ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) রোববার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪০ পিএম
ফাইল ছবি

রোববার (৯ অক্টোবর) ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নেন বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)। পরে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

দিনটি পালন করতে দেশব্যাপী নানা আয়োজন করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবি (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার (৮ অক্টোবর) বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। এর আগে তিনি বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার উদ্বোধন করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সেমিনার, ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত, স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনবিষয়ক সেমিনার, বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ।

এ ছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন ও সাতটি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ব শান্তির দুর্ভিক্ষে ভুগছে : পোপ
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, বিশ্বে শান্তির খুব অভাব। বর্তমানে বিশ্ব শান্তির দুর্ভিক্ষে ভুগছে। এসময় পোপ ইউক্রেনে চলমান কাণ্ডজ্ঞানহীন যুদ্ধ অবসানের জন্য আহ্বান জানান। রোববার (২৫ ডিসেম্বর) ভ্যাটিকান থেকে বার্ষিক ক্রিসমাস ডে বার্তায় এসব কথা জানান তিনি। চলমান যুদ্ধে খাদ্যপণ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের নিন্দা করেন পোপ। ফেব্রুয়ারিতে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। কারণ, ওই দুই দেশই বিপুল পরিমাণ শস্য রফতানি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এরপর জাতিসংঘ, তুরস্ক, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তির আওতায় খাদ্যপণ্য পরিবহনের করিডোর খুলে। ওই করিডোর দিয়ে ইউক্রেন বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ গম পাঠিয়েছে।  রুশ-ইউক্রেনের যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত মন্তব্য করে এ সময় তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে শান্তির বড়ো অভাব। ওই এলাকাগুলোতে শান্তির দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্য, মিয়ানমার, হাইতি এবং আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সংঘাত ও মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। পোপ ফ্রান্সিসের ১০ মিনিটের ভাষণের বেশিরভাগ অংশ দখল করে রেখেছিল ইউক্রেনের যুদ্ধ।  তিনি পোপ পদ গ্রহণের পর থেকে এটা ছিলো তার দশম বড়দিনের ভাষণ।
বিশ্ব শান্তির দুর্ভিক্ষে ভুগছে : পোপ
অহেতুক মন্দ ধারণা পাপ
মানুষের প্রতি মানুষের ভালো ধারণা ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে। মানুষে মানুষে দূরত্ব কমিয়ে কাছাকাছি নিয়ে আসে। আর মন্দ ধারণায় তৈরি হয় এর উল্টো চিত্র। তৈরি হয় মানুষের সাথে মানুষে শত্রুতা। মন্দ ধারণা অন্যায় ও অপকর্মের দিকে মানুষকে ধাবিত করে। এর সঙ্গে সম্পৃক্তরা গুনাহগার হয়ে থাকে। ভালো মানুষ সবসময় সুচিন্তা নিয়ে চলবে, এটা ইসলাম উৎসাহ দেয়। ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের যেনো মন্দ ধারণা না থাকে এটাই ইসলাম প্রত্যাশা করে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘সুন্দর ধারণা সুন্দর ইবাদতের অংশ’ (আবু দাউদ ৪৯৯৩)। পক্ষান্তরে কুধারণা মোটেও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। মন্দ ধারণা পোষণকারী ব্যক্তি হিংসা-বিদ্বেষ, দ্বন্দ্ব-কলহে ইন্ধন যোগায়। এ জন্য আল্লাহ মন্দ ধারণাকে হারাম করেছেন, মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘তোমরা মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাক’ (বোখারি ৬০৬৪)। মন্দ ধারণার কুফল সম্পর্কে সর্বদা সজাগ থাকতে ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না, তিনিই সর্বাধিক অবগত যে, কে বেশি পরহেজগার’ (সুরা নাজম-৩২)। মানুষ সম্পর্কে মন্দ ধারণা ধ্বংসমুখী করে, মানুষকে বিপথে পরিচালিত করে, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধারণা করেছিলে যে, মুহাম্মদ (সা.) ও মুমিনগণ তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে কিছুতেই ফিরে আসবে না। আর এ ধারণা তোমাদের জন্য খুবই সুখবর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে, আর তোমরা ছিলে ধবংসমুখী সম্প্রদায়’ (সুরা ফাতহ- ১২)।  আবু হাতেব ইবনে হিববান আল বাসাতি (রা.) বলেন, ‘জ্ঞানীদের ওপর আবশ্যক হলো অপর মানুষ সম্পর্কে মন্দ ধারণা থেকে নিজেকে পূর্ণভাবে মুক্ত রাখা। যে অন্য মানুষ সম্পর্কে মন্দ ধারণা করে, তার অন্তর মরে যায়, আত্মিক অশান্তি বেড়ে যায় এবং তার অন্যায় কাজও বেড়ে যায়’ (রওয়াতুল উক্বালা, পৃষ্ঠা- ১৩১)। মুহাম্মদ (সা.) মানুষের দোষ ও ছিদ্রান্বেষণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি মানুষকে নিজ নিজ দোষ সংশোধনে আত্মনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহর কাছে যে সব কথাবার্তার মূল্য নেই তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।   মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘ওহে যারা মুখে ঈমান এনেছ, অথচ এখনও অন্তরে ঈমান আননি। তোমরা মুসলিমদের নিন্দা করো না, তাদের ছিদ্রান্বেষণ করো না। যে ব্যক্তি অপরের দোষ খুঁজে আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করেন। আর আল্লাহ যার দোষ তালাশ করেন, তাকে তার নিজ বাসগৃহেই অপদস্ত করেন’ (আবু দাউদ- ৪৮৮০)। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অপরের সম্পর্কে মন্দ ধারণা থেকে মুক্ত করে ভালো ধারণা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
অহেতুক মন্দ ধারণা পাপ
বড়দিন উদযাপন শুরু
খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন উদযাপন শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে সেন্ট মেরি ক্যাথিড্রাল চার্চে গান ও প্রার্থনার মাধ্যমে বড়দিন উদযাপন শুরু হয়। প্রার্থনায় অংশ নিতে ভোরে চার্চে সমবেত হন খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা। প্রার্থনায় যিশুর মহিমাকীর্তন ও শান্তি এবং ন্যায়ের কথা বলা হয়। আজকের দিনে জেরুজালেমের বেথলেহেমে জন্ম নেন যিশু। এই দিনটিকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালন করে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানবজাতিকে কল্যাণ ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা করতে যিশুর জন্ম হয়েছে পৃথিবীতে।  বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্ট ধর্মানুসারীরা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আচার-অনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসব এবং প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন করছেন। বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের গির্জাগুলো জাকজমকপূর্ণভাবেই সাজানো হয়েছে। রাজধানীর কাকরাইলের রমনা সেন্ট ম্যারিস ক্যাথিড্রাল চার্চ, তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রানির গির্জা ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। কৃত্রিম ‘ক্রিসমাস ট্রি’ দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। গির্জা প্রাঙ্গণে রংবেরঙের বাতি দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে এবং ঈশ্বরের মহিমা প্রচারে যিশু খ্রিষ্ট এইদিনে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন।  সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে উৎসব উদযাপন অনেকটা অনাড়ম্বরভাবে হয়েছিল। তবে বড়দিনের আয়োজনে এবার চাকচিক্য বেড়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা শিথিল থাকায় এ আয়োজন আরও চমকপূর্ণ হয়েছে। রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোতে আলোক সজ্জার পাশাপাশি হোটেলের ভেতরে কৃত্রিমভাবে স্থাপন করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি ও সান্তা ক্লজ। শনিবার রাতে বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা হয়।  বড়দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনটি পালন উপলক্ষে দেশের অনেক অঞ্চলে আয়োজন করা হয়েছে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য বড়দিনকে বেছে নেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে।
বড়দিন উদযাপন শুরু
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রিসমাস যেভাবে পালিত হয়
খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস ডে বা শুভ বড়দিন রোববার (২৫ ডিসেম্বর)। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা সভা সহ নানা উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে এ সম্প্রদায়ের মানুষ।  খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্ট মানবজাতির উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিলেন। হিংসা বিদ্বেষপূর্ণ মানুষকে সুপথে আনার জন্যই তার আগমন হয়েছিল বলে মনে করেন এ সম্প্রদায়ের মানুষ। আগের দিন অর্থ্যাৎ শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকে পরের দিন রোববার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত চলে গির্জায় গির্জায় চলবে বিশেষ প্রার্থনা। বড়দিনে বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয় নানা পদের খাবার।  দিনটি উপলক্ষে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও এদিনে ছুটি থাকে। বন্ধু-বান্ধব, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন বিনোদন কেন্দ্র সহ একে অপরের বাড়িতে বেড়ান। সবার গায়েই থাকে নতুন পোশাক। শহরজুড়ে করা হয় হরেক রকম রঙ-বেরঙের টুনি বাল্বের আলো। ছোট ছোট কাটা আপেল, কমলা ও পপকর্ন দিয়ে সাজানো হয় ক্রিসমাস। উপহার নেবে নেচে নেচে মজার মজার উপহার বহন করা সান্তা ক্লজের কাছ থেকে। বিভিন্ন গির্জা ও উৎসব কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নানা উপহার দিয়ে বেড়ান সান্তা ক্লজ।  এবার জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশে বড়দিন কিভাবে পালন হয়-   বাংলাদেশ ১৬ শতকে পর্তুগিজরা বাংলাদেশে খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে আসেন। এ দেশে প্রথম গির্জাটি তৈরি হয় ১৫৯৯ সালে পুরাতন যশোরের কালীগঞ্জের কাছে সুন্দরবন এলাকায়। ভারতের কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা জব চার্নকই প্রথম দিবসটি উদযাপন করেন। ১৬৬৮ সালে হিজলির পথে যাওয়ার সময় সুতানুটি গ্রামে বড়দিন উৎসব উদযাপনের জন্য চার্নক যাত্রাবিরতি করেন। এ অঞ্চলে সেটিই ছিল ইংরেজদের প্রথম বড়দিন উদযাপন। দিনটিতে খ্রিষ্টানরা আনন্দ ফুর্তি করে এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা কার্ড ও উপহার দেয়। তৈরি হয় মজার মজার খাবার। গির্জায় গির্জায় আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।   ভারত ভারতে খুব ঘটা করে বড়দিন পালন করেন খ্রিষ্টানরা। ক্রিসমাস ট্রি সাজায় আমগাছ ও কলাগাছ দিয়ে। এ দিনে দক্ষিণ ভারতে- তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ঘরে ছোট প্রদীপ জ্বালায়। তবে দেশটির শহরের খ্রিষ্টানরা আবার পশ্চিমাদের মতোই বড়দিন উদযাপন করেন। আমেরিকা ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে আমেরিকানরাও জার্মানদের মতই সরেস। ক্রিসমাসের আগের দিন বাচ্চারা ক্রিসমাস ট্রির নিচে সুন্দর স্টকিংস ঝুলিয়ে রাখে যেখানে সান্তা উপহার রেখে যান। সকালে ওঠে উপহার পাবার লোভে তারা জলদি ঘুমাতে চলে যায়। তারা বিশ্বাস করে, সান্তা ৬টি রেইন ডিয়ারে গাড়িতে চড়ে বিশাল ঝোলাভর্তি চকোলেট, ক্যান্ডি আর উপহার নিয়ে এসে তাদের স্টকিং আর ক্রিসমাস ট্রির নিচে রেখে যাবেন। রাশিয়া পৃথিবীর সব দেশে ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস পালন করা হলেও রাশিয়ায় কিন্তু তা পালিত হয় ৭ জানুয়ারি। এর কারণ হলো রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুরনো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে থাকেন। কেউ চাইলে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালন করতে পারে। তবে সেখানে সবাই ৭ জানুয়ারিই বড়দিন পালন করে থাকে। বেলজিয়াম বেলজিয়ামে ৬ ডিসেম্বর ‘সিন্টারক্লজ বা সেইন্ট নিকোলাস’ নামে অনুষ্ঠান হয়। এটি ক্রিসমাস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আয়োজন। সান্তাক্লজকে বেলজিয়ামে বলা হয় ‘কেরস্টম্যান’বা ‘লি পেরে নোয়েল’। এ দিনে সান্তা ছোটদের জন্য উপহার নিয়ে আসেন। ব্রাজিল ব্রাজিলে সান্তা ক্লজকে পাপাই নোয়েল বলে ডাকা হয়। এদের আচার-অনুষ্ঠান অনেকটাই আমেরিকার সঙ্গে মিলে যায়। ব্রাজিলে যারা একটু বেশি ধনী, তারা ক্রিসমাসে খাবারের তালিকায় মুরগি, টার্কিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু পদ রাখেন। এছাড়া চকোলেট আর কনডেন্সড মিল্কের মিশ্রণে তৈরি মিষ্টিও থাকে। এর নাম ব্রিগেডেইরো। ব্রাজিলের সব বাসিন্দাই বড়দিন উপলক্ষে ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে থাকে। জার্মানি জার্মানরা বড়দিন উপলক্ষে তাদের ঘর সাজাতেই বেশি ভালোবাসে। জার্মানিতে ঘর সাজানোর জন্য খুবই সুন্দর জিনিস ব্যবহার করা হয়। তারা তাদের জানালায় কাঠের ফ্রেমে ইলেক্ট্রিক মোমবাতি জ্বালিয়ে তার সামনে কাগজ বা প্লাস্টিকের রঙ-বেরঙের ছবি টানিয়ে দেয়, যা রাতের বেলা বাইরে থেকে দেখতে খুবই মনোরম লাগে। ফ্রান্স ফ্রান্সে ক্রিসমাসকে বলা হয় নোয়েল। আর ক্রিসমাস ফাদার বা সান্তা ক্লজকে বলা হয় পেরি নোয়েল। ফ্রান্সের সবাই ক্রিসমাস ট্রিকে পুরনো ধাঁচের সাজে সাজাতেই বেশি ভালোবাসে। তারা তাদের ট্রির ওপরে লাল রঙের রিবন মুড়িয়ে তার সঙ্গে সাদা মোমবাতি দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজায়। নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ডে বড়দিনটি শুরু হয় ক্রিসমাস ট্রির নিচে রাখা উপহারের প্যাকেট খোলা দিয়ে। এরপর ক্রিসমাসের দুপুরের খাবার পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেয়ে থাকে। টার্কি আর মুরগির মাংস দিয়েই চলে খাবার পর্ব। এরপর শুরু হয় চা পানের আসর। আর রাতে পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে চলে বারবিকিউ পার্টি। পর্তুগাল পর্তুগালেও বড়দিনের অন্যতম আকর্ষণ ক্রিসমাস ফাদারের উপহার। বড়দিনের আগের দিন সন্ধ্যায় অর্থাৎ ক্রিসমাস ইভ-এ ট্রির নিচে বা চিমনির সামনে ঝোলানো মোজার মধ্যে ফাদার উপহার দিয়ে যান। আর ক্রিসমাস ইভ-এ মাঝরাতে সিদ্ধ আলু আর নোনতা শুকনো কড মাছ দিয়ে তারা ভোজ সেরে থাকে। সুইডেন সুইডেনে বড়দিন আয়োজনে অন্যতম দিন হলো ক্রিসমাস ইভ। সুইডেনবাসীরা একে অপরকে উপহার দিয়ে আর শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্রিসমাস উদযাপন করে থাকে। ইতালি ইতালিতে বড়দিন উদযাপন শুরু হয় ৮ ডিসেম্বর থেকে। শেষ হয় ৬ জানুয়ারি। সেদিন ওখানকার সবাই ক্রিসমাস ট্রি তৈরি করে। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের পাশাপাশি সেইন্ট স্টিফেনস ডেও পালন করে তারা। ইতালিতে বড়দিনে ওখানকার বাচ্চারা রাখাল সেজে পাইপ বাজিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড়দিনের গান গায় আর ছড়া কাটে। বিনিময়ে তাদেরকে টাকা দেয়া হয়। আর সেই টাকা দিয়ে ওরা বড়দিনের উপহার কেনে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রিসমাস যেভাবে পালিত হয়
আজ শুভ বড়দিন
খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন রোববার (২৫ ডিসেম্বর)। খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্ট এই দিনে বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা এ দিনটিকে তাই ‘শুভ বড়দিন’ হিসেবে উদযাপন করে থাকেন। বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের গির্জাগুলো জাকজমকপূর্ণভাবেই সাজানো হয়েছে। রাজধানীর কাকরাইলের রমনা সেন্ট ম্যারিস ক্যাথিড্রাল চার্চ, তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। কৃত্রিম ‘ক্রিসমাস ট্রি’ দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। গির্জা প্রাঙ্গণে রংবেরঙের বাতি দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এদিকে, বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে এবং ঈশ্বরের মহিমা প্রচারে যিশু খ্রিষ্ট এইদিনে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরাও ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে উৎসব উদযাপন অনেকটা অনাড়ম্বরভাবে হয়েছিল। তবে বড়দিনের আয়োজনে এবার চাকচিক্য বেড়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা শিথিল থাকায় এ আয়োজন আরও চমকপূর্ণ হবে বলে তারা বলছেন। রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোতে আলোক সজ্জার পাশাপাশি হোটেলের ভিতরে কৃত্রিমভাবে স্থাপন করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি ও সান্তা ক্লজ। বড়দিনের প্রক্কালে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা হয়। রোববার সকাল থেকে আবার শুরু হবে বড়দিনের প্রার্থনা। এদিন সকালে লক্ষীবাজার গির্জায় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে, তেজগাঁও গির্জায় সকাল ৭টা ও ৯টা, মিরপুরে সকাল ৯টায়, মোহাম্মদপুরে সকাল ৮টা ৩০মিনিটে, রমনায় সকাল ৮টায়, কাফরুলে সকাল ৯টায় এবাং ভাটারায় বিশেষ প্রার্থনা হবে সকাল ৯টায়। বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীসহ সকলের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, জাগতিক সুখের পরিবর্তে যীশু খ্রিষ্ট ত্যাগ, সংযম ও দানের মাধ্যমে পারমার্থিক সুখ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ অশান্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যীশু খ্রিষ্টের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণীয়। এদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বড়দিন উপলক্ষে রোববার বঙ্গভবনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, সকল শ্রেণি-পেশা, সম্প্রদায়ের জনগণের উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে তার সরকার সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি- ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আওয়ামী লীগ সরকার অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। বড়দিন উপলক্ষে রোববার সরকারি ছুটি । অপরদিকে দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিষ্টান পরিবারে কেক তৈরি করা হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। এছাড়াও দেশের অনেক অঞ্চলে আয়োজন করা হয়েছে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য বড়দিনকে বেছে নেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে।
আজ শুভ বড়দিন
আরও পড়ুন
জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা যায়নি
আমিরাতে নদিমপুর প্রবাসীকল্যাণ পরিষদের ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উদযাপন
ঈদে মিলাদুন্নবি উপলক্ষে বিএনপির দোয়া মাহফিল
১ দিন ছুটি নিলেই অফিস করতে হবে না টানা পাঁচদিন