
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রকাশিত রাজাকারদের তালিকায় ঢুকে গেছে রাজশাহীর ভাষা সৈনিকসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম। তাদের মধ্যে ভাষা সৈনিক ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুসহ ৫ জন মুক্তিযোদ্ধার নামও রয়েছে। তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সমর্থক। এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্বজন, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। তারা বলছেন, গত ১৫ ডিসেম্বর সরকার প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা যাচাই-বাছাই ছাড়া কেন প্রকাশ করা হলো? তবে বেশ কিছু রাজাকারের নাম তালিকায় এলেও রাজশাহীর আরো যারা চিহ্নিত শীর্ষ রাজাকার, তালিকায় তাদের নাম নেই।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা গেছে।
প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় রাজশাহী বিভাগের ১ থেকে ১৫৪টির তালিকা রয়েছে। এই তালিকায় কয়েকশ ব্যক্তির নাম রয়েছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর যারা চিহ্নিত শীর্ষ রাজাকার তাদের নাম নেই।
এদিকে, রাজশাহী বিভাগের ৮৯ নম্বর তালিকায় (ক্রমিক নম্বর ৬০৬) ৫ জনের নাম রয়েছে। সেখানে ভাষা সৈনিক ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুসহ ৫ জনের নাম রয়েছে। এই পাঁচজন ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য জীবন দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট মহসিন আলীর নামও রয়েছে সেই তালিকায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন একটি ক্যাম্প পরিচালনা করেন। রাজশাহী বিভাগের রাজাকারদের তালিকায় যে নামগুলো রয়েছে ৮৯ নম্বর তালিকায় থাকা ৫ জনের মধ্যে অপর দুজন হলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুর রউফ ও পুলিশ কর্মকর্তা এসএস আবু তালেব।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের পরিবারের সদস্য কবি আরিফুল হক কুমার। আবদুস সালামের পরিবারের ৫ জন সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত হন। তবে ওই সময় আবদুস সালাম ভারতে অবস্থান করছিলেন। অথচ তার নামটিও রয়েছে রাজাকারের এই তালিকায়। রাজাকারের তালিকায় এসব ব্যক্তিদের নাম দেখে এটিকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন কবি আরিফুল হক কুমার।
তিনি বলেন, এই তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যারা ছিলেন তাদের নাম এসেছে। এমনকি যারা সেসময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের হাতে নিহত হয়েছেন তাদের নামও এসেছে। আবার যারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিল এবং যিনি ভাষা সৈনিক ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তার নামও এসেছে। এসব বিষয়গুলো অত্যন্ত আপত্তিকর। আমরা কোনোভাবেই এটি মানতে পারছি না। যদিও এই ৮৯ নম্বর তালিকার মন্তব্যের ঘরে লিখা আছে তাদের অব্যাহতি দিতে জেলা কমিটি আবেদন করেছিল। এর বাইরে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। এই ৫ ব্যক্তি রাজাকার ছিলেন না বলেই তাদের অব্যাহতি দিতে আবেদন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই তালিকায় রাজশাহীর অন্যতম রাজাকার তৎকালীন জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আফাজ উদ্দিন, শান্তি কমিটির সভাপতি সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিন এবং ওয়াহেদ আলী মোল্লার নাম নেই। এ তিনজনই রাজশাহীর রাজাকারদের মধ্যে অন্যতম বলে নিশ্চিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা।
রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ওয়ালিউর রহমান বাবু বলেন, রাজশাহীর অন্যতম রাজাকার ছিলেন অ্যাডভোকেট আফাজ উদ্দিন, শান্তি কমিটির সভাপতি আয়েন উদ্দিন এবং চিহ্নিত রাজাকার ওয়াহেদ আলী মোল্লা। কিন্তু তাদের নাম যদি রাজাকারের তালিকায় না থাকে তাহলে খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। আবার যারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন এসব ব্যক্তিদের নামও যদি এই তালিকায় থাকে, সেটিও চরম লজ্জাজনক।
উল্লেখ্য, ১৫ ডিসেম্বর (রোববার) বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মলেনে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তালিকায় রাজশাহীর কিছু রাজাকারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের অনেকে খালাসপ্রাপ্ত, অনেকে সাজাপ্রাপ্ত, খালাসের আবেদনকৃত, রাজাকারের সহযোগিতা করেছেন এবং মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
পি




