ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে ১ কোটির বেশি তরুণ-তরুণী নেশাগ্রস্ত: শিবিরের সেক্রেটারি 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে এক কোটির বেশি তরুণ-তরুণী মাদকাসক্ত বলে মন্তব্য করেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা মাদক প্রবেশ করছে। মাদকের বিস্তার একটি জাতিকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ী কনভেনশন সেন্টারে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সিবগাতুল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালে আবু সাঈদসহ অসংখ্য মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা ভেবেছিলাম ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু নতুন একটি সরকার আসার পরও আমরা দেখতে পাচ্ছি, নানাভাবে মেধাবীদের থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিবিরের সেক্রেটারি বলেন, আমরা এমন একটি ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছি, যেখানে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক বাংলাদেশে পুশ করা হয়। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক দেশে আসে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় এক কোটির ওপর তরুণ-তরুণী নেশাগ্রস্ত। আমাদের তরুণ সমাজের একটি অংশ যখন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, তখন এটি দেশের জন্য বড় সংকট।

মেধাবীদের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শিবিরের সেক্রেটারি বলেন, একটি সমাজ তখনই এগিয়ে যায়, যখন মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হয় এবং তাদের সামনে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

শিবিরের সেক্রেটারি আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল করলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই জিপিএ-৫ পাওয়াকে চূড়ান্ত অর্জন মনে না করে পড়াশোনা ও দক্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

শিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, এ বছর এক লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে এর তুলনায় কম। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না। আবার জিপিএ-৫ না পেয়েও অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। তাই জীবনের প্রতিটি ধাপে নতুন করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা অত্যন্ত সৃজনশীল। বিভিন্ন বিজ্ঞান উৎসব ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। তরুণদের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ তুলে শিবিরের এ নেতা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে মানুষকে ঘুষ ও দুর্নীতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানসিকতা তরুণ সমাজের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

সিবগাতুল্লাহ বলেন, শুধু মেধাবী হলেই হবে না, সৎ ও দেশপ্রেমিক হতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা। মেধার সঙ্গে সততা ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হলে দেশ আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। একাত্তরের ঘাতক এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি আজ একাট্টা হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে ভবিষ্যতে জামায়াত নেতাদেরই আবারও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে।
আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি শিবির নেতার
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতা–কর্মীকে ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি শিবির নেতার
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: গোলাম পরওয়ার
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে।
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: গোলাম পরওয়ার
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে নিতে আবেদন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে নিতে আবেদন
যে আইনে বাতিল হতে পারে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি প্রশ্ন। দল থেকে বহিষ্কারের পর জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিলেই তার সংসদ সদস্য পদ সরাসরি বাতিল হবে কি না, নাকি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান কিংবা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’ অনুসরণ করতে হবে। সংবিধানের ৬৬, ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার বিভিন্ন শর্ত উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে কিংবা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো দল তার সদস্যকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এমন বিধান নেই। গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি প্রথমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে উত্থাপন করতে হবে। ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, বিরোধের বিষয়ে স্পিকার ৩০ দিনের মধ্যে একটি লিখিত বিবরণী প্রস্তুত করবেন। এতে বিরোধের বিষয়, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এবং বিরোধের পক্ষগুলোর বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এরপর স্পিকার ওই বিবরণী নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন। অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক দল থেকে ইসিতে চিঠি পাঠালেই কমিশন সরাসরি সংসদ সদস্য পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না; স্পিকারের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিতে পাঠানোর প্রয়োজন হবে। স্পিকারের পাঠানো বিবরণী পাওয়ার পর আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কার্যক্রম শুরু করবে। কমিশন ১৪ দিনের মধ্যে বিবরণীর অনুলিপি বিরোধের উভয় পক্ষকে পাঠাবে এবং তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের সুযোগ দেবে। এরপর কমিশন শুনানির জন্য নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষ সরাসরি অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল ও সাক্ষী জেরার সুযোগও থাকবে। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের মতো বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রয়োজনে কাউকে সমন জারি করে হাজির করা, শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি তলব করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, স্পিকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে বিরোধের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বা মতামত স্পিকারের কাছে পাঠাতে হবে। শুনানি শেষে কমিশন যদি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য ঘোষণার পর পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। ২০০০ সালে তৎকালীন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। পরে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিষয়টি স্পিকারের কাছে উত্থাপন করেন। স্পিকারের রেফারেন্সের পর নির্বাচন কমিশন শুনানি করে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে। একইভাবে, ২০১৫ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হলে বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে যায়। ইসিতে শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই লতিফ সিদ্দিকী নিজে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জামায়াতের পদক্ষেপের পর নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, স্পিকারের মাধ্যমে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক চিঠি ইসিতে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে জামায়াতের বহিষ্কারাদেশের পরই গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এবং এরপর নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে। আরটিভি/এসকে
যে আইনে বাতিল হতে পারে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ
আরও পড়ুন
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি শিবির নেতার
বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছি: নাছির
নির্ধারিত সময়ে প্রতিশ্রুত অ্যাম্বুলেন্স দিতে পারেনি রাবি শিবির
৮ দাবি নিয়ে ইবিতে সংবাদ সম্মেলন