
শিক্ষার্থী না হয়েও চার বছর ধরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকছেন রাফি। একই সঙ্গে অংশ নিয়েছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা প্রতিযোগিতায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মাফিজুর রহমানের আইডি (১৯০১৩১৯) ব্যবহার করে চার বছর ধরে এ কাজ করেছেন বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, কৃষি অনুষদের ১৯তম ব্যাচের মো. মাফিজুর রহমানের আইডি ব্যবহার করে অন্য একজন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। এতে অভিযুক্তের ছাত্রত্ব নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত রাফি ১৯তম ব্যাচের কৃষি অনুষদের ‘আইডি-১৯০১৩১৯’ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে আসছে। সে চার বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি-২ (জিয়া হল) আবাসিক হলে থাকতেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুজিব শতবর্ষে আয়োজিত ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কৃষি অনুষদ। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ওই টিমের সদস্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর, কৃষি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গের সেসব ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছেন।
অভিযোগকারী ছাত্র মাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এতদিন কিছু জানতাম না। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রেজিস্ট্রেশনের সময় সন্দেহ হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে অনুসরণ করেন আমার ব্যাচের এক বন্ধু। এরপর সে দেখতে পায় স্টুডেন্ট আইডির স্থানে সে আমার আইডি ব্যবহার করছে এবং নাম লিখেছে রাফি। বিষয়টি জানার পর আমি সেই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আমার আইডির অপব্যবহার করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অ্যাডভাইজার শাখায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
মাফিজুর রহমান আরও বলেন, আমি জানি না সে আমার আইডি ব্যবহার করে আরও কোথায় কোথায় কি কি করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি শঙ্কায় আছি।
অভিযুক্ত রাফির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কৃষি অনুষদের ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের তিনটি সেকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআররা নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি কখনও তাদের সেকশনের ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
কৃষি অনুষদের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা অভিযুক্তকে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে দেখেছেন। কিন্তু কখনও ক্লাস কিংবা একাডেমিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখেননি।
অভিযুক্ত রাফির সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলা করত গণিত বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহান।
তিনি জানান, আমি ওর সঙ্গে নিয়মিত খেলতাম। গতকাল সন্ধ্যার পরও ও জিমনেসিয়ামে খেলতে আসার কথা ছিল। বিকেলেও যোগাযোগ হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর বিষয়টি জানাজানি হলে, ও আর খেলতে আসেনি। এরপর থেকে ওকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। ফোনেও পাইনি।
কৃষি অনুষদের ডিন রওশন আরা বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রক্টরের সঙ্গে কথা হয়েছে। সব শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি ক্লিয়ার হওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ডরমিটরি-২ আবাসিক হল সুপার অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ বলেন, এ বিষয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছেন।
কৃষি অনুষদের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইয়াসিন প্রধান জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি৷ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সে ক্যাম্পাসে নেই, বাইরে অবস্থান করছে বলে আমাদের জানিয়েছে। আমরা ওই শিক্ষার্থীকে ডেকেছি। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বিষয়টি জানা যাবে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন। দ্রুত সময়ে অভিযোগের সমাধান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মামুনুর রশিদ বলেন, এক শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে আমরা কাজ করছি। অভিযুক্ত রাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তার ফোন বন্ধ। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ডাকা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে। যদি সে আমাদের শিক্ষার্থী না হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




