ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন

মো. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:১২ পিএম
মো. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার

একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলো তথ্যপ্রযুক্তি। নব্বইয়ের দশক থেকেই বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। বিগত একযুগে উন্নত দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশও প্রযুক্তি খাতে বিস্তর সাফল্য অর্জন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়নের বদৌলতে বাংলাদেশের মানুষের জীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে উঠে এসেছি মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে।

বাংলাদেশ সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসার ও উন্নয়নে সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, নাগরিকদের জীবনকে উন্নত করা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করা, সর্বোপরি দেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করা।
কানেক্টিভিটি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, জাতীয় আইসিটি নীতি, হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রজেক্ট এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস অ্যাক্টের মতো বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে এই প্রযুক্তি ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই দিনে টেলিকমিউনিকেশন, ডিজিটাল সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং, আউটসোর্সিংসহ প্রভৃতি খাতের প্রসারে উদ্যোক্তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশের সামগ্রিক আয়।

দৈনন্দিন জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি

প্রথমত, বাংলাদেশে সব থেকে বেশি উন্নতি সাধন হয়েছে টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তির অভিযোজনে বর্তমান সরকার সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়সহ হাওর ও দুর্গম অঞ্চলে উচ্চগতির ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপন, নতুন আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ও টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবলের সাথে সংযোগ স্থাপন, দেশের নিজস্ব সাটেলইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -১’ উৎক্ষেপণ এবং ফাইভজি প্রযুক্তির সেবা প্রবর্তনের ফলে দেশের প্রায় শতভাগ জনগোষ্ঠীর ও প্রান্তিক এলাকায় ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দেশে গত প্রায় ১৫ বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে দেড়শ গুণেরও বেশি।

২০০৮ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ৮ লাখ, এখন সেটি ১৩ কোটির থেকে বেশি। মোবাইল ফোনের গ্রাহকও বেড়েছে সাড়ে চার গুণ। ২০০৮ সালে মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা ছিল চার কোটির কম, সেখানে চলতি বছরের আগস্ট মাসে এই সংখ্যা ১৮ কোটি ৮৬ লাখ পৌঁছেছে।

সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন থাকার ফলে খুব সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যোগাযোগ করা করা সম্ভব হচ্ছে। ২০০৯ সালে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ এর ব্যবহার ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৫ জিবিপিএস, সেখান থেকে বর্তমানে প্রায় চার হাজার ৪০০ জিবিপিএস করা হয়েছে। ইন্টারনেট সহজলভ্য করার জন্য ২০০৫ সালের ৭৫ হাজার টাকা দামের ব্যান্ডউইথ এর মূল্য কমিয়ে প্রতি এমবিপিএস-এ ক্ষেত্র বিশেষে সর্বনিম্ন মাত্র ৩০০ টাকা করা হয়েছে।

পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সারাদেশে তারভিত্তিক ইন্টারনেটের একই রেট বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল ফোন সেবা চালু হওয়ার প্রায় সাড়ে চার বছর পর ১৯ ফেব্রুয়ারি চালু হয় চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) মোবাইল ফোন সেবা এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর ২০২১ সালে দেশের ৬টি সাইটে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিক ফাইভ-জি সেবা চালু করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের কারণে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সেবা। ব্যবসাসহ যেকোনো উদ্দেশ্যে বহির্বিশ্বেও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন এখন আর কোনো সমস্যা নয়।

ঠিক টেলিকমিউনিকেশনের হাত ধরেই আসে একটি বিস্ময়কর ব্যাপার। আজ থেকে বেশকিছু বছর আগে একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় টাকা পাঠানো ছিল কঠিনতম কাজগুলোর একটি। তারও আগে কোথাও টাকা পাঠাতে মানি অর্ডার করতে হতো। আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না থেকে জনগণ এখন ডিজিটাল পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।

বর্তমানে বিকাশ, রকেট, নগদ এর মতো মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) এর মাধ্যমে মানুষের জীবন সহজতর হয়েছে এবং পরনির্ভরশীলতা কমেছে। পৃথিবীতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ এখন এক নম্বরে। বাংলাদেশে হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতি মাসে লেনদেন এক লাখ কোটি টাকার ও বেশি পরিমাণ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিকাশ, রকেট, নগদ এর মাধ্যমেই এখন গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিলসহ সকল প্রকার বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

দৈনন্দিন জীবনের আশীর্বাদ হিসেবে সরকারি ডিজিটাল সেবার কথায় উঠে আসে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং জনসেবা প্রদানের উন্নতির জন্য সরকার বিভিন্ন ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবা চালু করেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল সেবা সিস্টেম।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স, চারিত্রিক সনদপত্র, জমির পর্চা, ভূমিহীন সনদপত্র, ওয়ারিশান সনদপত্র, অবিবাহিত সনদপত্র, প্রত্যয়নপত্র, অসচ্ছল প্রত্যয়নপত্র, নাগরিক সনদপত্র, উত্তরাধিকার সনদপত্র, অনলাইনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ ইত্যাদি সেবা কোনো ঝামেলাহীনভাবে প্রদান করা হয়।

দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে এখন প্রতি মাসে ৪৫ লাখ মানুষ ৬০ ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারছে। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সেবাসমূহ যেমন—মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল, চাকরির তথ্য, কম্পোজ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, ভিডিওতে কনফারেন্স, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিং পাওয়া যাচ্ছে খুব সহজেই।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৬০২টি ডিজিটাল সেন্টার, ৮ হাজার ২০০ ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য ৬০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু তা–ই নয়, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরির আবেদন, পড়াশোনা, পাসপোর্ট আবেদন, বিমানের টিকিট, রেলওয়ে টিকিটিং, ই–টেন্ডারিং, টিন সনদ, আয়কর রিটার্ন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাচ্ছে অনলাইনে, অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার প্রায় ৮৬ হাজার ডিজিটাল ক্লাসরুম বা ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করেছে। বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ড ও আধুনিক ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে, যা এক সময় ধারণারও বাইরে ছিল।

করোনা মহামারি থেকে দেশের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে টিকা কার্যক্রম, টিকার তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং সনদ প্রদানের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের জনগণ এর সুবিধা পাচ্ছে।

শুধু বিভাগীয় বা জেলা শহরে নয়, উপজেলা সদর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে এমনকি দুর্গম অঞ্চলেও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছে গেছে। হেল্পলাইনের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে জরুরি সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সেবা পাচ্ছে জনগণ।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা ও তথ্যকে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩৩৩ শর্টকোড ব্যবহার করে কল সেন্টার–ভিত্তিক জাতীয় সেবা চালু করা হয়েছে।

বেকারত্ব হ্রাস

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নের আওতায় ১৫ বছরে আইটি ফ্রিল্যান্সিং-এ সাড়ে ৬ লাখ, সফটওয়্যার শিল্পে আইটি ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার শিল্পে ৩ লাখ, হার্ডওয়্যার শিল্পে ৫০ হাজার, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাতে ৭০ হাজার, ই-কমার্সে ৩ লাখ এবং রাইড শেয়ারিং, ফিনটেক, এডুটেক, ইন্টারনেট সার্ভিস ইত্যাদি খাতে প্রায় ২০ লাখের বেশি তরুণ তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে।
আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ তরুণ তরুণী এখন নিজের কর্মসংস্থান নিজেই সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, অথবা বিদেশি কোম্পানিতে কাজ করছে। সাম্প্রতিক গ্লোবাল লোকেশন সার্ভিস ইনডেক্স অনুসারে, দেশের আইটি আউটসোর্সিং র‍্যাঙ্কিং ২১-এ দাঁড়িয়েছে এবং হয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইটি ফ্রিল্যান্সার সরবরাহক।

নিজের বাগানের ফল, নিজের পুকুরের মাছসহ সবকিছু এখন অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে দেশে বিদেশে সবজায়গায় মানুষ বিক্রি করতে পারছে। বৃদ্ধি পেয়েছে আত্মবিশ্বাস, বৃদ্ধি পেয়েছে কোম্পানির দরজায় কড়া না নেড়ে ঘরে বসে কিছু করা।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-এর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমানে সর্বমোট ১০৯টি (সরকারি-৯২টি ও বেসরকারি-১৭টি) স্থানে হাই-টেক পার্ক/সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক/শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি হাই-টেক পার্ক/সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক/শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার-এ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চলমান রয়েছে।

এখন পর্যন্ত হাই-টেক পার্কসমূহে ২৩০টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস ও প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ১৫১টি স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে স্পেস/কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি এবং বেসরকারি পার্কে ২৮,০০০ জনের অধিক প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদা বিবেচনা করে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ৩৫,৩১৫ জনকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আরও ৪৫,০০০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ চলমান রয়েছে। রাজধানীর বাইরে এখন নির্মিত ২৮টি হাই-টেক পার্কে আগামী দু-এক বছরের মধ্যে তিন লাখের বেশি কর্মসংস্থান এর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দেশের এতসংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারণে দেশে উদ্যোক্তার সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে একটি টেকসই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরিতে সরকারি মালিকানায় প্রথম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি হিসেবে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এর ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশে এখন প্রায় ২৫০০ টি সক্রিয় স্টার্টআপ রয়েছে যারা ১৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের আইটি সেক্টরে আরও ৫ হাজার স্টার্টআপে উন্নীত করা হবে, যার মাধ্যমে ৩০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সফলতার অগ্রগতি

ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) খাতে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ছে। ২০০৬ সালে এ খাতে রপ্তানি ছিল ২১ মিলিয়ন ডলার যা ২০২৩ সালের জুলাইতে এসে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে।

বর্তমানে সফটওয়্যার খাতের ওয়েবসাইট তৈরি ও ডিজাইন, মোবাইল অ্যাপস, গেমস, অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম, ভিওআইপি অ্যাপ্লিকেশন, ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রি-প্রেস, ডিজিটাল ডিজাইন, সাপোর্ট সেবা, কাস্টমাইজড অ্যাপ্লিকেশন রপ্তানি বেড়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সহজলভ্যতা ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়ায় ফলে এই খাতে রপ্তানি আয় দ্রুত বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য থেকে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ ২০২১-২২ অর্থবছরে সফটওয়্যার, পরামর্শ এবং সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ সহ আইটি এবং তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবা (আইটিইএস)-এর রপ্তানি থেকে $৫৯২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করেছে বাংলাদেশ, যা স্থানীয় বাজারের উপার্জনে ১.৫ বিলিয়ন ডলার এর সমান বাজারের শেয়ার ধারণ করে। ২০২৫ সাল নাগাদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার এবং ২০৩১ সাল নাগাদ এই খাত থেকে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

দেশের তথ্য সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে জাতীয় ডাটা সেন্টার। বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ ডাটা সেন্টার এখন বাংলাদেশে। ক্লাউড কম্পিউটিং ও জি-ক্লাউড প্রযুক্তি থাকা ডাটা সেন্টারগুলোর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা এটি। যার ডাউন টাইম শূন্যের কোঠায়।
ডাটা সেন্টারে ৫৫ হাজার ওয়েবসাইট এবং ১১ কোটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হোস্ট করা আছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নির্বাচন কমিশন, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, এটুআই (এক্সেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য-উপাত্ত রেজিস্ট্রেশন ও এনবিআর সিস্টেম, ই-নথি, সুরক্ষাসহ সবকিছু ওখানে হোস্ট করা রয়েছে।

দেশের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোরও আস্থা অর্জন করেছে এই ডাটা সেন্টার। পাশাপাশি নিশ্চিত হয়েছে তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণে এখন আর বিদেশের ডাটা সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হবে না।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আপটাইম ইন্সটিটিউট থেকে টায়ার সার্টিফিকেশন অব অপারেশনাল সাসটেইনেবিলিটির সনদ পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। ডাটা সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে নিজ দেশে নিজেদের তথ্য সংরক্ষণের কারণে বছরে ৩৫৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে এটি বেড়ে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান সরকারের বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিখাতে অন্যতম সাফল্য ছিল ২০১৮ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ। বাংলাদেশের জন্য এটি একটা বড় অর্জন কারণ এর হাত ধরেই বাংলাদেশ মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে প্রবেশ করেছে।

আজ বাংলাদেশ ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য। বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে অতি সহজে, অল্প সময়ে ও কম খরচে সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে মোট ১৪৮টি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে।

দেশের উন্নয়নে তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধিশীল হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এখন পর্যন্ত, আইসিটি খাত বাংলাদেশের জিডিপিতে ১.২৮ শতাংশ অবদান রেখেছে। আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশের উন্নয়ন—সরকারি নীতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং দক্ষ জনশক্তির সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।

বাংলাদেশ আইসিটি সেক্টরে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রেখেছে। ডিজিটাল উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের চলমান ধারা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও সাফল্যমণ্ডিত করবে। আমাদের আগামীর পথচলা হবে ২০৩০ সালের মধ্যে 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)' অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের মর্যাদা লাভ এবং সর্বোপরি 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০' বাস্তবায়ন।

অধ্যাপক মো. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার, পিএইচ.ডি
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
২০২৩ শেষ হয়ে ২০২৪ সালের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিগত ২০২৩ সালে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ঘটে গেছে নানা ঘটনা। এর মধ্যে কিছু সুখস্মৃতি, কিছু বেদনাদায়ক। সবকিছু মিলিয়ে তুলে ধরা হলো ২০২৩ এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।  জানুয়ারি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে মনোনীত হয়। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে বশেমুরবিপ্রবি পায় প্রথম কোষাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মোবারক হোসেন এই পদে নিয়োগ পান। জানুয়ারি মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো বিভাগ মেয়েদের জন্য কমন রুম চালু করে। বাংলা বিভাগের এই উদ্যোগ ভূয়সী প্রশংসা পায়। ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সংবাদের পাশাপাশি নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশিত হয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত হয় শৌচাগারে। ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ১৫তম সহকারী জজ নিয়োগে উত্তীর্ণ হন আইন বিভাগের আনিচ মুন্সী।  ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় খবর প্রকাশিত হয়। মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগের নামে আকাশ শিকদার ও তার সিন্ডিকেট এই বাণিজ্য করেন। ১৩ই ফেব্রুয়ারী বশেমুরবিপ্রবি ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। দীর্ঘ প্রতিরক্ষার পরে চালু হয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া।  মার্চ এত এত খবরের মধ্যে মার্চের শুরুতে ঘটে বেদনাদায়ক ঘটনা, ভালোবেসে বিয়ের এক বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নোভা ইয়াসমিন। ৪ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আয়োজিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন "বাঁধনের" আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী বইমেলা। ৮ জানুয়ারি বিশ্ব নারী দিবসে ঋতুস্রাবকালীন নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলিন্টিয়ার ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে স্থাপিত হয় প্যাড ব্যাংক। প্রকাশিত হয় পরিবহন খাতে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা ভাগাভাগির খবর। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ৩ কোটি টাকার অডিট আপত্তি দেখানো হয়। দেশব্যাপী ১২টি আইসিটি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বশেমুরবিপ্রবিতে উদ্বোধন করা হয় নলেজ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।  এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমিটিহীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বশেমুরবিপ্রবি শাখা, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে নোটিশ দিয়ে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সিভি আহ্বান করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। ছাত্রী হলে মেয়েদের পোষাক পরিহিত চোর আটকের ঘটনা ঘটে মাসের শেষের দিকে। মে মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয় ৪ শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটির দীর্ঘসূত্রিতায় এই পদক থেকে বঞ্চিত হয় কৃষি অনুষদ। মার্ক টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি ড. মো. আবু সালেহ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তেল ক্রয় না করেও ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠে বাস চালক আতিকুর রহমান ঝন্টুর বিরুদ্ধে, প্রেসক্লাব থেকে অডিও রেকর্ড প্রকাশের পরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।  জুন নিজ ক্যাম্পাসে বিয়ের গায়ে হলুদ হয় এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মিমের। জুলাই তীব্র শিক্ষক সংকটে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। শিক্ষক-কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ৩ শিক্ষার্থী। খবর প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ইনস্টিটিউট নিয়ে, বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকতে থাকে অবহেলায়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) নজরুল ইসলাম হীরা।  আগস্ট শোকের মাসের শুরুতেই ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ ঘটনা, লেকের পানিতে ডুবে প্রাণহানি ঘটে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হিয়া ও ঋতুর। শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরণ অনশন করে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা, একাত্মতা ঘোষণা করে বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাব। প্রথমবারের মত ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন হয়। বিজিই বিভাগ থেকে বৃক্ষরোপণের পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের ঘোষণা দেওয়া হয়।  সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরির জন্য ভেঙে ফেলা প্রধানমন্ত্রীর নামফলক, শেখ হাসিনা চত্বর নামে পরিচিত ফলকটি ভাঙার ঘটনায় তদন্তে গড়িমসি করে প্রশাসন। মার্ক টেম্পারিং ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপরতা দেখা যায়, কোর্স শিক্ষক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হালিমা খাতুন ও তৎকালীন ইইই (সি) বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ শাহজাহানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। ল্যাব, শ্রেণি সংকটসহ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার দাবিতে ৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  অক্টোবর মাসের শুরুতে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। ফার্মেসী বিভাগের আন্দোলনে বন্ধ হয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় জায়গা করে নেয় বশেমুরবিপ্রবির দুই শিক্ষক। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে ১১ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে প্রথমবারের মত উপ-উপাচার্য নিয়োগ পায় বশেমুরবিপ্রবি, হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলমকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।  নভেম্বর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী রিয়াজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শীত বরণ উৎসব "উষ্ণতার খোঁজে নবনীতক" অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ শিক্ষার্থী হয় সাময়িক বহিষ্কার।  ডিসেম্বর সাহসী ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পুরস্কার পান বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি কে. এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফ, ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (ইউজেএফ) কর্তৃক এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ গুরুতর আহত হয়। হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল বাতিলের দাবিতে প্রাণিসম্পদ সচিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ভেটেরিনারি বিভাগের শিক্ষার্থীরা, দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার এস এম এস্কান্দার আলী।
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
শীতের ভোর। কুয়াশা কেটে সূর্যের মিষ্টি রোদের আভাটা সবে শরীরে লাগতে শুরু করেছে। ধোঁয়া উঠতে শুরু করেছে গ্রামীণ মাটির চুলায়। তা ঘিরে বসে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বলছিলাম নোয়াখালির সূবর্ণচরের চরবাটা গ্রামের কথা। এখানে শীতের সকালগুলো এমনই। আধুনিকতার ছোয়া লাগলেও শীতের সময় গ্রামীণ আবহটা বেশ ভালো টের পাওয়া যায় এখানে। বাড়ির মুরুব্বি থেকে শিশুরা সবাই একসাথ হয়ে ধোয়া উঠা চুলার পাশে বসে অপক্ষায় থাকে গরম চিতই পিঠার জন্য। অবশ্য যে আধুনিকতার কথা বলছিলাম সেই আধুনিকতায় যৌথ পরিবারের এমন দৃশ্যগুলো এখন খুব একটা দেখা যায় না। জীবন, জীবিকার টানে পরিবারগুলো খণ্ড খণ্ড। কখনও দেখা হয় কখনও দেখা হয় না। পাশের বাড়ির আত্মীয়র খোঁজটাও এখন আর নেওয়া হয় না ব্যস্ত জীবনে।  সেই ব্যস্ত জীবনের পাশ কাটিয়ে দারুণ এক উদাহরণ এই গ্রামেই মিলেছে। এই গ্রামেরই হাজী নজির আহম্মদের বংশধররা ধরে রেখেছে দারুণ এক সংস্কৃতি। বিচ্ছিন্নতার এই যুগে এটিকে আপনি দারণ এক পারিবারিক মেলবন্ধন বলতে পারেন। বছরের একটা দিন ঘটা করে আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বংশের সবাই একত্রিত হন একই স্থানে।  দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত কর্ম ব্যস্ত মানুষটাও। প্রিয়জনদের সাথে খোশ গল্প আড্ডায় কাটিয়ে দেন একটা দিন। হয় নানান স্মৃতি রোমন্থন। সেখানে বার বারই ফিরে আসে ফেলা আসা সেসব ঐতিহ্যের কথা। শিশু কিশোররা নানানভাবে জানতে পারে তাদের শিকড়ের কথা। পরিচিত হয় নিজেদের চাচাতো, খালাতো কিংবা ফুফাতো ভাই-বোনদের সাথে। এমন আয়োজনেই গিয়েছিলাম। সচোখে দেখা মিলেছে খুব কাছের আত্মীয়দের এখানে এসে নতুন করে পরিচিত হতে। পুরনো স্মৃতি রোমন্থনে চোখের কোনে পানি জমতে।
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগের ধরন শনাক্তের পর থেকে এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে বিদায়ী বছর। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭০৫। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন। আর ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন।  এ ছাড়া সারদেশে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৫ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকায় ২৯৫ এবং ৪৩০ জন রোগী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১১৭ জন। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন।
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
চিকিৎসক সমাবেশে বক্তরা / শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছি বলেই আজকের এই উন্নত বাংলাদেশ সম্ভব হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনেও আমরা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল।  আমরা অসাম্প্রদায়িক ও শান্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শেখ হাসিনায় আস্থা’ শীর্ষক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আমাদের বাংলাদেশ সবসময় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে থাকবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুধু যুদ্ধের ইতিহাস নয়, তার চেয়েও বিশাল কিছু। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আজও রচিত হয়নি। ১৯৯১ ও ২০০১ সনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী নির্বাচনে সকলকে ভোট কেন্দ্র গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান।  সমাবেশের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। সকলে মিলে ভোট কেন্দ্রে গেলেই ভোট বিরোধী ও দেশ বিরোধীরা ১% এ পরিনত হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি তথা শেখ হাসিনা হবেন ৯৯ শতাংশ।  এসময় তিনি কোভিড ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ থেকে শুরু করে অথ্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মানসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।  সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় চিকিৎসক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামূল হক ভূঁইয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রেজাউল আমিন টিটু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রাহাত হোসেন, প্রামাণ্যচলচ্চিত্র নির্মাতা, সাইফ আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু গবেষক আফিজুর রহমান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. অনুপম সাহা প্রমুখ।
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইংরেজি নতুন বর্ষকে বরণ করার লক্ষ্যে প্রতিবছরই বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করা হয় থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ রাতকে ঘিরে পশ্চিমাদের আয়োজনের কোনো শেষ নেই। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জমকালো উৎসব পালনের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা নাগাদ উৎযাপিত হয় এই রাতটি। থার্টি ফাস্ট নাইট নিয়ে বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব, আলোচক ও সামাজিক সক্রিয় কর্মী শায়খ আহমাদুল্লাহ যুবক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেগঘন ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যে জাতিকে ২শ’ বছর গোলাম বানিয়ে রেখেছে ইংরেজরা। আমরা তাদের কালচারকে টাকা-পয়সা দিয়ে আমদানি করে প্রোমোট করি, সেটাকে আমরা ডেভেলপ করি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আমাদের কী হতে পারে? নতুন বছরের সূচনা যদি আমাদের আনন্দের কারণ হয়, ঠিক একই সময়ে একটি বছরের বিদায়ও হয়ে যাচ্ছে। যুবকদের কাছে আমার প্রশ্ন- তুমি কি বিদায়ী বছরে কেঁদেছো? যদি না কেঁদে থাকো তাহলে তোমার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করো- যে নতুন বছরের জন্য আনন্দ করছো, ঠিক তার আগ মুহূর্তে একটি বছর চলে গেলো তোমার জীবন থেকে; তখন কী তুমি কেঁদেছিলে? তিনি বলেন, তাহলে যার বিদায়ে আমার কান্নার কারণ হয় না, তাহলে আগমন কেনো আমার আনন্দের কারণ হতে পারে? যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই বিজাতীয় অপসংস্কৃতি তোমার না। এটা প্রকৃতি পূজারী পেগানদের কাছ ধার করে খ্রিস্টানরা নিয়েছে। আমাদেরকে আল্লাতায়ালা নিজস্ব সংস্কৃতি দিয়েছেন। আমরা অনেক সমৃদ্ধ; কোনো কিছুর অভাব নাই। আমাদেরকে দুটো উৎসব দেওয়া হয়েছে- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুটি উৎসবকে পৃথিবীর সমস্ত উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি নির্মল, আনন্দদায়ক, সমৃদ্ধ, পবিত্র। অন্য কোনো উৎসবে এটা পাবে না। তিনি বলেন, তোমার সমস্ত উৎসবের মধ্যে ভোগ আছে, উচ্ছৃঙ্খলতা আছে, উন্মাদনা আছে, অশ্লীলতা আছে, বেহায়াপনা আছে, অপব্যায় আছে; কিন্তু ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহাতে তুমি এগুলো দেখবে না। ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহার চেতনা কী? চেতনা হলো- তুমি আনন্দদিত হও, গরিবদের মুখে হাসি ফোঁটাও। ঈদগাহে যাও নামাজ পড়ো। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম বলছে- তুমি আনন্দ করবা ঈদগাহে গিয়ে, ভালো কথা। তার আগে তুমি গরীবের বাসায় গিয়ে হাসির ব্যবস্থা করো। তারপরে তুমি হাসো। তুমি হাসতে চাও, গোস্ত খেতে চাও; তবে তোমার গোস্তের একটা অংশ দিবে গরিবদের। তাদের মুখে হাসি ফোঁটাবে। তারপরে তুমি হাসবে। তিনি বলেন, আল্লাহ যে উৎসব আমাদের দিয়েছে, সেখানে ভোগ আছে, ত্যাগ আছে, সেখানে নৈতিকতা আছে। তুমি যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নামছো; এখানে পশুদের মতো উন্মাদনা আছে, মাতলামি আছে, উচ্ছৃঙ্খলা আছে। এখানে মানবজাতির কোনো কল্যাণ দেখাতে পারবে না। যখন আকাশে ফানুস উড়িয়ে টাকা উড়াচ্ছে; তখন ওই বাড়ির ছাদ থেকে নিচে তাকালে দেখতে পাবে কোনো বনি আদম শুয়ে আছে। তার এই শীত নিবারণের কোনো কাপড় নাই। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে ফানুসের আগুনে বিভিন্ন জায়গায় আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সারাবছরের মধ্যে এইদিনে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করে। প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট আসার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় যেনো ফানুস উড়ানো না হয়। তারপরও সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে এগুলো করা হয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে, বিনোদনের নামে যে পরিমাণ শব্দ সন্ত্রাস হয়; পৃথিবীর কোনো সভ্য সমাজে এমন হয় না। আপনি অবাক হবেন, যেসব যুবকরা নিজেদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক মনে করে, সেই সমস্ত যুবকরা যখন এইসব কাজে লিপ্ত হয়; তখন আমার কাছে অবাক লাগে এইসব শিক্ষা যাচ্ছে কোথায়? তিনি বলেন, এই কারণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যেনো থার্টি ফার্স্ট পার্টির নামে কোনো উচ্ছৃঙ্খলা করতে না পারে। সমাজের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন হতে হবে।  
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
আরও পড়ুন
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
২০২৪ সালে রেকর্ডসংখ্যক টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
থার্টিফার্স্ট নাইটে নিরাপত্তায় বিজিবির ডগ স্কোয়াড