ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক চাপ সামলে কূটনৈতিক অগ্রগতির বছর

সৈয়দ নূর-ই-আলম

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৪ এএম

গত কয়েক বছরে পুরো বিশ্ব মুখোমুখি হয়েছে একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতির। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে দুটি সমস্যা থেকে সেগুলো হলো, করোনা অতিমারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। করোনা সমস্যা থেকে বিশ্ব একটু একটু করে বের হয়ে আসলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কিছুতেই মুক্তি পাচ্ছে না যেন। তবে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যেখানে এই দুই সমস্যায় জর্জরিত সেখানে রপ্তানি খাত, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ আর সফল কূটনীতির প্রয়োগে দেশে দেশে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে সেই অবস্থা থেকে অনেকটাই বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বছরজুড়ে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ খুব সতর্কতার সঙ্গেই মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। সেই হিসেবে ২০২২ সাল বাংলাদেশের জন্য কেমন প্রশ্ন করা হলে এটা নিশ্চিন্তেই বলা যেতে পারে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ সামলে কূটনৈতিক অগ্রগতির বছর।

বিষয়গুলো আরেকটু খোলাসা করে বলা যায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা, করোনা পরবর্তী শ্রমবাজার সৃষ্টি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রুনাই, পর্তুগাল, রোমানিয়ার সঙ্গে নতুন কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর, বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা; বেশ কয়েক জন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার বাংলাদেশ সফর, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন; ঢাকায় সফল ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতা জোটের (আইওআরএ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন ইত্যাদিকে চলতি বছরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২২ এর নভেম্বরে ইইউ এর সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠান ছিল বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে ছিল অভাবনীয় সাফল্য।
২০২২ সালে অনেক অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থিত কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনের এখতিয়ারবহির্ভূত কিছু কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে বিব্রত করেছে। এ ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে অমীমাংসিত সীমান্ত পরিস্থিতি, জাপান সফরের ঘোষণা দিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সফর পেছানো, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুয়েকজন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ইত্যাদি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চলতি বছরেও সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

দেশে দেশে নতুন রপ্তানির বাজার সৃষ্টি

দেশে দেশে রপ্তানি বাজার বৃদ্ধিতে ২০২২ সালকে সফল বলা যেতেই পারে। করোনা অতিমারিতে বিশ্ব যখন গত দু’বছর নাকাল ছিল সেই সময়ে এই খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে।

করোনার সময়টাতে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ব্যস্ত ছিল নিজেদের সামলাতে। এই সময়ে বাংলাদেশ একদিকে যখন করোনা মোকাবিলা করছিল অন্যদিকে উৎপাদন ও রপ্তানির চাকাও সচল রেখেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে রপ্তানির নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করেছে। এ জন্য সবাই যখন রপ্তানি খাত নিয়ে চিন্তিত, তখন বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতায় রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় তুলনামূলক বেশি রপ্তানি আয় করেছে। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় নিরবচ্ছিন্নভাবেই রপ্তানি করেছে।

জনশক্তি রপ্তানির বাজার সৃষ্টি


করোনা প্রভাবিত ২০২১ ও ২০২২ সময়টাতে একদিকে যেমন শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নতুন নতুন বাজার তৈরি করেছে অন্যদিকে ভবিষ্যতে তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কারণে বেশ কয়েক বছর জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে তা আবার শুরু হয়েছে। যদিও ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে মালয়েশিয়ার সরকার অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশিদেরও আটক করেছে। কিন্তু পরে পররাষ্ট্র দপ্তরের দ্রুত উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরতে অভিযান আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান জনশক্তি পাঠানোর যে কার্যক্রম, তাতে অগ্রগতি হয়েছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের কোটা বৃদ্ধি করেছে দেশটি। কোরিয়া ২০২৩ সালে মোট সাত হাজার ৫০০ কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জাং-কেউন। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০২৩ সাল থেকে ১৫০ জন করে মোট বছরে সাত হাজার ৫০০ বাংলাদেশি কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় রোমানিয়ায় প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটি জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সংখ্যা বেঁধে না দিলেও সরকারি উদ্যোগে যাতে সেই দেশে যেতে পারে বাংলাদেশিরা এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের সঙ্গে।

২০২২ সালে পর্তুগালের সঙ্গে সফল কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো আনদ্রে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। বাংলাদেশে কনস্যুলেট খুলে এখানকার নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে একটি সমাঝোতা স্বাক্ষর করেছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পর্তুগাল ছাড়াও ইউরোপের নতুন আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া ও লিথুয়ানিয়া প্রভৃতি। ইতিমধ্যে এসব দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এ ছাড়া খুব শিগগিরই গ্রিসের প্রতিবেশী ও ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টায় জনশক্তি রপ্তানি তরাম্বিত করতে সেখানে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ এর প্রথম দিকে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আসুদ আহেমদ ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে সেখানকার একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ

২০২২ এ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ লক্ষণীয় ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে বন্ধু হিসেবে পরিচিত জাপানের বাংলাদেশেস্থ রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকীর নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপে জাপানের এই কূটনীতিকের তৎপরতা পরে আর দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য বজায় রেখেছেন ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সবশেষ ঢাকার শাহীনবাগে গুম হওয়া এক বিএনপি নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সেই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ খুব ধৈর্য্যের সঙ্গে তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তাদের শরণার্থী আশ্রয়ের অংশ হিসেবে ২২ জন রোহিঙ্গাকে নেওয়ার মাধ্যমে ছোট পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বছর শেষ হয় দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে।

এ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে বছরের বিভিন্ন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা বিভিন্ন মন্তব্য করে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সেই তৎপরতা সুসম্পর্ক বজায় রেখেই মোকাবিলা করেছে।

বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠান ছিল বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহারে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় জোটের সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে। এর মধ্য দিয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়। আশা করা হচ্ছে, এ সংলাপ যেমন বাংলাদেশের জন্য যেমন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিবে তেমনি বৈদেশিক ও নিরপাপত্তা ইস্যুতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করবে। প্রথমবারের এ সংলাপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফর

২০২২ সালে বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশে সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কয়েকটি দেশে সফর করেছেন। ভারত, ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তবে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর বিশেষভাবে সফল হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করেন। ফিরতি সফর হিসেবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মোট সাতটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়েছে।

এই সফরে বাগেরহাটের রামপালে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে রূপসা রেল সেতুরও উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

বিদেশি কূটনৈতিকদের বাংলাদেশে আগমন

২০২২ সালে বিদেশি কূটনৈতিকদের বাংলাদেশে আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বের অন্যতম ধনী দ্বীপরাষ্ট্র ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ মুইজ্জাদ্দিন ওয়াদ্দৌলাহ ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা সফর করেন। সুলতানের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এ সফরের সময়ে একটি চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

২০২২ সালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক সফলতা বয়ে এনেছে। এ বছর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক বিনিময় (নবায়ন) এবং সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে করতে সম্মত হয়। এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠতে চীন আরও ১ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ কারণে এখন চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল বাচেলেট পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। এদেশে এসে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখে যান তিনি। এটি জাতিসংঘের সদর দপ্তরের জন্য বাংলাদেশের রোহিঙ্গা পরিস্থিতির জানানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ ছিল। যেটি কাজে লাগায় বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে নভেম্বরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারকে নতুন করে চাপ প্রয়োগ করা হয় সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের বৈঠকে। নিন্দা প্রস্তাব আনাসহ দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাক্কা প্রস্তাব তোলা হয় সাধারণ পরিষদে। যদিও শেষ পর্যন্ত কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

২০২২ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক প্রভূত উন্নতি হয়। নভেম্বরে বাংলাদেশে সফর করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর নাবেসর বিন আবদুল আজিজ আল দাউদ। এই সফরে তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং রোড টু মক্কা সার্ভিস নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে বিশ্ব যখন দু’ভাগে বিভক্ত তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষাবলম্বন করেছে দেশটি। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন হয়েছে অন্যদিকে বাংলাদেশের বৃহৎ রপ্তানি বাজার নষ্ট হয়নি।

শ্রীলঙ্কার সংকটে আবারও বাংলাদেশ পাশে দাঁড়িয়েছে

২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার নাজুক পরিস্থিতি সময়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল বাংলাদেশ। এই ঋণ পরিশোধের কথা ছিল ২০২২ এর মাঝামাঝিতে। কিন্তু দেশটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ঋণ পরিশোধের সময়সীমা আরও এক বছর অর্থাৎ ২০২৩ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। আর এজন্য শ্রীলঙ্কার সরকার বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপনও করেছে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে করোনা পরবর্তী বিশ্ব মন্দাবস্থা সামাল দিয়েছে। একই বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বে যে সংকট তৈরি হয়েছে সেই অবস্থা থেকে বের হয়ে নতুন নতুন দেশে পণ্য ও জনশক্তির বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে ও করছে এখনও। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি ঘরোয়া বিষয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদেরও সামলেছে সতর্কতার সঙ্গে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সালতামামি ২০২২ / প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
করোনা মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে বিদায়ী বছরে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢালিউড। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’র মতো সিনেমার সাফল্যে জোয়ার ওঠে বাংলা সিনেমায়। একের পর এক প্রশংসনীয় সিনেমার কারণে হলমুখী হয়েছেন দর্শকরা। চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত কিছু সিনেমা প্রসঙ্গে- হাওয়া : মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। মুক্তির আগে থেকেই গানে গানে আলোচিত ছিলো সিনেমাটি। বিশেষ করে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে মেতেছিলেন শ্রোতারা। মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হাউজফুল গেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে অগ্রিম টিকিটও। সুস্থধারার বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটি ‘হাওয়া’ আরও এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন দেশের সিনেমাবোদ্ধা ও অভিজ্ঞরা। তারকাবহুল এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান ও বাবলু বোস। অপারেশন সুন্দরবন : এক সময় সুন্দরবন ছিলো ডাকাতদের একতরফা দাপট। তাদের নির্যাতনে সবসময় তটস্থ থাকত জেলেরা। অপহরণ, মুক্তিপণ দিতে না পারলে হত্যা- সবই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমক্ত করার জন্য র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানের ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন। ভিন্ন ধারার এই সিনেমা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, মনোজ প্রামাণিক, দর্শনা বণিক, তাসকিন আহমেদ, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ অনেকে। শান : সত্য ঘটনা অবলম্বনে পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের ‘শান’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গত ৩মে। এম রাহিমের পরিচালনায় এতে মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার সঙ্গী হয়েছেন পূজা চেরি। ঈদুল ফিতরে দেশের সব বড় বড় হলে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকায় ‘শান’ দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াতে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। দামাল : গত ২৮ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পায় রায়হান রাফীর সিনেমা ‘দামাল’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল সিনেমাটি। মূলত, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি প্রমুখ। গলুই : গত ৩ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ঢাকাই কিং শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘গলুই’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহের তালিকায় ছিল সিনেমাটি। ‘গলুই’-তে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সহজ-সরল প্রেম কাহিনিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এস এ হক অলিক এবং প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন নতুন প্রজন্মের নায়িকা পূজা চেরি। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন আজিজুল হাকিম, ফজলুর রহমান বাবু, সুচরিতা, আলী রাজ, ঝুনা চৌধুরী, সমু চৌধুরী, পুষ্পসহ আরও অনেকেই।
প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণ করার বৈশ্বিক আয়োজন এখন বঙ্গদেশেও ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের এই রাতে দেশের আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। চোখে ধরা পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। কিন্তু ঘনবসতির দেশে এসব আয়োজন নিরাপদ নয়। অনেক সময় নতুন বছর উদযাপনের এই আচরণ ঠিক সভ্যতার সীমার মধ্যেও থাকে না। নানান সব আয়োজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে ফানুস ওড়ানো। রাতের আঁধারে হাজার হাজার ফানুস দৃষ্টিসীমাজুড়ে নান্দনিকতা তৈরি করলেও অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে থাকা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ফানুস পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম থাকায় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেশি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, শীতের এই সময় আবহাওয়া ও নগরের অবকাঠামো শুষ্ক থাকায় এমনিতেই অগ্নিঝুঁকি বেশি থাকে। আর এ সময় যদি আনন্দের নামে এভাবে ফানুস উড়ালে, এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুভ ইচ্ছায় উড়িয়ে দেওয়া ফানুস, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উড়ন্ত ফানুস কোথায় আটকে যাচ্ছে কিংবা জ্বলন্ত অবস্থায় কোথায় গিয়ে পড়ছে, তা হয়তো জানতেও পারছেন না। এভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে যেতে পারে যত্রতত্র। এতে ক্ষতি হতে পারে মানুষের জীবনের। তাই এবার রাজধানীতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ করে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং এর আগেও আমরা দেখেছি ফানুস ওড়ানোর কারণে নানা ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবার আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এজন্য থার্টিফার্স্টে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাদাপোশাকে এবং নিজেদের পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে, যেন কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করতে না পারে। পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের নাশকতার তৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক থাকব। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।’ ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবার ফেসবুক পোস্ট সবার মনে থাকার কথা। তবুও এখানে তুলে ধরছি- ‘কী ভীষণ শব্দে আতশবাজি! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে সময়টা পার করছি।’ পরে তার আরেক পোস্টে জানা যায়, শিশুটিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিতে হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনই মারা যায় সে। অন্যদের আনন্দ উদযাপন নতুন বছরের শুরুতেই একটি পরিবারে শোক ডেকে আনল। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আহমেদুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন- ‘একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস ওড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে। একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুন হালকা লেগেছে। একজন পথচারীর মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে। এক মাদরাসাছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে)। একজন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না। এ রকম বেশ কয়েকজন এসেছেন যাদের পটকায় এক বা একাধিক আঙুল উড়ে গেছে।’ এসব চিত্র এক বছর আগের। এখন আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট সন্নিকটে। আমরা কি গতবারের থেকে শিক্ষা নেব? নাকি আগামীকালও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বা অন্য কোনো হাসপাতালে একই করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে? অবশ্যই সেটি কেউ-ই চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময় ফারাক থেকে যায়, ফলে আশঙ্কা করতে হয়। হাজার হাজার মানুষ যদি আতশবাজি ফোটায় আর ফানুশ ওড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এরপরেও আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সেটি পারে। ২০২২ সালের শুরুতে যে করুণ সংবাদ আমরা পেয়েছি, তার আর না আসুক! তাই ফানুস নামের অনুষঙ্গটিকে বাদ দিয়েই উৎসব করুন। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি সকলের দায়িত্ব। তবে মনের আকাশে উড়াতে পারেন কল্পনার ফানুস।
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মতো এত বেশিসংখ্যক বিভাগ ও সেন্টার নেই। শিক্ষাকে দেশ ও বিদেশের কাছে অর্থবহ করার জন্য আউটকাম বেইজড এডুকেশন বা ফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তবে তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢালাওভাবে প্রফেসর সংখ্যা বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেন।  ‘রাষ্ট্রনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনের প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইউজিসি সদস্য ও ইআরডিএফবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। দেশের কিছু কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে দাবি করে ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ওনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। ছাত্র, অভিভাবকসহ সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এখন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসময় তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার এবং গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এখন ঘরে ঘরে জিপিএ ফাইভ বা টপার আছে। অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ৫৪ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণি প্রাপ্ত হয়নি। অথচ আমার সময়ে মাত্র ১/২ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি পেতো।
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
প্রথম ধাপের ফলাফলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১১৪ শিক্ষার্থী। প্রথম ধাপে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৬ জন আবেদন করেছিল। এর আগে, শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথম ধাপের ফল জানা যাচ্ছে। এ বছর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কলেজের ৭০ লাখ ২০ হাজারের বেশি আসন চয়েস দিয়েছে। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল দত্ত নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফোরামের প্রার্থী ছিলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা-ই-জামিল। ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৪০১ ভোট। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী শ্যামল দত্ত পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট। একইসঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ (৫৫৯ ভোট), সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা (৫৮৩ ভোট), যুগ্ম-সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া (৫৪০ ভোট) ও আশরাফ আলী (৪৯১ ভোট) ও কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী (৫৭৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত ১০ সদস্য হলেন- ফরিদ হোসেন (৪৯৫ ভোট), কাজনী রওনক হোসেন (৪২২ ভোট), শাহনাজ সিদ্দীকি সোমা (৩৯০ ভোট), কল্যাণ সাহা (৩৮২ ভোট), শাহনাজ বেগম পলি (৩৬০ ভোট), সৈয়দ আবদাল আহমদ (৩৪৭ ভোট), জুলহাস আলম (৩৪৫ ভোট), বখতিয়ার রানা (৩৩০ ভোট) মোহাম্মদ মমিন হোসেন (৩৩০) ও সীমান্ত খোকন (২৮৯ ভোট)। নির্বাচিতরা আগামী দুইবছর জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন। এবার কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১০২ জন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
আরও পড়ুন
‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার’
সরকার হটানোর আন্দোলন কবে থেকে, জানালেন মান্না