১ বছর পর দেশে ফিরল প্রবাসী মিন্টুর মরদেহ

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২৪ এএম


১ বছর পর দেশে ফিরল প্রবাসী মিন্টুর মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ায় মৃত্যুর এক বছর পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রূপগঞ্জের প্রবাসী মিন্টু মিয়ার (৫১) মরদেহ।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিন্টুর মরদেহ গ্রহণ করেন তার স্ত্রী তোফা খানম।

পরিবারের দীর্ঘ এক বছরের চেষ্টার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

জমি বিক্রি ও ঋণ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া গিয়েছিলেন মিন্টু মিয়া। প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সেখানে ছোট একটি রেস্টুরেন্ট শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই বাধার মুখে পড়েন। সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য ওই স্থাপনাটি ভেঙে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এক কম্বোডিয়ান নাগরিকের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন মিন্টু। কিন্তু সেখানেও তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর গত বছরের ২৬ আগস্ট মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আর তার মৃত্যুর পরপরই অবশিষ্ট সবকিছুই লুটে নেন অজ্ঞাতরা।

আরও পড়ুন

মিন্টু মিয়াই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। এমনকি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতেও সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয় পরিবারকে। দীর্ঘ চার মাস বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালালেও তারা সফল হয়নি। কারণ মিন্টু ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়া যাওয়ার পর বিজনেস ভিসা নেন। ফলে বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় তিনি দেশে নথিভুক্ত ছিলেন না। এই জটিলতা মোকাবিলা করে মরদেহ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন পক্ষ ৭ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯ লাখের বেশি। ঋণে জর্জরিত পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ নভেম্বর মিন্টু মিয়ার স্ত্রী তোফা খানম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উইটনেস ফাউন্ডেশনে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা করে। এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বয় ও ধারাবাহিক অনুসরণের মাধ্যমে অবশেষে সরকারি তহবিলের সহায়তায় মরদেহটি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

উইটনেস ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন কো-অর্ডিনেটর রাগীব হাসান জানান, অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন এবং সংকটে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা সংগঠনটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে। সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মিন্টু মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission