ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

আবুধাবির গ্র্যান্ড মসজিদ, স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন

মেহেদী হাসান

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৭ পিএম
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ ।। ছবি- আরটিভি নিউজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্ববৃহৎ এবং পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম মসজিদ শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ। আবুধাবিতে অবস্থিত এই মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনক শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ানের নামে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পাওয়া আরব আমিরাত এখন ছোট বড় নানান স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শনের দেশ। হাতে গড়া প্রত্যেকটি স্থাপনা চোখ জুড়িয়ে দেয়। তার মধ্যে অন্যতম এই গ্র্যান্ড মসজিদ।

মুসলিম ধর্মালম্বীদের জন্য তো বটেই, মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান নানান ধর্ম-বর্ণের হাজারো মানুষ। এখানে জিজ্ঞেস করা হয় না আপনি কোন ধর্মের। সবার জন্যই এখানে সমান সুযোগ। এক নজর দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। মুসিমদের জন্য বাড়তি পাওয়া নয়নাভিরাম এই মসজিদে নামাজ পড়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সংবাদ সংগ্রহের কাজে এসে দেখা হয়ে গেল বিশ্ববিখ্যাত এই মসজিদটি।

No description available.

বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯-এর কারণে অনেক নিয়ম-কানুন যোগ হয়েছে মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে। প্রবেশ পথেই দেখাতে হইয়েছে ৭২ ঘন্টার মধ্যে করানো কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ আর ছয় মাসের মধ্যে দেওয়া কোভিড ভ্যাকসিনের সনদ।

No description available.

এসব আনুষ্ঠানিকতা সারলেই মিলবে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি। ভেতরে প্রবেশ করতেই জুড়িয়ে যাবে শরীর। দেখা মিলবে দেশি-বিদেশি নানান পণ্যের শোরুম। তবে অগ্রাধিকার স্থানীয় স্যুভেনির দোকানের।

No description available.

যতদূর চোখ যায়, সবখানেই দেখা মিলবে দেশটির ঐতিহ্য আর শেখদের নানান ছবি। মূল মসজিদের দেখা পেতে আপনাকে পেরুতে হবে প্রায় আধ কিলোমিটারের মতো পথ। এই পথটা যেন ক্লান্তিকর না হয় এ জন্যও রয়েছে সব ব্যবস্থা।

আপনি চাইলে স্ক্লেটরে করেও যেতে পারবেন কিংবা গলফ কার্টে করেও যেতে পারবেন মসজিদের দিকে। লম্বা পথ পেরিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতেই জুড়িয়ে যাবে চোখ। কতই না নিখুঁত সৃষ্টি!

১৯৯৬ সালে ৩৮টি ঠিকাদার কোম্পানির প্রায় ৩০ হাজার নির্মাণকর্মীর নিরলস শ্রমে ২০০৭ সালে এসে শেষ হয় মসজিদটির নির্মাণকাজ। উদ্বোধনের পর থেকেই উন্মুক্ত করা হয় পর্যটকদের জন্য।

মজিদটির চার কোণে চারটি মিনারে রয়েছে পুষ্পশোভিত নকশা। প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ৩৫১ ফুট। এই নকশা নির্মাণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী মার্বেল পাথর, মূল্যবান স্ফটিক পাথর ও মৃৎশিল্প। এসবের মাধ্যমেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আরবের ২০০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিল্পচর্চার নমুনা।

No description available.

মসজিদটিতে রয়েছে শ্বেত মার্বেল দিয়ে মোড়ানো ছোট-বড় সাতটি আকারের ৮২টি গম্বুজ। মসজিদের সর্ববৃহৎ গম্বুজেটি উচ্চতা ২৭৯ ফুট। নামাজ পড়ার জায়গায় রয়েছে ইরানের বিখ্যাত শিল্পী আলী খালিদির ডিজাইনে তৈরি করা বিশ্বের বৃহত্তম গালিচা। গালিচাটি ৬০ হাজার ৫৭০ বর্গ ফুট এবং এই কার্পেটের ওজন ৩৫ টন; যা তৈরি করতে সময় লেগেছিল দুই বছরের বেশি। এ ছাড়াও রয়েছে স্ফটিক স্বচ্ছ লাখ লাখ পাথরের তৈরি পৃথিবীর বৃহত্তম ঝাড়বাতিটি।

মসজিদটির আঙিনা তৈরি হয়েছে ১৭ হাজার বর্গমিটার মার্বেল মোজাইক দিয়ে; যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ আয়তনের মার্বেল মোজাইক। যার খোপে খোপে রয়েছে রং-বেরঙের ফুলের বাগান ও পানির ফোয়ারা।

No description available.

এখানে রয়েছে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা কক্ষ। দুটি প্রধান কক্ষের ধারণক্ষমতা ৭ হাজার ও ১ হাজার ৫০০ জনের হলেও ভেতর বাইরে মোট ৪০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন একত্রে; যা ছাড়িয়ে যায় জুমা ও ঈদে। এ সময় দেড় থেকে দুই লাখ মুসল্লি আদায় করতে পারেন নামাজ।

স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শন আপনাকে বারবার নিয়ে যেতে চাইবে আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদের আঙিনায়।

এমআর/টিআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যে কারণে মদ নিষিদ্ধ
মানব সমাজে মদের প্রচলন বহুকাল থেকেই। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা মদকে হারাম অর্থাৎ নিষিদ্ধ করেছেন। কারণ ইতিহাসে আছে বহু কীর্তিমান জাতির বিপর্যয় ডেকে এনেছে মদ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ ও মানুষের জন্য উপকার। কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা  বেশি।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২১৯) মুসলমানদের জন্য মদ ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের একাধিক বর্ণনায় মদপান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া, পূজার বেদি ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর হচ্ছে শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৯০) মদপানকারী ও মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর অভিশাপ মদের ওপর, তা পানকারীর ওপর, যে পান করায় তার ওপর, যে বিক্রি করে তার ওপর, যে তা নিষ্কাশন করে এবং যার আদেশে নিষ্কাশন করে তার ওপর আর যে ব্যক্তি তা বহন করে এবং যার কাছে পৌঁছে দেয়, সবার ওপর।’ (সুনানে আবি দাউদ) এ ছাড়া মদপানে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। তার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত মদপানে ফুসফুসের স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য নষ্ট হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যেমন নাইট্রিক অক্সাইড শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া থেকে শ্বাসতন্ত্রকে রক্ষা করে। কিন্তু মদ পান করলে শরীরে এই বর্ণহীন গ্যাস নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়।  ‘চেস্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হয় গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গবেষণার প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের লোয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগো স্ট্রিটচ স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের সহকারী অধ্যাপক মাজিদ আফসার বলেন, মদ ফুসফুসের মধ্যকার স্বাস্থ্যকর ভারসাম্যকে নষ্ট করে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সংগ্রহ করা ১২ হাজার ৫৯ জন ব্যক্তির তথ্য পর্যালোচনা করেন গবেষকরা। এছাড়া মদ পানের পর ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত একজনের রক্তে এর উপস্থিতি থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাস ও মুত্রে ১২-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং চুলে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত এর উপস্থিতি থাকে। (তথ্যসূত্র: রয়টার্স) গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগের গবেষণা থেকে জানা গেছে, মদ মানেই ক্ষতি। মদের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। মদ পান করলে ক্ষতি হবেই। গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগের গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। আমেরিকার ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিকস এই বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করেছে। গবেষণায় অর্থায়ন করেছে আমেরিকার বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। (তথ্যসূত্র: পার্সটুডে) এনএইচ/টিআই
যে কারণে মদ নিষিদ্ধ
নববর্ষে যে দোয়া পড়বেন
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপরই বিদায় নেবে ২০২১ সাল। বিশ্ববাসী বরণ করে নেবে নতুন বছর ২০২২ সাল। করোনা মহামারি থেকে মুক্তি প্রার্থনা, সবার জীবনে সফলতা, সমৃদ্ধি এবং বিগত বছরের পাপ মোচনে দোয়া প্রার্থনা করে শুরু করতে পারেন নতুন বছর। কারণ, একমাত্র আল্লাহই পারেন আমাদের মনোবাসনা পূরণ করতে।  সারাবছরের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে যে দোয়াটি বেশি বেশি পড়বেন, তা হলো- اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত) অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ঈমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করুন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। (মু’জামুস সাহাবাহ : ০৩/৫৪৩; আল-ইসাবাহ : ০৬/৪০৭-৪০৮)   এনএইচ /টিআই  
নববর্ষে যে দোয়া পড়বেন
২০২১ সালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০৫ জন, আক্রান্ত ২৮৪২৯
২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৫ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮ হাজার ২৬৫ জন।   এ ছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতির তথ্যমতে, বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৯ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৩১ জন এবং অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালে ২৮ জন। নতুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চারজনের মধ্যে ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালের কেউ ভর্তি হননি। এনএইচ/টিআই
২০২১ সালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০৫ জন, আক্রান্ত ২৮৪২৯
২০২১ সালকে বিদায় জানাতে গুগলের ডুডল
আর কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন বছরের শুরু। বিদায় নিচ্ছে ২০২১ সাল। সবারই ভালো-মন্দ মিলিয়ে কেটেছে বিদায়ী বছর। বৈশ্বিক মহামারি বিবেচনায় হয়েতো ভালোর তুলনায় মন্দর পাল্লাই ভারী ছিল বেশি। অতীতের বছরের শোক-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা ভুলে সবাই-ই ব্যস্ত পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। তোড়জোড়ে প্রস্তুতিও চলছে। পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে ভোলেনি গুগলও। ২০২১-কে বিদায় জানাতে বিশেষ ডুডল প্রকাশ করেছে গুগল। বিভিন্ন দিবস ও স্মরণীয় ঘটনার দিনে বিশেষ ডুডল প্রকাশ করে গুগল। বছরের শেষ দিনও এর ব্যক্তিক্রম হয়নি।  মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা কমপিউটারের মতো ডিভাইসে  আজ গুগল খুললেই চোখে পড়বে উৎসবের মেজাজ। দেখা যাচ্ছে টুপি ও লাইটে সেজেছে গুগল। মাঝে রয়েছে ক্যান্ডি। জি অক্ষরের মাথায় আছে পার্টি ক্যাপ। ও অক্ষরে রয়েছে ক্যান্ডি। বেলুন, লাইট, রঙিন রিবন ঝুলছে গুগলের মাথায়। গুগল লোগো-তে ক্লিক করলে খুলছে একটি পেজ। যেখানে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে গুগল। আর ২০২১ সালের সব গুরুত্বপূর্ণ খবরের দেখা মিলছে এই পেজে।  গুগল বিভিন্ন উৎসব ও দিবসে বিশেষ ডুডল প্রকাশ করে। বিখ্যাত ব্যক্তির জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন উদযাপন করতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের স্মরণ করিয়ে দিতে উদ্যোগ নেয় গুগল। শেষ বড়দিনে সাজতে দেখা গিয়েছিল গুগলকে।  টিআই
২০২১ সালকে বিদায় জানাতে গুগলের ডুডল
জুমার দিন যখন দোয়া কবুল হয়
ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র জুমা ও জুমাবারের রাত-দিন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে।  জুমার দিনের সওয়াব ও মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতোই। মুসলমানদের জন্য এই দিন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনের কিছু সময়ে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন বলে হাদিসে এসেছে। তবে জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় কোনটি— সেটা নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। নিম্নে সংক্ষেপে কয়েকটি সময় তুলে ধরা হলো— জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, জুমার দিনে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস : ১৩৮৯) আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—  জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনও মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০০) আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (যাদুল মাআ’দ : ২/৩৯৪) আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৯) আসরের শেষ সময় অর্থাৎ সূর্য ডোবার আগমুহূর্তে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন—  জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনও মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮) আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, জুমাবারে এমন একটি সময় আছে, যেটাতে বান্দা আল্লাহর কাছে কোনও দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন। (মুসান্নাফ, হাদিস : ৫৫৮৮) এসএস/টিআই
জুমার দিন যখন দোয়া কবুল হয়
আরও পড়ুন
আরব আমিরাত সফরে গেলেন সেনাপ্রধান
ডাচদের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, আইরিশরা খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
রাতে শুরু আইপিএল, মাঠে প্রবেশে কঠোর নির্দেশনা 
সাব্বিরকে ৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি