ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মিসওয়াক নিয়ে যা নির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
মিসওয়াক করা সুন্নাত। ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার ধর্ম। যেখানে মুমিনদের ইমান ও ইবাদতের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার ওপরও সমান গুরুত্বরোপ করা হয়েছে।

একজন মুসলমানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা তার ইমানের সৌন্দর্য প্রকাশ করে। মুখ ও দাঁতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সেই পবিত্রতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এ কারণেই বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ (সা.) মিসওয়াক ব্যবহারে এত বেশি উৎসাহ দিয়েছেন যে, উম্মতের ওপর কষ্টের আশঙ্কা না থাকলে তিনি প্রত্যেক নামাজের আগে এটি বাধ্যতামূলক করে দিতেন। মিসওয়াক কেবল দাঁত পরিষ্কারের একটি উপকরণ নয়; এটি সুন্নাহ, ইবাদতের প্রস্তুতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

মিসওয়াক: পরিচ্ছন্নতা ও সুন্নাহর এক অনন্য প্রতীক

ইসলামে পবিত্রতা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা অর্জনকারীদের প্রতি তার ভালোবাসার কথা কুরআনে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২২২)

মুখের পরিচ্ছন্নতা এই পবিত্রতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত মিসওয়াক করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও এ আমলের প্রতি উৎসাহিত করতেন।

প্রত্যেক নামাজের আগে মিসওয়াক করার প্রতি উৎসাহ

মিসওয়াকের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি প্রত্যেক নামাজের সময় তাদের মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (বুখারি ৮৮৭, মুসলিম ২৫২)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মিসওয়াক শুধু পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়; এটি ইবাদতের প্রস্তুতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।

আরও পড়ুন

রাতের তাহাজ্জুদের আগে ছিল মিসওয়াক

রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের আগে সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। হজরত হুজাইফা (রা.) বলেন—

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে ঘুম থেকে উঠলে মিসওয়াক দিয়ে তার মুখ পরিষ্কার করতেন।’ (বুখারি ২৪৫, মুসলিম ২৫৫)

ঘরে প্রবেশের সময়ও ছিল মিসওয়াক

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন প্রথমেই মিসওয়াক ব্যবহার করতেন।

كَانَ أَوَّلَ مَا يَبْدَأُ بِهِ السِّوَاكُ

‘ঘরে প্রবেশের পর তিনি সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন।’ (মুসলিম ২৫৩)

শুধু দাঁত নয়, জিহ্বাও পরিষ্কার করতেন

মিসওয়াক ব্যবহারে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুখের সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। হজরত আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) বলেন—

‘আমি নবী (সা.)-এর কাছে এসে দেখলাম, তার হাতে মিসওয়াক। তিনি মিসওয়াকটি মুখের ভেতর এমনভাবে ব্যবহার করছিলেন যে ‘উহ, উহ’ শব্দ হচ্ছিল।’ (বুখারি ২৪৪)

এ থেকে বোঝা যায়, শুধু দাঁত নয়; মুখগহ্বর ও জিহ্বার পরিচ্ছন্নতার প্রতিও তিনি বিশেষ যত্নবান ছিলেন।

মিসওয়াক নবীদের সুন্নাহ

রাসুলুল্লাহ (সা.) মিসওয়াককে পূর্ববর্তী নবীদের সুন্নাহর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

أَرْبَعٌ مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ: الْحَيَاءُ، وَالتَّعَطُّرُ، وَالسِّوَاكُ، وَالنِّكَاحُ

‘চারটি বিষয় নবীদের সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত— লজ্জাশীলতা, সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক এবং বিবাহ।’ (তিরমিজি ১০৮০)

আধুনিক যুগে মিসওয়াকের গুরুত্ব

আজকের যুগে দাঁত পরিষ্কারের জন্য টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলাম এগুলো ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। বরং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই ইসলামের মূল শিক্ষা। তবে মিসওয়াকের মর্যাদা এর সুন্নাহ হওয়ায়। তাই অনেক আলেম বলেন, ব্রাশ ব্যবহার করলেও সুযোগ থাকলে মিসওয়াকের সুন্নাহ জীবিত রাখা উত্তম।

মিসওয়াক আমাদের শেখায়—

• মুখ ও দাঁতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
• ইবাদতের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা।
• সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা।
• দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করা।

মিসওয়াক একটি ছোট আমল হলেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। এটি যেমন মুখের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে, তেমনি একজন মুসলমানকে সুন্নাহর অনুসারী হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের বিভিন্ন সময়ে— নামাজের আগে, ঘুম থেকে ওঠার পর, এমনকি ঘরে প্রবেশের সময়ও মিসওয়াক ব্যবহার করতেন। তার এই ধারাবাহিক আমল আমাদের শেখায় যে, ইসলামে ছোট কোনো সুন্নাহকেও অবহেলা করার সুযোগ নেই। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত মিসওয়াক ব্যবহার করা, অথবা অন্তত মুখ ও দাঁতের পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নবান হওয়া একজন মুমিনের উত্তম চরিত্র ও সুন্নাহপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
রাজধানীর দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন মধুবাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ‘ঈসালে সওয়াব মাহফিল’। আগামী ২২ নভেম্বর (রোববার) এই মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান করবেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। মাহফিল পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান (ওয়ার্ড-৪৮, মধুবাগ, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  উক্ত অনুষ্ঠানে মাগরিব নামাজের পর প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন মাওলানা কারি মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। এছাড়া মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাদ আছর বয়ান করবেন জাগ্রত কবি মাওলানা মুহিব খান। সকাল ১০টা থেকেই দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি আলোচনা শুরু হবে।    আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আখিরাতের সওয়াব হাসিল এবং মৃত স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে কুরআন শরিফ ও কালিমার খতম পাঠ করে দোয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।  আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
মহানবী (সা.)-এর আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির