
গত কয়েক বছরে পুরো বিশ্ব মুখোমুখি হয়েছে একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতির। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে দুটি সমস্যা থেকে সেগুলো হলো, করোনা অতিমারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। করোনা সমস্যা থেকে বিশ্ব একটু একটু করে বের হয়ে আসলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কিছুতেই মুক্তি পাচ্ছে না যেন। তবে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যেখানে এই দুই সমস্যায় জর্জরিত সেখানে রপ্তানি খাত, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ আর সফল কূটনীতির প্রয়োগে দেশে দেশে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে সেই অবস্থা থেকে অনেকটাই বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বছরজুড়ে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ খুব সতর্কতার সঙ্গেই মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। সেই হিসেবে ২০২২ সাল বাংলাদেশের জন্য কেমন প্রশ্ন করা হলে এটা নিশ্চিন্তেই বলা যেতে পারে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ সামলে কূটনৈতিক অগ্রগতির বছর।
বিষয়গুলো আরেকটু খোলাসা করে বলা যায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা, করোনা পরবর্তী শ্রমবাজার সৃষ্টি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রুনাই, পর্তুগাল, রোমানিয়ার সঙ্গে নতুন কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর, বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা; বেশ কয়েক জন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার বাংলাদেশ সফর, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন; ঢাকায় সফল ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতা জোটের (আইওআরএ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন ইত্যাদিকে চলতি বছরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২২ এর নভেম্বরে ইইউ এর সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠান ছিল বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে ছিল অভাবনীয় সাফল্য।
২০২২ সালে অনেক অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থিত কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনের এখতিয়ারবহির্ভূত কিছু কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে বিব্রত করেছে। এ ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে অমীমাংসিত সীমান্ত পরিস্থিতি, জাপান সফরের ঘোষণা দিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সফর পেছানো, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুয়েকজন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ইত্যাদি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চলতি বছরেও সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
দেশে দেশে নতুন রপ্তানির বাজার সৃষ্টি
দেশে দেশে রপ্তানি বাজার বৃদ্ধিতে ২০২২ সালকে সফল বলা যেতেই পারে। করোনা অতিমারিতে বিশ্ব যখন গত দু’বছর নাকাল ছিল সেই সময়ে এই খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে।
করোনার সময়টাতে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ব্যস্ত ছিল নিজেদের সামলাতে। এই সময়ে বাংলাদেশ একদিকে যখন করোনা মোকাবিলা করছিল অন্যদিকে উৎপাদন ও রপ্তানির চাকাও সচল রেখেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে রপ্তানির নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করেছে। এ জন্য সবাই যখন রপ্তানি খাত নিয়ে চিন্তিত, তখন বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতায় রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় তুলনামূলক বেশি রপ্তানি আয় করেছে। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় নিরবচ্ছিন্নভাবেই রপ্তানি করেছে।
জনশক্তি রপ্তানির বাজার সৃষ্টি
করোনা প্রভাবিত ২০২১ ও ২০২২ সময়টাতে একদিকে যেমন শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নতুন নতুন বাজার তৈরি করেছে অন্যদিকে ভবিষ্যতে তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কারণে বেশ কয়েক বছর জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে তা আবার শুরু হয়েছে। যদিও ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে মালয়েশিয়ার সরকার অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশিদেরও আটক করেছে। কিন্তু পরে পররাষ্ট্র দপ্তরের দ্রুত উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরতে অভিযান আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান জনশক্তি পাঠানোর যে কার্যক্রম, তাতে অগ্রগতি হয়েছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের কোটা বৃদ্ধি করেছে দেশটি। কোরিয়া ২০২৩ সালে মোট সাত হাজার ৫০০ কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জাং-কেউন। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০২৩ সাল থেকে ১৫০ জন করে মোট বছরে সাত হাজার ৫০০ বাংলাদেশি কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় রোমানিয়ায় প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটি জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সংখ্যা বেঁধে না দিলেও সরকারি উদ্যোগে যাতে সেই দেশে যেতে পারে বাংলাদেশিরা এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের সঙ্গে।
২০২২ সালে পর্তুগালের সঙ্গে সফল কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো আনদ্রে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। বাংলাদেশে কনস্যুলেট খুলে এখানকার নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে একটি সমাঝোতা স্বাক্ষর করেছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পর্তুগাল ছাড়াও ইউরোপের নতুন আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া ও লিথুয়ানিয়া প্রভৃতি। ইতিমধ্যে এসব দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এ ছাড়া খুব শিগগিরই গ্রিসের প্রতিবেশী ও ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টায় জনশক্তি রপ্তানি তরাম্বিত করতে সেখানে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ এর প্রথম দিকে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আসুদ আহেমদ ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে সেখানকার একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ
২০২২ এ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ লক্ষণীয় ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে বন্ধু হিসেবে পরিচিত জাপানের বাংলাদেশেস্থ রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকীর নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপে জাপানের এই কূটনীতিকের তৎপরতা পরে আর দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য বজায় রেখেছেন ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সবশেষ ঢাকার শাহীনবাগে গুম হওয়া এক বিএনপি নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সেই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ খুব ধৈর্য্যের সঙ্গে তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তাদের শরণার্থী আশ্রয়ের অংশ হিসেবে ২২ জন রোহিঙ্গাকে নেওয়ার মাধ্যমে ছোট পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বছর শেষ হয় দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে।
এ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে বছরের বিভিন্ন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা বিভিন্ন মন্তব্য করে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সেই তৎপরতা সুসম্পর্ক বজায় রেখেই মোকাবিলা করেছে।
বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠান ছিল বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহারে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় জোটের সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে। এর মধ্য দিয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়। আশা করা হচ্ছে, এ সংলাপ যেমন বাংলাদেশের জন্য যেমন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিবে তেমনি বৈদেশিক ও নিরপাপত্তা ইস্যুতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করবে। প্রথমবারের এ সংলাপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফর
২০২২ সালে বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশে সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কয়েকটি দেশে সফর করেছেন। ভারত, ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তবে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর বিশেষভাবে সফল হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করেন। ফিরতি সফর হিসেবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মোট সাতটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়েছে।
এই সফরে বাগেরহাটের রামপালে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে রূপসা রেল সেতুরও উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
বিদেশি কূটনৈতিকদের বাংলাদেশে আগমন
২০২২ সালে বিদেশি কূটনৈতিকদের বাংলাদেশে আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বের অন্যতম ধনী দ্বীপরাষ্ট্র ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ মুইজ্জাদ্দিন ওয়াদ্দৌলাহ ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা সফর করেন। সুলতানের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এ সফরের সময়ে একটি চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
২০২২ সালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক সফলতা বয়ে এনেছে। এ বছর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক বিনিময় (নবায়ন) এবং সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে করতে সম্মত হয়। এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠতে চীন আরও ১ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ কারণে এখন চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল বাচেলেট পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। এদেশে এসে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখে যান তিনি। এটি জাতিসংঘের সদর দপ্তরের জন্য বাংলাদেশের রোহিঙ্গা পরিস্থিতির জানানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ ছিল। যেটি কাজে লাগায় বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে নভেম্বরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারকে নতুন করে চাপ প্রয়োগ করা হয় সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের বৈঠকে। নিন্দা প্রস্তাব আনাসহ দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাক্কা প্রস্তাব তোলা হয় সাধারণ পরিষদে। যদিও শেষ পর্যন্ত কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।
২০২২ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক প্রভূত উন্নতি হয়। নভেম্বরে বাংলাদেশে সফর করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর নাবেসর বিন আবদুল আজিজ আল দাউদ। এই সফরে তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং রোড টু মক্কা সার্ভিস নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে বিশ্ব যখন দু’ভাগে বিভক্ত তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষাবলম্বন করেছে দেশটি। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন হয়েছে অন্যদিকে বাংলাদেশের বৃহৎ রপ্তানি বাজার নষ্ট হয়নি।
শ্রীলঙ্কার সংকটে আবারও বাংলাদেশ পাশে দাঁড়িয়েছে
২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার নাজুক পরিস্থিতি সময়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল বাংলাদেশ। এই ঋণ পরিশোধের কথা ছিল ২০২২ এর মাঝামাঝিতে। কিন্তু দেশটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ঋণ পরিশোধের সময়সীমা আরও এক বছর অর্থাৎ ২০২৩ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। আর এজন্য শ্রীলঙ্কার সরকার বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপনও করেছে।
২০২২ সালে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে করোনা পরবর্তী বিশ্ব মন্দাবস্থা সামাল দিয়েছে। একই বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বে যে সংকট তৈরি হয়েছে সেই অবস্থা থেকে বের হয়ে নতুন নতুন দেশে পণ্য ও জনশক্তির বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে ও করছে এখনও। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি ঘরোয়া বিষয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদেরও সামলেছে সতর্কতার সঙ্গে।




