
মালয়েশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও কালিমান্তান (বোর্নিও) দ্বীপে সৃষ্ট ভয়াবহ দাবানল এবং কৃষি জমি পরিষ্কার করার জন্য বন পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো মালয়েশিয়া।
জনজীবনে স্বস্তি দিতে ধোঁয়াশার প্রভাব কমাতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর জন্য শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ও আগামীকাল ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম চালানো হবে। এই অভিযানটি জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (নাদমা), মালয়েশীয় আবহাওয়া বিভাগ (মেটমালয়েশিয়া), মালয়েশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএম) এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্স (আরএমএএফ)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত হবে।
নাদমার মহাপরিচালক দাতুক মেওর ইসমাইল মেওর আকিম বলেছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের (ডিওই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পিএম২.৫-এর মাত্রা ১৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জড়িত থাকবে এবং মেঘ বপন কার্যক্রমের প্রধান উপকরণ হিসেবে আরএমএএফ-এর একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান কাজ করবে।
তিনি বলেন, তবে, এই কার্যক্রমটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত মেঘের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, ধোঁয়াশার প্রভাব কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বায়ুর মান উন্নত করতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর মধ্যে এই অভিযানটি অন্যতম।
পরিবেশ দপ্তরের বায়ু দূষণ সূচক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এপিআইএমএস) অনুসারে, আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত পুত্রজায়া, কুয়ালালামপুর এবং সেলাঙ্গরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোসহ মোট ১৭টি কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর এপিআই মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
পুত্রজায়ার এপিআই রিডিং ছিল ১১১, অন্যদিকে চেরাস এবং বাতু মুদার রিডিং ছিল যথাক্রমে ১৩৯ এবং ১২৪। সেলাঙ্গরের শাহ আলমের এপিআই রিডিং ছিল ১৫৪।
যেসব বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর এপিআই (API) রিডিং রেকর্ড করা হয়েছে, তার মধ্যে সাতটিই সারাওয়াকে অবস্থিত। সেরিয়ানে সর্বোচ্চ রিডিং ১৭৬ রেকর্ড করা হয়েছে, এরপর কুচিং-এ ১৭২, শ্রী আমানে ১৬৬, সামারাহানে ১৬৫, সিবুতে ১৫৮, সারিকাই-এ ১৫০ এবং বিন্টুলুতে ১০৩।
আরটিভি/এমএ


