‘যাদের চিন্তা ও ভাষা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চাই না’

আরটিভি নিউজ

রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:৫৯ পিএম


‘যাদের চিন্তা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চাই না’
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যাদের চিন্তা ও ভাষা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, তাদের আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চাই না। আমরা তাদের চাই না।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন সড়কে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।   

ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক ক্যাম্পাসে আমাদের নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করেছে। এই প্রতিবাদের পেছনে একটি স্পষ্ট কারণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোটের প্রিমিয়ার নেতা ড. শফিক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যেখানে আমাদের মা ও বোনদের প্রতি অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য কোনো সভ্য সমাজই মেনে নিতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে, কেন নতুন প্রজন্মের তরুণরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। যাদের চিন্তা ও ভাষা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, তাদের আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চাই না। আমরা তাদের চাই না। এ কারণেই আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশের সরকারি দায়িত্ব আমরা কোনোভাবেই উগ্রপন্থিদের হাতে তুলে দিতে পারি না। বাংলাদেশ একটি উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত– এই দেশের মানুষ বারবার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছে। এই ইতিহাস এত সহজে মুছে ফেলা যাবে না। দেশ এখন সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। এই নির্বাচনে অনেকগুলো শক্তি নেই, শুধু দুটো শক্তি আছে। একটা হলো, উদারপন্থি গণতান্ত্রিক শক্তি, যেটার নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আর আরেকটা হলো উগ্রপন্থি ডানপন্থি শক্তি, যার নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। এই উগ্রপন্থি শক্তির নেতৃত্ব ইতোমধ্যে পরিষ্কার করেছে, আপনারা যদি তাদেরকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন আগামীতে আপনাদের ভোটের অধিকার নাও থাকতে পারে।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, আমাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা অন্য যেকোনো ধর্মাবলম্বী ভাই ও বোনদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কথা পরিষ্কারভাবে এই এলাকার জোট প্রার্থী মামুনুল হক বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

কিছু ভয় দেখানোর গল্প, কিছু হুমকির ভাষা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনোবল ভাঙা যাবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী কর্মীরা এসব ভয় পায় না। প্রয়োজন হলে আমরা গণতন্ত্রের পক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকব। আগামীর বাংলাদেশকে আমাদের স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবেই ধরে রাখতে হবে। আর এই মুহূর্তে সেই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র পথ হলো ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়া।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আপনারা যদি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি– এই ওয়ার্ডে শুধু ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমার ইশতেহারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো, প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ওপেন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় উপস্থিত থাকবেন সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা– থানা, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, সিটি করপোরেশনসহ সবাই। তারা সরাসরি ওয়ার্ডের জনগণের মুখোমুখি হবেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও ইনশাআল্লাহ প্রতি মাসে অন্তত একবার আপনাদের মধ্যে উপস্থিত থাকব। শুধু উপস্থিত থাকব না– আপনারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারবেন, জবাব চাইতে পারবেন, জবাবদিহির আওতায় আনতে পারবেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র মানে পাঁচ বছরে একবার ভোট দেওয়া নয়, গণতন্ত্র মানে সরকারকে সবসময় জনগণের কাছে জবাব দিতে বাধ্য করা।

‘আপনারা যদি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেন, তাহলে প্রতি মাসে ন্যূনতম একবার আমাকে আপনাদের মাঝেই পাবেন। জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলাই হবে আমার রাজনীতির মূল শক্তি।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, গ্যাস সংকটের কথা যদি বলি, এটা সত্যিই একটি গভীর জাতীয় সংকট। এই সংকটের অন্যতম বড় কারণ হলো গত ১৫-১৬ বছরে দেশে কোনো উল্লেখযোগ্য নতুন গ্যাস এক্সপ্লোরেশনে যাওয়া হয়নি। কেন হয়নি, তার পেছনে নানা রাজনৈতিক ও নীতিগত কারণ থাকতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, এর ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। আমাদের অবস্থান এ বিষয়ে পরিষ্কার। ইনশাআল্লাহ আগামী জাতীয়তাবাদী সরকার গঠিত হলে, যার নেতৃত্বে থাকবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন গ্যাস এক্সপ্লোরেশনে যাব। এটা আমাদের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি।

তিনি আরও বলেন, এই এলাকার গ্যাস সংকট নিরসনে আমরা ইতোমধ্যে তিতাস কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছি। চোরাই গ্যাস লাইন বন্ধ করা, পাইপলাইনের লিকেজ ঠিক করা, প্রয়োজনে পাইপ পরিবর্তন– এই কাজগুলো আরও জোরদারভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে যদি আমরা সরকারি দায়িত্বে আসি। এই দায়িত্ব বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতাও আমাদের প্রয়োজন হবে।

‘আমরা ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করব। ফুটপাথ হবে পথচারীদের জন্য, দোকানের জন্য নয়। রাস্তা হবে মানুষের চলাচলের জন্য, অবৈধ দখলের জন্য নয়। তবে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই– যেসব ব্যবসায়ী বর্তমানে সেখানে আছেন, তাদেরকে আমরা হঠাৎ করে উচ্ছেদ করব না। তাদের জন্য ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি এলাকাবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু রাস্তাকে নির্দিষ্ট সময়ে বা সাপ্তাহিকভাবে ‘মার্কেট স্ট্রিট’ হিসেবে গড়ে তোলার ধারণাও আছে– যেমনটা অনেক দেশেই দেখা যায়। এতে ব্যবসাও চলবে, আবার রাস্তা ও ফুটপাথও দখলমুক্ত রাখা যাবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের নেত্রী অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন হাসানুল হক পান্না, এমদাদ হোসেন এমদাদ, অ্যাডভোট আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission