
নূপুর
কাঠির কর্ণারে বসন্ত আসে না
ঝুলন্ত তারে গিঁট বাঁধা অভ্যাসে,
কী সুন্দর স্বপ্ন বোনে মৌমাছিরা!
কাঠির শরীরজুড়ে মাছি ওড়ে
সুগন্ধির তলপেটে তখন খেয়ালি উন্মাদনা;
কাঠি ভাবে কী সুন্দর! কী সুন্দর!
খোলসে আমার রক্তরঙা আভা
স্নান সেরে তবু হাসি।
কাঠির চেতন ঘরে শ্বাস নেই
আশ্বাসে কাঠি তাই পথ চিনে হাঁটে।
ভ্রুণ
তারা আর উড়ল না
প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ছিটকে পড়ল পৃষ্ঠের পাদদেশে।
বাতাসে নিবৃত্ত হলে ক্ষুধা
পৃষ্ঠদেশ প্রাণ পেল
আমার মতো অবাধ্য ভ্রুণ যারা
মিছিলেই গুলি খেল, পড়ল এবং উঠে দাঁড়াল।
স্মৃতির একরোখা চোখ
শুনেছি জীবন নাকি স্মৃতির একগাদা স্তূপ
স্মৃতি ও শূন্যের মাঝপথেই আলোগুলো খেলা করে।
ছেলেবেলায় জোনাকি ভেবে তারাদের সাথে সন্ধি আঁকা স্মৃতির স্তূপে,
হারানো হাতঘড়িটা খুঁজি;
আঁচল ও অনন্ত অন্তরের টানে ভুলে যাই
প্রথম যৌবনে পরা শাড়ির রঙটিও।
স্মৃতি শরীর খামচে ওঠাবসা করে- নিয়মেই।
খিটমিটে মেজাজে বেড়ে ওঠা প্রতিবাদ হাত নাড়ে-
এখন হাসি
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে,
কাকটি জানালায় বসে
ডানা ঝাপটায়।
হেমলক
মনের ভেতর ঘন বন
দুর্বা আঁকাবাঁকা পথ
শুনশান নীরবতা;
বনের ভেতর ঘন পল্লব
পাখিদের উদ্ধত গ্রীবায় চাষ হয় হেমলক।





