
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, তার দৃষ্টিতে জামায়াত মহান ধর্ম ‘ইসলামকে’ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে তা ইসলামের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রংপুরের পীরগঞ্জে জামতলা আল জামিয়াতুল উলুম মাদ্রাসায় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকট সমাধানের দাবিতে আয়োজিত লং মার্চের কারণে সংকট আরও বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি জ্বালানি সংকটের পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও দেশে গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাখ্যা না করে সংকটের বাস্তব কারণগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, তাহলে সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়েও জামায়াতকে বাস্তবতা বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে নেওয়া দুটি টার্মিনাল প্রকল্প বাতিল করার বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, ওই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকলেও বর্তমান মাত্রায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা নাও দিতে পারত।
জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াতের কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগের সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি কতটা জনবান্ধব, সেটি বিবেচনা করা দরকার।’
রংপুরে লং মার্চে ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক গাড়ি আসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এত বড় কর্মসূচির ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কোনো দেশ বা বিদেশি উৎস থেকে এ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এ সময় ডিসেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামার কথা বলা হচ্ছে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরও ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর কথা বলেছেন। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক সমন্বয় বা পরিকল্পনা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করার কোনো উদ্যোগ থাকলে জনগণ তা বুঝতে পারবে। জামায়াত ও এনসিপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়েও মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরটিভি/ এসকেডি




