নৈতিক স্খলনের শাস্তি নিয়ে ইসলাম কী বলে

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১০ পিএম


নৈতিক স্খলনের শাস্তি নিয়ে ইসলাম কী বলে
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

মানুষকে মর্যাদাপূর্ণ ও পবিত্র জীবনযাপনের শিক্ষা দেয় ইসলাম। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে অশ্লীলতা, ব্যভিচার, প্রতারণা ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে ইসলাম নৈতিকতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শুধু অপরাধ সংঘটনের পর শাস্তির বিধানই নয়; বরং অপরাধের পথে নিয়ে যায় এমন সব কারণ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

নৈতিক স্খলন বলতে কী বোঝায় এবং এর শাস্তি কী

নৈতিক স্খলন বলতে এমন আচরণকে বোঝায়, যা ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তি ও সমাজের চরিত্র, লজ্জাশীলতা ও পবিত্রতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যভিচার, অশ্লীলতা ছড়ানো, অবৈধ সম্পর্ক, যৌন হয়রানি, মিথ্যা অপবাদ, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গসহ নানা অনৈতিক কাজ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ’ (সুরা আল ইসরা: ৩২)। এ আয়াতে শুধু ব্যভিচার নয়; বরং তার দিকে নিয়ে যায় এমন সব পথ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি

ব্যভিচার ইসলামে অন্যতম জঘন্য কবিরা গোনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশ বেত্রাঘাত করো।’ (সুরা আন নূর: ২)

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোরআনে ১০০ বেত্রাঘাতের কথা এসেছে। আর বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচারের শাস্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। সহিহ হাদিসে বিবাহিত ব্যভিচারীর জন্য রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর হওয়ার একাধিক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। (বোখারি: ৬৬৩৩)

অশ্লীলতা ছড়ানোর পরিণতি

কোরআনে অশ্লীলতা প্রচারকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’ (সুরা আন নূর: ১৯)। এ আয়াত থেকে আলেমরা বলেন, অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা অপপ্রচার ছড়ানোও গুরুতর অপরাধ।

মিথ্যা অপবাদের শাস্তি

কোনো পবিত্র চরিত্রের ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনাও বড় অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সতী-সাধ্বী নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়, এরপর চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারে না, তাদের ৮০ বেত্রাঘাত করো।’ (সুরা আন নূর: ৪)

ইসলাম শুধু শাস্তির কথা বলে না, বরং আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে ফিরে আসার সুযোগও দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন।’ (সুরা আয যুমার: ৫৩)

অন্য আয়াতে রাব্বুল আলামিন বলেন, যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেন। (সুরা আল ফুরকান: ৭০)

আরও পড়ুন

সহজ কথায়, ইসলামে শাস্তির উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নয়; বরং ব্যক্তি ও সমাজকে অপরাধ থেকে বিরত রাখা, মানুষের সম্মান রক্ষা করা এবং পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতি বজায় রাখা। এজন্য ইসলাম দৃষ্টি সংযত রাখা, পর্দা পালন, অবাধ মেলামেশা এড়ানো, দ্রুত বৈধ বিয়ের ব্যবস্থা করা এবং আল্লাহভীতির মাধ্যমে নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission