ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি: উপমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী ড. বারবেল কোফলার বলেছেন, জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পাশে থাকতে এসেছি।’

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে জার্মান পুনঃএকত্রীকরণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ ও ইভানা লোৎজ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও জার্মানির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ববর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কোফলার বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন এগিয়ে নিতে জার্মানি বাংলাদেশের সরকার ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে চায়।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জার্মানির উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশের সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।

তিনি বলেন, প্রতিকূল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও দুই দেশের অংশীদারিত্বের সাফল্যের উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।

‘বাংলাদেশের জনগণ প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন,’ বলেন তিনি।

জার্মান উপমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘গ্লোবাল শিল্ড এগেইনস্ট ক্লাইমেট রিস্কস’ উদ্যোগ, জলবায়ু অভিযোজন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতাকে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তার মতে, এ রূপান্তর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট বিঘ্নের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

কোফলার বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি টেকসই উন্নয়নের পথ অনুসরণে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম বাংলাদেশের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জার্মানিও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘আমি জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করে এখানে এসেছি শুধু এসব চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করতে নয়, বরং কীভাবে আমরা একসঙ্গে এগুলো মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করতে,’ বলেন কোফলার।

তিনি বলেন, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।

‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই কেবল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে পারব,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) শ্রেণি থেকে উত্তরণে অভিনন্দন জানিয়ে কোফলার বলেন, এ প্রক্রিয়া টেকসই করতে অর্থনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রতি জার্মানির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কোফলার বলেন, বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে পাশে থাকা জার্মানি ও ইউরোপের দায়িত্ব।

অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অংশীদাররা একসঙ্গে কাজ করলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো সফররত কোফলার জানান, তিন দিনের সফরে তিনি নাগরিক সমাজ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এসব মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ, দেশটির বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণের আকাক্সক্ষা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ স্মরণে পালিত জার্মান ঐক্য দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কোফলার বলেন, এ দিবস শান্তি, সংহতি ও বিভাজন অতিক্রমের প্রতীক। বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এসব মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজেদের ওয়েবসাইটে এই বার্তা প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা
ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি: সিইসি
শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল লক্ষ্য। একথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে নূন্যতম মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মানদণ্ড বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, ‘শুধুমাত্র একটা ভালো নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে সবগুলো নির্বাচন সেই একই মানদণ্ডের হয়, সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা শুধু এককালীন আয়োজন নয়। একটা ভালো নির্বাচন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং দেশে একটা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই মানের হয়। সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে।’ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও একই মানদণ্ডে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এক্ষেত্রে সব অংশীজনের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে ইসি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, এই অঙ্গীকারই কমিশনকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণেই এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সিইসি বলেন,  আমাদের কমিটমেন্টের মধ্যে কোনো খাদ নেই। আসন্ন ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের মতোই আগামী নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কমিশনের ওপর কোনো পক্ষের চাপ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেভাবেই কাজ করছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সিইসি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা খুবই দরকার। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই নভেম্বর মাসের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসব আমরা।’ তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে এবং পূর্ণমাত্রায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে তা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, কঠোর হবে আচরণবিধি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিইসি। ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। তিনি জানান, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে। এ কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত করা ক্যামেরাও থাকবে। এতে নির্বাচনে সহিংসতা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ডে থাকবে। সিইসি বলেন, ‘আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত মূল্যায়নে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন এবং সামগ্রিক নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সিইসি বলেন, মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা, নির্বাচন কমিশনকে আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সিইসি বলেন, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা মানুষের আস্থা ফেরানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের সহযোগিতায় গুরুত্ব ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মানুষের আস্থা ধরে রাখা, প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এমন হতে হবে, যাতে মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তার সুযোগ না থাকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সবার সহযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। সাংবাদিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কমিশনের দরজা উন্মুক্ত। তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাবের সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, কমিশন সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায় এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা জানান সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিকার যেন স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন। কালো টাকা ব্যবহার ও ভোট কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিইসি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সব অংশীজন নিয়ম মেনে নির্বাচনী মাঠে থাকলে কমিশনের জন্য অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে। ১০ মাস থেকে এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করেন। নির্বাচন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেও ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সিইসি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, নারী ভোটার পাওয়া গেলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তুলনামূলক কঠিন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নিরুৎসাহিত করা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক প্রচারণা নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য আইনে রাখা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ তরুণদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানান সিইসি। তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে বছরের ১ জানুয়ারিকে ভিত্তি ধরে বয়স গণনা করা হলেও এবার নতুন সুযোগের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সব পক্ষের সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একইসাথে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কমিশন। সিইসি বলেন, কমিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। আরটিভি/এসআর
ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি: সিইসি
মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান
ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)।  চুক্তি দুটির সম্মিলিত মূল্য সর্বোচ্চ ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। চুক্তির আওতায় রেললাইন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও গতি আসছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে বড় কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। মূলত, ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ আনুমানিক ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগ বাংলাদেশের ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (লাইন-১), অর্থাৎ ঢাকা মেট্রোরেলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের এই কাজকে বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি দুটি হলো—কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি০৯, যার আওতায় রেললাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজ হবে; এবং কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি১০, যার আওতায় সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে। এলঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, এসব কাজ বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতাভুক্ত। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজ পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে। এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছ থেকে আবারও কাজের চুক্তি পাওয়া বিশ্বজুড়ে বৃহৎ ও সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে এলঅ্যান্ডটির সক্ষমতার প্রমাণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে এবং নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সম্প্রতি জাকার্তা মেট্রোরেল প্রকল্পেও কাজ চলছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক ব্যবস্থা নির্বিঘ্নে একীভূত করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি।’ পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেল লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশটি হবে ভূগর্ভস্থ এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত অংশটি হবে উড়ালপথ। পুরো লাইনে থাকবে ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি রেল ডিপো। অন্যদিকে, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইন-৫-এর উত্তর রুট সাভারের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে গাবতলী, মিরপুর-১৪ ও নতুন বাজার হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে। তবে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এলঅ্যান্ডটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই দুটি প্যাকেজ সম্মিলিতভাবে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর মূল পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর মাধ্যমে ঢাকাবাসীর জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বমানের নগর পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিপি০৯ প্যাকেজের আওতায় এলঅ্যান্ডটি তাদের জাপানি অংশীদার সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে মিলে পুরো রুটে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক স্থাপনার নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করবে। অন্যদিকে সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করবে এলঅ্যান্ডটি। লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর (এলঅ্যান্ডটি) পরিবহন অবকাঠামো বিভাগ প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রেল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এসব কাজে নিরাপত্তা, গুণগত মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানটি। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো জানিয়েছে, তাদের পাওয়া চুক্তিগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী বড় অঙ্কের আদেশের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবপদ্ধতিতে পাঁচ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির চুক্তিকে এ শ্রেণিতে রাখা হয়। শুধু ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটিই নয়, মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ পেয়েছে জাপান, চীন ও বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও। প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা। আরটিভি/এসআর
মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান
দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি, উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকারি হাসপাতালের রোগীদের হয়রানি করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হবে।
দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি, উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা
আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।  বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা খুব শিগগির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। মেডিকেলের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হলো। নির্দেশনা পরিপালন ও সক্ষমতার ভিত্তিতে কিছু মেডিকেল সেন্টার তালিকা থেকে বাদ পড়তে বা নতুন করে যুক্ত হতে পারে। ৩১ অক্টোবরের আগে করা কোনো মেডিকেল পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না। কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে বা করাতে পারবে না। কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অনুমতি ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের নিকট থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার এবং অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারও কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং ভিডিআর ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাসম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে। অবৈধ বা অনুমোদনহীন মেডিকেল পরীক্ষা কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য জানা থাকলে ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে (ইমেইল[email protected])। কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখবে। সব সংশ্লিষ্ট কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। আরটিভি/এসআর
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা
আরও পড়ুন
দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা, ভিডিও ভাইরাল
ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা
নাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
মালাগার সঙ্গে কৃষি-প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ