ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

‘ঢাকায় নয়, রাজশাহীতেই প্রথম শহীদ মিনার’

সিয়াম সারোয়ার জামিল

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০২:৩১ পিএম

বায়ান্ন'তে আবুল হোসেন তখন আঠারো বছরের টগবগে তরুণ। এখন চুরাশি। বয়সের কারণে সদা হাসোজ্জল এ মানুষটির শরীরে সেই টগবগে ভাব এখন আর নেই। শরীর অনেকটাই শীর্ণকায়। অবসরপ্রাপ্ত এই স্কুল শিক্ষক রাজশাহীর প্রগতিশীল যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে এখনো সবার গুরুজন। তার উপস্থিতিতে যে কোনো প্রতিবাদ পায় নতুন মাত্রা। এ ভাষাসৈনিকের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিভি অনলাইনকের প্রতিবেদক সিয়াম সারোয়ার জামিল।

বায়ান্ন'র ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর ভূমিকা কতটা?

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। ভাষার জন্য প্রথম রক্ত ঝরে রাজশাহীতেই; ফায়ার ব্রিগেড মোড়ে। ৪৮’এর ১১ জানুয়ারি রাজশাহীতে হরতাল চলছিলো। হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হামলায় রহমান ভাই, তোয়াব ভাই, প্রতীশ ঘোষ, লতিফ ভাইসহ আরো অনেক ছাত্রনেতার রক্তে রঞ্জিত হয় রাজশাহীর রাজপথ। ঘন্টা দুয়েক পরে সিলেটেও ভাষা দাবিতে রাজপথে নেমে আসা মানুষের মিছিলে হামলা চালায় মুসলিম লীগের গুন্ডা বাহিনী।

ঢাকায় হামলার খবর কীভাবে পেলেন?

তখন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের পরেই ছিল রাজশাহী কলেজের স্থান। পূর্ব পাকিস্তানের সব অঞ্চল থেকেই ছাত্ররা এ কলেজে পড়তে আসতেন। একুশে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় টেলিফোনে খবর পাই ঢাকায় গুলি হয়েছে। সেসময় পত্রিকায় খবর আসতে দু’একদিন পার হয়ে যেতো। খবরটি রাজশাহী শহরে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র শহীদ হয়েছেন-এমন খবর শুনেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজও। মিছিলে-স্লোগানে প্রকম্পিত হয় রাজশাহীর রাজপথ। পরে গোপনে রাজশাহী কলেজে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এর নেতৃত্ব দেন টিপু ভাই, বাচ্চু ভাই, মানিক ভাইসহ আরো অনেকে। সবার নাম মনে নেই।

অনেকেই বলেন ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার হয়েছে, এটা কতটুকু সঠিক?

এটা একেবারেই ভুল তথ্য। ঢাকায় নয়, রাজশাহীতেই প্রথম শহীদ মিনার। আমরা তো একুশে ফেব্রুয়ারিতেই শহীদ মিনার বানালাম এখানে। ঢাকায় তো পরদিন হয়েছে। তাহলে ঢাকায় আগে কী করে হলো? এই ভুলটা অনেকেই করে, কেন করে, আমি জানি না। কিন্তু এটা শোধরানো উচিত। নতুন প্রজন্ম একটা ভুল তথ্য জেনে বড় হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

ভাষা আন্দোলন তৈরি হবার নেপথ্যে কী ছিল?

বাঙালিরা কখনই সাম্প্রদায়িক ছিল না। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়। আসলে ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রভাগ স্বাভাবিক কারণেই তারা মেনে নিতে পারেনি। থেমেও থাকেনি। ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। তারই ফল হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারি।

ভাষা আন্দোলনের যে স্বপ্ন ছিল, তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে?

বায়ান্নতে আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে ভাষা আন্দোলন করেছিলাম, তার অনেক দাবি স্বাধীন বাংলাদেশ হবার পরেও পূর্ণ হয়নি। সর্বত্র বাংলা ভাষা আজও চালু হয়নি। কোর্টে তো এখনো ইংরেজিই চলছে। বিলবোর্ড-ব্যানার সব ইংরেজিতে হচ্ছে। পাহাড়িরা এখনো সবকিছু মাতৃভাষায় করার সুযোগ পায় না। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

এসজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তরুণদের নিয়ে সমাজকে বদলে দিতে কাজ করছে জেসিআই বাংলাদেশ
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সম্পদ তার উদীয়মান যুবসমাজ। এই যুবসমাজকে কাজে লাগিয়ে সমাজকে বদলে দিতে চায় তরুণদের সংগঠন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল- জেসিআই বাংলাদেশ। এ লক্ষ সামনে নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। দেশ-বিদেশের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগঠনটি বর্তমানে বিভিন্ন ইতিবাচক কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে বি দ্য চেঞ্জ নামে একটি বড় ধরনের কর্মশালার আয়োজন করছে জেসিআই বাংলাদেশ। তরুণদের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি আদর্শ সমাজ বা কমিউনিটি গঠনের প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে চলা জেসিআই বাংলাদেশের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি সংস্থাটির ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ফায়াজ আতিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট এরফান হক ও ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরফান ইসলামের সঙ্গে কথা হয় আরটিভি অনলাইনের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিভি অনলাইনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহীনুর রহমান। আরটিভি অনলাইন: প্রথমে জেসিআই ও জেসিআই বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চাইবো। জেসিআই বাংলাদেশ: জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল- জেসিআই একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১২০টি দেশে জেসিআইয়ের কার্যক্রম চলমান আছে। এটি মূলত মেম্বারশিপ ভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা। বিশ্বে সংস্থাটিতে প্রায় ২ লাখের বেশি তরুণ সম্পৃক্ত আছে। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর। ১৯১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশোরিতে গঠিত হয় জেসিআই। সক্রিয় তরুণ নাগরিকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং তাদের উন্নয়নের জন্য জেসিআই কাজ করে। জেসিআই মূলত তরুণ ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও প্রফেশনালদের একটি চেম্বার অর্গানাইজেশন। বর্তমানে সংগঠনটির ৫ হাজার কমিউনিটি রয়েছে। বাংলাদেশে এটি জেসিআই বাংলাদেশ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে এই সংস্থার সদস্য পদ লাভ করে। আরটিভি অনলাইন: তরুণদের দিয়ে কীভাবে সমাজকে বদলে দিচ্ছে জেসিআই? জেসিআই বাংলাদেশ: এখানে দেশ-বিদেশের তরুণদের নিয়ে একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করা হয়। ইতিবাচক সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে থাকে সংগঠনটি। জেসিআই মূলত তার সদস্য বা বাইরের তরুণদের নিয়ে কাজ করে। তবে প্রথমে গুরুত্ব দিয়ে থাকে নিজ সদস্যদের। সংগঠনটির কিছু প্রোগ্রাম রয়েছে। যেমন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনিং, যার মাধ্যমে কোর্সের আয়োজন করে মেম্বারদের দক্ষতা বাড়ানো হয়। জেসিআই বাংলাদেশ একটি লিডারশিপ প্ল্যাটফর্ম। প্রফেশনাল, ইন্টারপ্রেইনারসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জেসিআই প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা করে থাকে। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে ইয়োথ ব্যাকগ্রাউন্ডেড। জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ফায়াজ আতিকুল ইসলাম সংস্থাটি প্রতিবছর সমগ্র বিশ্ব থেকে ১০ জন তরুণকে আন্তর্জাতিক সম্মাননা প্রদান করে। জেসিআই ইউএস কর্তৃক ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আওতায় প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০০ প্রোজেক্ট পরিচালনা করে। বাংলাদেশের তরুণদের সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন জেসিআই কাজ করে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ তরুণ। তাই আমাদের দায়িত্ব এই তরুণদের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে রূপান্তরিত করণসহ তাদেরকে আগামী দিনের নেতৃত্বে দাঁড় করানো। এই সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র-হতদরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেয়া, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি/বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করা আমাদের কর্মকাণ্ডের একটি অংশ। যেমন ধরা যায়, কেউ স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু দেখা যায় তার একার পক্ষে সেটা করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে জেসিআই সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কলাবোরেট করার প্ল্যাটফরমটা তৈরি করে দেয়; নেটওয়ার্ক গড়ে দেয়। জেসিআইএর ট্রেইনিংগুলো সাধারণত সেলফ ডেভেলপমেন্টের ওপর হয়ে থাকে। তাছাড়া সংগঠনটির কিছু কমিউনিটি ভিত্তিক প্রোগ্রাম রয়েছে- যেমন হেলথকেয়ার, লিডারশিপ, কমিউনিকেশন, শিক্ষা, হাইজিন, রোড ট্রাফিক এওয়ারনেস। জেসিআই সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করে এমন বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট করে থাকে। যেমন কোনও ইস্যু নিয়ে যুবসমাজকে বার্তা দেয়া। তাদের মোটিভেট করা, সমাজমুখী করা। উদাহরণস্বরূপ এ বছরের শুরুতে সংগঠনটি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সফল ইয়ং উদ্যোক্তাদের একত্রিত করে। ওই অনুষ্ঠানে সফলদের চলার পথে নানা সমস্যা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। যার মাধ্যমে সফলদের এগিয়ে চলার নানান গল্প উঠে আসে। এছাড়া প্রতিবছর তরুণদের বাজেট ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার আয়োজন করে সংস্থাটি।   আরটিভি অনলাইন: আগামী ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বি দ্য চেঞ্জ নিয়ে কিছু বলুন। জেসিআই বাংলাদেশ: ২০১৮ সালের সবচেয়ে বড় কর্মশালার আয়োজন করছে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। যাতে ১২ জন সফল মানুষের তাদের স্বপ্ন পূরণের গল্প শুনাবেন। পাশাপাশি তারা সমাজে কী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন তাও উঠে আসবে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া কনভেনশনের হেলমেট হল রুমে এই কর্মশালা হবে। ওই অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো জেসিআই সিভি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের কাছ থেকে সিভি নিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আরটিভি অনলাইন: সবশেষ জানতে চাইবো কীভাবে জেসিআই বাংলাদেশের সদস্য হওয়া যায়? জেসিআই বাংলাদেশ: এর সদস্য হওয়া একেবারেই সহজ। এজন্য যারা সদস্য আছে তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে মেম্বারশিপ পাওয়া যায়। তবে এজন্য বয়স বিবেচ্য বিষয়। জেসিআইএর সদস্য হতে গেলে তার বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর হতে হবে। বাংলাদেশে জেসিআইএর ১৪টি চেপ্টার আছে। তাদের মাধ্যমে সদস্য হওয়া যায়। ওই চ্যাপ্টারগুলো স্থানীয়ভাবে কাজ করে। তারাই মূলত বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেইনিংগুলো দিয়ে থাকে, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক করে। বার্ষিক ফি দিয়ে ওই চ্যাপ্টারের সদস্য হতে পারেন। আরটিভি অনলাইন: গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সময় দেবার জন্য সমাজকে বদলে দেবার প্রয়াসে এগিয়ে চলা জেসিআই বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। জেসিআই বাংলাদেশ: আরটিভি অনলাইনকেও জেসিআই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। 
তরুণদের নিয়ে সমাজকে বদলে দিতে কাজ করছে জেসিআই বাংলাদেশ
অপু অনেক ফ্রেন্ডলি: বাপ্পি (ভিডিও)
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী নতুন ছবি ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’র শুটিং শুরু করেছেন। ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ মুক্তির প্রায় ১৭ বছর পর ছবিটির সিক্যুয়েল নির্মাণ করছেন দেবাশীষ বিশ্বাস। ছবিটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধছেন বাপ্পি চৌধুরী ও অপু বিশাস। অপুকে ছাড়াই প্রথমদিনের শুটিং শুরু করেছেন বাপ্পি। গতকাল দুপুরে মহরত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজধানীর একটি শুটিং বাড়িতে শুরু হয় এই ছবির শুটিং। শুটিং-এর ফাঁকে আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন বাপ্পি চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এইচ মুরাদ।      ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’র সিক্যুয়েলে কাজ করতে কেমন লাগছে? ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ছবিটি প্রতিটি সিনেমাপ্রেমী মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে ছিল। সেখানে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ ভাই ও শাবনূর আপা। সুপার-ডুপার ব্যবসা সফল একটি ছবি। এই ছবির সিক্যুয়েল কাজের সুযোগ পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছে।  ছবির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?  পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাসের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই কাজের কথা চলছিল। যখন ছবিটির সিক্যুয়েল নির্মাণের প্ল্যান চলছিল সে সময় আমি দেবাশীষ দা’কে জানাই যে ছবিটি যদি নির্মাণ করেন কাজটি আমি করতে চাই। কাজটি করার ব্যাপারে আমার নিজেরও আগ্রহ ছিল। অবশেষে আরটিভি আমাদের ছবিটির পাশে এসে দাঁড়ায়।  ছবির গল্প নিয়ে কিছু বলুন দারুণ একটি কমেডি নির্ভর ছবি ছিল ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’। সিক্যুয়েলে গল্পের কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। সেটা হলো প্রথম ছবিতে আমরা দেখেছি শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার পরে প্ল্যানিং শুরু আর সিক্যুয়েলে দেখা যাবে শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার জন্য প্ল্যানিং শুরু। বেশ মজা রয়েছে গল্পে। ছবিতে চালবাজি আছে, অনেক টুইস্ট আছে। সব মিলিয়ে বলবো অসাধারণ।  আপনাকে সচরাচর রোমান্টিক ছবিতে দেখা যায়। নতুন ছবিতে কীভাবে হাজির হচ্ছেন? এই ছবিতে আমাকে কমেডি চরিত্রে দেখা যাবে। আমি চেষ্টা করবো নিজেকে প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার। এর আগে ‘দবির সাহেবের সংসার’ ছবিতে কমেডি চরিত্রে কাজ করেছিলাম। সেখানে কাজের ছেলের চরিত্রে কাজ করি। তবে এবার কমেডির মাঝেও নায়ক সুলভ একটা বিষয় থাকবে। আমার বিশ্বাস দর্শকরা ছবিটি দেখে খুব বেশি বিনোদিত হবেন।    প্রথমবার অপু বিশ্বাসের সঙ্গে আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র একজন আর্টিস্ট। খুব ভালো অভিনয় করেন। তার সঙ্গে দুই একবার কথা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে অপু অনেক ফ্রেন্ডলি একজন মানুষ। দারুণ অমায়িকও। আশা করছি, একসঙ্গে কাজ করতে অনেক ভালো লাগবে। নতুন কিছু অভিজ্ঞতা হবে।  -------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : শুভশ্রীকে সম্মান করেন রাজ -------------------------------------------------------- ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন? ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। আগের ছবিটি ব্যবসা সফল হয়েছে। নতুন ছবিতেও একটা টার্গেট অডিয়েন্স আসবে দেখার জন্য। আমার মনে হয় তখনকার সময় আর এই সময়ের দুই সময়ের দর্শকই আমরা সিনেমা হলে পাবো। তারা আবারও হলমুখী হবেন।  আরও পড়ুন :  কান চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রীদেবীকে স্মরণ এম       
অপু অনেক ফ্রেন্ডলি: বাপ্পি (ভিডিও)
‘গান শুনে পথশিশুটি জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি আমার ভাই হবে?’
তরুণ শিল্পী রাজীব আল রুদ্র'র পরিচিত শুধু রুদ্র নামেই। তিনি ‘ব্যাকস্টেজ’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, একই সাথে একজন গীতিকার ও সুরকার। অর্ধযুগ আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে লাইভ গেয়ে শুরু হয় ‘ব্যাকস্টেজের’এর যাত্রা। অল্পসময়েই দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে এই দলটি। আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে গান, রাজনীতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রুদ্র। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার সিয়াম সারোয়ার জামিল।  সিয়াম: গান নিয়ে আগ্রহটা কবে থেকে? রুদ্রুঃ গান নিয়ে আগ্রহটা আসে শৈশবেই। আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি, সে সময়েই। তারপর গুণগুণ করে গান গাওয়া। গিটার শেখা। বন্ধুদের সঙ্গে গেয়ে ওঠা। এভাবেই গানের সঙ্গে একটা সম্পর্ক দাঁড়িয়ে যায়। সিয়াম: আপনি কেন গান করেন? রুদ্র: মূলত নিজের মনের খোরাক থেকেই গানটা গাইতাম। পরে মানুষের ভালোবাসাটা সেই গানের নেশাকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছে। এখন মানুষের জন্যেই গান গাই। মানুষের ভাবনা, মানুষের চিন্তা, মানুষের জীবানাচার আমার গান গাওয়াকে প্রভাবিত করে। আমি চেষ্টা করি, আমার গানে মানুষের মনের কথাটাই বলতে। সিয়াম: শৈশবে সঙ্গীতের বাইরে আর কী নিয়ে আগ্রহ ছিল। রুদ্র: আমি হতে চেয়েছিলাম পাইলট বা ক্রিকেটার। যদিও প্রথমটি সম্পূর্ণরূপে ভেস্তে গেছে। তবে দ্বিতীয়টি প্রায় ঘটিয়েই ফেলেছিলাম। ঠিক সে মুহুর্তেই একটি দুর্ঘটনা সময়, স্থান, জীবন প্রায় সব উলট পালট করে দেয়। এরপরপরই গানকে মনে হলো যেন নিজের বিশ্বটাকে ফিরে পেলাম আবার। আবার শুরু হলো পথচলা। দেখি এবার কোথায় গিয়ে কখন থামে জীবন। সিয়াম: গানের এ্যালবাম আসছে কখন? রুদ্র: এখনই না। আমরা আসলে সবাই এখনো শিখছি। যদিও কোন শেখারই শেষ নেই। তবুও একটা লেভেল রয়েছে। আমরা সবাই ওই লেভেলটা প্রথমে ছুঁতে  চাই। তারপর যদি এ্যালবাম নিয়ে চিন্তা আসে তো করবো। সিয়াম: আপনি গান শোনেন বেশি নাকি গান নিয়ে চিন্তা বেশি করেন? রুদ্র: আসলে যেহেতু শিখছি তাই দুটোই জরুরি ভেবে দুটোই করি। দুটোই আসলে সমান গতিতেই করি। সিয়াম: গান গাইতে গিয়ে কখনো মনে দাগ কেটে যাওয়ার মত কিছু ঘটেছে? রুদ্র: দাগ কাটার মত অনেক অভিজ্ঞতাই আছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘটনাটাই বলি। আমি, বিশ্বজিৎ এবং শুভ ছিলাম। আমরা গিয়েছিলাম মুলত পথশিশুদের গান শোনাতে। ওই জায়গায় হাসান নামের একটা ছেলে, তার দুটো পা নেই, একটা হাত নেই। আমার গান শুনে পঙ্গু পথশিশুটি জড়িয়ে ধরে বলল, 'তুমি আমার ভাই হবে?' পরে সে আমাকে একটা উপহার দিয়েছিল। একটা রিচ ব্যান্ড। ওই ঘটনাটা কখনই ভুলতে পারিনা।  সিয়াম: আপনি তো বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। রাজনীতির মাঠে, গানের স্টেজে দুটোতেই সমান পদচারণা। কীভাবে মেলান? রুদ্র: দেখুন রাজনীতিটা করি মানুষকে ভালোবেসে। মানুষের অধিকার আদায়ে গানও যেমন করি, মাঠেও তেমন সক্রিয় থাকাটা জরুরি। দরিদ্র মানুষের শিক্ষার অধিকার আদায় এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়তে পারাটা আমার জন্য আনন্দের। সেটা মাঠেও হতে পারে, স্টেজেও হতে পারে। আসল কথাটা হচ্ছে মন থেকে চাইলে আসলে সবই করা সম্ভব। মনের ইচ্ছেটাই গুরুত্বপূর্ণ এখানে।  সিয়াম: গান নিয়ে কাজ করার পেছনে উৎসাহ কে দেয়? রুদ্র: গান গাওয়ার উৎসাহটা বাবা-মা দেন। সবচেয়ে বেশি বড় ভাইয়াই দেন। ব্যাকস্টেজ পরিবারের সবাই সবসময় আলাদা ইন্সপিরেশনের একটা জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। ব্যাকস্টেজ আমাদের কাছে এখন একটা পরিবারের মত। হাসি-ঠাট্টা আছে, খুঁনসুটি আছে, ভালোবাসা আছে। সিয়াম: ভবিষ্যৎ এ রাজনীতিতে আসার কোন চিন্তাভাবনা আছে কি? রুদ্র: হাহাহা, না। রাজনীতির মাঠে আমি পেছনের সারির লোক। গানের দিকেই বেশি ধ্যান-জ্ঞান। গান দিয়েই মানুষের কথা বলতে চাই। পাশে দাঁড়াতে চাই।  সিয়াম: অন্য কোনো পরিকল্পনা? রুদ্র: হ্যাঁ। নতুন প্রজন্মের অধিকার বঞ্চিত শিশুদের জন্য ৬৪ জেলায় ৬৪টি মিউজিক স্কুল করতে চাই। যাতে করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও গানের সঙ্গে থাকতে পারে।  এসজে
‘গান শুনে পথশিশুটি জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি আমার ভাই হবে?’
বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান / ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা সম্মানের, দয়া বা ভিক্ষার নয়’
(সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এই আন্দোলনের বিরোধীতা করে আসছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সমমনা কয়েকটি সংগঠন। এর মধ্যে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামক সংগঠনটি অন্যতম। এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রাশেদুজ্জামান শাহীন। তিনি আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোর সংকট নিয়েও আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার সিয়াম সারোয়ার জামিল।) কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কীভাবে দেখছেন? কোটা সংস্কার আন্দোলন একেবারেই অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোটা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। যাতে সব জায়গার মানুষের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সুষম বন্টন হয়। ধাপে ধাপে সেটা বিভিন্ন সময়ে সংস্কার হয়েছে। এই কোটা ব্যবস্থার ফলে পিছিয়ে পড়া নারী, প্রতিবন্ধীরা উঠে আসতে পারছে। অনুন্নত এলাকা থেকে, দরিদ্র পরিবার থেকে মানুষগুলো সরকারি কাজে নিজেকে সম্প্রদান করতে পারছে। যদি কোটা ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায় তবে রাষ্ট্রীয় কাজে সব শ্রেণির মানুষের উঠে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা রাষ্ট্রের জন্য হুমকীস্বরূপ। যারা আন্দোলন করছেন, তারা না বুঝেই আন্দোলন করছেন। কারণ, সবাইকে কোটা দেয়া হলেও মেধার পরীক্ষা আগে নিয়েই কোটার মাধ্যমে সব শ্রেণি থেকে সরকারি চাকরিতে লোক নেয়া হচ্ছে। বিভ্রান্তিটা তৈরি করেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।   আপনারা বলছেন, এই আন্দোলনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জড়িত। এটা কেন মনে হয়েছে? পৃথিবীর সব দেশেই বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন হয়। এখানেও হচ্ছে। সেটা দোষের কিছু না। কিন্তু কোটা সংস্কারের নাম করে আন্দোলনকারীরা কার্যত কোটা বাতিলের দাবিতেই আন্দোলন করেছে। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সময়েই বিভ্রান্তিকর ও স্বাধীনতাবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। তারা উপাচার্য স্যারের বাসা জ্বালিয়ে দিয়েছে, লুট করেছে। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসগুলোও সাম্প্রদায়িকতাকে ইঙ্গিত করে। তাদের ব্যানারে, প্ল্যাকার্ডে, বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অপমান করা হয়েছে। ফেসবুকে বাজেভাবে ট্রল করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্য সন্তান। পৃথিবীর কোনো দেশে এভাবে অপমান করা হয় না। যে রাজাকার শব্দটা সবচেয়ে ঘৃনীত, সেই শব্দটাই তারা বুকে লিখেছে। ২০১৩ সালে আমরা যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিয়েছিলাম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার। অথচ সেই সুরে এই আন্দোলনকারীরা বুকে লিখেছে মুই রাজাকার, মুই রাজাকার। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানজনক। এসব আলামতে স্পষ্ট হয় স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল। -------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : খালেদার আত্মীয়ই তার নামে দুর্নীতির মামলা করেছে: মতিয়া -------------------------------------------------------- প্রধানমন্ত্রী কোটা প্রথা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এটাকে আপনারা কীভাবে দেখছেন? প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু তিনি এই সিদ্ধান্ত মন থেকে নেননি। অভিমান করেই নিয়েছেন। এত বড় একটা সিদ্ধান্ত অভিযান থেকে নেয়া উচিত হবে। এটা আমাদের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। তাই আমরা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছি। কোটা বহাল ছাড়া আর কি কি দাবি করছেন আপনারা? রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্তরসূরিদের সকল চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন করতে হবে। প্রিলিমিনারি থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। কোটা বাতিলের প্রতিবাদে বেশ কিছু কর্মসূচি দিয়ে আসছেন। কিন্তু এতগুলো সংগঠনে বিভক্ত হয়ে কেন?  মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোন্দল মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের মাঝেও ছড়িয়েছে।  এটা সত্যিই আমাদের জন্য দু:খজনক। একক কোনো সংগঠনের ব্যানারে সবাইকে এক করাটাও মুশকিল। তবে আমরা বিভিন্ন সময়ে সমন্বয় করে যুগপৎভাবেও কর্মসূচি পালন করি। দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান প্রায় ৮-১০ লাখ। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উচিত ছিল, এদের সংগঠিত করা। কিন্তু সেটা হয়নি। খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রতিষ্ঠা পায়। আমাদের পঞ্চাশ হাজার সদস্য আছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাতের আঁধারে গঠনতন্ত্র পরিপন্থী একটি কমিটি এসে যায়। এরপরে গঠনতন্ত্র থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম ফেলে দিয়ে তৎকালীন সরকারপন্থীরা নতুন সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড গঠন করে। পরে আরো কিছু সংগঠন হয়। দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়ে ৮-৯ টি সংগঠন আছে, প্রজন্ম নিয়ে আছে ২৭ টি সংগঠন। একেকটার নাম খুবই অদ্ভুত। কোনো কোনোটি সাম্প্রদায়িক নামও ধারণ করেছে। পাশাপাশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছে। সরকার চাইলেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বের করে দিতে পারতো। কিন্তু কোনো সরকারই সেটা সঠিকভাবে করেনি। দলের লোকজনকে জায়গা দিতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেছে। এতে করে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লোকজনের মধ্যে হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে না পারুক, এভাবে অপমান করার তো দরকার নাই।   মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিয়ে সবাই রাজনীতি করতে চায়। সেই রাজনীতির বলি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নতুন প্রজন্ম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা তাদের কাজে আন্তরিক না। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা হচ্ছে বিভক্ত। অন্যদিক স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ। আপনি বললেন ৮-১০ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছে। কিন্তু আপনাদের আন্দোলনে সেই পরিমাণ সক্রিয়তা দেখা যায়নি। এটা কেন? আমরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। বেশ কয়েকটি সংগঠন কাজ করছে। যারা কোটা আন্দোলন করছে, তারা বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের কেউ গ্রামে থাকে, কেউ চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ পড়াশোনা করে। সবাই তো আর শিক্ষার্থী না। ফলে সবাই বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থক থাকলেও আন্দোলন সেইভাবে গড়ে তোলা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে কোটা আন্দোলন নিয়ে সমাধানের পথ কী? মুক্তিযোদ্ধারা কিন্তু সিংহভাগই দরিদ্র পরিবার থেকে আসছেন। অপরদিকে যারা স্বাধীনতাবিরোধী-রাজাকার তারা কিন্তু অপেক্ষাকৃত ধনী। তাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তুলনা হবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাদের জন্য যদি ন্যুনতম এই কোটা না রাখা হয়, সেটা এক ধরনের অপমানই করা হবে এমন নয়, ওই পরিবারগুলোকে রাস্তায় ফেলে দেয়া হবে। আদর্শহীন মেধা দেশের জন্য ক্ষতিকর। জাতিসংঘে কোটা আছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে কোটা আছে, আইএমএফে কোটা আছে। বিশ্বের সবজায়গাতেই কোটা ব্যবস্থা আছে। কারণ হচ্ছে, সব শ্রেণির মানুষকে একই কাঠামোর মধ্যে স্থান দেয়া। একটা সুষম বন্টন সৃষ্টি করা। সবকিছু বিবেচনা নিলে কোটা যৌক্তিক। স্বল্পউন্নত দেশের সুষম উন্নয়নের স্বার্থেই কিন্তু এই কোটা ব্যবস্থা জারি রাখা দরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাচ্ছি, কোটা ব্যবস্থা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন। দেশের স্বার্থেই তাকে এই বিবেচনাটা করতে হবে। আরও পড়ুন : সরকারের মদদেই বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি: ফখরুল কোটা সংস্কার : প্রধানমন্ত্রীর কাছে কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসজে    
‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা সম্মানের, দয়া বা ভিক্ষার নয়’
‘শিশুদের উচ্ছ্বাস আমার খুব ভালো লাগে’
নাইস নূর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে সিনিয়র নিউজরুম এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন দেশের শীর্ষ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নাইস নূরের লেখা  ‘Blind Princess and The Fairy’ ও ‘অ বন্ধু ঔ’ নামের দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বই এবং অন্যান্য বিষয়ে নাইস নূর কথা বলেছেন আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে। ‘Blind Princess and The Fairy’ বইটি সম্পর্কে কিছু বলুন শিশু-কিশোরদের জন্য ইংরেজিতে লেখা রুপকথার বই এটি। বইটি প্রকাশ করেছে ‘ঝিঙেফুল’। বইটির প্রকাশক গিয়াস উদ্দীন খসরু। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৭৫ টাকা। Blind Princess আমার গল্পের একটি চরিত্র। আমার আগের একটি বই ‘A Tale Of Blind Princess’ সেটার সিক্যুয়েল নতুন বইটি, তবে গল্পটি আলাদা। আগের বইটি প্রকাশের পর বেশ সাড়া পেয়েছিলাম। সেকারণে নতুন এই বইটি লেখা। বইটিতে একটা ম্যাসেজ দিয়েছি সেটি হলো, ‘অপেক্ষার ফল সবসময় ভালো হয়। কখনও হতাশ হওয়া যাবে না কাজ করে যেতে হবে’। এর মধ্যে কবি আসাদ চৌধুরী, মুহম্মদ  জাফর ইকবাল স্যার বইটির প্রশংসা করেছেন। সাধারণ পাঠকদের মাঝেও ভালো সাড়া পেয়েছি। ইংরেজিতে বইটি লেখার কারণ কি? শুদ্ধ বাংলা ভাষা জানার পাশাপাশি আমাদের ভালো ইংরেজি শেখাটা জরুরি। কারণ ইংরেজি হলো আন্তর্জাতিক ভাষা। এটি সব ক্ষেত্রেই লাগে। শিশুদের জন্য ইংরেজিতে গল্পের বই লেখার অন্যতম একটি কারণ হলো গল্প পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভাষাটা শেখাও হয়ে যাবে। এবারের বই মেলায় আমার বাংলায় একটি বই প্রকাশিত হচ্ছে নাম ‘অ বন্ধু ঔ’। স্বরবর্ণ নিয়ে লেখা বইটিও খুব মজার। শিশুরা পছন্দ করবে বলে আমার বিশ্বাস।        মার্ক জাকারবার্গকে বইটি উৎসর্গ করার কারণ কী? সামাজিক যোগাযোগ করার জন্য ফেসবুকের বিকল্প নেই। আমি ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল গল্প লেখার চেষ্টা করছি। আজ থেকে কয়েক বছর আগে যখন আমি ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করি তখন এই ওয়েবসাইট আমাকে লেখালেখির জগতের মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হতে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছে। বলতে পারেন, কিছুটা ভালো লাগা ও উচ্ছ্বসিত হয়েই আমি মার্ক জাকারবার্গ ও তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান এবং তাদের দুই কন্যা ম্যাক্সিমা চেন জুকারবার্গ ও অগাস্টকে বইটি উৎসর্গ করেছি। আপনার অন্যান্য বই সম্পর্কে জানতে চাই? আমার লেখা উল্লেখ্যযোগ্য বইগুলো হলো- ‘কার্টুনের দেশে মনিকা’, ‘সাদমানের ক্রিকেটার বন্ধু’, ‘জেবার প্রিয় বারবি ডল’, ‘শুন্ডু ভূতের পাঁচকন্যা’ ও ‘না ছোঁয়ার স্পর্শ’ ইত্যাদি। একুশে বইমেলা ছাড়াও সব বই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন বুক শপ রকমারি ডটকমে। শিশুদের জন্য বই লেখার কারণ কী? শিশুদের উচ্ছ্বাস আমার খুব ভালো লাগে। ওরা যখন আমার বই পড়ে কিংবা আমার বই নিয়ে খেলে এই বিষয়গুলো আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়। আর শিশুরাই তো আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের জ্ঞানের ভিত্তিটা ভালো হতে পারে বই পড়ার মাধ্যমেই।  আপনি তো নাটক লেখার সঙ্গে জড়িত? হ্যাঁ, আমার লেখা প্রথম নাটক ‘চাঁদের পালকী’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়। এরপর মেঘ বৃষ্টি অতঃপরসহ বেশ কিছু নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। কিছুদিন আগে আমার লেখা ‘চুপ কথা’ নামে আরও একটি নাটকের শুটিং হয়েছে। সামনে বেশ কিছু কাজের ব্যাপারে কথা চলছে। আপনি সাংবাদিক হিসেবেও বেশ পরিচিত। এই পেশাটি কেমন লাগে? এটা আমার ভালো লাগার জায়গা। অনেক গুণী মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছি শুধু সাংবাদিকতা করি বলেই। তাদের কাছে থেকে ভালো জিনিসগুলো শেখার চেষ্টা করি। পেশাটি আমাকে আলোকিত করেছে বলে আমি মনে করি। আরও পড়ুন:  বিমানে ওঠা এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ আদালত নির্দেশ দিলে খালেদা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন : সিইসি এম/পিআর
‘শিশুদের উচ্ছ্বাস আমার খুব ভালো লাগে’
আরও পড়ুন
নির্বাচনে ১২টি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র
আ.লীগের প্রতিটি কর্মীর ঘরই আমার ঘর: তন্ময়
নুহাশ হুমায়ূনের ‘পিৎজা ভাই’
আমদানি- রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে ৭ পদে ১১৪ জন নিয়োগ