ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদায়ী বছরে আলোচিত যেসব ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব

নাজমুল হাসান শান্ত

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৫ পিএম
ছবি : আরটিভি নিউজ

২০২২ সালে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বাঁক দেখা গেছে। বছরজুড়ে ঘটেছে বড় রাজনৈতিক ঘটনা, যা বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন রূপ দিয়েছে। এছাড়া বিদায়ী বছর দাগ কেটেছে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু, ইরানের বিক্ষোভ, মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক উত্থান পতনের নানান ঘটনা। বছরটির শেষ প্রান্তে প্রধান বৈশ্বিক ঘটনাগুলোর দিকে ফিরে তাকানো যাক।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির এক পর্যায়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে বসে প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া। এতে উভয় পক্ষের হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষের দিকে আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৮ নভেম্বরের মধ্যে ৭৮ লাখ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
ইউক্রেনে আক্রমণের পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ায় ১৯১৭ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় দেশত্যাগের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে দ্রব্যমূল্যের ধাক্কা, পণ্য সরবরাহে সৃষ্ট জটিলতা এবং খাদ্য ঘাটতি সামলানোর জন্য লড়াই করছে বাকি বিশ্ব।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা
আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ব এশিয়ায় সফরসূচিতে তালিকাভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগস্টে তাইওয়ানে পৌঁছেন মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবং তার প্রতিনিধিদল। এ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা পাঠানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে। দ্বীপটিকে নিজের প্রদেশ বলে মনে করে চীন।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু

সবচেয়ে বেশি সময় রাজত্বকারী ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৮ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শাসনামলে যুদ্ধোত্তর মন্দা, সাম্রাজ্য ভেঙে কমনওয়েলথে উত্তরণ, স্নায়ুযুদ্ধের অবসান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্তি এবং বের হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। তিনি সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পর ৯৬ বছর বয়সে মারা যান, যা তাকে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম রাজত্বকারী শাসক করে তোলে। রানির মৃত্যুর পর জ্যেষ্ঠ পুত্র তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের নতুন রাজা হন।


ইরানের বিক্ষোভ

এই বছর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসকরা। সরকারবিরোধী প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরে। কারণ ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে তার চুল সঠিকভাবে না ঢেকে রাখার জন্য গ্রেপ্তার করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে তিনি মারা যান। তার মৃত্যু এবং নারীদের প্রতি ইরানের দুঃশাসনের নিন্দা জানাতে জড়ো হয় শত শত মানুষ। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জাতিগত সব শ্রেণির ইরানিরা একত্রিত হওয়ায় বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব

২০২২ সালের মে মাসের শুরু থেকে মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। পরে এর এমপক্স নামকরণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এটি এ বছর বিশ্বের ১১০টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাইরাসটিতে ৮২ হাজার ৮২৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে রেকর্ড করেছে ডব্লিউএইচও। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে ভাইরাসটিকে মাঝারি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। তবে এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্য জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি

২০২২ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রে জুনে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশের বেশি এবং অক্টোবরে যুক্তরাজ্যে তা ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারি শেষের দিকে

কোভিড-১৯ এর উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতার ওমিক্রন ধরনটি এ বছর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়ে ওমিক্রনের দুটি উপধরনও সৃষ্টি করে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা এগুলোর নামকরণ করেছে।
তবে এ বছর কোভিড-১৯ মহামারির দাপট অনেকটা কমে আসে। করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার তিন বছর পর বিশ্ব এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম মহামারির শেষের দিকে মোড় নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ঘোষণা করেন, মহামারিটির শেষ দেখা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় অনেক দেশ লকডাউন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মহামারি সম্পর্কিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কারণ ভ্যাকসিন ও চিকিৎসার সাফল্যের কারণে করোনায় মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে খরা ও তাপপ্রবাহের নতুন রেকর্ড

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন তাপদাহ দেখা গেছে। রানওয়ে গলে যাওয়া থেকে শুরু করে বিধ্বংসী দাবানল- চরম মাত্রার তাপদাহ দেখেছে বিভিন্ন দেশ। এ বছরের গ্রীষ্মে ৫০০ বছরের মধ্যে ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ খরা হয়েছে। মহাদেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এক ধরনের চরম তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে।
এছাড়া চীনের ইয়াংজি নদীর অববাহিকার চারপাশে পানির স্তর হ্রাসের কারণে স্থানীয় কারখানাগুলো আগস্টে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল। এতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হয়।

বিশ্বের জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে

১৮০৩ সালে বিশ্ব ১ বিলিয়ন মানুষের প্রথম মাইলফলকে পৌঁছেছিল। ২০০ বছর পরে ১৫ নভেম্বর বিশ্বে মানুষ ৮ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে অস্থিরতা

একজন প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল যখন অল্প সময়েই শেষ হয়ে যায়, তখন এটি কোনো দেশের জন্যই ভালো নয়। তবে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে দেখা গেছে এমন পরিস্থিতি। যে দেশটির সাম্রাজ্য একসময় বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ছিল, সেখানে মাত্র দুই মাসে তিনজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অস্থিরতা শুরু হয় বরিস জনসন সরকারের পঞ্চাশেরও বেশি সদস্য জুলাইয়ে পদত্যাগের মাধ্যমে। একপর্যায়ে তিনি পদত্যাগ করতে সম্মত হন এবং লিজ ট্রাস তার স্থলাভিষিক্ত হন। ট্রাস মাত্র ৪৫ দিন টিকেছিলেন, যা ইতিহাসের যেকোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ততম মেয়াদ। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বন্যা

এ বছরের এপ্রিলে পাকিস্তান পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এতে দেশটিতে কোনো প্রধানমন্ত্রীই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। ইমরান খান অবশ্য ক্ষমতা হারিয়ে চুপ থাকেননি। তিনি উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইসলামাবাদে ধারাবাহিক প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। আগস্টে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে সরকার। নভেম্বরে তাকে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তিনি আহত হন। এ হামলার জন্য শরীফ ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের দায়ী করেন এবং দেশে আগাম নির্বাচনের দাবি জানান ইমরান খান।
পাকিস্তানে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বন্যায় ১ হাজার ৩৯১ জনের বেশি নিহত হয়েছে এবং আনুমানিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর, ফসল এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে।

শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট ও রাজাপাকসে পরিবারের পতন

বেশ কয়েক বছরের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অদূরদর্শী নীতিনির্ধারণ ও সুশাসনের সামগ্রিক অভাবের কারণে এ বছর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা।
অর্থনৈতিক সংকট কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আরও তীব্র হয়। কারণ পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতি। এই অর্থনৈতিক সংকট শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেয়, যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছিল। খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি হলে প্রতিবাদকারীরা গোতাবায়ার সরকারি বাসভবনে হামলা চালালে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান।
৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ব্যতীত ২৬ সদস্যের পুরো মন্ত্রিসভা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পদত্যাগ করেন। ৫ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে সংসদের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চারজন মন্ত্রী নিয়োগ করেন। ১৮ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে সরকারের প্রশাসনের জন্য ১৭ জন মন্ত্রী নিয়োগ করেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।
৯ মে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় পদত্যাগ করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। ১৩ মে রনিল বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কার ২৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের কাছে শপথ গ্রহণ করেন।
৯ জুলাই কলম্বোতে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করলে পালিয়ে যান গোতাবায়া রাজাপাকসে। এরপর দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। ১৮ জুলাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তিনি। ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত সংসদীয় ভোটে জয়ী হয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হন রনিল বিক্রমাসিংহে। আর এভাবেই দেশটিতে প্রায় ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা একটি পরিবারের শাসনের অবসান ঘটে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সালতামামি ২০২২ / প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
করোনা মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে বিদায়ী বছরে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢালিউড। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’র মতো সিনেমার সাফল্যে জোয়ার ওঠে বাংলা সিনেমায়। একের পর এক প্রশংসনীয় সিনেমার কারণে হলমুখী হয়েছেন দর্শকরা। চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত কিছু সিনেমা প্রসঙ্গে- হাওয়া : মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। মুক্তির আগে থেকেই গানে গানে আলোচিত ছিলো সিনেমাটি। বিশেষ করে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে মেতেছিলেন শ্রোতারা। মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হাউজফুল গেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে অগ্রিম টিকিটও। সুস্থধারার বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটি ‘হাওয়া’ আরও এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন দেশের সিনেমাবোদ্ধা ও অভিজ্ঞরা। তারকাবহুল এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান ও বাবলু বোস। অপারেশন সুন্দরবন : এক সময় সুন্দরবন ছিলো ডাকাতদের একতরফা দাপট। তাদের নির্যাতনে সবসময় তটস্থ থাকত জেলেরা। অপহরণ, মুক্তিপণ দিতে না পারলে হত্যা- সবই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমক্ত করার জন্য র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানের ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন। ভিন্ন ধারার এই সিনেমা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, মনোজ প্রামাণিক, দর্শনা বণিক, তাসকিন আহমেদ, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ অনেকে। শান : সত্য ঘটনা অবলম্বনে পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের ‘শান’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গত ৩মে। এম রাহিমের পরিচালনায় এতে মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার সঙ্গী হয়েছেন পূজা চেরি। ঈদুল ফিতরে দেশের সব বড় বড় হলে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকায় ‘শান’ দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াতে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। দামাল : গত ২৮ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পায় রায়হান রাফীর সিনেমা ‘দামাল’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল সিনেমাটি। মূলত, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি প্রমুখ। গলুই : গত ৩ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ঢাকাই কিং শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘গলুই’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহের তালিকায় ছিল সিনেমাটি। ‘গলুই’-তে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সহজ-সরল প্রেম কাহিনিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এস এ হক অলিক এবং প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন নতুন প্রজন্মের নায়িকা পূজা চেরি। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন আজিজুল হাকিম, ফজলুর রহমান বাবু, সুচরিতা, আলী রাজ, ঝুনা চৌধুরী, সমু চৌধুরী, পুষ্পসহ আরও অনেকেই।
প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণ করার বৈশ্বিক আয়োজন এখন বঙ্গদেশেও ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের এই রাতে দেশের আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। চোখে ধরা পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। কিন্তু ঘনবসতির দেশে এসব আয়োজন নিরাপদ নয়। অনেক সময় নতুন বছর উদযাপনের এই আচরণ ঠিক সভ্যতার সীমার মধ্যেও থাকে না। নানান সব আয়োজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে ফানুস ওড়ানো। রাতের আঁধারে হাজার হাজার ফানুস দৃষ্টিসীমাজুড়ে নান্দনিকতা তৈরি করলেও অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে থাকা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ফানুস পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম থাকায় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেশি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, শীতের এই সময় আবহাওয়া ও নগরের অবকাঠামো শুষ্ক থাকায় এমনিতেই অগ্নিঝুঁকি বেশি থাকে। আর এ সময় যদি আনন্দের নামে এভাবে ফানুস উড়ালে, এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুভ ইচ্ছায় উড়িয়ে দেওয়া ফানুস, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উড়ন্ত ফানুস কোথায় আটকে যাচ্ছে কিংবা জ্বলন্ত অবস্থায় কোথায় গিয়ে পড়ছে, তা হয়তো জানতেও পারছেন না। এভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে যেতে পারে যত্রতত্র। এতে ক্ষতি হতে পারে মানুষের জীবনের। তাই এবার রাজধানীতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ করে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং এর আগেও আমরা দেখেছি ফানুস ওড়ানোর কারণে নানা ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবার আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এজন্য থার্টিফার্স্টে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাদাপোশাকে এবং নিজেদের পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে, যেন কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করতে না পারে। পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের নাশকতার তৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক থাকব। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।’ ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবার ফেসবুক পোস্ট সবার মনে থাকার কথা। তবুও এখানে তুলে ধরছি- ‘কী ভীষণ শব্দে আতশবাজি! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে সময়টা পার করছি।’ পরে তার আরেক পোস্টে জানা যায়, শিশুটিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিতে হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনই মারা যায় সে। অন্যদের আনন্দ উদযাপন নতুন বছরের শুরুতেই একটি পরিবারে শোক ডেকে আনল। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আহমেদুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন- ‘একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস ওড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে। একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুন হালকা লেগেছে। একজন পথচারীর মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে। এক মাদরাসাছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে)। একজন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না। এ রকম বেশ কয়েকজন এসেছেন যাদের পটকায় এক বা একাধিক আঙুল উড়ে গেছে।’ এসব চিত্র এক বছর আগের। এখন আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট সন্নিকটে। আমরা কি গতবারের থেকে শিক্ষা নেব? নাকি আগামীকালও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বা অন্য কোনো হাসপাতালে একই করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে? অবশ্যই সেটি কেউ-ই চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময় ফারাক থেকে যায়, ফলে আশঙ্কা করতে হয়। হাজার হাজার মানুষ যদি আতশবাজি ফোটায় আর ফানুশ ওড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এরপরেও আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সেটি পারে। ২০২২ সালের শুরুতে যে করুণ সংবাদ আমরা পেয়েছি, তার আর না আসুক! তাই ফানুস নামের অনুষঙ্গটিকে বাদ দিয়েই উৎসব করুন। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি সকলের দায়িত্ব। তবে মনের আকাশে উড়াতে পারেন কল্পনার ফানুস।
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মতো এত বেশিসংখ্যক বিভাগ ও সেন্টার নেই। শিক্ষাকে দেশ ও বিদেশের কাছে অর্থবহ করার জন্য আউটকাম বেইজড এডুকেশন বা ফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তবে তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢালাওভাবে প্রফেসর সংখ্যা বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেন।  ‘রাষ্ট্রনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনের প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইউজিসি সদস্য ও ইআরডিএফবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। দেশের কিছু কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে দাবি করে ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ওনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। ছাত্র, অভিভাবকসহ সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এখন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসময় তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার এবং গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এখন ঘরে ঘরে জিপিএ ফাইভ বা টপার আছে। অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ৫৪ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণি প্রাপ্ত হয়নি। অথচ আমার সময়ে মাত্র ১/২ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি পেতো।
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
প্রথম ধাপের ফলাফলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১১৪ শিক্ষার্থী। প্রথম ধাপে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৬ জন আবেদন করেছিল। এর আগে, শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথম ধাপের ফল জানা যাচ্ছে। এ বছর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কলেজের ৭০ লাখ ২০ হাজারের বেশি আসন চয়েস দিয়েছে। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল দত্ত নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফোরামের প্রার্থী ছিলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা-ই-জামিল। ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৪০১ ভোট। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী শ্যামল দত্ত পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট। একইসঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ (৫৫৯ ভোট), সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা (৫৮৩ ভোট), যুগ্ম-সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া (৫৪০ ভোট) ও আশরাফ আলী (৪৯১ ভোট) ও কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী (৫৭৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত ১০ সদস্য হলেন- ফরিদ হোসেন (৪৯৫ ভোট), কাজনী রওনক হোসেন (৪২২ ভোট), শাহনাজ সিদ্দীকি সোমা (৩৯০ ভোট), কল্যাণ সাহা (৩৮২ ভোট), শাহনাজ বেগম পলি (৩৬০ ভোট), সৈয়দ আবদাল আহমদ (৩৪৭ ভোট), জুলহাস আলম (৩৪৫ ভোট), বখতিয়ার রানা (৩৩০ ভোট) মোহাম্মদ মমিন হোসেন (৩৩০) ও সীমান্ত খোকন (২৮৯ ভোট)। নির্বাচিতরা আগামী দুইবছর জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন। এবার কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১০২ জন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
আরও পড়ুন
বছরজুড়েই ছিল অপ্রত্যাশিত আর্থিক টানাপোড়েন
নশ্বর পৃথিবীতে অবিনশ্বর মেসি
প্রাপ্তির ঝুলিতে সবচেয়ে বড় অর্জন পদ্মা সেতু
ঘর গোছাতেই বছর পার আওয়ামী লীগের