ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত) ফিলিপ অং। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বিশেষ করে দেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে দেশটির আগ্রহ রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত) ফিলিপ অংয়ের বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ফিলিপ অং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক একীভূতকরণ ও সমন্বয়ের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে আরও প্রতিষ্ঠানকে এর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এবং শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ফিলিপ অং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং শিল্প উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে সোমবার প্রস্তাব দেবে শ্রমিকপক্ষ
গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করতে দ্বিতীয়বারের মতো সভায় বসছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকায় বোর্ডের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে শ্রমিকপক্ষ। তবে এখনো নিজেদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি মালিকপক্ষ, এ বিষয়ে তারা কাজ করছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ সভায় উভয় পক্ষকে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল মজুরি বোর্ড। ওই সভায় শ্রমিক ও মালিক— উভয় পক্ষই পরবর্তী সভায় নিজ নিজ প্রস্তাব উপস্থাপনে সম্মত হয়। সেই অনুযায়ী, সোমবারের সভায় শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব তুলে ধরবে। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সভায় তাদের অবস্থান কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ন্যূনতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, আগামীকালের সভায় উপস্থাপনের জন্য আমরা এখনো ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছি। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করে মজুরি বোর্ডে উপস্থাপন করবো। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, যা শ্রমিকদের বর্তমান দাবি; অথবা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সুপারিশ এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পোশাকশিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে মজুরির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেন, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে রোববার ৪০টি কারখানা বন্ধ থাকায় চলমান অস্থিরতা নিয়ে আমরা এখনো উদ্বিগ্ন। তবে আমরা সভায় রয়েছি এবং মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আলোচনার পর আমাদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। সেটি সোমবার জমা দেওয়া হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। উল্লেখ্য, সভায় দুটি বিষয় আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকপক্ষ ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পৃথকভাবে মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব দাখিল এবং গার্মেন্টস শিল্পে নিযুক্ত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশ প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা। আরটিভি/টিআর
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে সোমবার প্রস্তাব দেবে শ্রমিকপক্ষ
সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা
কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলোতে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। 
সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা
স্বাভাবিক হচ্ছে পোশাকশিল্প, রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রস্তুতি 
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও উৎপাদন ব্যাঘাতের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। উত্তেজনা কমে আসায় শিল্পাঞ্চলগুলোর অধিকাংশ কারখানায় আবারও পুরোদমে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) থেকে নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরবে অধিকাংশ পোশাক কারখানা বলে আশা করছেন শিল্পমালিকেরা। একই দিনে শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে।  মালিকদের ধারণা, বেতন হাতে পেলে শ্রমিকদের মধ্যে চলমান অসন্তোষ আরও কমবে এবং কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরে আসবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সাভার ও আশুলিয়ার ৮৮টি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। আগের কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অবরোধ ও উত্তেজনাও অনেকটা কমেছে। তবে কিছু কারখানায় এখনো উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শিল্প মালিকেরা বলছেন, কয়েক দিনের অস্থিরতায় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে রবিবার থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কারখানা চালানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা। এ জন্য শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও জরুরি রপ্তানি আদেশ ও পণ্য সরবরাহের প্রয়োজন বিবেচনায় আশুলিয়ার ৮৮টি পোশাক কারখানা চালু রাখা হয়। এসব কারখানায় সকাল থেকেই শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও শান্তিপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে। ছুটির পর রোববার থেকে অধিকাংশ কারখানায় নিয়মিত উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পমালিকদের প্রত্যাশা, শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের মধ্য দিয়ে কর্মক্ষেত্রে আস্থা ও স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে। কয়েক দিন ধরে চলা অসন্তোষের পেছনে মজুরি বৃদ্ধি, বেতন এবং কর্মপরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি কাজ করেছে। এসব বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মালিকদের মতে, নির্ধারিত সময়ে বেতন পাওয়া শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সহযোগিতাও বাড়বে। সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শুক্রবারের পরিস্থিতি আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। সাপ্তাহিক ছুটি থাকা সত্ত্বেও জরুরি প্রয়োজনে চালু রাখা ৮৮টি কারখানায় শ্রমিকেরা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাজে যোগ দেন। শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ জানান, শুক্রবার সাধারণত পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ থাকে। তবে জরুরি উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের চাপ থাকলে কিছু কারখানা খোলা রাখা হয়। এবারও একই কারণে আশুলিয়ার ৮৮টি কারখানা চালু রয়েছে। শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শ্রমিক নেতারাও। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, এখন শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবি ও অসন্তোষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন সচল রাখার আহ্বানও জানান তিনি। শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ দেশের পোশাকশিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৫ নভেম্বর) আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় ১৩০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়ায় ৭০টি, গাজীপুরে প্রায় ৫০টি এবং নারায়ণগঞ্জে আটটি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকেরা উপস্থিত হলেও কাজে যোগ দিতে রাজি হননি। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের জমায়েত, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। তবে আগের দিনগুলোর তুলনায় এসব ঘটনার মাত্রা কমেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানিয়েছেন, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে সব কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পোশাকশিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে রফতানি আদেশের সময়সীমা মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক দিনের অস্থিরতার কারণে অনেক কারখানাকে এখন বাড়তি উৎপাদনের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মজুরি বৃদ্ধি। শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান বেতন দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নতুন করে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।  পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা নতুন কাঠামো অনুসারে বেতন পাবেন। মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টিকে শ্রমিকদের দাবি পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।  তাদের মতে, দীর্ঘদিনের মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলে শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা ফিরতে পারে। তবে নতুন মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও মালিকপক্ষের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা জরুরি। শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, শ্রমিকদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যদিকে শিল্পমালিকদেরও উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং রফতানি আদেশের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। আরটিভি/এসআর  
স্বাভাবিক হচ্ছে পোশাকশিল্প, রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রস্তুতি 
স্বাভাবিক হচ্ছে পোশাকশিল্প, রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রস্তুতি 
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও উৎপাদন ব্যাঘাতের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। উত্তেজনা কমে আসায় শিল্পাঞ্চলগুলোর অধিকাংশ কারখানায় আবারও পুরোদমে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) থেকে নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরবে অধিকাংশ পোশাক কারখানা বলে আশা করছেন শিল্পমালিকেরা। একই দিনে শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে।  মালিকদের ধারণা, বেতন হাতে পেলে শ্রমিকদের মধ্যে চলমান অসন্তোষ আরও কমবে এবং কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরে আসবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সাভার ও আশুলিয়ার ৮৮টি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। আগের কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অবরোধ ও উত্তেজনাও অনেকটা কমেছে। তবে কিছু কারখানায় এখনো উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শিল্প মালিকেরা বলছেন, কয়েক দিনের অস্থিরতায় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে রবিবার থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কারখানা চালানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা। এ জন্য শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও জরুরি রপ্তানি আদেশ ও পণ্য সরবরাহের প্রয়োজন বিবেচনায় আশুলিয়ার ৮৮টি পোশাক কারখানা চালু রাখা হয়। এসব কারখানায় সকাল থেকেই শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও শান্তিপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে। ছুটির পর রোববার থেকে অধিকাংশ কারখানায় নিয়মিত উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পমালিকদের প্রত্যাশা, শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের মধ্য দিয়ে কর্মক্ষেত্রে আস্থা ও স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে। কয়েক দিন ধরে চলা অসন্তোষের পেছনে মজুরি বৃদ্ধি, বেতন এবং কর্মপরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি কাজ করেছে। এসব বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মালিকদের মতে, নির্ধারিত সময়ে বেতন পাওয়া শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সহযোগিতাও বাড়বে। সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শুক্রবারের পরিস্থিতি আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। সাপ্তাহিক ছুটি থাকা সত্ত্বেও জরুরি প্রয়োজনে চালু রাখা ৮৮টি কারখানায় শ্রমিকেরা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাজে যোগ দেন। শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ জানান, শুক্রবার সাধারণত পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ থাকে। তবে জরুরি উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের চাপ থাকলে কিছু কারখানা খোলা রাখা হয়। এবারও একই কারণে আশুলিয়ার ৮৮টি কারখানা চালু রয়েছে। শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শ্রমিক নেতারাও। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, এখন শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবি ও অসন্তোষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন সচল রাখার আহ্বানও জানান তিনি। শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ দেশের পোশাকশিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৫ নভেম্বর) আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় ১৩০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়ায় ৭০টি, গাজীপুরে প্রায় ৫০টি এবং নারায়ণগঞ্জে আটটি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকেরা উপস্থিত হলেও কাজে যোগ দিতে রাজি হননি। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের জমায়েত, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। তবে আগের দিনগুলোর তুলনায় এসব ঘটনার মাত্রা কমেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানিয়েছেন, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে সব কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পোশাকশিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে রফতানি আদেশের সময়সীমা মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক দিনের অস্থিরতার কারণে অনেক কারখানাকে এখন বাড়তি উৎপাদনের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মজুরি বৃদ্ধি। শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান বেতন দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নতুন করে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।  পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা নতুন কাঠামো অনুসারে বেতন পাবেন। মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টিকে শ্রমিকদের দাবি পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।  তাদের মতে, দীর্ঘদিনের মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলে শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা ফিরতে পারে। তবে নতুন মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও মালিকপক্ষের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা জরুরি। শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, শ্রমিকদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যদিকে শিল্পমালিকদেরও উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং রফতানি আদেশের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। আরটিভি/এসআর  
স্বাভাবিক হচ্ছে পোশাকশিল্প, রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রস্তুতি 
২০৩০ সালের মধ্যে আঞ্চলিক শিপিং হাব হবে চট্টগ্রাম বন্দর
দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক আঞ্চলিক শিপিং হাবে পরিণত করতে ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। বন্দরের অবকাঠামো আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বন্দরের দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাহাজের অবস্থানকাল (টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম) এবং কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকার সময় (ডুয়েল টাইম) কমানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানো, ভৌত অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং বিস্তৃত পশ্চাৎভূমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও শিপিং লজিস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের চালু ও নির্মাণাধীন কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার মেগা প্রকল্প, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) কাঠামোর আওতায় মাতারবাড়ী বন্দরে জাপানের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের আগ্রহ দেশের বন্দর, নৌপরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরকালে দেশটি মাতারবাড়ী বন্দরে অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাসসকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং কনটেইনার দীর্ঘ সময় বন্দরে পড়ে থাকার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। উন্নত বন্দরগুলোতে কনটেইনারের অবস্থানকাল দুই দিনের কম হলেও এ বন্দরে তা নয় দিনের বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জাহাজের গড় অবস্থানকালও আড়াই দিনের বেশি। তিনি বলেন, বন্দরের দক্ষতা পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম। অর্থাৎ জাহাজ বন্দরে আসার পর পণ্য ওঠানো-নামানো শেষ করে ছেড়ে যেতে যে সময় লাগে। অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরে এ সময় ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লাগত। জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও) বাংলাদেশে জাহাজ ও কনটেইনার পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড ৩৪ লাখ টিইইউস (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্দরে প্রায় ২১ লাখ ৪০ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। বন্দরের সেবা সহজ ও দ্রুত করতে সম্প্রতি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কনটেইনার ও পণ্যগ্রহীতাদের বিলিং কার্যক্রম টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। বন্দরের পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথরিটির (পিএসএ) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি চালু হলে বছরে আট লাখের বেশি টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এতে দেশের সামগ্রিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়বে। গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৫ বছর মেয়াদি একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম প্রতিনিধিত্ব করেন। চুক্তি অনুযায়ী, বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিচালনাকারী নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বন্দরের সার্বভৌম কর্তৃত্ব, জমি এবং মূল সম্পদের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের অধীনেই থাকবে। চুক্তির আর্থিক শর্ত অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড অগ্রিম প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রথম ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টিইইউস কনটেইনারের বিপরীতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ হারে রয়্যালটি পাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেবে। চুক্তিতে বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নিশ্চয়তাও রাখা হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, চুক্তিতে পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর কর্মদক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত মান অর্জনে ব্যর্থ হলে আর্থিক জরিমানার বিধানও রয়েছে। ক্রেনের উৎপাদনশীলতা কিংবা ট্রাকের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের মতো সূচকে টানা তিন মাস নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হলে এ জরিমানা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনশক্তির কর্মসংস্থান, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের স্থানীয় সংরক্ষণ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার শর্তও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বে টার্মিনাল প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নতুন ব্রেকওয়াটার, নেভিগেশন চ্যানেল, জেটি এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এসব অবকাঠামো চালু হলে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৩০ লাখ টিইইউস বাড়বে। অন্যদিকে, বড় ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং মূল বন্দরের জেটিতে জাহাজের চাপ কমাতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। বন্দরের কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জিজিআই পোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তিও এ উদ্যোগকে সহায়তা করছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ কাগজবিহীন করতে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে পণ্য খালাসের নথিপত্র প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে শুরু করে বন্দরের গেট দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহনের চূড়ান্ত বহির্গমন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ধাপ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সিস্টেমে ধারাবাহিক যাচাইব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এতে নথি জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের সুযোগ কমেছে। পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীরা যেকোনো সময় দূর থেকেই তাদের ফাইলের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন। বন্দরের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ কোনো কনটেইনার আটকে রাখা বা তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট তথ্য সিস্টেমে পৌঁছে যাবে। ফলে শুল্ক বিভাগের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ওই কনটেইনারের পরবর্তী কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে। সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ডিজিটাল রূপান্তরসহ বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও সক্ষম প্রবেশদ্বারে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ‘স্মার্ট বন্দরে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আরটিভি/এসআর  
২০৩০ সালের মধ্যে আঞ্চলিক শিপিং হাব হবে চট্টগ্রাম বন্দর
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে ড. খন্দকার মোশাররফ
পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের প্রতি সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্পিকারের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ