ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

রহমতের ১০ দিন: ফজিলত ও তাৎপর্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ইবাদতের সময় নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ ও প্রশিক্ষণের মাস। ইসলামি বর্ণনায় রমজানকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে ভাগ করা হয়েছে— রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। এর মধ্যে প্রথম দশককে বলা হয় রহমতের দশক, যেখানে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ওপর দয়ার দুয়ার প্রশস্ত করে দেন। কোরআন ও হাদিসে এই দশকের তাৎপর্য বারবার তুলে ধরা হয়েছে।

রহমতের অর্থ ও কোরআনিক ভিত্তি

‘রহমত’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘র-হ-ম’ ধাতু থেকে, যার অর্থ দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ। কোরআনের শুরুই হয়েছে এই রহমতের ঘোষণা দিয়ে— “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম” অর্থাৎ, পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমার রহমত সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।” (সুরা আল-আ’রাফ: ১৫৬)

রমজানের প্রথম দশক এই আয়াতের বাস্তব প্রতিফলন। এ সময় আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর বিশেষভাবে দয়া বর্ষণ করেন, যাতে তারা তাঁর দিকে ফিরে আসতে পারে।

হাদিসে রহমতের ১০ দিন

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান সম্পর্কে বলেন— “রমজানের প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।” (বায়হাকি)

এই হাদিস থেকেই ইসলামী আলেমরা রমজানের প্রথম দশককে রহমতের দশক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ এই সময় আল্লাহ বান্দাদের প্রতি দয়ার আচরণ করেন, তাদের ইবাদত সহজ করে দেন এবং অন্তরে ঈমানের নূর জাগ্রত করেন।

রহমতের দশকে রোজার মর্যাদা

রোজা রমজানের মূল ইবাদত। কোরআনে আল্লাহ বলেন— “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)

রহমতের দশকে রোজা মানুষকে তাকওয়ার পথে এগিয়ে নেয়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন— “রোজা আমার জন্য, আর আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।” (বুখারি, মুসলিম)

এই প্রতিদান শুধু পরকালে নয়, দুনিয়াতেও আল্লাহর রহমত ও প্রশান্তির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

দোয়া: রহমতের প্রধান চাবিকাঠি

রমজানের প্রথম দশকে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেন— “আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দাও—আমি নিকটবর্তী। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৬)

রহমতের দশকে দোয়ার দরজা বিশেষভাবে খোলা থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন— “রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় কবুল করা হয়।” (ইবনে মাজাহ)

এই দশকে বিনয় ও একাগ্রতার সঙ্গে করা দোয়া বান্দাকে আল্লাহর রহমতের ছায়ায় নিয়ে আসে।

নামাজ ও ইবাদতে মনোনিবেশ

রমজানে ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজের ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (তারাবি) করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (বুখারি)

রহমতের দশক হলো এই কিয়াম ও ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।

কোরআন নাজিল ও রহমতের সম্পর্ক

রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। কোরআনে বলা হয়েছে— “রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৫)

কোরআন নিজেই রহমত। আল্লাহ বলেন— “আমি কোরআন নাজিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।” (সুরা বনি ইসরাইল: ৮২)

রহমতের দশকে কোরআন তিলাওয়াত ও তার অর্থ অনুধাবন করলে হৃদয়ে আল্লাহর দয়ার গভীরতা অনুভূত হয়।

আরও পড়ুন

দান-সদকা: রহমতের বাস্তব প্রকাশ

রমজানের রহমত শুধু ইবাদতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। রাসুল (সা.) ছিলেন রমজানে সবচেয়ে বেশি দানশীল। হাদিসে এসেছে— “রমজানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন প্রবল বেগে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল।” (বুখারি)

দান-সদকা আল্লাহর রহমত টেনে আনে। কোরআনে বলা হয়েছে— “তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, আল্লাহ তার বদলা দেন।” (সুরা সাবা: ৩৯)

পারিবারিক ও সামাজিক রহমত

রহমতের দশক পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার সময়। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাকে ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক ও আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” (বুখারি)

রমজানের প্রথম দশক এই সম্পর্কগুলো নতুন করে জাগ্রত করার সুযোগ এনে দেয়।

আত্মশুদ্ধি ও তাওবার সুযোগ

রহমতের দশক মানুষকে তাওবার পথে আহ্বান করে। কোরআনে আল্লাহ বলেন— “হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সুরা যুমার: ৫৩)

এই আয়াত রহমতের দশকের মূল বার্তা— কেউই আল্লাহর দয়ার বাইরে নয়।

>>> রমজানের প্রথম দশক মুসলমানের জীবনে আল্লাহর রহমত অর্জনের এক স্বর্ণালী সুযোগ। কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্ট— এই সময় ইবাদত, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও মানবসেবার মাধ্যমে আল্লাহর দয়া লাভ সহজ হয়। যদি একজন মানুষ এই রহমতের দশককে গুরুত্ব দিয়ে কাটায়, তবে তার পরবর্তী জীবন ও পুরো রমজানই হয়ে উঠতে পারে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছানোর এক ধারাবাহিক পথচলা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
২০২৭ সালের রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা