ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

তাসবিহ গোনা আঙুলই হবে কিয়ামতে সাক্ষী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
আঙুলে তাসবিহ গুনলে কিয়ামতে মিলবে বিশেষ মর্যাদা । ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে আল্লাহর জিকিরের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাসবিহ পাঠের সময় অনেকে দানা বা তাসবিহর মালা ব্যবহার করে থাকেন। তবে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে আঙুলে তাসবিহ গণনার ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের বিষয়টিও হাদিসে পাওয়া যায়।

হযরত ইয়াসিরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের উদ্দেশে বলেছেন—

وَأَعْقِدْنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولاَتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ

অর্থাৎ, ‘তোমরা আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করো। কারণ, কিয়ামতের দিন আঙুলগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং সেগুলো কথা বলবে।’
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০১; জামে তিরমিজি; মিশকাত, হাদিস: ২৩১৬)

আঙুলে তাসবিহ গণনার কারণ

হাদিসে আঙুল দিয়ে তাসবিহ গণনার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার আমলের সাক্ষ্য দেবে। তাই যে আঙুল দিয়ে আল্লাহর জিকির করা হয়েছে, সেই আঙুলও আল্লাহর কাছে বান্দার আমলের সাক্ষী হতে পারে।

এ কারণে তাসবিহ গণনার ক্ষেত্রে নিজের আঙুল ব্যবহার করা একটি সুন্দর সুন্নতি পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ডান হাতে তাসবিহ গণনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) ডান হাতে তাসবিহ গণনা করতেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর ডান হাতের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করতে দেখেছি।’
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০২; বাইহাকি)

তাই তাসবিহ গণনার ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহার করাই উত্তম। দুই হাত বা শুধু বাম হাতে গণনা করার পরিবর্তে ডান হাতের আঙুলে জিকির গণনা করা সুন্নতের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তাসবিহর মালা ব্যবহার করা কি সুন্নত?

তাসবিহর মালা দিয়ে জিকির গণনার বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেলেও এর পক্ষে বর্ণিত কিছু হাদিসকে দুর্বল এবং কিছু বর্ণনাকে জাল হিসেবে মুহাদ্দিসরা উল্লেখ করেছেন। তাই তাসবিহর মালাকে সুন্নতি পদ্ধতি হিসেবে দাবি করা ঠিক নয়।

তবে মূল বিষয় হলো—আল্লাহর জিকির করা। কেউ সংখ্যা ঠিক রাখার সুবিধার জন্য কোনো গণনাকারী ব্যবহার করলে সেটিকে সরাসরি হারাম বলা যায় না; তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী আঙুলে গণনা করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম।

লোক দেখানো থেকে সতর্ক থাকা জরুরি

জিকির ও তাসবিহ এমন ইবাদত, যা একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা উচিত। মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ইবাদত করা ইসলামে নিন্দনীয়। তাই তাসবিহ পাঠের সময় নিজের নিয়ত ঠিক রাখা জরুরি।

আল্লাহর জিকিরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। কতবার তাসবিহ পড়লাম, তার পাশাপাশি কেন পড়ছি—সেদিকেও একজন মুমিনের খেয়াল রাখা উচিত।

তাহলে কীভাবে তাসবিহ গণনা করবেন?

সহজভাবে বলা যায়—

১. সম্ভব হলে ডান হাতের আঙুলে তাসবিহ গণনা করা।
২. জিকিরের সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত রাখা।
৩. লোক দেখানো থেকে বিরত থাকা।
৪. তাসবিহর সংখ্যা ঠিক রাখার চেয়ে জিকিরের অর্থ ও মনোযোগের দিকে গুরুত্ব দেওয়া।
৫. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো জিকির ও দোয়া অনুসরণ করা।

অতএব, তাসবিহ গণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুন্দর পদ্ধতি হলো আঙুলে, বিশেষ করে ডান হাতে, আল্লাহর জিকিরের সংখ্যা গণনা করা। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) আঙুলে তাসবিহ গণনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর নিজের আমলও ডান হাতে তাসবিহ গণনার পক্ষে প্রমাণ করে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
অজুর পর বিড়ি বা সিগারেট খেলে কি অজু ভেঙে যায়? নাকি সেই অজুতেই নামাজ আদায় ও পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ও মাসআলা রয়েছে।
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
আরও পড়ুন
ইবিতে পরীক্ষায় অসদুপায়, বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পেলেন ২৪ শিক্ষার্থী
ইবি শিক্ষার্থী তরিকুলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের অবস্থান জানালেন শামা ওবায়েদ
জমি দখল করতে শতাধিক ফল গাছের সর্বনাশ করলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা