ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যে কয়টি কাজে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম হলো একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। দুনিয়া ও আখেরাত, উভয় জাহানের মঙ্গলের জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। আয়-উপার্জন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ব্যবসা হালাল, কিন্তু সুদ হারাম। (সূরা বাকারা, আয়াত ২৭৫)

সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে বিশেষ মর্যাদা দান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, সত্যবাদী ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে। (সুনানে তিরমিজি: ১২০৯)

তবে ব্যবসা যদি শরিয়ত নির্দেশিত পথে পরিচালিত না হয়, সততা ও আমানতদারিতার সঙ্গে পরিচালিত না হয়, তাহলে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়ে যায়। সেই সাথে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও আখেরাতের শাস্তি তো আছেই।

যেসব কারণে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির কারণ হয় ---

মাপে কম দেওয়া

শহর কিংবা গ্রাম—সবখানেই মাপে কম দেওয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। অথচ পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সুরা মুতাফফিফিনে আল্লাহ তাআলা বলেন, বহু দুর্ভোগ আছে তাদের, যারা মাপে কম দেয়, যারা মানুষের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় পূর্ণমাত্রায় নেয় আর যখন অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কমিয়ে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না, তাদেরকে জীবিত করে ওঠানো হবে? এক মহাদিবসে, যেদিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আলামিনের সামনে দাঁড়াবে। সুরা মুতাফফিফিন: (১-৬)

পণ্যের মান নিয়ে প্রতারণা

অনেক সময় ক্রেতার অগোচরে ভালো পণ্যের ভেতরে নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। (সুনানে আবু দাউদ: ৩৪৫২)

আরও পড়ুন

মিথ্যা শপথ করা

পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বা ক্রেতার আস্থা অর্জনে মিথ্যা শপথ করা একটি বড় গুনাহ। হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না, যে মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালিয়ে দেয়। (সুনানে নাসাঈ: ৫৩৩৩)

ত্রুটি গোপন করে পণ্য বিক্রি

পণ্যের কোনো দোষ থাকলে তা ক্রেতাকে স্পষ্ট করে জানানো বিক্রেতার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। নিজের মুসলিম ভাইয়ের কাছে পণ্যের ত্রুটি গোপন করে কিছু বিক্রি করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই। অতএব কোনো মুসলমানের পক্ষে তার ভাইয়ের কাছে পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করে তা বিক্রি করা বৈধ নয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৪৬)

ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা

ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনে অনেকে ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনাদারের অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করেন। ইসলামে এ ধরনের কাজকে 'জুলুম' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। (সহিহ বুখারি: ২২৮৭)

সুদি লেনদেন করা

সুদ ব্যবসার বরকত নির্মূল করে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোনো অতি কুফরকারী পাপীকে ভালোবাসেন না। (সুরা বাকারা: ২৭৬)

আমাদের প্রত্যেকের রিজিক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। অনৈতিক পথ অবলম্বন করে আমরা নির্ধারিত রিজিকের চেয়ে এক বিন্দু বেশি অর্জন করতে পারব না, বরং বরকত হারাব এবং আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাই ইহকাল ও পরকালের সাফল্যের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে ইসলামের বিধান মেনে চলা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
নিজের নামের আগে শায়খ কেন ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তিনি  এই বহুল আলোচিত সম্মানসূচক শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে সাংবাদিক জানতে চান যে সাধারণত দেশে ইসলামী স্কলারদের নামের পূর্বে মুফতি বা মাওলানা জাতীয় পরিচিতি দেখা গেলেও তার নামের শুরুতে ‘শায়খ’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শায়খ আসলে সম্মানসূচক একটি ভূষণ। আমরা যেরকম ‘জনাব’, ‘শ্রদ্ধেয়’—এ ধরনের শব্দ দিয়ে মানুষকে সম্মানিত করার চেষ্টা করি, শায়খও অনেকটা তেমন। শায়খ শব্দটি মূলত সিনিয়রিটি বোঝায়। আরব বিশ্বে এটি খুব পরিচিত একটি সম্বোধন বা টাইটেল বলা যেতে পারে। সেখানে আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ পরস্পরকে সম্মান করে শায়খ বলে সম্বোধন করেন। আলেমদের ক্ষেত্রে এটি একটু বেশি ব্যবহৃত হয়। তিনি নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সৌদি আরবে তিনি প্রায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন। সেখানে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোনো প্রবাসী আইনি জটিলতা বা মামলায় জড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো স্থানীয় আদালতের বিচারকদের সাথে দোভাষীর দায়িত্বও পালন করতে হতো তাকে। সেখানে বাংলা ভাষাভাষীরাও ‘শায়খ’ শব্দটি বলতে অভ্যস্ত। মূলত সেখান থেকেই ‘শায়খ’ শব্দটি আমার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি এমন নয় যে এটি কোনো অর্জনের টাইটেল, তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া কোনো উপাধি নয়। মুফতিদের ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা দায়িত্বের বিষয় আছে, এটি তেমন নয়। আমাদের দেশে যেমন মাওলানা বা হুজুর বলে সম্বোধন করা হয়, সেখানে শায়খ বলে সম্বোধন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
মৃত্যু অবধারিত। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা যেমন শোকাহত হন, তেমনি অনেকেই কবর জিয়ারত করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সালাম করেন।
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
আজকের নামাজের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রস্তাব পেয়েও তা গ্রহণ করেননি আলোচিত ইসলামি বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?
ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?
আরও পড়ুন
জামায়াতে ইসলাম আফিম মাদকের চেয়েও বিপজ্জনক: বুলু
নোয়াখালী-৩ আসনে বরকত উল্লাহ বুলু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত