
সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানসহ অংশ নেবেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। খবরের দ্য ডনের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য দিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ওই বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, চুক্তির কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির (এসপিডিসি) বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। প্রতিনিধিদলে আরও থাকবেন চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন এই বৈঠকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সদস্য দেশগুলো ‘অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং মক্কা চুক্তির কাঠামোর আওতায় চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা’ করবে।
এদিকে পৃথক আরেক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের এই বৈঠকে যোগ দিতে রিয়াদে পৌঁছেছেন ইসহাক দার। সেখানে সৌদি সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল উসমান আল-জাহরানি এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আহমাদ ফারুক তাকে স্বাগত জানান।
এর আগে দেওয়া আরেক পোস্টে জানানো হয়, বৈঠকের আগে ইসহাক দার মদিনায় পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নামাজ আদায় করেন।
দ্য ডন বলছে, এর আগে গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘জরুরি এই বৈঠকটিতে’ সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হুতি হামলা নিয়ে আলোচনা হবে।
অবশ্য রোববার থেকে হুতিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের জোট সরকার। হুতিদের দাবি, আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদের দক্ষিণে আরামকোর একটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় তারা।
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো এলাকা দখল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। ন্যাটোর আদলে গঠিত এই মুসলিম জোটের মধ্যে লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং সদস্য দেশগুলোকে এমন অবস্থানে নেওয়া, যাতে জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর জোটটির প্রথম বৈঠক ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম তিন বছর জোটের সচিবালয়ের দায়িত্ব পাকিস্তান পালন করবে। পরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর হুতি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তির আওতায় রিয়াদে জরুরি বৈঠক করেন পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর প্রধানরা। এছাড়া, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান ‘যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত বলে ইতোমধ্যেই জানিয়েছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
আরটিভি/এসএইচএম


