মহামারি করোনার প্রভাব কমলেও থামেনি মৃত্যুর মিছিল। ২০২২ সাল জুড়ে ছিল গুণিজন হারানোর ক্ষত। জাতি হারিয়েছে অকৃত্রিম অনেক অভিভাবককে। যাদের প্রতিভার দ্যুতিতে আলোকিত হয়েছে রাজনীতির মাঠ থেকে শিল্পাঙ্গন। অল্প সময়ে এমন বিশাল শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
বছর শেষে পেছন ফিরে তাকানোর এই আয়োজনে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি তাদের—
ভাষা আন্দোলনের কালজয়ী গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ২০২২ সালের মাঝামাঝি। ৮৮ বছর বয়সে জীবন প্রদীপ নিভে যায় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখকের। জীবদ্দশায় স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, ইউনেসকো সাতিহ্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
১২ সেপ্টেম্বর ৮৭ বছর বয়সে ওপারে পাড়ি জমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭৬ সালে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৮৬ থেকে ৯২ পর্যন্ত সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনও চলে যান ১৪ সেপ্টেম্বর। ৮৩ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতা পরবর্তি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।
বছর শেষে ফেরার দেশে চলে যান না শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম। তিনি থাকবেন শিশুদের পাঠ্যবইয়ে, গল্পে, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে। আলী ইমাম রচিত বইয়ের সংখ্যা ২ শতাধিক।
বছরের শুরুতেই সুতোর ওপারে চলে যান আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদের জীবন প্রদীপ নিভে যায় ৮ জুলাই। গুণী এই অভিনেত্রী পাঁচ দশকে ৪০০ নাটক ও দেড়শ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
রিকশাচালক থেকে জনপ্রিয় শিল্পী হয়ে ওঠা গায়ক আকবর আলি গাজীর সুরের তার ছিড়ে যায় ১৩ নভেম্বর। কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে পরপারের যাত্রী হন তিনি।
অল্প সময়ে তৈরি হওয়া এই বিশাল শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।




