ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

আজ ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’, ঘরহীন প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর দিন 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পিএম
রিমেম্বার মি থার্সডেতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের জন্য নতুন পরিবার ও নিরাপদ ঘরের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে রিমেম্বার মি থার্সডে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এবং নতুন পরিবারের অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য প্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে যেসব প্রাণী এখনো একটি নিরাপদ ও স্থায়ী ঘর খুঁজে পায়নি, তাদের স্মরণ এবং প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয় এই দিনে।

একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দত্তক নেওয়া যেমন মানুষের জীবনে আনন্দ ও পরিবর্তন আনতে পারে, তেমনি নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ একটি বাড়ি পেতে পারে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীটিও। অনেক প্রাণী দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পরও নতুন পরিবার খুঁজে পায় না। রিমেম্বার মি থার্সডে সেই প্রাণীদের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

যেভাবে শুরু হলো রিমেম্বার মি থার্সডে

রিমেম্বার মি থার্সডে একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হেলেন উডওয়ার্ড অ্যানিমেল সেন্টার এই উদ্যোগ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি সান দিয়েগো কাউন্টিতে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ বাড়ি খুঁজে দেওয়ার কাজ করছে।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দিবসের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

দিবসটির প্রচারে ডায়ান কিটন, ইয়ান সোমারহাল্ডার ও ওয়াইনোনা জাডসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাও যুক্ত হয়েছেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ২০১৭ সাল নাগাদ ৩৩ কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগে যুক্ত হন।

দত্তকেই বদলে যেতে পারে একটি প্রাণীর জীবন

রিমেম্বার মি থার্সডে পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কোনো প্রাণী দত্তক নেওয়া। ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য করে নিলে তার জীবনও বদলে যেতে পারে।

যারা নতুন পোষ্য নেওয়ার কথা ভাবছেন, তারা স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে দত্তক নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। একটি প্রাণী দত্তক নিলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য একটি প্রাণীর জন্যও জায়গা তৈরি হতে পারে।

পাশে দাঁড়ানোর আরও সুযোগ

সবাই প্রাণী দত্তক নিতে না পারলেও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা যায়। প্রাণীদের খাবার দেওয়া, যত্ন নেওয়া, কুকুরকে হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, তাদের শরীরচর্চার সুযোগ করে দেওয়া কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার রাখার মতো কাজেও সহযোগিতা করা যায়।

এছাড়া প্রাণী দত্তকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।

ছড়িয়ে দেওয়া যায় সচেতনতার বার্তা

রিমেম্বার মি থার্সডের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দত্তক নেওয়া প্রাণীর ছবি, গল্প ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।

একটি পোষ্য কীভাবে জীবনে আনন্দ এনেছে, তার সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত কিংবা দত্তক নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে অন্যরাও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের কথা ভাবতে উৎসাহিত হতে পারেন।

নতুন ঘর না পাওয়া প্রাণীদের স্মরণ

রিমেম্বার মি থার্সডের আরেকটি প্রতীকী আয়োজন হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কখনো নতুন বাড়িতে যেতে না পারা প্রাণীদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো। কেউ বাড়িতে একাই মোমবাতি জ্বালিয়ে অংশ নিতে পারেন, আবার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ছোট আয়োজন করা যায়।

মোমবাতির আলো যেন মনে করিয়ে দেয়—আজও অনেক প্রাণী একটি নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবারের অপেক্ষায় রয়েছে।

রিমেম্বার মি থার্সডে তাই শুধু একটি দিবস নয়; আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের কথা মনে করার, তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার এবং প্রাণী দত্তকের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ, যার মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি বা প্রায় ১৪–১৫ লাখ বেওয়ারিশ। বিভিন্ন সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জরিপ এবং প্রাণিকল্যাণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর রাস্তায় আনুমানিক ৩৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। তবে দেশে বেওয়ারিশ বিড়ালের সুনির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি পরিসংখ্যান নেই; প্রাণিকল্যাণ কর্মীদের মতে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরের অলিগলি, কাঁচাবাজার ও ডাস্টবিন এলাকায় বিপুল সংখ্যক আশ্রয়হীন বিড়াল রয়েছে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাফর শিকদারের উদ্যোগে মুক্ত আকাশে ফিরল জালে আটকা হুতুম পেঁচা
দুটি উজ্জ্বল হলুদ চোখ, শরীরজুড়ে বাদামি ও ধূসর পালক। মাছের ঘেরের জালে আটকে পড়েছিল একটি হুতুম পেঁচা। স্থানীয় জাফর শিকদারের উদ্যোগে খবর পেয়ে ওয়াইল্ড টিমের সদস্যরা পাখিটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সুস্থ হওয়ার পর আবারও ফিরিয়ে দেওয়া হয় প্রকৃতির কোলে।
জাফর শিকদারের উদ্যোগে মুক্ত আকাশে ফিরল জালে আটকা হুতুম পেঁচা
‘নানি’ হলো ৯ শাবক জন্ম দেওয়া থাইল্যান্ডের সেই বাঘিনী
চোরাশিকার ও আবাসস্থল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন হুমকিতে থাকা থাইল্যান্ডের বাঘের সংখ্যা বেড়ে ২১০ থেকে ২৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মায়ে কায়েও নামে একটি বাঘিনী। তিন দফায় ৯টি শাবকের জন্ম দেওয়া বাঘিনীটি এবার নানি হয়েছে। তার একটি মেয়ে বাঘও শাবকের জন্ম দিয়েছে।
‘নানি’ হলো ৯ শাবক জন্ম দেওয়া থাইল্যান্ডের সেই বাঘিনী
গ্লেসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে প্রথমবার বাদুড়ের দেহে সাদা-নাক রোগ শনাক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার গ্লেসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে মৃত একটি বাদুড়ের দেহে প্রথমবারের মতো সাদা-নাক রোগ শনাক্ত হয়েছে।
গ্লেসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে প্রথমবার বাদুড়ের দেহে সাদা-নাক রোগ শনাক্ত
৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা!
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিলুপ্ত ডোডো পাখিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে জিনগত পরিবর্তন, প্রজনন ও ভ্রূণের বিকাশ নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা!
কড়ি কাইট্টা উদ্ধার করে পুরস্কার পেল স্কুলছাত্রী রিশা
শেরপুর সদর উপজেলার কানাশাখোলা বাজার এলাকা থেকে একটি দেশি কড়ি কাইট্টা (কাছিম) উদ্ধার করায় স্কুলছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা রিশাকে পুরস্কৃত করছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
কড়ি কাইট্টা উদ্ধার করে পুরস্কার পেল স্কুলছাত্রী রিশা