যে ঐতিহাসিক ‘লাল বাড়ি’ বরাদ্দ হলো জামায়াত আমিরের জন্য

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:১৫ পিএম


যে ঐতিহাসিক ‘লাল বাড়ি’ বরাদ্দ হলো জামায়াত আমিরের জন্য
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য এক ঐতিহাসিক দোতলা লাল রঙের ভবন; যা ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত সেটি বরাদ্দ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ২৯ নম্বরের বাড়িটি অবস্থিত ঢাকার মিন্টো রোডে। 

বিজ্ঞাপন

বাসভবনটিতে দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় অনেকটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখন জোরেশোরে চলছে বাড়িটির মেরামত ও সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ। পূর্ত মন্ত্রণালয় দাবি করছে, বিরোধীদলীয় নেতার বসবাসের মতো উপযোগী করতে এখনো তাদের এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন

এই বাড়িটি ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত হয়। এটি মূলত একটি দোতলা লাল রঙের ভবন; যা ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক স্থান হিসাবে পরিচিত। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই বাড়িতে উঠেছিলেন। এরপর ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত এখানেই নিয়মিত অফিস করেছেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বাড়িটি তখন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম থাকত। মানুষের যাতায়াতে প্রাণবন্ত থাকত চারপাশ। ২০০১ সালে তিনি বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার পর ২৫ বছর ধরে এখানে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।

বিজ্ঞাপন

বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী বলেন, এ বাড়িটির প্রায় নব্বই ভাগ কাজ সম্পূর্ণ করা আছে। এখন রাস্তার অংশ আর রঙের ফিনিশিং কাজ চলছে। আসবাবপত্র দেওয়া হবে যিনি থাকবেন তার চাহিদার ওপর। গত ২৫ বছর এ বাসভবনে কেউ থাকেননি। এবার যদি কেউ থাকেন তার সঙ্গে কথা বলে এবং সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলবে। 

জানা গেছে, এ বাড়িটি ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এখানে অসংখ্যবার বৈঠক করেছেন। গত ২৫ বছরে কেউ না উঠলেও এবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসাবে এখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা জানান, তাদের দলের আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শপথের পর এবং আগে বলেছেন জামায়াত ইতিবাচক রাজনীতি করবে। যেহেতু বাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ তাই সেখানে তিনি উঠতে পারেন এমনটি ধারণা করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে বা আমিরের পক্ষ থেকে ওই বাড়িতে ওঠার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সচিবালয় বা সরকার নিয়ম অনুসারেই বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ মিন্টো রোডের বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। ওই বাড়িতে তিনি উঠবেন কিনা বা উঠলে কবে নাগাদ উঠবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে দলের কোনো ফোরামে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, সংসদ তো এখনো বসেনি। অধিবেশন শুরু হোক, তখন আমরা দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে জানাব।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের কথা ভেবেই এ বাসভবন তৈরি করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একসময় এটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় বাসভবনটি এখন অনেকটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একটি নিভৃত বাসভবন হিসাবে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে মন্ত্রিপাড়াখ্যাত মিন্টো রোডের এ বাড়িটি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত থাকা এ বাসভবনের আশপাশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, একজন বিচারপতি, একজন নির্বাচন কমিশনার, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবন রয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission