ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মেট্রোরেলের ইতিহাস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:০৭ পিএম

মেট্রো শব্দটি ‘প্যারিস মেট্রোপলিটান’-এর একটি সংক্ষিপ্ত নাম যা দ্রুতই মেট্রোতে রূপান্তরিত হয়। এটাকে দ্রুত ট্রানজিট সিস্টেম বলা হয়। ৫৫টি দেশে ১৬৮টি মেট্রো সিস্টেম তালিকাভুক্ত আছে।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের রাজধানীতে মেট্রোরেল ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যা আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট নামে পরিচিত। ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান যানবাহন সমস্যা ও পথের যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। যার অধীনে প্রথমবারের মতো ঢাকায় মেট্রোরেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়।

পৃথিবীতে মেট্রো সিস্টেমের উৎস, উৎপত্তি ও ইতিহাস

ওয়ার্ল্ডের প্রথম শহুরে ভূগর্ভস্থ রেলওয়ে হলো মেট্রোপলিটান রেলওয়ে, যা ১৮৬৩ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডনে মেট্রোপলিটন রেলওয়ে খোলার মাধ্যমে দ্রুত ট্রানজিটের ইতিহাস শুরু হয়। ওই সময় প্যাডিংটন থেকে ফারিংডন পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার বিশেষ রেলপথ খুলে দেওয়া হয় জনগণের জন্য। সঙ্গে সঙ্গে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। প্রথমদিনেই চলাচল করে ৩৮ হাজার যাত্রী। আর প্রথম বছরে যাতায়াত করে ৯৫ লাখ। দ্বিতীয় বছর সে সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে। এখান থেকেই শুরু মেট্রোরেলের রূপকথার।

নর্স পুরাণে উল্লেখিত থরের রথটা যেন বাস্তবেই তৈরি করে ফেলেছে মানুষ। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। লন্ডনের চৌহদ্দি ছাপিয়ে বাতাসের বেগে মেট্রোরেল ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতে।

ইউরোপ শিল্প বিপ্লবের পর রূপকথার মতো সমৃদ্ধি অর্জন করে। বিশেষ করে আয়তন ও জনসংখ্যায় অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠে লন্ডন। নগরীর রাস্তাগুলোয় ক্রমেই বেড়ে উঠতে থাকে যানজট। প্রতিদিন ভিড় লেগে থাকত গাড়ি ও ট্রেনে। ১৮৫০ সাল নাগাদ অন্তত সাতটি রেললাইন প্রতিষ্ঠার পরও বর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। নতুন রেলপথ স্থাপনেও নারাজ কর্তৃপক্ষ। বিকল্প হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ড রেল যোগাযোগের ধারণা নিয়ে হাজির হন চার্লস পিয়ারসন। বিল পাস হয় ১৮৫২ সালে।

ঠিক পরের বছর রেলওয়ে কোম্পানিগুলোর পরিচালকরা একটা বৈঠক করে ইঞ্জিনিয়ার নিযুক্ত করেন জন ফাউলারকে। টানাপড়েনের পর সংসদ থেকেও পাওয়া যায় অনুমতি। নর্থ মেট্রোপলিটন রেলওয়ে অ্যাক্টের অধীনে ১৮৫৪ সালের ৭ আগস্ট জন্ম নেয় মেট্রোপলিটন রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ। ১৮৬২ সালে শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত খরচ পড়েছে ১৩ লাখ পাউন্ড। পরিচালনা পর্ষদের নজরদারি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সতর্কতা শেষে ১০ জানুয়ারি পরিবহনের উপযুক্ত ঘোষণা করা হয় মেট্রোরেলকে। অবশ্য যার মস্তিষ্কপ্রসূত এ আয়োজন, সেই চার্লস পিয়ারসন দেখে যেতে পারেননি। ঠিক আগের বছর সেপ্টেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন মেট্রোরেলের স্বপ্নদ্রষ্টা।

লন্ডনের সফলতার গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য। ১৯৭২ সালের জুলাইয়ে নেওয়া হয় নতুন উদ্যোগ ‘দ্য মেট্রোপলিটন রেলওয়ে অব কনস্টান্টিনোপল টু গালাট পেরা’। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে এর কাজ শেষ হয়। যাত্রী পরিবহন শুরু করে ১৮৭৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। আটলান্টিকের অন্য পাশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রেও পৌঁছে যায় জয়রথ। ১৮৯৭ সালে বোস্টনে নির্মিত সাবওয়ে টানেল এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে। আমেরিকার সবচেয়ে পুরোনো মেট্রো প্রকল্প এটি। এর সূত্র ধরেই পরবর্তী সময়ে যাত্রা করেছে আধুনিকতার সাবওয়ে লাইন। বিশেষ করে নিউইয়র্ক শহরে নয় মাইল বিস্তার নিয়ে রয়েছে চার ট্র্যাকের লাইন।

দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে পুরোনো সাবওয়ে অবস্থিত আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সে। ১৯১৩ সালে নির্মিত সাবওয়েটি প্রতিদিন ১ লাখ ৯০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। এর ঠিক পাঁচ বছর পরে ১৯১৯ সালের ১৭ অক্টোবর চালু হয় মাদ্রিদ মেট্রো। পৃথিবীর দীর্ঘতম মেট্রোগুলোর একটি এটি। স্পেনের রাজা ত্রয়োদশ আলফানসো নিজে তত্ত্বাবধান করেন প্রকল্পটি। ১৯২৪ সালে চালু হয় বার্সেলোনা মেট্রো। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ আধুনিকায়নের বাতাস আমেরিকা ও ইউরোপের মাটি ছেড়ে হানা দেয় সোভিয়েত ইউনিয়নেও।

১৯৩৫ সালে মস্কোয় প্রতিষ্ঠিত হওয়া মস্কো মেট্রো পৃথিবীর সবচেয়ে নান্দনিক মেট্রোগুলোর একটি। বিশেষ সজ্জা ও আলোকায়নের জন্য মেট্রোর স্টেশনকে ভূগর্ভস্থ স্বর্গ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী, মস্কো মেট্রোয় ৩০৮ কিলোমিটার রেলপথ ও ১৮৬টি স্টেশন। বিশ্বের ব্যস্ততম মেট্রোর তালিকায়ও রয়েছে এর নাম। ২০ শতকের পরবর্তী দিনগুলোয় চারদিকেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে মেট্রোরেল। একই সঙ্গে আসতে থাকে বিবর্তন।

১৯৫৪ সালে নির্মাণ শেষ হয় টরন্টো সাবওয়ের কাজ। কানাডার দ্বিতীয় সাবওয়ে হিসেবে মন্ট্রিল মেট্রোর যাত্রা ১৯৬৬ সালে। দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল অবশ্য এদিক থেকে পিছিয়ে ছিল। মেট্রোর এ মিছিলে দেশটি যুক্ত হয় ১৯৭৪ সালে। কাছাকাছি সময়েই চিলিতে স্থাপিত হয় মেট্রো ডি সান্তিয়াগো। ৮৫টি স্টেশন ও পাঁচটি লাইন নিয়ে নির্মিত এ মেট্রো। দক্ষিণ আমেরিকায় রাবারের টায়ারযুক্ত একমাত্র মেট্রোও এটি।

আফ্রিকার দেশ হিসেবে মেট্রোয় প্রথম নাম লেখায় মিসর। ১৯৮৭ সালে কায়রোয় চালু হয় মেট্রোরেল। এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে মেট্রোরেলে নাম লেখায় জাপান। ১৯২৭ সালে সাবওয়ে লাইন প্রতিষ্ঠিত হয় টোকিওতে। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে ১৯৩৩ সালে ওসাকায় নির্মিত হয় দ্বিতীয় মেট্রো। এ জগতে চীনের যাত্রা দেরিতেই বলতে হবে। দেশটির প্রথম মেট্রো বেইজিং সাবওয়ে যাত্রা করে ১৯৭১ সালে। তবে খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য শহরে।

১৯৭৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি শহরেও চালু হয় যোগাযোগের এ নতুন স্রোত। ক্রমে যুক্ত হয় আরও কিছু দেশের নাম। সিঙ্গাপুরে ১৯৮৭ সালে প্রথম হেভি রেল সিস্টেম চালু হয়। তাইওয়ানে মেট্রোরেলের যাত্রা ১৯৯৬ সালে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে মেট্রো চালু হয় ১৯৯৯ সালে, আরব আমিরাতে ২০০৯ ও সৌদি আরবে ২০১১ সালে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা শহরে ২৪ অক্টোবর ১৯৮৪ সালে মেট্রোরেল চালু হয়। শুরু হওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন এলাট্টুভালাপিল শ্রীধরন। এটি প্রথমে এসপেলেনডি থেকে ভবানীপুর (বর্তমান নেতাজী ভবন) মোট ৩.৪ কিলোমিটার এলাকায় ১৭টি স্টেশনে চলাচল করত। এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ১৯৭২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি স্থাপন করা হয়।

বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর দুটি সক্রিয় যাত্রাপথ রয়েছে, একটি দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩১.৩৬৫ কিমি মেট্রোলাইন এবং অপরটি ৯.১ কিমি দীর্ঘ সল্ট-লেক সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদহ মেট্রোলাইন। এখানে ৩৪টি মেট্রো স্টেশন বিদ্যমান, যার মধ্যে ১৭টি স্টেশন ভূগর্ভস্থ, ১৫টি স্টেশন উত্তোলিত এবং ২টি স্টেশন ভূমিগত। এ ছাড়া ২০০২ সালে সম্পূর্ণ আধুনিকতা নিয়ে চালু হয় দিল্লি মেট্রো।

মেট্রোরেলের দীর্ঘ ইতিহাস বিবর্তিতও হয়েছে নানাভাবে। যুক্ত হয়েছে নানা রকম সুবিধা। যোগাযোগ ব্যবস্থার বিবর্তনে মেট্রোরেল একটা বিস্ময়কর গল্পের নাম। সেই গল্পে এবার যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।

বাংলাদেশে মেট্রোরেলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। ২০১৬ সালে প্রণীত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা অনুসারে ঢাকায় নির্মিতব্য মেট্রোরেলের লাইনের সংখ্যা ৩টি থেকে বাড়িয়ে ৫টি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন ৬-কে নির্বাচন করা হয়। ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

জাইকা ও ডিএমটিসিএল ২০৩০ সাল নাগাদ ১২৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৬টি মেট্রো লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এই নেটওয়ার্কে ৫১টি এলিভেটেড স্টেশন ও ৫৩টি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন থাকবে। ছয়টি লাইন মিলিতভাবে দিনে ৪৭ লাখ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তথা মেট্রোরেল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করে।

২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর এমআরটি-১ নামক লাইনটির নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এমআরটি-১ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১.২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হবে।

এমআরটি-১ প্রকল্পে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার হবে পাতাল পথে এবং কুড়িল থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১.৩৬ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে। নতুন বাজার থেকে কুড়িল পর্যন্ত ৩.৬৫ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রানজিশন লাইনসহ ৩১.২৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এই মেট্রোরেলের ১২টি স্টেশন থাকবে মাটির নিচে এবং ৭টি থাকবে উড়াল সেতুর ওপর। এমআরটি লাইন-১ হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল।

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত প্রতীক্ষার অবসান হলো। স্বপ্ন এখন আর অধরা নয়, রাজধানীবাসীর হাতের মুঠোয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় মেট্রোরেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ প্রথমবার ঢাকার উড়াল রেললাইন দিয়ে হর্ণ বাজিয়ে ছুটল সমৃদ্ধ তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রবাহন মেট্রোরেল। যা এতদিন উন্নত কোনো দেশের আভিজাত্যের প্রতীক ছিল।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সালতামামি ২০২২ / প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
করোনা মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে বিদায়ী বছরে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢালিউড। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’র মতো সিনেমার সাফল্যে জোয়ার ওঠে বাংলা সিনেমায়। একের পর এক প্রশংসনীয় সিনেমার কারণে হলমুখী হয়েছেন দর্শকরা। চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত কিছু সিনেমা প্রসঙ্গে- হাওয়া : মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। মুক্তির আগে থেকেই গানে গানে আলোচিত ছিলো সিনেমাটি। বিশেষ করে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে মেতেছিলেন শ্রোতারা। মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হাউজফুল গেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে অগ্রিম টিকিটও। সুস্থধারার বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটি ‘হাওয়া’ আরও এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন দেশের সিনেমাবোদ্ধা ও অভিজ্ঞরা। তারকাবহুল এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান ও বাবলু বোস। অপারেশন সুন্দরবন : এক সময় সুন্দরবন ছিলো ডাকাতদের একতরফা দাপট। তাদের নির্যাতনে সবসময় তটস্থ থাকত জেলেরা। অপহরণ, মুক্তিপণ দিতে না পারলে হত্যা- সবই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমক্ত করার জন্য র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানের ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন। ভিন্ন ধারার এই সিনেমা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, মনোজ প্রামাণিক, দর্শনা বণিক, তাসকিন আহমেদ, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ অনেকে। শান : সত্য ঘটনা অবলম্বনে পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের ‘শান’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গত ৩মে। এম রাহিমের পরিচালনায় এতে মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার সঙ্গী হয়েছেন পূজা চেরি। ঈদুল ফিতরে দেশের সব বড় বড় হলে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকায় ‘শান’ দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াতে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। দামাল : গত ২৮ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পায় রায়হান রাফীর সিনেমা ‘দামাল’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল সিনেমাটি। মূলত, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি প্রমুখ। গলুই : গত ৩ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ঢাকাই কিং শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘গলুই’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহের তালিকায় ছিল সিনেমাটি। ‘গলুই’-তে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সহজ-সরল প্রেম কাহিনিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এস এ হক অলিক এবং প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন নতুন প্রজন্মের নায়িকা পূজা চেরি। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন আজিজুল হাকিম, ফজলুর রহমান বাবু, সুচরিতা, আলী রাজ, ঝুনা চৌধুরী, সমু চৌধুরী, পুষ্পসহ আরও অনেকেই।
প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণ করার বৈশ্বিক আয়োজন এখন বঙ্গদেশেও ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের এই রাতে দেশের আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। চোখে ধরা পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। কিন্তু ঘনবসতির দেশে এসব আয়োজন নিরাপদ নয়। অনেক সময় নতুন বছর উদযাপনের এই আচরণ ঠিক সভ্যতার সীমার মধ্যেও থাকে না। নানান সব আয়োজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে ফানুস ওড়ানো। রাতের আঁধারে হাজার হাজার ফানুস দৃষ্টিসীমাজুড়ে নান্দনিকতা তৈরি করলেও অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে থাকা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ফানুস পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম থাকায় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেশি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, শীতের এই সময় আবহাওয়া ও নগরের অবকাঠামো শুষ্ক থাকায় এমনিতেই অগ্নিঝুঁকি বেশি থাকে। আর এ সময় যদি আনন্দের নামে এভাবে ফানুস উড়ালে, এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুভ ইচ্ছায় উড়িয়ে দেওয়া ফানুস, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উড়ন্ত ফানুস কোথায় আটকে যাচ্ছে কিংবা জ্বলন্ত অবস্থায় কোথায় গিয়ে পড়ছে, তা হয়তো জানতেও পারছেন না। এভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে যেতে পারে যত্রতত্র। এতে ক্ষতি হতে পারে মানুষের জীবনের। তাই এবার রাজধানীতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ করে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং এর আগেও আমরা দেখেছি ফানুস ওড়ানোর কারণে নানা ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবার আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এজন্য থার্টিফার্স্টে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাদাপোশাকে এবং নিজেদের পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে, যেন কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করতে না পারে। পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের নাশকতার তৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক থাকব। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।’ ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবার ফেসবুক পোস্ট সবার মনে থাকার কথা। তবুও এখানে তুলে ধরছি- ‘কী ভীষণ শব্দে আতশবাজি! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে সময়টা পার করছি।’ পরে তার আরেক পোস্টে জানা যায়, শিশুটিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিতে হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনই মারা যায় সে। অন্যদের আনন্দ উদযাপন নতুন বছরের শুরুতেই একটি পরিবারে শোক ডেকে আনল। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আহমেদুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন- ‘একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস ওড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে। একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুন হালকা লেগেছে। একজন পথচারীর মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে। এক মাদরাসাছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে)। একজন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না। এ রকম বেশ কয়েকজন এসেছেন যাদের পটকায় এক বা একাধিক আঙুল উড়ে গেছে।’ এসব চিত্র এক বছর আগের। এখন আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট সন্নিকটে। আমরা কি গতবারের থেকে শিক্ষা নেব? নাকি আগামীকালও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বা অন্য কোনো হাসপাতালে একই করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে? অবশ্যই সেটি কেউ-ই চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময় ফারাক থেকে যায়, ফলে আশঙ্কা করতে হয়। হাজার হাজার মানুষ যদি আতশবাজি ফোটায় আর ফানুশ ওড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এরপরেও আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সেটি পারে। ২০২২ সালের শুরুতে যে করুণ সংবাদ আমরা পেয়েছি, তার আর না আসুক! তাই ফানুস নামের অনুষঙ্গটিকে বাদ দিয়েই উৎসব করুন। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি সকলের দায়িত্ব। তবে মনের আকাশে উড়াতে পারেন কল্পনার ফানুস।
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মতো এত বেশিসংখ্যক বিভাগ ও সেন্টার নেই। শিক্ষাকে দেশ ও বিদেশের কাছে অর্থবহ করার জন্য আউটকাম বেইজড এডুকেশন বা ফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তবে তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢালাওভাবে প্রফেসর সংখ্যা বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেন।  ‘রাষ্ট্রনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনের প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইউজিসি সদস্য ও ইআরডিএফবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। দেশের কিছু কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে দাবি করে ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ওনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। ছাত্র, অভিভাবকসহ সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এখন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসময় তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার এবং গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এখন ঘরে ঘরে জিপিএ ফাইভ বা টপার আছে। অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ৫৪ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণি প্রাপ্ত হয়নি। অথচ আমার সময়ে মাত্র ১/২ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি পেতো।
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
প্রথম ধাপের ফলাফলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১১৪ শিক্ষার্থী। প্রথম ধাপে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৬ জন আবেদন করেছিল। এর আগে, শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথম ধাপের ফল জানা যাচ্ছে। এ বছর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কলেজের ৭০ লাখ ২০ হাজারের বেশি আসন চয়েস দিয়েছে। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল দত্ত নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফোরামের প্রার্থী ছিলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা-ই-জামিল। ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৪০১ ভোট। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী শ্যামল দত্ত পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট। একইসঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ (৫৫৯ ভোট), সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা (৫৮৩ ভোট), যুগ্ম-সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া (৫৪০ ভোট) ও আশরাফ আলী (৪৯১ ভোট) ও কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী (৫৭৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত ১০ সদস্য হলেন- ফরিদ হোসেন (৪৯৫ ভোট), কাজনী রওনক হোসেন (৪২২ ভোট), শাহনাজ সিদ্দীকি সোমা (৩৯০ ভোট), কল্যাণ সাহা (৩৮২ ভোট), শাহনাজ বেগম পলি (৩৬০ ভোট), সৈয়দ আবদাল আহমদ (৩৪৭ ভোট), জুলহাস আলম (৩৪৫ ভোট), বখতিয়ার রানা (৩৩০ ভোট) মোহাম্মদ মমিন হোসেন (৩৩০) ও সীমান্ত খোকন (২৮৯ ভোট)। নির্বাচিতরা আগামী দুইবছর জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন। এবার কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১০২ জন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
আরও পড়ুন
পুলিশের ওপর হামলায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না : ডিএমপি কমিশনার
দূষিত শহরের তালিকায় ফের শীর্ষে ঢাকা
রাজধানীতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষার্থীর মরদেহ
৪ মাস পর ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ২৩ জেলে