ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়

প্রফেসর ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:৩৪ পিএম
লেখক : প্রফেসর ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য

বাংলাদেশের নির্বাচন মানে এক উৎসব। আর অস্ট্রেলিয়ায় ভোট না দিলে দিতে হয় জরিমানা। এ দেশে নির্বাচনের সময় গ্রামে-গঞ্জে, নগর-জনপদে কত শত জল্পনা-কল্পনা ডানা মেলে ওড়ে! ৭ জানুয়ারি ২০২৪ এ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হাওয়া ও প্রবল ভাবে বইতে শুরু করেছে।

এবারে নির্বাচনে বিএনপি তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবিতে এখনো পর্যন্ত নির্বাচনে না এলে ও ৪৪ টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩২ টি রাজনৈতিক দল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন ৭১ সংসদ সদস্য । তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬৩ জন । সাবেক সংসদ সদস্য সহ ৩০ টি আসনে বিএনপি প্রার্থী। দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট প্রার্থী ২৭৪১ জন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র ২৯৮ জন স্বতন্ত্র ৪৪২ জন বি এন এম তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী ৩১০ জন। সবমিলিয়ে এক জমজমাট নির্বাচনের আভাস পাওয়া গেছে। আর বিএনপি ২৮ অক্টোবরের পর থেকে ৩৭৬ টি বাসে আগুন দিয়েছে। ট্রেনও বাদ যায়নি আগুনের লেলিহান শিখা থেকে।

হায়রে ক্ষমতার মোহ! স্বজন-স্বজাতিকে পেট্রল বোমায় দগ্ধ করে, জ্বালাও-পোড়াও করে নিজ দেশের দ্রুত বিকশিত হওয়া অর্থনীতি ধ্বংস করে ক্ষমতায় গিয়েও কি টিকে থাকা যাবে? একেই কি বলে সভ্যতা?

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন এবং নির্ধারিত সময় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কমিশন। বিএনপি সহ সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে আহ্বান করে বর্তমান কমিশন নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেয়ার ও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি তাদের ভাষায় ‘অবতার’ সদৃশ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের শর্তহীন সংলাপ সহ ইসির আহ্বানে কোন সাড়া দেয়নি।

এ নির্বাচনে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯২ হাজারের কিছু বেশি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ উপলক্ষে ৩০০ সংসদীয় আসনের ভোটে ৪২ হাজারের ও অধিক ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত করছে সিইসি হাবিবুল আওয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। ইইউ ও সর্বমহলের প্রত্যাশা ও দাবি- একটি অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছেন এক মাসের অধিক একই স্টেশনে থাকা সব থানার ওসি ও ইউএনকে নিজ কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি করা হচ্ছে।। অপরদিকে বিএনপি জ্বালাও পোড়াও সহ হরতাল অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে জীবন - জীবিকা স্থবির থাকে না এখন। করোনা ভাইরাসের সর্বনাসহা অভিঘাত ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি সহ বাজার পরিস্থিতি খুবই কঠিন।

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা চৌকষভাবে প্রণোদনা প্যাকেজসহ সেফটি নেটওয়ার্ক/নিরাপত্তাবলয় প্রসারিত করে দারিদ্র্য বিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই সু-কঠিন বৈশ্বিক বাস্তবতার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যথা নিয়মেই এগিয়ে চলেছে। বাস্তবায়িত হচ্ছে মেগা প্রকল্পসমূহ।

পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, উড়াল সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কক্সবাজার ঢাকা রেল যোগাযোগ, কমিউনিটি ক্লিনিক, ন্যায্যমূল্যে চাল- ডাল- তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি, বিভিন্ন রকম ভাতা ও বিনামূল্যে বইসহ শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি বাংলাদেশের জনগণ খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।

তাই বিএনপির আন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রতীয়মান হয়নি; হচ্ছেনা। হবে বলেও মনে হয় না। কারণ বর্তমান বদলে যাওয়া বিশ্বে উন্নয়নের গণতন্ত্র গণমানুষের ধ্যান -জ্ঞান, আরাধ্য। সে পথে হেঁটে বঙ্গবন্ধু দেখানো পথে শোষিতের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত করেছেন। আজ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, সুন্দর রাস্তাঘাট, গৃহহীন মানুষ পাকা ঘরে থাকার সুযোগ পেয়েছে।

ধর্মান্ধতার পরিবর্তে ধর্মপরায়ণতা এবং উদার মানবিক অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মানুষকে উদ্ভাসিত করার প্রয়াস পাচ্ছে বর্তমান সরকার। নেই ধর্মীয় হানাহানি। নারীরা আজ স্বাধীনচেতা; ঘরের সব কাজ করেও পোশাক শিল্পে কাজ করছে। সর্বক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে অবদান রাখছে অর্থনীতিতে - তাই তো এত বৈশ্বিক সমস্যার মধ্যেও এ দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন; নন্দিত হচ্ছেন দেশে-বিদেশে।

এ জাতির দুর্ভাগ্য- এদেশের অল্প কিছু কুলাঙ্গার স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতাকে নিষ্পাপ শিশু সন্তান সহ পৈশাচিকভাবে হত্যা করেছে। পোড়ামাটি থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা দেশটাকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পিছিয়ে দিতে চেয়েছে। এ ডিসেম্বর মাস ১৯৭১ এ মার্কিন সশস্ত্র নৌবহর এসে ভিড়েছিল বাংলাদেশের বন্দরে এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামকে নস্যাৎ করে দিতে । সেদিন ততকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে অকুণ্ঠ সাহায্য সহযোগিতা করেছিল।

আমরা তাদের কাছে চিরঋণী। একাত্তরের সে ভূত এখনো আমেরিকার ঘাড় থেকে নামেনি। এখনো ভিসা নীতি, শ্রম অধিকার নীতি ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপের ভয় দেখিয়ে সরকারকে নতজানু করার হীন প্রয়াস পাচ্ছে পিটার হাস ও তাদের মিত্ররা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দর্শন “আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না” হৃদয়ে ধারণ করা বঙ্গবন্ধুর আত্মজা ২০০৪ সালের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাথা উঁচু করে রাষ্ট্রপরিচালনা করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের অভিধা এনে দিয়েছেন।

২০৪১ সালের মধ্যে এদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত করার প্রাণান্ত প্রয়াস পাচ্ছেন। এ উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করার হীন প্রয়াস পাচ্ছেন পিটার হাসসহ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দীর্ঘস্থায়ী রাষ্ট্ররপ্রধানগণ দেশের সার্বিক উন্নয়ন- প্রগতিকে এগিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সে পথেই এগিয়ে চলেছে। এটা অনুধাবন করেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে পিটার হাসসহ কিছু দেশি- বিদেশি ষড়যন্ত্রী। কিন্তু তাদের এই হীন ষড়যন্ত্র সফল হবে না । কারণ এদেশের মানুষ বুকের রক্তে লিখেছে একটি নাম বাংলাদেশ ।

শ্রমে-ঘামে-মেধায় তিলে তিলে গড়েছে এ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ । তাকে পিছিয়ে যেতে দেবে না ব-দ্বীপ অঞ্চলের সংগ্রামী মানুষ । স্মর্তব্য , এশিয়া-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নে আমেরিকা বাংলাদেশকে পাশে চায়; চায় বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি আর সাগরের গ্যাস উত্তোলনে একচেটিয়া অধিকার৷ তারা চায় না বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ুক৷ বাংলাদেশকে বাগে আনতে আমেরিকা সরকার পরিবর্তনে তাদের হীন চক্রান্ত চরিতার্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এ কথা সত্য উন্নয়নের বিপুল কর্মবজ্ঞে, পুঁজি গড়ে ওঠার সময়ে দুর্নীতিও পাখা বিস্তার করে। ঘুষখোর, সুদখোর, খেলাপী খণগ্রহীতা, লুটেরার দল, মুনাফালোভী সিন্ডিকেট চক্র, বেগম পাড়া, সেকেন্ড হোম গড়ে তোলা শয়তানেরা, এদেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করার হীন ষড়যন্ত্রে বিভোর ।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী মেনিফেস্টো ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। যেভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যাসিনো শয়তানদের শক্ত হাতে শায়েস্তা করেছেন, এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন-এ প্রত্যাশা সকল দেশপ্রেমিক মানুষের ।

জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু চৌদ্দ বছর জেলের অন্ধকারে জীবন কাটিয়েছেন, অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেছেন; বঙ্গমাতা সন্তানসহ বাড়ির আসবাব নিয়ে ঢাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এখনও শ্রম সাধক কৃষক-পোশাকশিল্পী, প্রবাসী বাংলাদেশীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার সংগ্রামে নিমগ্ন । এখনও বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা মনুষ্যত্ব দিয়ে, দেশপ্রেম দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা তথা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে একশ বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা করেন।

আজকের তারুণ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশের কনসেপ্ট মনে প্রাণে গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে । স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ । বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে নেতৃতৃ দিচ্ছেন এদেশের প্রধানমন্ত্রী, পাচ্ছেন অসংখ্য আর্তজাতিক স্বীকৃতি,পুরস্কার ।

অতি সম্প্রতি দুবাইয়ের জলবায়ু সম্মিলনে লাভ করেছেন “এশিয়া ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার এওয়ার্ড” | এ দুর্বার গতিতে ছুটে চলার সময় হরতাল-অবরোধের মত ভোঁতা অস্ত্র সরকার পরিবর্তনে কার্যকর হওয়ার নয়, যদিও প্রতিদিন ছয় হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয় হরতাল-অবরোধের কারনে। কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ এ আত্মঘাতি কর্মসূচি সমর্থন করতে পারে না।

বেদনার কথা, পুঁজি গড়ে ওঠার সময় ঘটে লুটতরাজ । আশার কথা ,পুঁজি গড়ে উঠলে নিজের স্বার্থেই পুঁজি নিজেকে পাহারা দেয় । আসে সুশাসন,সুন্দর-সুবর্ণ-সুদিন। ক্রমান্বয়ে ধনী- দরিদ্রের বৈষম্যও হ্রাস পায়।

মানবিক হৃদয়ের, বঙ্গবন্ধুর শোণিতধারার গর্বিত, উন্নত-মস্তক উত্তরাধিকার জনমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনার কাছেই এ সমৃদ্ধ-মানবিক-অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রত্যাশা-এ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সিংহভাগ ভোটারের।
মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি যেসব ভিনদেশি বেনিয়ার,তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে মানুষ।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস জয় হবে মানবতার, কারণ “যথা ধর্ম তথা জয় ৷” আর যথা হত্যা, বোমাবাজি, অগ্নিসন্ত্রাস, অর্থনীতি ধ্বংসের নগ্ন চিন্তা, হিংসা, ধর্মান্ধতা তথা পরাভব , গ্লানি, পরাজয় । নষ্টদের দখলে থাকে না সমাজ-পৃথিবী । জেগে ওঠে শ্রমঘন প্রান্তিক জনতা । এই বিজয়ের মাসে দেশ প্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত সব মানুষের প্রতীতিঃ

জয় হবে, জয় হবে,হবে জয়
মানবের তরে মাটির পৃথিবী-দানবের তরে নয়।

লেখক : চেয়ারম্যান, ইংরেজি বিভাগ ও সিনেট সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
২০২৩ শেষ হয়ে ২০২৪ সালের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিগত ২০২৩ সালে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ঘটে গেছে নানা ঘটনা। এর মধ্যে কিছু সুখস্মৃতি, কিছু বেদনাদায়ক। সবকিছু মিলিয়ে তুলে ধরা হলো ২০২৩ এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।  জানুয়ারি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে মনোনীত হয়। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে বশেমুরবিপ্রবি পায় প্রথম কোষাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মোবারক হোসেন এই পদে নিয়োগ পান। জানুয়ারি মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো বিভাগ মেয়েদের জন্য কমন রুম চালু করে। বাংলা বিভাগের এই উদ্যোগ ভূয়সী প্রশংসা পায়। ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সংবাদের পাশাপাশি নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশিত হয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত হয় শৌচাগারে। ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ১৫তম সহকারী জজ নিয়োগে উত্তীর্ণ হন আইন বিভাগের আনিচ মুন্সী।  ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় খবর প্রকাশিত হয়। মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগের নামে আকাশ শিকদার ও তার সিন্ডিকেট এই বাণিজ্য করেন। ১৩ই ফেব্রুয়ারী বশেমুরবিপ্রবি ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। দীর্ঘ প্রতিরক্ষার পরে চালু হয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া।  মার্চ এত এত খবরের মধ্যে মার্চের শুরুতে ঘটে বেদনাদায়ক ঘটনা, ভালোবেসে বিয়ের এক বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নোভা ইয়াসমিন। ৪ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আয়োজিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন "বাঁধনের" আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী বইমেলা। ৮ জানুয়ারি বিশ্ব নারী দিবসে ঋতুস্রাবকালীন নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলিন্টিয়ার ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে স্থাপিত হয় প্যাড ব্যাংক। প্রকাশিত হয় পরিবহন খাতে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা ভাগাভাগির খবর। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ৩ কোটি টাকার অডিট আপত্তি দেখানো হয়। দেশব্যাপী ১২টি আইসিটি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বশেমুরবিপ্রবিতে উদ্বোধন করা হয় নলেজ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।  এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমিটিহীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বশেমুরবিপ্রবি শাখা, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে নোটিশ দিয়ে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সিভি আহ্বান করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। ছাত্রী হলে মেয়েদের পোষাক পরিহিত চোর আটকের ঘটনা ঘটে মাসের শেষের দিকে। মে মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয় ৪ শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটির দীর্ঘসূত্রিতায় এই পদক থেকে বঞ্চিত হয় কৃষি অনুষদ। মার্ক টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি ড. মো. আবু সালেহ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তেল ক্রয় না করেও ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠে বাস চালক আতিকুর রহমান ঝন্টুর বিরুদ্ধে, প্রেসক্লাব থেকে অডিও রেকর্ড প্রকাশের পরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।  জুন নিজ ক্যাম্পাসে বিয়ের গায়ে হলুদ হয় এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মিমের। জুলাই তীব্র শিক্ষক সংকটে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। শিক্ষক-কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ৩ শিক্ষার্থী। খবর প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ইনস্টিটিউট নিয়ে, বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকতে থাকে অবহেলায়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) নজরুল ইসলাম হীরা।  আগস্ট শোকের মাসের শুরুতেই ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ ঘটনা, লেকের পানিতে ডুবে প্রাণহানি ঘটে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হিয়া ও ঋতুর। শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরণ অনশন করে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা, একাত্মতা ঘোষণা করে বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাব। প্রথমবারের মত ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন হয়। বিজিই বিভাগ থেকে বৃক্ষরোপণের পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের ঘোষণা দেওয়া হয়।  সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরির জন্য ভেঙে ফেলা প্রধানমন্ত্রীর নামফলক, শেখ হাসিনা চত্বর নামে পরিচিত ফলকটি ভাঙার ঘটনায় তদন্তে গড়িমসি করে প্রশাসন। মার্ক টেম্পারিং ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপরতা দেখা যায়, কোর্স শিক্ষক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হালিমা খাতুন ও তৎকালীন ইইই (সি) বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ শাহজাহানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। ল্যাব, শ্রেণি সংকটসহ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার দাবিতে ৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  অক্টোবর মাসের শুরুতে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। ফার্মেসী বিভাগের আন্দোলনে বন্ধ হয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় জায়গা করে নেয় বশেমুরবিপ্রবির দুই শিক্ষক। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে ১১ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে প্রথমবারের মত উপ-উপাচার্য নিয়োগ পায় বশেমুরবিপ্রবি, হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলমকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।  নভেম্বর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী রিয়াজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শীত বরণ উৎসব "উষ্ণতার খোঁজে নবনীতক" অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ শিক্ষার্থী হয় সাময়িক বহিষ্কার।  ডিসেম্বর সাহসী ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পুরস্কার পান বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি কে. এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফ, ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (ইউজেএফ) কর্তৃক এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ গুরুতর আহত হয়। হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল বাতিলের দাবিতে প্রাণিসম্পদ সচিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ভেটেরিনারি বিভাগের শিক্ষার্থীরা, দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার এস এম এস্কান্দার আলী।
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
শীতের ভোর। কুয়াশা কেটে সূর্যের মিষ্টি রোদের আভাটা সবে শরীরে লাগতে শুরু করেছে। ধোঁয়া উঠতে শুরু করেছে গ্রামীণ মাটির চুলায়। তা ঘিরে বসে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বলছিলাম নোয়াখালির সূবর্ণচরের চরবাটা গ্রামের কথা। এখানে শীতের সকালগুলো এমনই। আধুনিকতার ছোয়া লাগলেও শীতের সময় গ্রামীণ আবহটা বেশ ভালো টের পাওয়া যায় এখানে। বাড়ির মুরুব্বি থেকে শিশুরা সবাই একসাথ হয়ে ধোয়া উঠা চুলার পাশে বসে অপক্ষায় থাকে গরম চিতই পিঠার জন্য। অবশ্য যে আধুনিকতার কথা বলছিলাম সেই আধুনিকতায় যৌথ পরিবারের এমন দৃশ্যগুলো এখন খুব একটা দেখা যায় না। জীবন, জীবিকার টানে পরিবারগুলো খণ্ড খণ্ড। কখনও দেখা হয় কখনও দেখা হয় না। পাশের বাড়ির আত্মীয়র খোঁজটাও এখন আর নেওয়া হয় না ব্যস্ত জীবনে।  সেই ব্যস্ত জীবনের পাশ কাটিয়ে দারুণ এক উদাহরণ এই গ্রামেই মিলেছে। এই গ্রামেরই হাজী নজির আহম্মদের বংশধররা ধরে রেখেছে দারুণ এক সংস্কৃতি। বিচ্ছিন্নতার এই যুগে এটিকে আপনি দারণ এক পারিবারিক মেলবন্ধন বলতে পারেন। বছরের একটা দিন ঘটা করে আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বংশের সবাই একত্রিত হন একই স্থানে।  দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত কর্ম ব্যস্ত মানুষটাও। প্রিয়জনদের সাথে খোশ গল্প আড্ডায় কাটিয়ে দেন একটা দিন। হয় নানান স্মৃতি রোমন্থন। সেখানে বার বারই ফিরে আসে ফেলা আসা সেসব ঐতিহ্যের কথা। শিশু কিশোররা নানানভাবে জানতে পারে তাদের শিকড়ের কথা। পরিচিত হয় নিজেদের চাচাতো, খালাতো কিংবা ফুফাতো ভাই-বোনদের সাথে। এমন আয়োজনেই গিয়েছিলাম। সচোখে দেখা মিলেছে খুব কাছের আত্মীয়দের এখানে এসে নতুন করে পরিচিত হতে। পুরনো স্মৃতি রোমন্থনে চোখের কোনে পানি জমতে।
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগের ধরন শনাক্তের পর থেকে এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে বিদায়ী বছর। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭০৫। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন। আর ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন।  এ ছাড়া সারদেশে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৫ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকায় ২৯৫ এবং ৪৩০ জন রোগী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১১৭ জন। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন।
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
চিকিৎসক সমাবেশে বক্তরা / শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছি বলেই আজকের এই উন্নত বাংলাদেশ সম্ভব হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনেও আমরা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল।  আমরা অসাম্প্রদায়িক ও শান্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শেখ হাসিনায় আস্থা’ শীর্ষক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আমাদের বাংলাদেশ সবসময় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে থাকবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুধু যুদ্ধের ইতিহাস নয়, তার চেয়েও বিশাল কিছু। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আজও রচিত হয়নি। ১৯৯১ ও ২০০১ সনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী নির্বাচনে সকলকে ভোট কেন্দ্র গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান।  সমাবেশের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। সকলে মিলে ভোট কেন্দ্রে গেলেই ভোট বিরোধী ও দেশ বিরোধীরা ১% এ পরিনত হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি তথা শেখ হাসিনা হবেন ৯৯ শতাংশ।  এসময় তিনি কোভিড ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ থেকে শুরু করে অথ্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মানসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।  সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় চিকিৎসক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামূল হক ভূঁইয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রেজাউল আমিন টিটু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রাহাত হোসেন, প্রামাণ্যচলচ্চিত্র নির্মাতা, সাইফ আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু গবেষক আফিজুর রহমান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. অনুপম সাহা প্রমুখ।
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইংরেজি নতুন বর্ষকে বরণ করার লক্ষ্যে প্রতিবছরই বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করা হয় থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ রাতকে ঘিরে পশ্চিমাদের আয়োজনের কোনো শেষ নেই। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জমকালো উৎসব পালনের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা নাগাদ উৎযাপিত হয় এই রাতটি। থার্টি ফাস্ট নাইট নিয়ে বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব, আলোচক ও সামাজিক সক্রিয় কর্মী শায়খ আহমাদুল্লাহ যুবক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেগঘন ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যে জাতিকে ২শ’ বছর গোলাম বানিয়ে রেখেছে ইংরেজরা। আমরা তাদের কালচারকে টাকা-পয়সা দিয়ে আমদানি করে প্রোমোট করি, সেটাকে আমরা ডেভেলপ করি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আমাদের কী হতে পারে? নতুন বছরের সূচনা যদি আমাদের আনন্দের কারণ হয়, ঠিক একই সময়ে একটি বছরের বিদায়ও হয়ে যাচ্ছে। যুবকদের কাছে আমার প্রশ্ন- তুমি কি বিদায়ী বছরে কেঁদেছো? যদি না কেঁদে থাকো তাহলে তোমার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করো- যে নতুন বছরের জন্য আনন্দ করছো, ঠিক তার আগ মুহূর্তে একটি বছর চলে গেলো তোমার জীবন থেকে; তখন কী তুমি কেঁদেছিলে? তিনি বলেন, তাহলে যার বিদায়ে আমার কান্নার কারণ হয় না, তাহলে আগমন কেনো আমার আনন্দের কারণ হতে পারে? যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই বিজাতীয় অপসংস্কৃতি তোমার না। এটা প্রকৃতি পূজারী পেগানদের কাছ ধার করে খ্রিস্টানরা নিয়েছে। আমাদেরকে আল্লাতায়ালা নিজস্ব সংস্কৃতি দিয়েছেন। আমরা অনেক সমৃদ্ধ; কোনো কিছুর অভাব নাই। আমাদেরকে দুটো উৎসব দেওয়া হয়েছে- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুটি উৎসবকে পৃথিবীর সমস্ত উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি নির্মল, আনন্দদায়ক, সমৃদ্ধ, পবিত্র। অন্য কোনো উৎসবে এটা পাবে না। তিনি বলেন, তোমার সমস্ত উৎসবের মধ্যে ভোগ আছে, উচ্ছৃঙ্খলতা আছে, উন্মাদনা আছে, অশ্লীলতা আছে, বেহায়াপনা আছে, অপব্যায় আছে; কিন্তু ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহাতে তুমি এগুলো দেখবে না। ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহার চেতনা কী? চেতনা হলো- তুমি আনন্দদিত হও, গরিবদের মুখে হাসি ফোঁটাও। ঈদগাহে যাও নামাজ পড়ো। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম বলছে- তুমি আনন্দ করবা ঈদগাহে গিয়ে, ভালো কথা। তার আগে তুমি গরীবের বাসায় গিয়ে হাসির ব্যবস্থা করো। তারপরে তুমি হাসো। তুমি হাসতে চাও, গোস্ত খেতে চাও; তবে তোমার গোস্তের একটা অংশ দিবে গরিবদের। তাদের মুখে হাসি ফোঁটাবে। তারপরে তুমি হাসবে। তিনি বলেন, আল্লাহ যে উৎসব আমাদের দিয়েছে, সেখানে ভোগ আছে, ত্যাগ আছে, সেখানে নৈতিকতা আছে। তুমি যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নামছো; এখানে পশুদের মতো উন্মাদনা আছে, মাতলামি আছে, উচ্ছৃঙ্খলা আছে। এখানে মানবজাতির কোনো কল্যাণ দেখাতে পারবে না। যখন আকাশে ফানুস উড়িয়ে টাকা উড়াচ্ছে; তখন ওই বাড়ির ছাদ থেকে নিচে তাকালে দেখতে পাবে কোনো বনি আদম শুয়ে আছে। তার এই শীত নিবারণের কোনো কাপড় নাই। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে ফানুসের আগুনে বিভিন্ন জায়গায় আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সারাবছরের মধ্যে এইদিনে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করে। প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট আসার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় যেনো ফানুস উড়ানো না হয়। তারপরও সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে এগুলো করা হয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে, বিনোদনের নামে যে পরিমাণ শব্দ সন্ত্রাস হয়; পৃথিবীর কোনো সভ্য সমাজে এমন হয় না। আপনি অবাক হবেন, যেসব যুবকরা নিজেদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক মনে করে, সেই সমস্ত যুবকরা যখন এইসব কাজে লিপ্ত হয়; তখন আমার কাছে অবাক লাগে এইসব শিক্ষা যাচ্ছে কোথায়? তিনি বলেন, এই কারণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যেনো থার্টি ফার্স্ট পার্টির নামে কোনো উচ্ছৃঙ্খলা করতে না পারে। সমাজের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন হতে হবে।  
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
আরও পড়ুন
দুর্নীতি ও আন্দোলনের রবে কাটল ২০২৩
ম্যাজিক ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানালেন পিসি সরকার জুনিয়র
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সম্মেলনে যাচ্ছে বাংলাদেশ
দুদকে ষড়যন্ত্রকারীরা ছিল, এখনও আছে : রাষ্ট্রপতি