সমাজে যেকোনো ব্যক্তির মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত: মির্জা ফখরুল

বাসস

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৯:০৩ এএম


‘সমাজে যেকোনো ব্যক্তির মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরনো ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশপ্রেম, সাহস, সততা, সহজ-সরল-অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য। সমাজে যেকোনো ব্যক্তির মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়া হচ্ছেন এক আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ছিলেন তার জীবদ্দশায় সকল ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান।   

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিলো দুর্ভিক্ষের করালগ্রাসে, বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে, জাতির এরকম এক মহাসংকটকালে ৭ নভেম্বর সৈনিক জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সকল সংকটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।  

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, উৎপাদনের রাজনীতি, দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে তিনি কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব, সেচ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনঃখনন করেন। গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষর দান করেন। এ ছাড়া গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, ফলে তার আমলে ২৭ হাজার ৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগপ্রাপ্ত হয় এবং তাতে গ্রামীণ জনগণের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি হয়। তিনি যেমন ছিলেন গণতান্ত্রিক তেমনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, শহীদ জিয়া যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন নির্ভীক যোদ্ধা। যে কারণে তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ গঠন করেন। এভাবেই তিনি স্বীয় জাতির মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন। তাই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের নীলনকশা বাস্তবায়নের কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তার এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাত কঠিন গণঐক্য।

আরও পড়ুন

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনেই আমাদের জাতিসত্তার সঠিক স্বরূপটি ফুটে ওঠে, যা আমাদের ভৌগোলিক জাতিসত্তার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ আমাদের দৈশিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখারও অবিনাশী দর্শন। আমি এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক সাম্য, ন্যায়-বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission