ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্য’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘ইএসজি প্লাটফর্ম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীর আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি আসে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাঁচ বছর ধরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। আগের সরকারের সময়ে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস সাধারণত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তুলনায় কম এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে। তবে সংস্কার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন প্রবৃদ্ধির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অতীতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। এগুলো হলো নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশের উন্নয়ন, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পণ্য পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, করনীতিতে পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ বাড়ানো এবং ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, পণ্য পরিবহনের গতি বাড়ানো, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে করের হার না বাড়িয়েও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা সহজ হবে।

বিজিএমইএর উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন সংক্রান্ত মানদণ্ড অনুসরণ করলে শিল্প খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত’
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দেশের সকল উপজেলায় ইউএনও-কে সভাপতি ও থানার অফিসার ইনচার্জকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত’
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড যেন ম্লান না হয়, সেজন্য পদত্যাগ করছি: ইশরাক 
ইশরাক হোসেন বলেন, আমার কারণে যেন প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড যেন ম্লান না হয়, সেজন্য পদত্যাগ করছি: ইশরাক 
মাদকের বিরুদ্ধে আমার অভিযান কেবল শুরু, এটা চলবে: ইশরাক 
ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। এ লড়াই চালিয়ে যেতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাদকের বিরুদ্ধে আমার অভিযান কেবল শুরু, এটা চলবে: ইশরাক 
নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কাছে ২টি ডাবল ডেকার বাস উপহার চাইলেন ইবি উপাচার্য
‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার’
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পথে বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর