ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই জোটের বৈঠকে বসেছে জামায়াত 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই অন্য জোটসঙ্গীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটসঙ্গীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বৈঠকে অংশ নেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে শুরু হওয়া বৈঠকের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর পক্ষ থেকে কিছু জানানো না হলেও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল।

এদিকে বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

বৈঠকে নিজেদের কোনও নেতা নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে আমাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তবে, সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি পরবর্তীতে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে এবং দলের ভেতরে একাধিক স্তরে বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। একই ধরনের অবস্থান মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসেরও।

গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলেও পরে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়।

পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনুরোধে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথকভাবে একটি বিবৃতি দেয়।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি জোটে যোগ দেয়। পরবর্তীতে দলগুলো স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়।

জোটের কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা জানান, শুরুতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন সমঝোতার নীতি থাকলেও পরে কয়েকটি দল নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা দাবি করতে শুরু করে। এতে ইসলামী আন্দোলন ৭০টির বেশি আসন চাইলে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫টি আসন দিতে রাজি হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ২৫টি আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ১৫টি আসন দিতে চায়। অন্য নয়টি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফতে মজলিসের সঙ্গে এখনও আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি।

এছাড়া, জোটের নেতারা জানান, জামায়াত কিছু সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছে, যা অন্য দলগুলো ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টিকে আসন সমঝোতায় আনার ক্ষেত্রে জামায়াত তাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করে, যা আগে অন্য শরিকদের জানানো হয়নি। এতে অসন্তোষ তৈরি হয়।

এদিকে জোটের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও ভাঙনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বগুড়া-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূর মোহাম্মদের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। বুধবার দুপুরে তিনি তার ভেরিফাইড প্রোফাইলে লেখেন, ‘হ্যাঁ, সত্য এটাই— ১১ দলের সমঝোতা ভেঙে যাচ্ছে।’

নূর মোহাম্মদ তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ইসলামি আন্দোলন গত রাতে তাদের মজলিসে শুরা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের ডেকে মতামত নিয়েছে। সেখানে অধিকাংশ সদস্যই জোটের সমঝোতা থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সমস্যার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে নূর মোহাম্মদ লিখেন, ইসলামী আন্দোলনকে সমঝোতায় চূড়ান্তভাবে ৪৫টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের দাবি এখন ৬৫-৭০ আসনের মতো। নির্বাচন পরবর্তী সরকার কাঠামো নিয়েও স্পষ্ট ঘোষণা চায়। সরকার গঠিত হলে কে কোথায় থাকবে, এগুলো স্পষ্ট চায়। ইতোমধ্যে অনেককিছু স্পষ্ট করা হয়েছে, যেগুলো আরও স্পষ্ট করা দরকার, সেগুলো নিয়ে আলাপ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ইসলামি আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের ওপর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। জোটের কারণে অনেক আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করায় ওই সব এলাকার নেতাকর্মীরা নাখোশ, যা শীর্ষ নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাদেক হোসেন খোকার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
সাদেক হোসেন খোকার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি, বিদায় বাংলাদেশ: আসিফ মাহমুদ
ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২টা দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি। বিদায় বাংলাদেশ!’ ওই পোস্টে বিমানের ভেতরে অবস্থান করা একটি ছবিও যুক্ত করেন তিনি। ছবিতে আসিফের সঙ্গে রয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তবে তারা কোথায় যাচ্ছেন সেটি উল্লেখ করেননি পোস্টে। এদিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পোস্টে ৯০ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে। সাড়ে ৪ হাজার নেটিজেন বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। দুই শতাধিক ব্যক্তি পোস্টটি শেয়ার করেছেন। আরটিভি/এসআর 
আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি, বিদায় বাংলাদেশ: আসিফ মাহমুদ
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা 
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা 
‘সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দিয়ে পালিয়ে যাবে’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে  বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, ওই সাপই একদিন ছোবল দিবে। ছোবল দিয়ে সাপ কিন্তু পালিয়ে যাবে। কিন্তু পড়ে থাকবে আপনাদের লাশ।
‘সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দিয়ে পালিয়ে যাবে’
পোশাক শ্রমিক আন্দোলন, নাশকতা ঠেকাতে মাঠে যুবদল
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর মিরপুরে বেশ কয়েকটি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে যুবদলের নেতাকর্মীরা।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে সোমবার (০২ নভেম্বর) রাস্তায় যুবদলের অবস্থান দেখা যায়। মঙ্গলবারও (০৩ নভেম্বর) সেই অবস্থানেই আছেন তারা।    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বরে অভিমুখে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে মিছিল করেন যুবদল নেতাকর্মীরা। এ সময় সরকারের পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। পরে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন তারা।    ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আইয়ুব আলী বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে আগের তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই আন্দোলন শুরু হলো! একইসঙ্গে শুরু হলো ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ। এ ঘটনাগুলো কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের হতে পারে না।  তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা। সেই দাবি মেনে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। দ্রুতই তাদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা হবে। কিন্তু সব দাবি মেনে নেওয়ার পরও এখনও কেন অবরোধ-সহিংসতা হচ্ছে?  ‘এখনও কেন জনমনে আতংক সৃষ্টি এবং দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে? এটা স্পষ্ট যে, এখন যারা আন্দোলন করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের ছদ্মবেশে সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।’ যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য শাহিনুজ্জামান মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা নাশকতা আমরা সমর্থন করি না। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল হক হিমেল, মনিরুল ইসলাম মনির, জুলহাজ আহমেদ, সাবেক সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, কামরুল ইসলামসহ যুবদলের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
পোশাক শ্রমিক আন্দোলন, নাশকতা ঠেকাতে মাঠে যুবদল
আরও পড়ুন
কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে হুমায়ুন কবির
পোশাক শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বিকেলে বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে ইউজিসির পরামর্শক কমিটির বৈঠক