ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও চাকরি না পেয়ে হলেন সফল ফ্রিল্যান্সার

জাহিদ হাসান

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৯ পিএম
রেজওয়ান করিম, ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় পড়েছিলেন রেজওয়ান করিম। বাবা ও দাদার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতে থাকেন বিমানে করে উড়ে বেড়াবেন বিশ্বের এ মাথা থেকে ও মাথায়। ইচ্ছা পূরণের স্বপ্ন নিয়ে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশুনা শেষ করেন। চেষ্টা করেন চাকরির জন্য। দেশকে ভালোবেসে বিদেশেও পাড়ি জমাননি। দেশের মধ্যেই তিনি তার পেশার চাকরি খুঁজেছেন। কিন্তু ভাগ্য তার সুপ্রসন্ন ছিল না। শত চেষ্টা করেও নিজ স্বপ্নের পেশায় চাকরি পাননি রেজওয়ান। দেশের মধ্যে চাকরি খুঁজতে খুঁজতে যখন ক্লান্ত তখন আবারও নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে লাগলেন তিনি। দেশে থেকেই কিভাবে আয় করা যায়, সেই পথ খুঁজেও বের করলেন। শুরু করলেন ফ্রিল্যান্সিং। শত বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি আজ সফল একজন ফ্রিল্যান্সার। কীভাবে তিনি এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন সে কথাই শুনিয়েছে আরটিভি নিউজের কাছে।

দীর্ঘ এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন তার জীবনের নানান কথা। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন আরটিভি নিউজের সহ-সম্পাদক জাহিদ হাসান।

আরটিভি: আপনার কাছে শুরুটা জানতে চাচ্ছি। কীভাবে আপনি অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়তে আগ্রহী হয়েছিলেন?

রেজওয়ান করিম: অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য আমি আমার দাদার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরি করতেন। আমার দাদা এখন বেঁচে নেই। এছাড়া আমার বাবাও বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরি করছেন। এই দুজনের কাছ থেকেই অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার বিষয়ে উৎসাহ পাই। এজন্য ২০১১ সালে উত্তরার অ্যারোনটিক্যাল ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশ (এআইবি) তে ভর্তি হই।

আরটিভি: বাংলাদেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে কতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে?

রেজওয়ান করিম: অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। তবে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টার (বিএটিসি)। এই প্রতিষ্ঠানটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টার। ১৯৮০ এবং ৯০ দশকের দিকে এই প্রতিষ্ঠান থেকে যারা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ত তারা সরাসরি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরির সুযোগ পেত। আমার বাবা এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এখান থেকে পড়াশুনা শেষ করে তিনি সরাসরি চাকরিতে যোগদান করেন। ২০০৫ সালের পর থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য বাংলাদেশে তিনটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে। যারা সিভিল এভিয়েশনের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টার (বিএটিসি), অ্যারোনটিক্যাল ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশ (এআইবি) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)। এমআইএসটি সিভিল এভিয়েশনের অনুমোদন পেয়েছে কিনা তা আমি নিশ্চিত না। তবে আমি বিভিন্ন জনের কাছে শুনেছি সিভিল এভিয়েশনের অনুমোদন পাওয়ার কথা। এছাড়া বাকী আরও যে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের কোনো অনুমোদন নেই। সিভিল এভিয়েশনের অনুমোদন না থাকলে শিক্ষার্থীদের চাকরি পেতে অনেক সমস্যা হয়। এমনকি চাকরি নাও হতে পারে।

আরটিভি: অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম একটি আকর্ষণীয় পেশা, কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার চাকরি না পাওয়ার কারণ কী?

রেজওয়ান করিম: পৃথিবীর মধ্যে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অন্যতম আকর্ষণীয় পেশা হলেও বাংলাদেশে এ পেশার মানুষের সুযোগ কম। তবে দেশের বাহিরে এ পেশার অনেক চাহিদা। বাংলাদেশে সরকারিভাবে মাত্র একটি এয়ারলাইন্স রয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকী দুটি হলো বেসরকারি, ইউ-এস বাংলা এবং নভোএয়ার। তবে রিজেন্ট এয়ারলাইন্স থাকলেও তার কার্যক্রম এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া অনেক আগে ছিল ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রাইভেট এয়ারলাইন্স। এই প্রতিষ্ঠানও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের বাইরে এ পেশার প্রচুর চাহিদা। কিন্তু আমি চেয়েছি দেশের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হতে। এজন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কখনও চেষ্টা করি নাই।

এছাড়া চাকরি না পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ অভ্যন্তরীণ সীমাবন্ধতা। আমাদের দেশে যে দুটি বেসরকারি প্যাসেঞ্জার এয়ারলাইন্স বর্তমানে চালু আছে (ইউ-এস বাংলা এবং নভোএয়ার) সেখানে যারা মেইনটেন্যান্স এ চাকুরিরত আছেন তাদের সিংহবাঘ এসেছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর। যেহেতু এইসব এয়ারলাইন্সের ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা কর্মরত আছেন, সে কারণে মেইনটেনেন্সেও বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রাধান্য পায় বেশি সিভিল থেকে। বলা বাহুল্য যে, বিমান বাহিনীতে সকল বিমানই ফাইটার এয়ারক্রাফট/ যুদ্ধবিমান অথবা কার্গো-বিমান। প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফট নেই। একটি যুদ্ধবিমান এবং প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফটের মেকানিজম সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুদ্ধবিমান ছোট, আর প্যাসেঞ্জার বিমান অনেক বড়। আমরা যারা অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ালেখা করেছি তারা এই বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করার পাশাপাশি লাইভ প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফটে ইন্টার্নশিপ/কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সুতরাং, যুদ্ধবিমানে কাজের অভিজ্ঞতা আর প্যাসেঞ্জার বিমানে কাজের অভিজ্ঞতাও ভিন্ন। দুঃখজনক হলেও আমাদের সিভিল থেকে পড়াশুনা করে আসা যুবক ছেলে-মেয়েদের তুলনায় বিমানবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করে আসা দেরকেই ম্যানেজমেন্ট বেশি প্রাধান্য দেয়।

আরটিভি: আপনি যে চাকরি পাননি এক্ষেত্রে এ পেশার প্রতি আপনার কোনো বিরূপ ধারণা হয়েছে কিনা?

রেজওয়ান করিম: পারিবারিকভাবে আমার আগেই থেকেই এ পেশার প্রতি জানাশোনা ছিল। এজন্য চাকরি না পেলেও এ পেশার প্রতি আমার কোনো বিরূপ ধারণা জন্মায়নি। তবে যারা নতুনভাবে এ পেশায় পড়ছেন, তারা হয়ত অনেক কিছু জানেন না। ফলে দেখা যায় এ পেশায় পড়েও যখন চাকরি পাচ্ছেন না, তখন তাদের মধ্যে একটা হতাশা কাজ করে এবং এ পেশার প্রতি একটা বিরূপ ধারণা চলে আসে।

আরটিভি: কীভাবে আপনার ধারনাতে ফ্রিল্যান্স করার বিষয়টি আসে?

রেজওয়ান করিম: ছোটবেলা থেকেই আমি প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী। ২০০১ সালের দিকে আমি কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে কাজ করেছি। তখনকার সময়ে অগ্নি (Agni) নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ করত। প্রতিষ্ঠানটি এখনও আছে। তখনকার সময়ে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাবাইট কিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম। এর ফলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন তথ্য আমার পক্ষে জানা সহজ ছিল। যখন আমি অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করে চাকরি পাচ্ছিলাম না, তখন এই ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয়টি মাথায় আসে। ২০১৬ সালে গুগল এবং ইউটিউব ঘেটে ফ্রিল্যান্স করার জন্য পড়াশুনা করতে থাকি। এরপর আমি আপওয়ার্কে কাজ করার তথ্য পেয়ে যাই। এই প্লাটফর্মটি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম এবং ফ্রিল্যান্স করার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বে এখন এক নম্বরে রয়েছে। এরপরই এখানে একটি অ্যাকাউন্ট খুলি। কোন সেক্টরে কাজ করব সেটি নিয়ে ভাবতে থাকি। আমার যেহেতু কম্পিউটার সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল এজন্য শুরুতে ডাটাএন্ট্রি এবং ওয়েব রিসার্চের কাজ শুরু করি। প্রথমে তিন মাস ধরে আমি ডাটাএন্ট্রি এবং ওয়েব রিসার্চের উপর আবেদন করে গেলাম। কিন্তু কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমি আবেদন করা চালিয়ে যেতে লাগলাম, শেষ পর্যন্ত ৭৫ ডলারের একটি অর্ডার আমি পেলাম। এরপর থেকেই বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ পেতে থাকি। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করি। আপওয়ার্ক প্লাটফর্ম থেকেই আমি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করি। কারণ এখান থেকে কোনো পেমেন্ট হারানোর সুযোগ থাকে না। এছাড়া রয়েছে ফাইবার। ফাইবারে অন্যতম সমস্যা হলো ফ্রিল্যান্সারদের টাকা আটকিয়ে রাখা হয়। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ফ্রিল্যান্সার কাজ করার পর সেই কাজটি ভালো হয়নি বলে ফাইবার রিপোর্ট করে পেমেন্ট আটকিয়ে রাখতে পারে। তবে এই ধরনের সমস্যা আপওয়ার্কে নাই।

আরটিভি: ফ্রিল্যান্সিং করার শুরুতে আপনি কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন?

শুরুতে তিন মাস কাজ না পাওয়ার পর আর কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তিন বছর পুরোদমে কাজ করি। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে ২০১৯ সালে এসে। কাজের জন্য আবেদন করেও আবার কোনো কাজ পাচ্ছিলাম। এরকম প্রায় পাঁচ মাস পর্যন্ত কোনো কাজ পায়নি। দুঃচিন্তায় পড়ে গেলাম। পরে নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম। যে কাজ এতদিন করেছি সেই কাজ অনেক পুরাতন হয়ে যাওয়ার কারণে হয়ত নতুনভাবে কোনো কাজ পাচ্ছিল না। এজন্য আমি আমার দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করি। কোর্সসেরা থেকে ডাটা এনালাইসিস শিখে কভার লেটার আপডেট করে নতুনভাবে কাজের জন্য আবেদন করি। এরপর থেকেই কাজ পাওয়া শুরু করি। একদিন হঠাৎ করে আমার একটা অফার চলে আসে। ফিনল্যান্ডের একটি সফটওয়ার কোম্পানি আমাকে অফার করল তাদের কোম্পানিতে ডাটা এনালাইসিসের কাজ করতে। এজন্য তারা আমাকে অনলাইনে দেড় ঘণ্টা ধরে ইন্টারভিউ নিল। ইন্টারভিউতে তারা আমাকে মনোনীত করল। শুরুতে শর্ত ছিল একমাস তারা আমার কাজের ধরণ পর্যবেক্ষণ করবে। যদি সবকিছু তাদের আশানুরূপ হয়, তাহলে আমাকে তারা স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিবে। ওই এক মাসে আমি খুব সচেতনভাবে কাজ করি। কাজে তারা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেয় এবং প্রতিমাসে তারা আমাকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে বেতন দেয়।

আরটিভি: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলো ফ্রিল্যান্সিং করে যা শিখেছি তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। এখানে কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি তা জানানো। যারা নতুন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় তাদেরকে ফ্রিতে প্রশিক্ষণ দিতে চাই। এজন্য অনলাইনে যুক্ত হয়ে অবসর সময়ে ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দিতে চাই। তবে কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এখনও ইউটিউব চ্যালেন খোলা হয়নি। খুব শিগগিরই কাজ শুরু করব। ইনশাল্লাহ।

আরটিভি: যারা নতুন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ছে তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

নতুন যারা এ পেশায় পড়বে তাদের জেনে বুঝে তারপর আসতে হবে। কারণ এ পেশায় পড়াশুনা করা খুবই ব্যয়বহুল। তাই পড়াশুনা শেষ করে যদি কেউ চাকরি না পায় তাহলে সেটি খুবই হতাশার। তবে দেশের বাহিরে এই পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আরটিভি: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রেজওয়ান করিম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সমালোচনার চেয়ে আলোচনা বেশি : বান্নাহ
মাবরুর রশীদ বান্নাহ। সময়ের জনপ্রিয় এক নির্মাতার নাম। ২০১১ সালের বিজয় দিবসে বান্নার রচনা ও পরিচালনায় প্রথম নাটক দিয়েই বাজিমাত করেন তিনি। ব্যতিক্রমধর্মী গল্প আর নির্মাণে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচিতি। গত অর্ধ যুগে সাফল্য পাওয়া তরুণ নির্মাতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। বর্তমানে সব শ্রেণির দর্শকদের কাছেই বান্নাহর নাটক মানে অন্যরকম ভালো লাগা। একের পর এক হিট নাটক উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সারা বছরই নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণে ব্যস্ত থাকেন বান্নাহ। এত ব্যস্ততার মাঝেও জনপ্রিয় এই পরিচালক কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কুদরত উল্লাহ। আরটিভি : সাম্প্রতিক সময়ে কী নিয়ে ব্যস্ততা আপনার? বান্নাহ : ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। আপাতত বিশ্রামে আছি। গত ঈদের পর থেকে একটি কাজ করেছি। একটু ব্যতিক্রম কিছু করার জন্যই কাজ করছি না। নিজেকে একটু প্রস্তুতির মধ্যে রেখেছি। এখন ব্যস্ততা বলতে যা বুঝায় তা হচ্ছে কিছু সিরিজ ফিল্মের বই পড়ছি ও রিসার্স করছি। চেষ্টা করছি ভিন্ন কিছু নিয়ে সামনে আসার। আরটিভি : বললেন প্রস্তুতির কথা। কী ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? বান্নাহ : এটা আসলে সময়ের ব্যাপার। রিসার্স করে যাচ্ছি। ভালো কিছু নিয়েই ফিরব আশা করছি। তবে এ বছর আর ভাবছি না। ২০২২ সালে ভিন্ন কিছু নিয়েই ফিরবো। এখন এর বাইরে কিছু ভাবছি না। ভিন্নতা বোঝা যাবে নতুন কাজ প্রকাশ পেলেই। তাই আপাতত কথটা এখানেই শেষ করছি। আরটিভি : দীর্ঘ সময় ধরেই মিডিয়ায় নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, এ নিয়ে কী বলবেন? বান্নাহ : হ্যাঁ, দীর্ঘ সময় বলা যায়। মিডিয়া নিয়ে আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সব খানেই তো ভালো মন্দ নিয়েই জীবন। তবে আমি মনে করি যে নামটা আমার তৈরী হয়েছে এটা মিডিয়ার জন্যই। এখানে কাজ করেছি, ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি। আজকে আমি মাবরুর রশিদ বান্নাহ হয়েছি। একজন পরিচালক হিসেবে মানুষ ভালোবাসে আমার কাজকে এবং আমাকে। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। এতে অনেক ভাগ্যবান। এ জন্য অবশ্যই আমি কৃতজ্ঞ সৃষ্টিকর্তার প্রতি। তিনি আমাকে এই সুযোগটা তৈরী করে দিয়েছেন। তাই আমি বলব যে, নেতিবাচকের চাইতে অনেক অনেক বেশি ইতিবাচক ভাবে বেঁচে আছি এই মিডিয়াতে। আরটিভি : নির্মাণের বাইরে এখন ব্যক্তিগত জীবন কেমন যাচ্ছে? বান্নাহ : একদম নিজেকে সময় দিচ্ছি পুরোপুরি। কিছুদিন আগে বাবা-মা উভয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বেশ চিন্তিত ছিলাম এ নিয়ে। খুব কষ্টের একটা সময় কাটিয়েছি। এখন আল্লাহর রহমতে সবাই সুস্থ আছেন। মানুষের ভালোবাসা আছে আমার প্রতি আর তাই এখন সেই কষ্টের সময়টা কাটিয়ে উঠেছি বলে আশা করছি। স্ত্রী, সংসার সব নিয়ে এখন বেশ ভালো আছি। নির্মাণের সময় তো আর ওভাবে সময়ই দেওয়া হয় না কিংবা দিতেই পারি না। তবে এবার সময়কে ধরে-বেঁধেই সময় দিচ্ছি। পরিবারের কাছে সময় কাটাতে ভালো লাগছে। পরিবার ও নিজেকে সময় দেওয়া এ দুটো বিষয়ই খুব উপভোগ করছি এই মূহুর্তে। আমি আসলে কাজের মানুষ কিন্তু যখন যেটা করছি মনযোগ দিয়েই করছি। আরটিভি : নিজেকে ব্যাখ্যা করার মাধ্যম কতটুকু পেলেন? বান্নাহ : মিডিয়াতে যা করতে এসেছিলাম, তার পুরোপুরি করতে পেরেছি তা না। তবে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে যেমন পরিশ্রম আছে, ঠিক তেমনি আমার জীবনেও আছে। তবে পরিশ্রমের মাত্রটা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হয়েছে। একটা সময় মনে হতো নাটক বানাতে পারাটাই এক ধরণের স্বার্থকতা। এখন আবার ভাবতে হচ্ছে মানুষের মনে দাগ কাটার মতো বা সমাজকে ভালো কিছু দেওয়ার মতো কাজ করাটাই হচ্ছে নিজেকে ব্যাখা করে দেওয়ার মতো জায়গা। এখন পর্যন্ত আমার নির্মাণে যেসব গল্প বলার চেষ্টাই করেছি মাত্র। দর্শকের কাছ থেকে এই ভালোবাসাটুকু আমি পেয়েছি।  তবে এখনও বাকি অনেক দূর যাওয়া, অনেক কাজ করা। আরটিভি : শুটিং কিংবা ঘুরতে দেশের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে? বান্নাহ : আমি আর আমার স্ত্রী সানিয়া অনেক আগে থেকেই দেশ-বিদেশ ঘুরতে পছন্দ করি। সেজন্য আসলে শুটিং লাগে না। তবে এখন করোনার কারণে যে অবস্থা বিশ্বের তাতে শুটিং করার কোনো পরিকল্পনা নেই আপাতত। তবে যেহেতু অনেক দেশই ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আবারও ভিসা দিচ্ছে, সেহেতু ব্যক্তিগত ভাবে সামনে পরিকল্পনা আছে ঘুরতে যাওয়ার। এখন দেখা যাক সামনে কি হয়। আরটিভি : বাসায় বসে নাটক কিংবা সিনেমাগুলো দেখা হয়? বান্নাহ : নিজের কাজ ফ্রি থাকলে দেখা হয়। এছাড়া সিনেমাটাই বেশি দেখি। সেটা দেশ হোক কিংবা বিদেশি। নিয়মিত সিনেমা দেখি এটা বলতে পারেন। আরটিভি : নির্মাণের বাইরে সবচেয়ে বেশি কী মনে পড়ে? বান্নাহ : অবশ্যই ছোট বেলা কথা মনে পড়ে। স্কুলের কথা খুব বেশি মনে পড়ে। কলেজের কিছু কিছু কথা ভাবায় আমাকে। ভাবলে খুব আনন্দ পাই, আবেগে ভাসায় আমাকে। একটা খুব সুন্দর স্মৃতিতে নিয়ে যায় আমাকে। যা আসলে এখন বলে বোঝানো যাচ্ছে না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হয়তো মনে থেকে যাবে সেসব দিনগুলোর কথা। কেইউ/এসকে 
সমালোচনার চেয়ে আলোচনা বেশি : বান্নাহ
বরাবরই নিজের মর্জিতে চলি : অর্ষা
প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে নাজিয়া হক অর্ষার নিত্য আসা-যাওয়া। একটি রিয়েলেটি শো’র মাধ্যমে রঙিলা ভুবনে তার মুখটি সামনে আসে। ধীরে ধীরে সেই মুখ পরিচিতি পায়। তবে নিয়মিত অভিনয় করেছেন, এটা বলা তার ক্ষেত্রে একটু মুশকিল। কারণ, তিনি তার মনের বাইরে পথ চলতে তেমন একটা পছন্দ করেন না। পছন্দ ছাড়া চলেনই না তিনি। প্রশ্ন যতই কঠিন হোক, তার সোজাসাপ্টা উত্তর। রং-তুলির আঁচড়ে যেভাবে ভাবনার ডালপালা সাজানো থাকে, তা কিন্তু শিল্পের কাছে বরাবরই অগোছালো। কিন্তু সেটা একমাত্র শিল্পীই ভালো জানেন যে, এটা গোছালো। ঠিক তেমনই কখন শিল্পকে বিকিয়ে দিয়ে তিনি তার অভিনয় জগতে কোনো ছাড় দেননি বরং কাজ কম করেছেন। যে চরিত্রে তিনি রূপ ধারণ করেন, সেটি শুধু তার বেলায় প্রযোজ্য কি না, তা কিন্তু ঠিকই যাচাই করে নেন। এমন একটা সত্য মেনেই সময়ের ওপর বরাবরই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। সেই গল্পে আছে কিছু আঘাত ঘাত-প্রতিঘাত। প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলে বর্তমান সময়ে ধারণ করেছেন নিজেকে, যেখানে অভিনয় ছাড়া আর কোনো কিছুরই প্রাধান্য নেই। অনলাইনের এই সময়টাতে দর্শক যার অভিনয়ের প্রশংসা করে রীতিমতো গলা ফাটিয়ে দিচ্ছেন, এই চিৎকার অভিনেত্রী অর্ষার কান অব্দি পৌঁছেছে। অভিনয়ের সেই গর্জন, সমসাময়িক কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে। আলাপ করেছেন কুদরত উল্লাহ। আরটিভি : সাম্প্রতিক সময়ের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই? অর্ষা : আসলে এখন ব্যস্ততা নেই। বিশ্রামে আছি। কিছুদিন আগে জি-ফাইভের একটা কাজ শেষ করলাম। তাই লম্বা একটা শিডিউল ছিল। ওটা শেষ করে পুরো টিম বলতে গেলে এখন সবাই আমরা বিশ্রামই নিচ্ছি। আরটিভি : জি ফাইভের নতুন কোনো কাজ? অর্ষা : হুম, যদিও এখন বলে দেওয়ার অনুমতি নেই। কারণ, প্রডাকশনের নিয়মের মধ্যে পড়ছে না। তবুও আপনাকে বলছি, সম্প্রতি জি ফাইভের নতুন একটি ওয়েব ফ্লিম আমি শেষ করলাম। এটার নাম হচ্ছে ‘কুহেলিকা’। পরিচালনা করেছেন সামিউর রহমান। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই এই ফ্লিমের পোস্টার এবং ট্রেলার সবাই দেখতে পাবেন। কথা আপতত এতটুকুই থাক। আর ডিটেল বলার অনুমতি নেই। প্লিজ, আর জানতে চাইবেন না (মুচকি হাসি)। আরটিভি : ওয়েব ফ্লিম কিংবা সিরিজে আপনি বেশ নিয়মিত এখন। এ বিষয়ে একটু বলবেন কি? অর্ষা : হ্যাঁ, এটা সত্যি কথা, গত দুই বছর ধরে টেলিভিশন প্রোডাকশনে কাজ করা কমিয়ে দিয়েছি। এখন একটু ওয়েবেই কাজ বেশি করা হচ্ছে। আরটিভি : কারণটা কী? অর্ষা : কারণটা তো আপনি কম-বেশি জানেন। একদমই খোলাশা করে বলার মতো তেমন কিছু নেই। ভালো গল্প, যে চরিত্রে অভিনয় করব সেটা নিয়ে ভাবতে পারছি। প্রতিটি প্রোডাকশনের আগে তিন-চার মাস প্রিপারেশনের একটা টাইম থাকে। টিমের সঙ্গে গল্প, স্ক্রিপ্ট নিয়ে গ্রুমিং করা, লুক টেস্ট। অনেক ডিটেল প্রি-প্রোডাকশনের একটা ব্যাপার আছে ওয়েবে। যেটা হচ্ছে আমাকে রেডি হতে অনেক হেল্প করে। আরটিভি : হেল্পটা কেমন করে? অর্ষা : প্রথম কথা হচ্ছে বাজেট ভালো থাকে। এটা কিন্তু একটা ফ্যাক্ট। তাই পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুব ভালো হয় একটা গোছানো কাজের জন্য। আর এ জন্যই সবাই ওয়েবে কাজ করতে খুব আগ্রহ পাচ্ছে, সেটা অভিনয়শিল্পী বলেন আর মেকআপ আর্টিস্টসহ সবারই কাজের অনেক অপশন আছে। পুরো টিমেরই গল্পের সঙ্গে যোগাযোগটা ঘটে। কোন তাড়াহুড়া নেই, সময় করে ধরে ধরে কাজটা করতে হয়। একটা লট নিয়ে আইসোলেটেট হয়ে শুটিং শেষ করে আবার ফিরে আসা। তাই এটা আসলে পুরোটাই একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যাওয়া, যেটা এতদিন বন্ধ ছিল, এই প্রসেসটা আবার ঘুরে আসছে ইন্ডাস্ট্রিতে। তাই ওয়েবে কাজ করে একটা তৃপ্তি পাওয়া যায়। আরটিভি : ওয়েবে শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন আপনার? অর্ষা : একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে অবশ্যই বলতে হচ্ছে ভালো। কারণ হিসেবে বললে বলতে হয়, নাটকগুলোতে যেটা দেখে এসেছি, নির্মাতা কল করেন। শুটিং শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ থেকে দেড় সপ্তাহ আগে স্ক্রিপ্টটা পাঠালেন। ফোনে ফোনে কথা হলো, সেটে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে, দুদিনের কাজ, তারপর শুটিং শেষ করে চলে আসলাম। এই একটা প্রোডাকশন করে তার সঙ্গে কিংবা গল্পের সঙ্গে তেমন একটা সক্ষতা তৈরি হয় না। মোটামুটি একটা টেস্ট বুঝে কাজ শেষ করে ফেলার মতো। কিন্তু ওয়েবে এটা হওয়ার সুযোগ নেই। একটা প্রোডাকশন শুরু হওয়ার আগে টিমের সঙ্গে তিন থেকে চারবার মিটিং করতে হচ্ছে। গল্পটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হচ্ছে। নিমার্তা আমার চরিত্রটা পর্দায় কীভাবে দেখতে চাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক সময় চরিত্রটা ভালো করার জন্য রেফারেন্স নিয়ে কথা হচ্ছে। শুটিংয়ের আগেই টিমের সঙ্গে বেশ সক্ষতা তৈরি হয়ে যায়। যার জন্য খুব আরামেই নির্মাতাসহ গল্প, চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়া যায়। এর জন্য শুটিং করতে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ লাগে। আরটিভি : তাহলে বোঝাতে চাচ্ছেন, ওয়েব আর টেলি প্রোডাকশনের মধ্যে পার্থক্য এটাই? অর্ষা : পার্থক্যের জায়গায় না গিয়ে আসলে আমি আমার কথাটাই বলি। যেহেতু আমি দুই মাধ্যমেই কাজ করেছি। আর এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধের জায়গাটা ওয়েবে তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, যে চরিত্রে অভিনয় করব সেটা নিয়ে যদি বহুবার শুটিংয়ে যাওয়ার আগেই আলোচনা হয় নির্মাতার সঙ্গে তাহলে সেটা আরামের হয়। এটা আমার জন্য ভালো একটা দিক। টিম নতুন হোক কিংবা পুরনো, একটা নতুন কাজ নিয়ে সবাই মিলে বোঝাপড়ার বিষয়টাই তো হচ্ছে টিমওয়ার্ক। এই টিম ওয়ার্কের ব্যাপারটা নিয়ে একটু পড়াশোনা করার সময় পাওয়া যায়। যার জন্য বলতেই হচ্ছে টেলিভিশনের থেকে ওয়েব অন্তত আমার জন্য অনেক ভালো। এখানে সব শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা কাজ করছে। তারা বর্তমান সময়ের সঙ্গে তালমিলিয়ে একটা গল্পকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ওটিটি প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্চ করার চেষ্টা করছে। এই প্রতিযোগিতাটা কিন্তু সুন্দর। ভালো কাজ করার তাগিদে সব জায়গা থেকে নিখুঁত কাজটাকে খুঁজে বের করে এনে একসঙ্গে রেখে আনার যে প্রচেষ্টা এটা খুব চমৎকার ওয়েবে। এটা আমার জন্য খুব ইন্টারের্স্টিং, নতুন এবং দিনশেষে মনে হয় এটাই ভালো আমার জন্য। আরটিভি : ব্যক্তি জীবনে অভিনেত্রী অর্ষা কেমন? অর্ষা : বরাবরই ভালো। কারণ, আমি আসলে কাজের প্রেসারে কখনও থাকি না। যখন রেগুলার টেলিভিশনে কাজ করেছি তখনও আমি অনেক গ্যাপ দিয়ে কাজ করেছি। এখন ওটিটিতে কাজ করছি একই ভঙ্গিমায় হয়ে গেছে। সেটা হচ্ছে একমাস ধরে একটা কাজ করা তারপর একটা ভালো বিরতি নেওয়া। এরপর আবার পরবর্তী একটা নতুন কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়া। তাই এটা খুব আরামদায়ক। আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকটা শিল্পীর জন্য একই। এতে ব্যক্তিগত অনেক সময় পাওয়া যায় এবং সুন্দর কাটে। এ ক্ষেত্রে বলা চলে আমার এখন খুব একটা সময় যাচ্ছে, কারণ মাত্রই একটা প্রোডাকশন শেষ করে এখন রিলাক্সে আছি। এ কারণে এই সময়টাতে একটু নিজের মতো করে থাকা, পরিবারকে সময় দেওয়া। নতুন কোনো প্রোডাকশন থাকলে সেটা কেমন হতে পারে, এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। সো ইট ইজ এ ভ্যারি গুড টাইমিং। আরটিভি : এমন জীবনের খোঁজেই ছিলেন এতদিন? অর্ষা : খোঁজেই ছিলাম কি না, তা ঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে আমি এমনই। খুব বেশি কিছু খোঁজাখুঁজির মধ্যে নেই। কোনো ব্যস্ততা নেই আমার মধ্যে। দিনশেষে নিজেকে সময় দেই কিংবা দিতে পারি। আসলে আমাদের সমাজ এমনটা নিয়মের মধ্যে রেখেছে যে সবাই খুব চাপে থাকে। তাই আমি একটু ধারার বিপরীতেই থাকা মানুষ। আমি নিয়ম-নীতির কোনো চাপের মধ্যে নেই। আমি সময়ের গতি দ্বারাও দখলকৃত মানুষ নই। আমি বরাবরই নিজের মর্জির মালিক। সেই জায়গা থেকে আমার হাতে অনেক ভালো সময় আছে। যার জন্য নিজেকে ভালো সময় দিই। নিজেকে নতুন নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করি। নতুন নতুন প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে নিজেকে নিয়ে যাই। ভালো না লাগলে আমি জোর করে কিছু করি না। যার জন্য আমার কাছে অফুরন্ত সময় থাকে। আবার যখন দেখি সামনে নতুন কোনো ব্যস্ততা কিংবা পদক্ষেপ আসছে ঠিক তখনই দ্রুত মাইন্ড সেট করে ফেলতে পারি। সেই গতিতেই সামনে এগিয়ে যাই। আরটিভি : ধরুন, আপনি আপনাকে দেখতে পাচ্ছেন। এখন নিজেকে দেখে কীভাবে নিজেই ব্যাখ্যা করবেন? অর্ষা : (কিছুক্ষণ ভেবে) নিজেকে নিজে দেখাই তো খুব কঠিন একটি বিষয়। আর যদি ব্যাখা করতে বলেন তাহলে তো আরও বেশি জটিল হয়ে গেল বিষয়টা। মানুষ তো মানুষকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। কারণ সারাটা জীবনই তো নিজেকে খুঁজতে হয়, বুঝতে হয়। নিজেকে নিয়ে স্টাডি করা। তাই এটা আসলে বলে শেষ করার মতো কোনো বিষয় নয়। জীবনের শেষ পর্যন্ত আসলে নিজেকে বুঝে ওঠা যায় না। কারণ, ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত বেড়ে উঠতে উঠতে তো আমার টেস্ট চেঞ্জ হয়েছে অনেক। মানুষের স্বভাব চেঞ্জ হয়, অভ্যস্থতা চেঞ্জ হয়। ভালো লাগা মন্দ লাগা চেঞ্জ হয়। তাই আপনি এখন ধরুন, নিজেকে আসলে কোন মানদণ্ডেই দাঁড় করাতে পারবেন না আপনি। তবে আমি এতটুকুই বলতে পারি নিজের সম্পর্কে যে, আমি পাঙচুয়াল, লয়েল, এবং খুব অনেস্ট থাকার চেষ্টা করি সবসময়। সেটা আমার ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে প্রফেশনাল জীবন পর্যন্ত থাকে। এই তিনটা সাধারণ জিনিশই মূলত আমি মেনে চলার চেষ্টা করি। আরটিভি : ইদানীং দেখা যাচ্ছে একটু এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর একটা কারণ শুটিংয়ের সেটা জানি কিন্তু নিজে থেকেই ঘুরতে বেশি পছন্দ করেন? অর্ষা : রিসেন্টলি দুটো প্রডাকশনের কাজ করেছি। যেগুলোর শুটিং ছিল ঢাকার বাইরে। একটা ছিল রাঙামাটি কাপ্তাইতে, আরেকটা ছিল সিলেটে। তার আগের মাসে গিয়েছিলাম বান্দরবানে। এভাবে ভেঙে ভেঙে প্রায় তিন মাসের বেশি আউটডোরেই বেশি শুটিং করেছি। এটা খুব ভালো এক্সপেরিয়ান্স আমার। এখন সামনে আসলে ঘুরতে নাকি শুটিং করতে যাওয়া হবে কি না, তা আমি জানি না। তবে যেহেতু শীত এসেছে। এই সময়টাতে সবসময়ই ব্যক্তিগত জায়গা থেকেই ঘুরতে যাওয়া হয়। তো এইবার আমি একটা পরিকল্পনা করেছি। ঘুরতে এই শীতে উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়া হতে পারে। এখন দেখা যাক, এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারি। ঘুরতে আসলেই পছন্দ করি (হাসি)। আরটিভি : শুটিং শেষে তো বাসায় ফিরতেই হয়। বাসায় নিজের অভিনীত কাজ কিংবা অন্যেরটা দেখার সময় পান? অর্ষা : হ্যাঁ, এইকাজটা তো করে থাকি। নিজের কাজ দেখার পাশাপাশি, অন্যের কাজও দেখি বেশি। তবে গত চার পাঁচ বছর ধরে টেলিভিশনের সামনে বসা হয় না, মানে দেখাই হয় না। তবে আগে থেকেই ওয়েব প্লাটফর্মের সিনেমা, ওয়েব সিরিজ নিয়মিত দেখতাম। এখন তো আমাদের দেশীয় ভালো কাজ ওটিটিতেই হচ্ছে। তাই বিদেশি কাজের পাশাপাশি দেশীয় প্রচুর কাজ দেখা হচ্ছে। নিজের শুটিংয় শেষে যখন ফ্রি থাকি, যে কাজগুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়, সেগুলো ডাউনলোড দিয়ে রাখি। যখনই সময় পাচ্ছি, দেখছি। নয়তো বই পড়ছি, ঘুরতে যাচ্ছি। এই অভ্যেসটা অনেক পুরনো। কেইউ/টিআই
বরাবরই নিজের মর্জিতে চলি : অর্ষা
আমার কাছে সিনেমা মানেই যুদ্ধ : রাশিদ পলাশ
সময়ের আলোচিত নির্মাতার নাম রাশিদ পলাশ। যিনি প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছে গেছেন। করোনার এই সময়টাতে যখন বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো দর্শকবিমুখ, ঠিক তখনই তার নির্মিত সিনেমার মুক্তিতে প্রাণ ফিরে পান হলের মালিকরা। অনেক দিন পর বাংলা সিনেমায় হল হয় হাউজফুল। সময়ের এই ব্যস্ত নির্মাতার সাম্প্রতিক কাজ, ব্যক্তিজীবন ও নানা পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে। আলাপ করেছেন কুদরত উল্লাহ। আরটিভি : সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কি নিয়ে? রাশিদ পলাশ : প্রীতিলতার শুটিং শুরু হচ্ছে। ডিসেম্বর মাস পুরোটাই শুটিং করতে চাই আমরা। আপাতত প্রীতিলতার সাথেই বসবাস করছি। আরটিভি : প্রথম সিনেমা নির্মাণ করে বেশ আলোচনায় চলে এসেছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? রাশিদ পলাশ : আলোচনা-সমালোচনা দুটোই আমার কাছে পজিটিভ। কাজ করলে আলোচনা হবে। কাজ করতে চাই। ভালো কিছু সিনেমা বানাতে চাই। বাংলা সিনেমায় আবার সোনালি সময় আসছে। আমরা সে সময়ের সাক্ষী হবো। আরটিভি : দর্শকের সাড়া কেমন পাচ্ছেন? রাশিদ পলাশ : পদ্মাপুরাণ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ দেখে আমরা পুলকিত। এটা আমাদের দায়িত্ব বাড়িয়েছে। পদ্মাপুরাণে অনেকগুলো হাউসফুল শো হতে দেখেছি। এটা আমার জন্য ঈদের আনন্দের থেকেও বেশি কিছু। আরটিভি : শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? রাশিদ পলাশ : শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। এটা ঠিক শুটিং না বলে... যুদ্ধ বলা যায়। একটা বিচ্ছিন্ন চরে শুটিং করেছিলাম আমরা। রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছিলাম টিমের সবাই। সারাদিন শুটিং করে সন্ধ্যায় নদীতে অনেকটা সময় ডুবে থাকতাম। একবার একটা ঝড়ের কবলে পড়েছিলাম। ‘ফনী’ আমাদের সব কিছু লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গিয়েছিল। ৪ দিন বন্ধ ছিল শুটিং। আরটিভি : ব্যক্তিগত জীবন কেমন যাচ্ছে? রাশিদ পলাশ : ব্যক্তিগত জীবনে আমি সুখী মানুষ। আলহামদুলিল্লাহ। আরটিভি : দিনশেষে নিজেকে সময় দিতে পারেন? রাশিদ পলাশ : জীবিকার তাগিদে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবে কাজ করি। এরপর যেটুকু সময় পাই তার সবটুকুই সিনেমার জন্য। দিনশেষে নিজের জন্য আপাতত কোনো সময় নেই। আরটিভি : নতুন কাজের খবর আছে? রাশিদ পলাশ : প্রীতিলতা শেষ করে শুরু হচ্ছে ময়ূরাক্ষী'র শুটিং। এ মাসেই ময়ূরাক্ষীর ১ম লুক আসছে। সব কিছুই প্রায় গোছানো। জানুয়ারিতে শেষ করতে চাই ময়ূরাক্ষী। এছাড়া লাইভ টেকনোলজির ‘কালা’ শিরোনামে একটা থ্রিলার বানাতে চাই। একটা আন্তর্জাতিক ওটিটি প্লাটফর্মের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, দেখা যাক, আল্লাহ ভরসা। আরটিভি : নিজেকে ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে? রাশিদ পলাশ : মানব জনম এ এক বিরাট রহস্য আমার কাছে। আমিও  সে রহস্যের অংশ আরটিভি : নিমার্ণের ব্যস্ততা আর ব্যক্তি জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে কি কোনো তফাত খুঁজে পান? রাশিদ পলাশ : ব্যস্ততা আর ব্যাক্তি জীবনের ব্যস্ততা মিলেমিশে একাকার। দিনশেষে দুই আমার পরিবার। দুই খানেই সমান বিচরণ করি।  কোনো তফাত খুঁজে পাইনা। আরটিভি : শুটিং কিংবা ঘুরতে দেশের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে? রাশিদ পলাশ : আপাতত না, তবে আগামী বছরের মাঝামাঝি তুরস্কের একটা কাজের আলাপ আছে, এই আর কি। আরটিভি : বাসায় বসে নাটক কিংবা সিনেমাগুলো দেখা হয়? রাশিদ পলাশ : সুযোগ পেলেই সিনেমা দেখি। বিভিন্ন ওটিটির কাজগুলো দেখার চেষ্টা থাকে। নাটক দেখা হয় না। কেইউ/এসকে
আমার কাছে সিনেমা মানেই যুদ্ধ : রাশিদ পলাশ
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ আমার নির্মাণের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে: অমি
বর্তমান সময়ের বাংলা নাটকের যে কজন তরুণ নির্মাতা রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কাজল আরেফিন অমি। তবে খুব অল্প সময়েই যে তিনি তার নির্মাণের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তা ঠিক বলা যাচ্ছে না। এর জন্য বেশ পরিশ্রম, মেধা এবং সততা দিয়েই নিজেকে একজন সফল নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার অনন্য কাজ দিয়ে হয়েছেন আলোচিত এবং প্রশংসিত আবার সমালোচিতও হয়েছেন। তার নির্মিত সিঙ্গেল নাটকের সংখ্যা আসলে এখন আর গণনায় আনা যাচ্ছে না। অসংখ্য নাটক তিনি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। এই সিঙ্গেল নাটকের বাইরে বলতে গেলে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে যে নাটকটি সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হুম পাঠক, একদম ঠিক ধরেছেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট।দীর্ঘ এই ধারাবাহিক নাটকটির দর্শক জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে একের পর এক সিজন নির্মাণ করে যাচ্ছেন তিনি। দর্শকরা নিজ উদ্যোগে মানববন্ধন করে ব্যাচেলর পয়েন্টের নতুন সিজন দেখার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সিজন-৩ এর পর তিনি আবারও নির্মাণ করতে যাচ্ছেন নাটকটির সিজন-৪। এমন ইঙ্গিত দিয়ে ইতোমধ্যেই কলাকুশলীরা সামাজিক মাধ্যমে জানান দিয়েছেন। কেমন হচ্ছে এবারের সিজন? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকটি দেখা দর্শকের মনে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ও নির্মাতার সাম্প্রতিক কাজ এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কুদরত উল্লাহ। আরটিভি: প্রথমেই জানতে চাই সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কি নিয়ে? অমি: ইউটিউব ও ওয়েব প্লাটফর্মের জন্য বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট’র শুটিং শেষ করেছি। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি কাজগুলো দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার। এরমধ্যে হয়তো ‘দ্য সিক্রেট’ মুক্তি পাচ্ছে। আর ‘হেল্প মি’, ‘কিডনাপার’ বাকিগুলো বিশেষ দিনে মুক্তি পাবে। আর এখন একটু বেশি ব্যস্ত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ফোর নিয়ে। আরটিভি: সম্প্রতি সিজন-ফোর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ঘোষণা দিয়েছেন আপনারা সবাই। এটা নিয়ে কিছু বলুন... অমি: হ্যাঁ, একটু মজা করার জন্যই দিয়েছি। ওই কথাই তো বলতে যাচ্ছিলাম। দর্শকের জন্য আমরা সবসময়ই কিছু ব্যতিক্রম টাচ দিতে চেষ্টা করি, সেই জায়গা থেকেই ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট' নিয়ে যখন যেটা করি, সেটা একটু ভিন্নতা রেখেই করি। কারণ নাটকটি দেখার চাহিদা অনেক বেড়েছে। যার জন্য এখন অনেক কিছুই বলতে পারি না। আরটিভি: কেমন হতে যাচ্ছে এবারের ব্যাচেলর পয়েন্ট? অমি: (মুচকি হেসে) সিজন ৪ আসছে এটা নিশ্চিত করলাম। তবে এবারের সিজনের গল্পের প্লট এখনই যদি বলে দেই তাহলে তো মজাটা থাকছে না। দর্শকের আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়বে। তবে আপনাকে এতোটুকু বলতে পারি, গল্প, স্ক্রিপ্ট, চরিত্র, লোকেশন সব মিলিয়ে এবারের সিজন দারুণ হতে যাচ্ছে। সব কিছু গুছিয়ে খুব দ্রুতই আমরা এর দৃশ্যধারণ শুরু করব। তবে এখনও কারও শিডিউল ঠিক করা হয়নি। আমরা চেষ্টা করব এই বছরের মধ্যেই শুটিং শেষ করে প্রচার করার জন্য। তবে সেটা সম্ভব না হলে আগামী বছরের প্রথম দিকেই প্রচার শুরু হবে। এতটুকু বলতে পারি। দর্শক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন নিশ্চয়ই। তাই আমি দর্শকদের বলব আরও কিছুদিন কষ্ট করে অপেক্ষা করতে। অপেক্ষার ফল মিঠা হয়। এবারের ফল আরও বেশি মিঠা হবে। আরটিভি: ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকটির মাধ্যমে আপনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এটা বিশ্বাস করেন? অমি: এটা আসলে আমার জন্য বলা মুশকিল। কারণ হলো, আমি তো আমার নির্মাণের সব কিছুর নির্মাতা। তাই আমার নির্মিত সব কিছুই আমার ভালো লাগে। যেটা ভালো লাগে না তা আমি বানাই না। আমি যে কাজটা করছি তা করে যদি আনন্দই না পাই তাহলে তো আমি সেই কাজটি করব না কখনও। তবে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নিয়ে বলতে গেলে এই ধারাবাহিক নাটকটি আমার নির্মাণের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। যার সকল প্রশংসা সৃষ্টিকর্তার এবং আমার প্রিয় দর্শকদের। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আরটিভি: নির্মাতা অমির নির্মাণ মানেই এখন দর্শক জনপ্রিয়তা, এর পেছনে কারণ কি? অমি: আলহামদুলিল্লাহ, বিষয়টা হচ্ছে আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই যে কাজটি করেছি তা মন দিয়ে করেছি। সেটা নির্মাণ হোক আর ভিন্ন কোনও কাজ হোক। আমার বাবা-মায়ের দোয়া, মানুষের ভালোবাসা সব মিলিয়েই আমি আজ নির্মাতা অমি। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাই আমার পক্ষ থেকে সবার জন্য ভালোবাসা। আরটিভি: কিছুদিন আগে সিলেটে গিয়েছিলেন। ঘটনা কি? অমি: কারণ বলতে কোন শুটিংয়ের জন্য নয়। আমি ও আমার টিম মিলে অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। করোনা ও লকডাউনের মধ্যে আসলে ঘোরার মতো মুডও ছিল না। এজন্যই একটু ঘুরতে যাওয়া। কারণ আমি চাই আমার টিমের প্রতিটা মানুষ আনন্দে কাজ করুক। তাই সুযোগ পেয়ে একটু ঘুরে আসলাম। আরটিভি: ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকটির বাইরেও আপনি একই অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে আলাদা সিঙ্গেল নাটক নির্মাণ করেন। এবারও কি এই ধরণের চমক থাকছে? অমি: হ্যাঁ, অবশ্যই থাকছে। প্রতিবার যেভাবে থাকে এই সিজনেও থাকবে। তবে আপাতত বলছি না কি ধরণের চমকটা থাকবে। (হাসি)  আরটিভি: দর্শক নির্মাতার নির্মাণের প্রশংসা করে কিন্তু আপনার নিজের শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন? অমি: আমি শুটিংয়ের সময় অনেক ভালো থাকি। মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। শত ধরণের পেইন আসলেও বিচলিত হই না। অ্যাকশন বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমার মধ্যে অটোমেটিক এনার্জি চলে আসে। আমি শুটিংয়েও হ্যাপি মানুষ। আরটিভি: ব্যক্তিগত জীবন কেমন যাচ্ছে? অমি: অনেক ভালো আছি ব্যক্তিগত জীবনে। নিজের সংসার, পরিবার, কাজ নিয়ে আমি হ্যাপি। করোনার কারণে অনেকে অনেক ধরণের বিপদে পড়েছেন। কষ্ট লেগেছে, সাহায্য করার চেষ্টা করেছি নিজে থেকে। এখন পরিস্থিতি আসলে কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে। তাই মনে একটু আনন্দ কিন্তু ভয়টাও কাজ করে। আরটিভি: বাসায় বসে নাটক কিংবা সিনেমা দেখা হয়? অমি: চেষ্টা করি আগে নিজের দেশের নির্মাতারা কি বানাচ্ছেন, কেমন বানাচ্ছেন তা দেখার জন্য। বলতে গেলে সব ধরণের গল্প  দেখার চেষ্টাই করি। দেশ ও বিদেশের গল্পও দেখি নিয়মিত। আরটিভি: শুটিংয়ের বাইরে নিজেকে কতটুকু সময় দিতে পারেন? অমি: আসলে তেমন ভাবে তো সময়টা বের করতে পারি না। তবে চেষ্টা করি একটানা শুটিং শেষ করে অন্তত কিছুদিন ব্রেক নিয়ে নিজের ফ্যামেলিকে সময় দিতে। কারণ ভালো কাজ করার জন্য কিন্তু মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা খুব জরুরি। তাই ফ্যামেলিতে যদি কোন প্রবলেম থাকে তাহলে সেটা স্বাভাবিক ভাবেই আমার মানসিকতার উপরে চাপ পড়বে। তাই চেষ্টা থাকে  শুটিংয়ের শেষে নিজের ফ্যামেলিতে সময় দিতে। যদি কোন প্রবলেম থাকে তার সমাধান দিতে। এতে আমার মানসিকতা ভালো থাকে। আরটিভি: আপনার নির্মাণের বিশেষত্ব কি? অমি: বিশেষত্ব তো আসলে ঠিক কি সেটা বলা আমার জন্য কঠিন। কিন্তু আমি আমার কাজটাকে বিশ্বাস করি। যা নির্মাণ করছি তা আসলে আমি আমার চোখে দেখার গল্পই বলছি। কিংবা বলতে পারেন মানুষ যা দেখে তাই আমি আমার নির্মাণে দেখাতে চাই আপাতত। যাতে দর্শক দেখে বলতে পারেন, আরে এই গল্পটা তো আমার গল্প। আরটিভি: আপনার নির্মাণে মানুষ হাসে আবার মানুষ কাঁদে কিন্তু আপনার জীবনে এটা কখন ঘটে? অমি: বিষয়টা হচ্ছে, আমাদের সবার জীবনেই ভালো সময় আসে আবার খারাপ সময়ও আসে। এই ভালো মন্দ মিলিয়ে তো আমাদের জীবন। একটু হাসি একটু কান্না নিয়েই তো আমাদের পথ চলতে হয়। তাই আমার জীবনও কিন্তু গল্পের বাইরে নয়। আবার যদি দর্শকের কথা বিবেচনা করে বলি তাহলে তাদের মতোই কিন্তু আমার জীবন। চেষ্টা থাকে সবসময় হাসি খুশি থাকা এবং পাশের মানুষটিকে হাসিখুশি রাখার। আরটিভি: প্রশংসার পাশাপাশি কাজের সমালোচনাকে কিভাবে দেখেন? অমি: কাজ করলে অবশ্যই কাজের সমালোচনা থাকবে। আমি তো আর সবজান্তাও না। আমারও তো জানার কমতি আছে, মেকিংও কমতি থাকবে। আমার একটা কাজ বানানোর যে কমতি থাকবে সেটা নিয়ে অবশ্যই সমালোচনা হবেই। এটা স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিকতা নিয়েই নির্মাণ করে যেতে চাই। সমালোচনা থেকে যদি মনে হয় যে সমালোচনাটা আমার জন্য পজিটিভ, তাহলে  তা আমি গ্রহণ করি। আমার কাজ দেখে কোনো দর্শক যদি বলে গল্পটা ভালো হয়নি তখন আমি ভাববো এই টাইপের গল্প কেন আপনার ভালো লাগেনি। আমি তো এক ধরনের গল্পে কাজ করি না। ফ্যামিলি ড্রামা, রোমান্টিক, কমেডি গল্পে কাজ করি। তাই সমালোচনা সব কাজেই থাকবে। আমি মানুষের চোখে দেখা গল্প বলি। আরটিভি: চলচ্চিত্রে নির্মাণ করার কোনো পরিকল্পনা আছে? অমি: আসলে চলচ্চিত্র নিয়ে অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে। সামনে আরো কিছু মিটিং আছে। যদি সবকিছু মিলে যায় তাহলে চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিবো। ফিল্ম আসলে কোনো কম্প্রোমাইজের জায়গা না। নট অনলি ফিল্ম হোক সেটা নাটক ফিকশন যাই বলুন। এখানে নির্মাণের জন্য প্রত্যেকটা সেকেন্ডের জন্য টাকা খরচ করতে হয়। ভাবনার কিন্তু শেষ নেই, আপনি যা খুশি ভাবতে পারেন তার জন্য আপনার অবশ্যই টাকা খরচ করতে হবে। এখানে বাজেটের একটা বিষয় থাকে। বাজেট একটা বড় ব্যাপার। আমি এখন পর্যন্ত নাটক, ফিকশন বানিয়ে মোটামুটি একটা জায়গা তৈরি করেছি। এখন আমি যদি ফিল্ম বানাই দর্শকরা প্রত্যাশা করবে আমি কি বানালাম, কেমন হলো আমার ফিল্ম। যারা আমার জন্য ফিল্মটা দেখতে যাবেন তারা যেনো নিরাস না হোন এবং হলে বসে বিনোদন পান। তারা সেই কনফিডেন্সটা পায় যে অমির সেকেন্ড ফিল্মটাও হলে দেখতে আসবে। ওই জায়গা থেকে আমি ফিল্মটা বানাবো। যদি ব্যাটে-বলে মিলে যায় তাহলে আমি ফিল্মে মুভ করতে চাই। আমি আমার ফিল্মের জন্য পারফর্মার নিবো। হোক সে ছোটপর্দার কিংবা বড়পর্দার। গল্পের সঙ্গে যাকে ডিমান্ড করবে আমি তাকে নিয়েই কাজ করবো। কেইউ/এনএস/এসএস
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ আমার নির্মাণের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে: অমি
অভিনয়ের বাইরে রাজনীতি আমার পছন্দ: ঊর্মিলা
২০০৯ সালে একটি রিয়েলিটি-শো এর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন। অভিনয়ে আসার আগে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর। একাধারে বিজ্ঞাপন, নাটক, চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। অভিনয়শিল্পীর সমসাময়িক কাজ, ব্যক্তিজীবন ও শুটিং নিয়ে কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে। লিখেছেন রিপোর্টার কুদরত উল্লাহ। আরটিভি: আপনি দীর্ঘদিন অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত। আপনার এই পথচলা কেমন উপভোগ করছেন? ঊর্মিলা: হ্যাঁ, এখন দীর্ঘ বছর বলা চলে। এই পথে সবার ভালোবাসা পেয়েছি। মোটামুটি একটা অবস্থানে আছি এখন। এই প্রফেশনে এসে সিনিয়র, জুনিয়ার, বন্ধু-বান্ধব অনেকেই তৈরি হয়েছেন। সবাই অনেক হেল্পফুল। বিশেষ করে আমার ভক্তদের কিংবা দর্শকের কথাতো বলতেই হচ্ছে। তাদের জন্যই আজকের আমি। তাদের ভালোবাসা আমাকে প্রতিটা সময়ই মুগ্ধ করে। আমি খুব আনন্দ উপভোগ করি। সেজন্য সবার প্রতি ভালোবাসা। আরটিভি: সম্প্রতি আপনার অভিনীত ‘শান্তি মলম ১০ টাকা’ ধারাবাহিক নাটকের চরিত্রটি কেমন? ঊর্মিলা : এটা ঠিক, কিছুটা ব্যতিক্রম চরিত্রে অভিনয় করছি। নাটকটিতে আমি কোহিনুর নামের চরিত্রে অভিনয় করছি। মোটামুটি ভালো একটা জায়গা আছে অভিনয় করার। এর আগে অভিনেতা আরফান ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা হয়নি। তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে কোন গ্রামেও কাজ করা হয়নি। এছাড়া লাভলু ভাইতো খুব মজার একজন মানুষ। তাই খুব উপভোগ করছি শুটিং। অন্যদিকে দর্শকের রেসপন্সও পাচ্ছি খুব। আরটিভি: শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন? ঊর্মিলা: খুব ভালো। নির্মাতা হিমু ভাইয়ের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। খুব সিরিয়াস যখন তিনি নির্মাতা। আবার মন মতো যখন দৃশ্য তিনি পেয়ে যান তখন দেখা যায় খুব ফান মুডে থাকেন। এরপর আবার গল্প করতে করতে বিষয় গুলো সহজ করে দেন। শুধু হিমু ভাই না, আমার যে সহশিল্পীরা আছেন এই নাটকটিতে, তারাও একইরকম। যখনই মনে হয় একটু বোরিং লাগছে কারও, ঠিক তখনই ব্রেক নিয়ে কিছু আড্ডাবাজি করে আবারও শুরু হয় দৃশ্যধারণ। এর কারণ একটাই কাজের মতো কাজ একবার করলেই হয়, বারবার প্রয়োজন হয় না। আর সবাইতো মানুষ, একটু বিরক্তি, ক্লান্তি তো আসবেই। তাই শুটিংয়ের দৃশ্যধারণ করাটাও জরুরি আবার তার মাঝে আড্ডাটাও জরুরি। আরটিভি: ব্যক্তিগত জীবন কেমন কাটছে? ঊর্মিলা: বেশ ভালো আছি এখন। যেহেতু অভিনয় করি তাই শুটিং থাকলে ভালো লাগে। পারিবারিকভাবে বলতে গেলে পরিবার নিয়ে ভালোই আছি। আরটিভি: দিনশেষে নিজেকে কতটুকু সময় দিতে পারেন? ঊর্মিলা: খুব বেশি একটা দিতে পারি না। তবে চেষ্টা থাকে নিজেকে সময় দেওয়ার। এজন্য মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে ঘুরতে যেতে ভালো লাগে। আরও ভালো লাগে ঘুমাতে যাওয়ার সময় নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলতে চাওয়া। আরটিভি: নতুন কোন কাজের খবর আছে? ঊর্মিলা: হাতে ঈদের কাজের স্ক্রিপ্ট, গল্প এখনই চলে আসছে। সেগুলো পড়ছি। চরিত্র ভালো লাগলে রাজি হচ্ছি। অন্যদিকে ধারাবাহিক নাটক ও সিঙ্গেল নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব আছে। সেগুলো নিয়মিত করছি। আরটিভি: নিজেকে নিজে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? ঊর্মিলা : আমি আসলে খুব আবেগী। সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করি। যদিও এতে কষ্টের পরিমাণ অনেক সময় বেশি থাকে কিন্তু তারপরও আমি বিশ্বাস করি। যার যার জায়গা থেকে যে তার প্রাপ্যটুকু পাবে। আমি সততার সঙ্গেই বিশ্বাস করতে চাই। আরটিভি: অভিনয়ের ব্যস্ততা আর ব্যক্তি জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে কি কোন তফাত খুঁজে পান? ঊর্মিলা: তফাৎ তো অবশ্যই আছে। অভিনয় জীবনের মধ্যে লাইট ক্যামেরা অ্যাকশেনের মধ্যে থাকতে হয়। গল্প স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চরিত্রে নিজেকে রূপান্তরিত করতে হয়। শুটিংস্পটে নির্মাতাসহ সবার কথা শুনতে হয়। মন দিয়ে কাজটা সম্পন্ন করতে হয়। আর যখন শুটিং থাকে না তখন তো আমি আমার নিয়মেই চলি। কোন নিয়মকানুন নেই। আরটিভি: দেশের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে? ঊর্মিলা: শুটিংয়ের জন্য দেশের বাইরে যাওয়া কথা ছিল। কিন্তু সিডিউল বা করোনার জন্য ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না; যাব কি যাব না, এই ভেবে থাইল্যান্ড যাওয়া ক্যানসেল করে দিয়েছি। অন্য দেশেরটা এখনও বলতে পারছি না। আরটিভি: এখন তো প্রায় সবাই ওটিটির দিকে ঝুঁকছে। আপনিও যাচ্ছেন কি? ঊর্মিলা: বেশকিছু স্ক্রিপ্ট এলেও চরিত্রগুলো আমার মনমতো হচ্ছে না। যার কারণে এখনো ওটিটিতে যাওয়া হয়নি। তবে যদি ভালো মানের গল্প ও স্ক্রিপ্ট আসে, তাহলে অবশ্যই অভিনয় করবো। আমি সেই মানের চরিত্রের জন্যই অপেক্ষা করছি। যেটা দেখলে দর্শক বলবে ওয়াও ঊর্মিলা বদলে গেছে। আরটিভি: বাসায় বসে কি নাটক কিংবা সিনেমা দেখেন? ঊর্মিলা: চেষ্টা করি দেখার। শুধু যে নাটক কিংবা সিনেমা দেখি বিষয়টা এমন না। অনেক সময় নতুন নতুন রান্নার রেসিপিও দেখি। মোদ্দাকথা হচ্ছে, ভালো লাগার মতো কিছু থাকলে দেখি। টেলিভিশনে দেখতে না পারলেও ইউটিউবে দেখি। তবে শুটিং থাকলে তেমন একটা সময় পাই না এখন। আরটিভি:  অভিনেত্রীর বাইরে সবচেয়ে বেশি কি ভালো লাগে? ঊর্মিলা: আমি প্রচুর আড্ডা দিতে পছন্দ করি। সেটা স্কুল জীবন থেকেই। এজন্য আমার বন্ধু সংখ্যাও অনেক বেশি। তবে এখন আর পারি না। এটা খুব মনে পড়ে আমার। প্রায়ই অতীতের অনেক কিছু মনে পড়লে একা একাই হাসি। তাই ভাবি, মানুষ কেন বড় হয়! আরটিভি: আপনিতো ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কি রাজনীতিতে আরও পাকাপোক্ত হবেন? ঊর্মিলা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করেছি। এটা আমার ভালোবাসার জায়গা। যদি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু অপশন আসে, তাহলে অবশ্যই রাজনীতি করব। এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির হয়ে কাজ করছি। অভিনয়ের বাইরে যতটুকু করব ততটুকু হচ্ছে রাজনীতি। তবে যদি রাজনীতিতে তেমন কোনো পদ না পাই তাতেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ আমি রাজনীতি ও অভিনয় দুটোই ভালোবাসি এবং ভালোবেসেই সব করি। আরটিভি: মিডিয়ায় তো প্রায় সবাই সোস্যাল ওয়ার্কিং করছে। আপনিও কি করেন? ঊর্মিলা: আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে আমার আশপাশের মানুষদের খেয়াল রাখছি। যতটুকু পারি তাদের হেল্প করছি। এর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে কোনো মাধ্যমে জড়িত নই। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, যে মানুষ আমার বাসায় বাজার পৌঁছে দেয়, তার খোঁজ নেয়া দরকার। যে দোকান থেকে আমি আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনি, সে কেমন আছে, তার খোঁজ নিই। আমার শুটিং টিমের কারা বিপদে আছে তাদের খবর রাখি। আমার পাশের বাসার মানুষজন কে না খেয়ে আছে তার খবর রাখি। আমার ড্রাইভার যে কিনা আমাকে প্রতিনিয়ত পৌঁছে দেয় আমার গন্তব্যে, আমি তার খবর রাখার চেষ্টা করি এবং তাদের সবার সমস্যা সামধান করার চেষ্টা করি। এছাড়া আমি গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে বিদ্যানন্দের সাথে সরাসরি কাজ করছি। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এর নাইক্ষ্যংছড়ি প্রজেক্ট, রামু প্রজেক্ট, এরকম আরো অনেকগুলো প্রজেক্ট এর সাথে সরাসরি কাজ করেছি, এখনো করে যাচ্ছি। এটাই আমার বর্তমান সোস্যাল ওয়ার্ক। কেইউ/পি
অভিনয়ের বাইরে রাজনীতি আমার পছন্দ: ঊর্মিলা