
এ রূপ কার?
এই যে আছি, থাকব।
নিয়ন আলোয়, আঁধার নিয়ে বাঁচব।
ক্ষণিক ছায়ায়, ক্ষণিক মায়ায় রাখব।
এই যে আছি, ভাবব।
হাতটা ধরে, মনটা দিয়ে বলব।
চুমুতে ভালোবাসি, সুরে সুরে হাসব।
এই যে আছি, হাঁটব।
আঁকাবাঁকা পথে, প্রেমিকযুগল হয়ে।
পায়ে পড়বে পা, পথ যাবে বয়ে।
এই যে আছি, কাঁদব।
আঁখির কোনে জমলে জল বুঝব,
টুপ করে পড়তে গেলেই, বাষ্পটারে ডাকব।
এই যে আছি, ভাসব।
না-হয় সাদা থেকে, রাগলে পরে কালো হব।
গর্জনে মুখর করে নীলাকাশ, স্নিগ্ধ বর্ষণে ঝরব।
এই যে আছি, চলে যাব।
আলতো করে তপ্ত জলে, দেহটারে উল্টেপাল্টে।
কানে-মুখে হবে কথা, এ রূপ কার, এ রূপ কার?
এই যে আছি, দেখব।
চার পায়ে উঠব যখন, হাসবে মাতাল রবে স্বজন।
ঘ্রাণে ঘ্রাণে মাতাবে প্রিয় ফুলের নির্যাশ।
দূর থেকে দেখব, চলে যাব, তখন হবে বিশ্বাস।
হৃদ্যতা
থাকি ঝুলে, প্রেমিকার দুলে।
ভালোবেসে দোলাবে সে প্রেমে,
কখনও ভেসে কখনও হেসে।
রাখবে কোমল হাত নরম দুটি কানে,
আঙুল ছোঁয়ায় পড়বে খুব যতনে।
থাকি বসে, প্রেমিকার টিপে।
ভাগ্য হবে তার রঙিন কপাল,
রঙে লাল, নীল, সাদা, কালো যার।
একটু এদিক-সেদিক হলে অভিমানে,
চিমটি দিয়ে-দুষ্টুমিতে মান ভাঙাবে।
থাকি ঘুমেতে, প্রেমিকার মণিতে।
ক্লান্ত দেহে বাজবে টেলিফোন,
কণ্ঠে কণ্ঠে মিলবে কণ্ঠমন।
ওপাশে বুঝি জোড়াপাতা নিভু নিভু,
এপাশে নিশ্বাসে অপলক চোখ কভু কভু।
থাকি বিঁধে, প্রেমিকার ঘ্রাণে।
কিছু ভুল বেলির জাদুতে কাঠগোলাপ,
তবু নাকের ডগায় ঘাম রবে জমজমাট।
বিয়ের ফুলেতে হবে সিংহ পুত্র তোমার,
যে ছিল রাধা সেই কৃষ্ণকন্যা হবে আমার।
থাকি স্পর্শে, প্রেমিকার অঙ্গে।
প্রথম বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত।
নীল পৃষ্ঠায় লেখা আছে সব সাদা কালিতে,
তা হবে একদিন গীত, হবে গীত, গীত।




