
২০২১ সালে সীমিত সংখ্যক দেশে রিলস ফিচার (ছোট ভিডিও) চালু করেছিল ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এবার বিশ্বের ১৫০টি দেশে এ সেবা চালুর ঘোষণা দিল ফেসবুক। ফেসবুক রিলস নামে শর্ট ভিডিও অনেকটা টিকটক ভিডিওর মতোই। একটি ফেসলুক রিল মূলত ৩ সেকেন্ড থেকে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে। সংক্ষিপ্ত ভিডিও ফরম্যাট থেকে এবার আয় করার সুযোগও থাকছে।
ফিচারটির মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ছোট ভিডিও (৬০ সেকেন্ড) তৈরি করতে পারবেন এবং সেই ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন। এমনকি ইনস্টাগ্রাম রিলের জন্য তৈরি ভিডিও যে কেউ ফেসবুক রিলসে শেয়ার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা উপার্জনের জন্য আরও বড় মার্কেট পাবেন।
সাম্প্রতিক সময় ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা, রিলসে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে। এখন ফেসবুকের রিলস থেকেও ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। রিল থেকে টাকা আয় করার একাধিক সুযোগ দিচ্ছে ফেসবুক।
একজন ব্যক্তির ১০ হাজার ফলোয়ার, ৫টি ভিডিও এবং গত ৬০ দিনে ৬ লাখ মিনিটের ভিউ থাকলে সে রিলসে অ্যাড দেয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এই অ্যাড থেকে আসা অর্থের ৫৫ শতাংশ আপনি এবং ৪৫ শতাংশ ফেসবুক পাবে। এর আগে ফেসবুকের রিলসে অ্যাড দেয়া যেত না। শুধুমাত্র ভিডিয়োতে অ্যাড দেয়া যেত।
এ ছাড়াও, ফেসবুক রিলস থেকে অর্থ আয়ের নতুন একটি মাধ্যম আনার কথা ঘোষণা করেছে মেটা। এই নতুন ফিচারে একজন ব্যবহারকারী রিলস দেখার সময় স্টার দিতে পারবে। প্রতি ১০০ স্টারে ১ ডলার পাওয়া যাবে।
রিলস থেকে আয় করতে যেসব বিষয় মানতে হবে-
ফেসবুকে সাধারণ ভিডিও ও রিলস ভিডিওর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভিডিওর দৈর্ঘ্য। রিলস ভিডিওর দৈর্ঘ্য হতে হবে সর্বোচ্চ ৯০ সেকেন্ড এবং ভিডিও হতে হবে ভার্টিক্যাল বা লম্বালম্বি।
রিলস মনিটাইজেশন করতে পেজ বা প্রফেশনাল মুডের আইডিতে অন্তত ৫ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে; ৫টি ইউনিক ভিডিও থাকতে হবে, যা আপনিই প্রথম আপলোড করেছেন এবং শেষ ২ মাস বা ৬০ দিনে ৬০ হাজার মিনিট ওয়াচটাইম থাকতে হবে। । জেনে রাখা ভালো, অন্যের ভিডিও দিয়ে আপনি মনিটাইজেশন করতে পারবেন না।
এসব শর্ত পূরণ হওয়ার পর রিলস মনিটাইজেশন করার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফেসবুক আপনার পেজ ও পার্টনার মনিটাইজেশন পলিসি এবং কনটেন্ট মনিটাইজেশন পলিসি রিভিউ করবে। সব ঠিক থাকলে মেটা বিজনেস স্যুট, প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ডে অথবা ইমেইলের মাধ্যমে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত বার্তাটি।
আপনার আবেদন একবার অনুমোদন পেয়ে গেলে রিলস থেকে আয় করতে পারবেন।
যেভাবে উপার্জন করবেন-
ইনস্টাগ্রাম রিলসের মতোই ফেসবুক রিলস থেকে উপার্জন করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ক্রিয়েটারকে ব্র্যান্ড প্রোমোশন করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে যারা ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে ফেসবুক রিলসে যত বেশি সংখ্যক ফলোয়ার্স রয়েছে সেই ক্রিয়েটারের তত বেশি উপার্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং সংস্থা রয়েছে। এই সংস্থাগুলো ফেসবুক রিলসের বিভিন্ন ক্রিয়েটরদের ম্যানেজ করেন। সেই সব এজেন্সির মাধ্যমেও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তি করা যেতে পারে।
শুধু তাই নয়, ভিডিও নির্মাতারা চাইলে নিজেরাই ভিডিওর নিচে স্টিকার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে সরাসরি আয় করতে পারবেন। রিলস ভিডিওর পর্দাজুড়ে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ফেসবুকের।




