ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পশু জবাইয়ের সময় শরিকদের নাম বলা আবশ্যক কি না

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি করা নিয়ে বিভিন্ন মাসআলার বিষয়ে মুসলমানদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হলো- শরিকি কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় সাত শরিকের নাম একে একে বলা বা তালিকা পাঠ করা শরিয়তসম্মত কি না।

কুরআন-সুন্নতে এবং সাহাবা-তাবেয়ীন ও ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্যের বাইরে নিজ থেকে নতুন কোনো নিয়ম বা বিধান আবিষ্কারের সুযোগ নেই। কেউ নতুন কোনো নিয়ম চালু করলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা পরিত্যাজ্য ও ভুল বলে গণ্য হবে।

এ ধরনের কোরবানির ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে একটি ভুল প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, কোরবানির পশুকে জবাইয়ের জন্য শোয়ানোর পর জবাই বিলম্বিত করে শরিকদের নামের তালিকা পাঠ করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি অপ্রয়োজনীয় কাজ। কারণ কোরবানিদাতারা মনে মনে যে পশু কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, সেটিই যথেষ্ট। আলাদা করে শরিকদের নাম পাঠ করার কোনো প্রয়োজন নেই। (কিতাবুল আছল, ইমাম মুহাম্মদ ৫/৪০৬; শরহু মুখতাসারিল কারখি: ৬/৩৮২; খিযানাতুল আকমাল ৩/৫১২; আলমুহিতুর রাযাবি : ৬/৬২)

আরও পড়ুন

আর পশুকে শুইয়ে রেখে এভাবে নামের তালিকা পাঠ করার কারণে পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া হয়। কোনো কোনো এলাকায় নামের তালিকা পড়তে গিয়ে জবাইয়ে যথেষ্ট বিলম্ব হয়, যা পশুর জন্য কষ্টদায়ক। অথচ হাদিস শরিফে জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

হজরত শাদ্দাদ ইবনে আউস রা. বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ، وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ

মহান আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের ওপর ইহসান অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব তোমরা যখন (কিসাস ও হুদুদের ক্ষেত্রে কাউকে) হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গেই হত্যা করবে; আর যখন (পশু) জবাই করবে, দয়ার সঙ্গে জবাই করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন (জবাইয়ের আগে) ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবাইকৃত জন্তুকে স্বস্তি দেয়। (মুসলিম, হাদিস: ১৯৫৫)

ফকীহগণ বলেছেন, জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া নিষিদ্ধ। (আল-মুজতাবা: ৫/৩০; জামিউর রুমুয ৩/৩৪৪; রদ্দুল মুহতার ৬/২৯৬; তাকমিলা ফাতহিল মুলহিম ৩/৩০৩)

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
স্বামী স্ত্রীকে ‘বোন’ কিংবা স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলে কি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই রয়েছে।
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়সূচি
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আরও পড়ুন
ঈদের ৭ম দিনেও আরটিভিতে বিশেষ আয়োজন
ঈদের পর ফিরতি যাত্রা নিরাপদ রাখতে মাঠে বিআরটিএ
ঈদের ১০ দিনে পদ্মা-যমুনা সেতুতে প্রায় ৭ লাখ যান পারাপার
‘পশু কোরবানি নয়, লোভ আর হিংসা দূর করাই আসল শিক্ষা’