
মক্কার পবিত্র কাবাঘর মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনাগুলোর একটি। বিশ্বের সব মুসলমান নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান এবং প্রতি বছর লাখো মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় আসেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো পবিত্র কাবাঘরের চাবি কার কাছে থাকে?
ইসলামপূর্ব যুগ থেকে বংশানুক্রমে কাবাঘরের চাবির দায়িত্ব পালন করে আসছে আল-শাইবি পরিবার। প্রায় ১৬০০ বছর ধরে এই পরিবারের সদস্যরাই কাবাঘরের দরজা খোলা ও চাবি সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন।
কাবাঘরে প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি মাত্র দরজা, যা ‘বাবে কাবা’ নামে পরিচিত। কাবার উত্তর-পূর্ব দেয়ালে অবস্থিত এই দরজা হাজরে আসওয়াদের কাছাকাছি স্থানে রয়েছে।
ইসলামের শুরুর দিকে কাবাঘরের চাবির দায়িত্বে ছিলেন উসমান ইবনে তালহা। সে সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। বর্ণিত আছে, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে কাবাঘরে প্রবেশ করতে চাইলে উসমান ইবনে তালহা তাকে চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন ধৈর্য ধারণ করেন এবং বলেন, একদিন এই চাবি তার হাতে আসবে এবং তিনি যাকে ইচ্ছা দায়িত্ব দেবেন।
পরবর্তীতে হিজরতের অষ্টম বছরে মক্কা বিজয়ের দিন কাবার দরজা খোলার প্রয়োজন হলে উসমান ইবনে তালহার কাছ থেকে চাবি নেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবাঘরে প্রবেশ করেন।
এরপর আল্লাহ তাআলা সুরা নিসার ৫৮ নম্বর আয়াত নাজিল করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করো, তখন ন্যায়বিচার করতে।
এই নির্দেশের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবাঘরের চাবি উসমান ইবনে তালহার কাছেই ফিরিয়ে দেন। এরপর থেকে তার বংশধরদের হাতেই এই দায়িত্ব বহাল থাকে।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) উসমান ইবনে তালহাকে জানান যে, কেয়ামত পর্যন্ত কাবাঘরের চাবি তার বংশধরদের হাতেই থাকবে। সেই ধারাবাহিকতা আজও বজায় রয়েছে।
বর্তমানে আল-শাইবি পরিবারের সদস্যরাই কাবাঘরের চাবির রক্ষণাবেক্ষণ করেন। বিশেষ বিশেষ সময়ে সৌদি আরবের বাদশাহ, রাষ্ট্রীয় অতিথি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কাবাঘরে প্রবেশ করলে এই পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যরাই দরজা খুলে দেন।
কাবাঘরের তালা ও চাবির বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংস্করণ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময় ধাতব ও মূল্যবান উপাদানে তৈরি চাবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরেও কাবার পুরোনো চাবি সংরক্ষিত আছে।
পবিত্র কাবাঘরের চাবি শুধু একটি দরজা খোলার উপকরণ নয় এটি ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আমানত রক্ষার এক অনন্য প্রতীক। মক্কা বিজয়ের পর ক্ষমতা হাতে থাকা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.) চাবি তার প্রকৃত দায়িত্বশীল পরিবারের কাছেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যা ন্যায়বিচার ও আমানত রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আরটিভি/এসকে


