ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

খেলার জায়গা নেই, রেস্টুরেন্টমুখী কিশোররা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:১৭ পিএম
ছবি-সংগৃহীত

কিশোর বা যুবক বয়সে বসে থাকা কি সেটা বুঝতাম না। আমাদের মতো ব্যস্ত মনে হয় তখনকার কোনও ভিআইপি লোকও ছিল না। সারাদিন থাকতাম দৌড়ের উপর। স্কুলে যখন পড়তাম সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতাম। স্কুলে যেয়ে বেঞ্চে ব্যাগটা রেখেই প্রথম ধাপের খেলাটা শেষ করে ফেলতাম। পরে টিফিন টাইমে আবার খেলা শুরু। স্কুল শেষ করে কোনমতে খেয়ে আবার মাঠে দৌড়। মাঝে মাঝে মাঠে যেতে না পারলে রাস্তায়ও খেলতাম। আর শীত আসলে আবার রাতেও ব্যস্ত থাকতাম ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে।

কথাগুলো বলছিলেন ইয়াসিন নামে (৪৮) একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনাদের শৈশব কেমন কেটেছিল। এই রকম প্রশ্ন আরও বেশ কয়েকজনকে করা হলে তাদের উত্তরও প্রায় একই আসে।

কিন্তু রাজধানীতে এখন সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বলতে গেলে অবাকই হওয়ার মতো। হঠাৎ করেই ঢাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খাবারের দোকানগুলো বা রেস্তোরাঁয়। একসময় ঢাকায় বিদেশি খাবার মানেই ছিল চায়নিজ ও থাই ফুড। কিন্তু তখন যেখানে সেখানেও চাইনিজ খাবার পাওয়া যেত না।

বর্তমানে ধানমণ্ডি, বেইলিরোড বা খিলগাঁওয়ের কথাই ধরা যাক। এখানে এখন বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি খাবারের রেস্তোরাঁ বেশ জমে উঠেছে। উৎসব উৎসব একটা ব্যাপার থাকে সবসময়। রাকিব (২২) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ভার্সিটির ক্লাস শেষে প্রায় প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেয়। সেখানে চিকেন, পিজ্জা, বার্গারসহ নানা ধরণের জাঙ্ক ফুড খায়। রাকিবের সঙ্গে আসে মোহনা, সুপ্রিয়া, অর্ণব, মৃদুল ও পিয়াস। প্রতিদিন একজন অন্যদের ট্রিট দেয়। কখনও ভাগাভাগি করে ট্রিট দেয়। তারপর গল্প-আড্ডা শেষ করে বাসায় ফিরে। শুধু রাকিব, পিয়াস, মোহনা, সুপ্রিয়া নয় এখন শহরের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের কর্মসূচী এমনই।

অনেক রেস্তোরাঁয় তরুণদের আকর্ষণ করতে খাবারের পাশাপাশি চালু করেছে আকর্ষণীয় মিউজিক শোনার ব্যবস্থা। কোথাও কোথাও আছে ধূমপানের জন্য আলাদা জোনও।

যেসময় কিশোর বা তরুণদের খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা সেসময় তারা সময় কাটাচ্ছে এইসব রেস্তোরাঁয়। বিনোদন হিসেবে এটাকে বেছে নিয়েছে অনেকে। যেহেতু তারা রেস্তোরাঁয় সময় কাটাচ্ছে, তাদের কিছু না কিছু খেতেই হচ্ছে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ। মুখরোচক ফাস্টফুড ঠিক কতটুকু ক্ষতিকর সেটা তাদের অনেকেরই অজানা।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. বেলাল হোসাইন বলেন, জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড গ্রহণ করার পর শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি সঞ্চয় হয়। যেহেতু তারা খেলাধুলা বা শারীরিক ব্যায়াম ও কসরত করছে না ফলে স্থূলতা বেড়ে যাচ্ছে বা মোটা হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ডায়াবেটিক, হাইপারটেনশন ও কিডনি সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়, রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল হয়। ইদানীং ছোট-বড় সবার কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

এটা তো গেল একদিক। তবে কেন রেস্তোরাঁয় এইসব কিশোর-কিশোরী বা তরুণরা সময় কাটাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে খেতে আসার কারণ খুঁজতে গিয়ে কথা হয়, ধানমণ্ডির কেএফসিতে আসা সুলতানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আসলে মাঠে যেতে মন চায়, কিন্তু মাঠ কোথায় খেলবো কোথায়? খোলা জায়গাও নেই।

ধানমণ্ডির ১৫ নম্বরে কেবি স্কয়ারের একটি রেস্টুরেন্টে রিফাত(১৬) নামের এক কিশোরকে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের জন্য বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা আছে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মজার সময় পার করা যায়। যে সুবিধা অন্য জায়গায় পাওয়া যায় না। আর অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই।’

রাজধানীর স্বনামধন্য একটি রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে খেতে আসা নাসিমা বেগম (৩৮) বলেন, বাচ্চারা বাহিরে খোলা কোনও পরিবেশ পায় না। না পেতে পেতে এখন যেতেও চায় না। আর এখন খোলা মাঠ বা পার্কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর অবস্থা অতি করুন। এসবের কোনওটি চলাচলের অনুপযোগী, কোনওটিতে প্রবেশের অধিকার নেই, কোনওটিতে সংস্কারের কাজ চলছে, আবার পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে কেউবা ইচ্ছে করেই ওইসব জায়গায় প্রবেশ করেন না।

এদিকে কিশোর বা তরুণদের রেস্টুরেন্টমুখী হওয়ার বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মেখলা সরকার বলেন, ‘রেস্টুরেন্টে জাঙ্কফুড বা ফাস্টফুড খেয়ে অনেক রকমের রোগ হবার সম্ভাবনা তো বেড়ে যাচ্ছেই, পাশাপাশি বাচ্চাদের স্থূলতা বেড়ে যাচ্ছে, মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিনোদন শুধুমাত্র রেস্টুরেন্ট কেন্দ্রিক হচ্ছে। ফলে এখানে না আসতে পারলে মন খারাপ হচ্ছে। মানসিকভাবে একটা অশান্তি তৈরি হচ্ছে। যা অদূর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের দৈনন্দিন গতিশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য অবশ্যই স্বল্প পরিমাণে বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও সেখানে যেতে হবে|’

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, কাগজে কলমে দুই সিটিতে ১৬টি খেলার মাঠ ও ৪১টি পার্ক উল্লেখ আছে। কিন্তু অভিযোগ আছে, অনেকগুলো মাঠ ও পার্কের অস্তিত্ব বাস্তবে নেই। কয়টি আছে তাও আবার অবৈধ দখলে। অনেকগুলো মাঠ আছে যেগুলোতে সাধারণ মানুষ খুব কম ঢুকতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ন প্রকৌশলী তারিক বিন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২টি পার্ক এবং ৪টি খেলার মাঠ রয়েছে। যেগুলো প্রত্যেকটি উন্নয়নের কাজ চলছে। কোনও গতানুগতিক ধারায় না নতুন প্রজন্মের কাছে যেন তাদের পছন্দসই জায়গা হিসাবে পরিচিত করা যায় সেজন্যই আমাদের এ উদ্যোগ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও নগরায়ণ-সুশাসন কমিটির সদস্যসচিব স্থপতি ইকবাল হাবিব আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য একটি মাঠ থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের শহরে প্রতি স্কয়ার কিলোমিটারে মানুষের সংখ্যা ৪৭ হাজার। সেখানে প্রতি স্কয়ার কিলোমিটারে ৪টি মাঠ প্রয়োজন। এ তথ্য অনুসারে রাজধানীতে মাঠ করার মতো সক্ষমতা আমাদের নেই। তবে যেসব মাঠ রয়েছে তা সাংবিধানিকভাবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া বুঝিয়ে দেয়া সরকারের উচিত।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ৫০টি খেলার মাঠের পরিকল্পনা নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছে। দক্ষিণ জল সবুজের ঢাকার অধীনে ৩১টি ও আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্টের আওতায় ২৪টি। বর্তমানে যেসব প্রজেক্ট তৈরি করা হচ্ছে সব পার্কে খেলার মাঠ, বয়স্ক ও নারীদের জন্য আলাদা জায়গা রাখা হচ্ছে।

ঢাকার বাড়িগুলো রিজেনারেশন করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকায় বেশির ভাগ বাড়ি তিন থেকে চার তলা। তবে বাড়িগুলো রিজেনারেশন করে উঁচু বাড়ি করা হলে আবাসনের বাহিরে দেড়গুণ জায়গায় উঠান, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বয়স্ক, নারী ও শিশুদের ঘোরাফেরার জন্য স্থান বের করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ সিঙ্গাপুর গেল ২৫ বছর ধরে সরকারি প্রণোদনায় পাবলিক ও প্রাইভেট বিনিয়োগের মাধ্যমে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এভাবেই তাদের শহর গড়ে তুলেছে। যা আমাদের দেশেও পরিকল্পিতভাবে করা সম্ভব।

জিএ/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পকেটে আইফোন বিস্ফোরণ
পকেটে আইফোন এক্সএস ম্যাক্স বিস্ফোরণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি। এসময় ওই ফোনে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ভারতের প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম গেজেটস নাউ জানিয়েছে, জ হিলার্ড নামের এক ব্যক্তি ২০ দিন আগে আইফোন এক্সএস ম্যাক্স কিনেন। কিন্তু এটা হঠাৎ তার পকেটে বিস্ফোরিত হয় এবং আগুন ধরে যায়। হিলার্ড জানান, ডিসেম্বরের ১২ তারিখ এই ঘটনা ঘটে। ওইদিন তিনি দুপুরের খাবার খেতে বাইরে যান। হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন, তার প্যান্টের পেছন পকেট থেকে বাজে গন্ধ আসছে। এসময় তিনি তাপ অনুভব করেন এবং এরপরই ধোঁয়া দেখতে পান। যে কারণে বুঝতে দেরি হয়নি যে তার আইফোনে আগুন ধরে গেছে। এ সম্পর্কে হিলার্ড বলেন, আমি তাপ অনুভব করা এবং ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করি, যেহেতু ওই জায়গায় একজন মেয়ে ছিল। এরপর আমি বোর্ড রুমে গিয়ে দ্রুত প্যান্ট খুলে ফেলি। আমার আর্তনাদ শুনে কয়েকজন এসে আগুন নেভায়। এই ঘটনার পর হিলার্ড অ্যাপল কেয়ারে যোগাযোগ করেছেন। হিলার্ড দাবি করেন, অ্যাপলের সুরক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এরপর অ্যাপলের ওই কর্মকর্তা হিলার্ডকে বিস্ফোরিত ফোনের ছবি, ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক এবং কোনও আহতের ছবি থাকলে সেগুলো পাঠাতে বলেন। এসব প্রমাণ পাঠানোর পর কয়েকদিন পর নতুন আইফোন পান হিলার্ড। ডি/ এসএস
পকেটে আইফোন বিস্ফোরণ
আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়
বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সেখানে আজ সোমবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন পর্যন্ত এটাই চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ বইছে, গত শুক্রবার থেকে শৈত্যপ্রবাহ কোথাও কোথাও তীব্র আকার ধারণ করে। সারাদেশের মতো ঢাকাতেও জেঁকে বসেছে শীত। শীত শুরু হওয়ার পর থেকে তীব্রতা খুব একটা না থাকলেও এখন বেশ শীত পড়ছে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, ‘এবছর তাপমাত্রা ৫ দশমিক ১ ডিগ্রির নিতে নামেনি। এটাই এখন পর্যন্ত এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আপাতত তাপমাত্রা এর নিচে নামার কোনও সম্ভাবনা দেখছি না। আগামী ৩-৪ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তারপর শৈত্যপ্রবাহ ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। আজ সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, একদিন আগে তা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে হলে মাঝারি ও তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির চেয়ে বেশি থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে তাকে বলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পঞ্চগড় জেলার উপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, নওগাঁ, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং বরিশাল অঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও ময়মনসিংহ বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা কিছু কিছু জায়গায় অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পি
আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়
কাল নতুন বই পাবে সোয়া ৪ কোটি শিক্ষার্থী
আগামীকাল মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে নতুন বছর, নতুন শিক্ষাবর্ষ। প্রতিবারের মতো এবারও বছরের শুরুর দিনেই সারা দেশে উৎসব করে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তর বই দেয়া হবে। এবার প্রায় সোয়া ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের নতুন বই তুলে দেয়া হবে।  জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে প্রায় সব বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।  ২০১৯ সালের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি বই দেয়া হচ্ছে।  এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) রতন সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বই উৎসবের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। বছরের শুরুর দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের বই তুলে দেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের কেন্দ্রীয় বই বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠান হবে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক স্তরের বই উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। কাল সকাল ১০টায় এই উৎসবের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে বিনা মূল্যের বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসআর
কাল নতুন বই পাবে সোয়া ৪ কোটি শিক্ষার্থী
২০ ঘণ্টা পর চালু মোবাইল ফোন ইন্টারনেট
ভোটগ্রহণ শেষে টানা ২০ ঘণ্টা পর চালু হলো মোবাইল ফোন ইন্টারনেট। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ইন্টারনেট চালু করা হয়। এর আগে শনিবার রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ মোবাইল ফোন ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় মোবাইল অপারেটরগুলো। এছাড়া গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেটে ফোর-জি ও থ্রি-জি সেবা বন্ধ রাখা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় খোলার পর শনিবার দুপুর পর্যন্ত তা চলছিল। এরপর শনিবার বিকেল ৩টা থেকে দ্বিতীয় দফায় থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। তখন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে, গুজব প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনায় মোবাইল ফোন অপারেটদের থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। ডি/জেএইচ
২০ ঘণ্টা পর চালু মোবাইল ফোন ইন্টারনেট
ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে চীনের নতুন প্রযুক্তি
শিক্ষার্থীরা প্রায়ই স্কুল ফাঁকি দেয়। বাসা থেকে স্কুলের কথা বলে বের হলেও মাঝেমধ্যেই স্কুল পালিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় তারা। আর এই সমস্যা সমাধানে নতুন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে চীনের স্কুলগুলো। তারা চিপযুক্ত ‘স্মার্ট ইউনিফর্ম’ বা স্মার্ট পোশাক চালু করেছে। এই পোশাক পরা শিক্ষার্থী কোথায় আছে তা জানতে পারবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ফলে স্কুলড্রেস পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে অন্য কোথাও গেলে তা ধরে ফেলতে পারবে তারা। চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদপত্র দ্য গ্লোবাল টাইমসের বরাত দিয়ে এসব কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্ত বিষয়ক গণমাধ্যম দ্য ভার্জ। গণমাধ্যমটি জানায়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে চীনের স্কুলগুলো। চিপ ব্যবহার করা হলেও এই পোশাক ধোয়া যায়। এর কার্যক্রম ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকে এবং এটা ৫০০ বার ধোয়া যাবে। এই পোশাকের আরও কিছু সুবিধা আছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো- কোনও শিক্ষার্থী ক্লাসে ঘুমিয়ে গেলে তা স্মার্ট পোশাকের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে। বর্তমানে চীনের গুইজো প্রদেশের ১০টি স্কুলে স্মার্ট ইউনিফর্ম ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পোশাক ব্যবহারকারী স্কুলের সংখ্যা বাড়তে পারে। ডি/কে
ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে চীনের নতুন প্রযুক্তি
আরও পড়ুন
ভোটের দিন যেসব যানবাহন চলাচল করতে পারবে
কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে চঞ্চল-তিশা
ডায়াবেটিসের লক্ষণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১০৮১ জন নিয়োগ