলি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। যুদ্ধ করবো আমি।’ ইশরাকের বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত তার দলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে পদত্যাগের পেছনে বিশেষ কারণ কী এবং এ বিষয়ে দলের সঙ্গে তার কী ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা তিনি পরবর্তী বক্তব্যে বিস্তারিত জানাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না বরং এ বিষয়ে আরও কঠোর ও আগ্রাসী ভূমিকা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। আরটিভি/এসকে
কেন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অভিযান করেছেন, ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক
আরও পড়ুন
অভিযোগ থেকে সমাধান, সব এক অ্যাপেই!
ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশের জন্য সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর