ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সারাদিন ঘুমিয়ে কাটালে কী রোজা হবে?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস আমাদের জন্য প্রতিবছর নিয়ে আসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুখবর। এ সময় মুসলমানদের বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করতে দেখা যায়। কেননা এই মাসে কোরআন শরিফ নাজিল শুরু হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ সা. এর ওপর। পবিত্র আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)।

এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন। কিন্তু আজকাল অনেকের মধ্যে একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় যে, সেহরি খাওয়ার পর দিনের বড় একটি অংশ অতিরিক্ত ঘুমের মাধ্যমে কাটিয়ে দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়?

ইসলাম ঘুমকে স্বাভাবিক প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম। (সুরা আন-নাবা: ৯)। অর্থাৎ ঘুম মানুষের জন্য রহমতস্বরূপ। তবে ইবাদতের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ঘুমে ডুবে থাকা এবং ফরজ-ওয়াজিব আমলে অবহেলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন

রোজার মাসে বিভিন্নরকমের বিশেষ ইবাদত যেমন, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া অনেক বড় নেক আমল হিসেবে বিবেচিত। তাই এ সময়কে শুধুমাত্র ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলে রোজার আধ্যাত্মিক সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।প্রকৃতপক্ষে ইসলামের দৃষ্টিতে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। সেহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করে সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলে রোজা হয়ে যাবে। তবে নামাজ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, ওটা ছেড়ে দেওয়ার কারণে গুনাহগার হবে।

রোজা রেখে অতিরিক্ত ঘুম যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে নামাজ কাযা হয়ে যায়, কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক দায়িত্ব অবহেলিত হয়, তাহলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ এবং তা সময়মতো আদায় করা আবশ্যক। রোজা কোনোভাবেই নামাজ বা অন্যান্য ফরজ দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বরং রোজা মানুষের মাঝে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়।

তাই বলা যায়, রোজা রেখে ঘুম হারাম নয়, কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম যা ইবাদত ও দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা অনুচিত। রোজার প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই ইসলামের আসল শিক্ষা।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
স্বামী স্ত্রীকে ‘বোন’ কিংবা স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলে কি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই রয়েছে।
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়সূচি
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আরও পড়ুন
মেসিকে সম্মান জানাতে নতুন রূপে সেজেছে জন্মস্থান রোজারিও
এবার জরিমানার মুখে পাকিস্তানি ক্রিকেটার গুল ফিরোজা
১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার আসল কারণ
ইবাদতে মশগুল থেকে দিনটি পালনের পরামর্শ