ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সংসারে বরকত আনতে মেনে চলুন ৬ আমল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
সংসারে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের পরিবেশ তৈরি করতে, বরকত ও শান্তি পেতে মেনে চলুন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আমল । ছবি: সংগৃহীত

সংসারে শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণ চান সবাই। তবে শুধু অর্থ-সম্পদ বা বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্যই পারিবারিক সুখের নিশ্চয়তা দেয় না। ইসলামে বরকত বলতে বোঝায়—কোনো নিয়ামতে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কল্যাণ ও স্থায়িত্ব আসা, যাতে অল্পের মধ্যেও প্রশান্তি ও উপকার পাওয়া যায়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে কিছু আমল ও জীবনাচরণ পরিবারে বরকত ও শান্তি বয়ে আনতে পারে।

১. ইমান ও তাকওয়া অবলম্বন

পরিবারে বরকতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ইমান ও তাকওয়া। মহান আল্লাহ বলেন—

وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ

অর্থ: ‘আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও জমিনের বরকতসমূহ খুলে দিতাম।’
—সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬

তাই পরিবারে আল্লাহভীতি, ইমানি পরিবেশ ও ইসলামী জীবনচর্চা গড়ে তোলা বরকতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

২. নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত

পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত করা এবং ঘরে কোরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ তৈরি করা উচিত। বিশেষ করে সুরা বাকারা তিলাওয়াতের ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ো না। যে ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করা হয়, শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।’
—সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৮০

আরও পড়ুন

৩. ভোরের সময় কাজে লাগানো

দিনের শুরুটা ইবাদত ও ভালো কাজে কাটানো বরকতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য ভোরের সময় বরকতের দোয়া করেছেন।

সাখর ইবনে গামিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলায় বরকত দান করুন।’
—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; জামে তিরমিজি, হাদিস: ১২১২

তাই অযথা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে ফজরের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও প্রয়োজনীয় কাজ দিয়ে দিনের শুরু করা ভালো।

৪. হালাল উপার্জন ও সদকা

সংসারের বরকতের জন্য উপার্জনের পথ হালাল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। হারাম উপার্জন বাহ্যিকভাবে সম্পদ বাড়ালেও তাতে প্রকৃত কল্যাণ থাকে না। অন্যদিকে হালাল উপার্জনের পাশাপাশি নিয়মিত সদকা করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

মহান আল্লাহ বলেন—

لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

অর্থ: ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’
—সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭

৫. ঘরে সালাম ও একসঙ্গে খাবার

ঘরে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া ইসলামের সুন্দর শিক্ষা। একইভাবে খাবার শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা এবং সম্ভব হলে পরিবারের সবাই মিলে খাবার খাওয়ার মধ্যেও বরকত রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একসঙ্গে খাবার খাও এবং আল্লাহর নাম উল্লেখ করো, তাহলে তাতে তোমাদের জন্য বরকত দেওয়া হবে।’
—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৪

তাই পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও জীবনে বরকতের কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَأَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’
—সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৭

আত্মীয়ের খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সম্পর্ক নষ্ট না করা তাই একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তাই সংসারে বরকত পেতে শুধু বেশি অর্থের পেছনে ছুটলেই হবে না। ইমান ও তাকওয়া, নামাজ-কোরআন, হালাল উপার্জন, সদকা, পারিবারিক সৌহার্দ্য ও আত্মীয়তার সম্পর্ক—এসবের মাধ্যমে ঘরে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করা হয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় তারিখে পরিবর্তন আসতে পারে। কাজাখস্তানের মুসলিমদের ধর্মীয় প্রশাসন প্রকাশিত সম্ভাব্য ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী রোজা পালনের পর ৯ মার্চ উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে ঈদুল ফিতর। এছাড়া ৫ মার্চ দিবাগত রাতে পবিত্র শবে কদর পালনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হতে পারে পবিত্র ঈদুল আজহা। এর আগের দিন ১৫ মে পালিত হওয়ার কথা পবিত্র আরাফাতের দিন। এ ছাড়া ৪-৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শবে মেরাজ, ২২-২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শবে বরাত এবং ১৫ জুন পবিত্র আশুরা পালনের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ঈদে মিলাদুন্নবী ১৪-১৫ আগস্ট উদযাপিত হতে পারে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে রমজান শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ৭ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। চাঁদ দেখা গেলে সেদিন রাতে প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। এরপর সেহরি খেয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে। গালফ নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ মার্চ, বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। তবে কাজাখস্তানের ধর্মীয় প্রশাসনের ক্যালেন্ডারে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৯ মার্চ। অর্থাৎ, রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে দুই পূর্বাভাসে মিল থাকলেও ঈদুল ফিতরের তারিখে এক দিনের পার্থক্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্মীয় দিবসগুলোর চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তাই চাঁদ দেখার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান শুরু হয়েছিল। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে ২০ মার্চ উদযাপিত হয়েছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। আরটিভি/এসকে
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
নুহ নবীর নৌকা বলে ধারণা করা স্থানে আরও এক নতুন আবিষ্কারের দাবি গবেষকদের
তুরস্কের আরারাত পর্বতের কাছে অবস্থিত দুরুপিনার গঠনে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার নতুন দাবি করেছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, সেখানে কাঠকয়লার মতো পোড়া কাঠের পাশাপাশি ভূগর্ভে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে না-পোড়া কাঠের সন্ধানও মিলেছে।
নুহ নবীর নৌকা বলে ধারণা করা স্থানে আরও এক নতুন আবিষ্কারের দাবি গবেষকদের
হারামাইনে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন দুই বিশিষ্ট আলেম ও কারি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) সৌদি আরবের ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। হিজরি সনের জমাদিউল আউয়াল মাসের তৃতীয় জুমা আজ। এ উপলক্ষে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে মুসল্লিদের জুমার নামাজ পড়াবেন শায়খ উসামাহ খাইয়াত ও শায়খ আব্দুল বারি আস-সুবাইতি। মসজিদে হারাম আজ পবিত্র মসজিদে হারামে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন বিশিষ্ট আলেম ও কারি শায়খ উসামাহ খাইয়াত। ১৯৫৬ সালে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা শায়খ আব্দুল্লাহ মসজিদে হারামের সাবেক ইমাম ও খতিব ছিলেন। শায়খ উসামাহ ১৯৭৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে মাস্টার্স এবং ১৯৮৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি মসজিদে হারামের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলে দ্বীন অনুষদের অধ্যাপক এবং সৌদি শুরা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদে নববি অন্যদিকে, পবিত্র মসজিদে নববিতে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন বিশিষ্ট আলেম ও কারি শায়খ আব্দুল বারি আস-সুবাইতি। ১৩৮০ হিজরিতে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সুমধুর কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের জন্য বিশ্বজুড়ে তার ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। ১৪০৫ হিজরিতে কিং ফাহাদ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন শায়খ আব্দুল বারি আস-সুবাইতি। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শরিয়া অনুষয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৪০৯ হিজরিতে অনার্স এবং ১৪১৫ হিজরিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৪১৪ হিজরি সাল থেকে তিনি পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পবিত্র দুই মসজিদে এই দুই প্রখ্যাত আলেমের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য প্রতিদিনের মতো আজও দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সমবেত হবেন। আরটিভি/এসকে
হারামাইনে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়সূচি
আজকের নামাজের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
মব সংস্কৃতি চালু করেছেন এনসিপি নেতারা: বুলু
যে ৩ আমলে বিয়ে হয় সহজে
ঈদযাত্রা বা সফরে রাসুল (সা.)-এর শেখানো আমল
সকালের যেসব আমলে খুলে যায় বরকতের দরজা